Первые 200 строк.
ভাবানুবাদঃ মোঃ রায়হান শেখ (জনি)
উৎসর্গঃ "মোঃ মেহেদী হাসান (পারভেজ)কে!" হৃদয় ছোঁয়া সিনেমা দেখতে পছন্দ করে!
"তোলিয়ান" চরিত্রে অভিনয় করেছেন "ভ্লাদিমির মশকভ"।
"কাতিয়া" চরিত্রে অভিনয় করেছেন "ক্যাটরিনা রেডনিকভা"।
"সানা" চরিত্রে অভিনয় করেছেন "মিশা ফিলিপচুক"।
পরিচালকঃ পাভেল চুখরাই।
-> (THE THIEF)
আমি যুদ্ধের ঠিক পরেই জন্মগ্রহণ করেছিলাম...
সালটা ছিল ১৯৪৬.
আমার মা জারোস্লেভেলে কিছু আত্মীয়দের সাথে দেখা করতে যাচ্ছিলেন...
অতঃপর তিনি রাস্তার পাশেই আমাকে জন্ম দিয়েছিলেন।
আমার বাবাকে আমি কখনোই দেখেনি।
শুনেছিলাম তিনি যুদ্ধে আহত হয়ে ফিরে এসেছিলেন...
আর আমার জন্ম হওয়ার ছয় মাস আগে তিনি মারা যান।
কিন্তু আমার শৈশব জুড়ে আমি...
...তার সম্পর্কে ভেবেছি।
আমি তাকে কল্পনা করার চেষ্টা করেছি।
>
১৯৫২ সাল, আমার বয়স তখন ছয় বৎসর।
সেই সময় আমি যা দেখেছিলাম এবং বুঝেছিলাম...
...তখন থেকে আমার স্মৃতি এলোমেলো হয়ে পড়েছিল।
কিন্তু আমি জানতাম ঐ ট্রেনটা আমার...
...সারাটা জীবন মনে থাকবে।
চালাও।
- আমাকে এবার কী দিতে হবে? - হরতন।
হরতন... আমার কাছে কোনো হরতন নেই।
- মা! - কী?
আমি কি উপরে উঠতে পারি?
উপরে ওঠা নিষেধ আছে।
কিন্তু উপরে তো কেউ নেই।
সামনে স্টেশন পড়বে। হয়তো তখন কেউ না কেউ আসবে।
আচ্ছা মা, রাণীকে কে বিয়ে করেছে?
জ্যাক নাকি রাজা?
রাণীকে কে বিয়ে করেছে?
অনেক হয়েছে, এবার আমি পেয়েছি।
হ্যালো।
হ্যালো।
চলো আরো খেলা যাক।
তাস খেলা, হাহ?
শুধু বাড়িতেই খেলবে।
চালাও।
আমার সব চুরি হয়ে গেছে!
- জুতা ছাড়া কোথায় যাচ্ছ? - কী হচ্ছে?
একজন মহিলার সবকিছু চুরি হয়ে গেছে।
হায়রে মানুষজন।
তোমার সিটেই বসে থাকো।
- আমি আসছি, তুমি এখানেই থাকো। - মা, প্লিজ!
শোনো খোকা।
উপরে থাকো।
কী করছেন? উপরে ওঠানোর দরকার নেই।
আমার জিনিসপত্র দেখে রাখো, ঠিক আছে?
দেখি, দেখি।
সরুন, আমাদেরকে যেতে দিন।
কাঁদছেন কেন? এখন তো অনেক দেরি হয়ে গেছে।
আমাদের একসাথে ধুমপান করা উচিত কী বলো?
আপনার মাথা খারাপ হয়েছে!
তোমার নাম কী?
আমার?
কাতিয়া।
বাবা!
কোথায় যাচ্ছ?
সত্যি বলতে... জানি না।
আমরা তোলিয়ান আংকেলের সঙ্গে একটা অচেনা শহরে চলে গেছিলাম।
আমার মা বলেছিলেন যে, এখন থেকে আমরা তার সাথে থাকবো...
...আর আমাকে তাকে বাবা বলে ডাকতে হবে।
ছোটোখাটো রুম অথবা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া...
...খুঁজতে খুঁজতে শহরের মধ্যে দিয়ে আমরা হেঁটে যাচ্ছিলাম।
আপনাদের এখানে রুম খালি আছে?
হিসাবরক্ষক ও তার বউ ওখানে থাকে।
একজন ইঞ্জিনিয়ার আর তার মেয়ে ওখানে থাকে।
এটা রান্নাঘর।
ওখানে বাথরুম।
একজন অভিনয়শিল্পী এখানে থাকে, আমার স্বামী এবং আমি ওখানে থাকি।
ভারভারা ওখানে অ্যাকর্ডিয়ন(বাদ্যযন্ত্র) বাজানো শেখায়।
একজন মাতাল মহিলা ওখানে থাকে, কিন্তু সে ভালো।
রুমটা আমার নই, আমার বোন অ্যানার।
ও এখন হাসপাতালে আছে।
আর আমি তানিয়া।
সানা।
আন্টি।
কয়েক দিনের মধ্যেই আপনাকে আমি মাসের আগাম ভাড়াটা দিয়ে দেবো।
আমার টাকা আর পাসপোর্ট মিলিটারি হেডকোয়ার্টারে আছে।
জানেনই তো আমাদেরকে কেমন নিয়ম মেনে চলতে হয়।
ঠিক আছে।
যে কোনো সময়ে দিও।
তুমি একজন বাবা, একজন সত্যিকার সৈনিক।
- তুমি তো কোনো প্রতারক নও। - ধন্যবাদ।
সমস্যা নেই।
মা!
কী হয়েছে? শান্ত হও।
কিছু হয়নি, সোনা।
- কী হয়েছে। সানা? - কিছু না।
ও এখনি ঘুমাতে যাবে।
তোমার বাবা এখন চেয়ার শক্ত করে একসঙ্গে বেঁধে দেবে, তাহলে তুমি আর পড়ে যাবে না।
উনি কি তোমাকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলছিল?
এসব কী বলছ?
আমি সব শুনেছি, জানো?
তুমি স্বপ্ন দেখেছ।
আমি এখানে ঘুমাবো!
এখন থেকে ঘুমাতে পারবে না!
এখানে শুয়ে থাকো।
আমি মায়ের সাথে থাকবো।
ধ্যাত্তেরি!
এখানে আমি ঘুমাই।
মুখ থেকে আরেকটা কথা বের হলে তোমাকে জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেবো!
আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না?
বাইরে ফেলবো?
চিন্তা করো না।
দেয়ালে পেরেক মারো।
কেন?
তোমার পোশাক ঝুলিয়ে রাখবো তাই।
আচ্ছা ঠিক আছে, আমিই পেরেক মারবো।
এগুলো কী?
ওগুলো আমি বাজার থেকে তোমার জন্য নিয়ে এনেছি।
শুধু আমার জন্য?
হ্যাঁ, তোমার জন্য।
আমার জন্য?
এটা আমার জন্য?
এটা ফিট হচ্ছে না।
থামো বলছি।
থামো বলছি, বাইরে যাও।
কোনো শব্দ করবে না, নয়তো ওরা আমাদেরকে তাড়িয়ে দেবে।
তোমার পাসপোর্ট হেডকোয়ার্টারে নাই। তুমি ওখানে কখনোই যাওনি।
আমি ছুটিতে আছি। আমার আরো দুইদিন ছুটি বাকি আছে।
তুমি যদি পাসপোর্ট মহিলাটাকে দেখাও, তবে তিনি জেনে যাবেন আমি তোমার স্ত্রী নই।
তাতে কী হলো?
তাতে কী হলো মানে? উনি আমাদেরকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবেন!
উনি আমাদেরকে বের করে দিবেন না!
তুমি কি সানা?
আমার নাম ইনেসা প্যাভলোভনা।
আপনি কি মাতাল হয়ে আছেন?
নাতো।
- আমি এক মাস যাবত মদ খাইনি। - সানা! বাইরে গিয়ে খেলো!
আমি খেলতে যাবো না!
মনে হয় মেয়েটি আমাকে পছন্দ করেছিল।
ও মনে করেছিল যে ওর কারণেই ওরা আমাকে মারধর করছিল।
আসলে, ওরা আমাকে মারছিল কারণ আমি আলাদা ছিলাম।
আমি এখানে থাকতে চাই না! ওরা আমাকে মারছে!
কী হয়েছে? ওরা নিশ্চিতভাবে আমাদেরকে বের করে দিবে।
চিৎকার করবে না।
তুমি এতো জ্বালাতন করো কেন? ওদের গিয়ে দেখিয়ে দাও।
আপনি কী বলতে চান, তোলিয়ান আংকেল?
আমি তোমার আংকেল নই, আমি তোমার বাবা! যাও গিয়ে আত্মরক্ষা করো!
আত্মরক্ষা করবো... কিন্তু কীভাবে?
যাও গিয়ে ঘুষি মারো, কামড় মারো, নাহলে লাথি মারো।
এইভাবে, তাহলে ওরা মনে রাখবে।
যদি না মারো, তবে তুমি সত্যিকার পুরুষ মানুষ নও। এখন পানির কল বন্ধ করো।
কাতিয়া!
ভেতরে আছো? এসে দেখো তোমার ছেলে কী করেছে!
কি এক ঝামেলা!
বাচ্চাসহ ওদেরকে রুম ভাড়া দেওয়াটা আপনার উচিত হয়নি!
এটা ন্যাকড়া নয়, এটা তোয়ালে!
ভুল হয়ে গেছে।
ওই, শালা, বাইরে আয় বলছি!
শোন!
এই ছেলে সবাইকে লাঠি দিয়ে মারছে, এই ছেলে কি তোর ছেলে?
এই ছেলে পাগল হয়ে গেছে!
ওকে ভদ্রতা শেখাবি, বুঝলি?!
ওর কান ছেড়ে দে...
নয়তো আমি নিচে গেলে...
মেরে তোর থোঁতা মুখ ভোঁতা করে দেবো।
পারলে করে দেখা, নিচে এসেই তো দেখ!
এরপর এই বাচ্চাকে বাকি বাচ্চাদের সঙ্গে মাঠে আর...
...খেলতে পাঠাতে পারবি না!
ঠিক আছে, ঠিক আছে। কথাটা ঠাট্টা হিসেবে নিতে পারলি না?
আমি নিচে এসে মেরে তোর থোঁতা মুখ ভোঁতা করে দিচ্ছি। একটু দাঁড়া।
ও ঢিল মেরেছে!
ছোট্ট বাচ্চা!
এরপরে যদি ওর গায়ে হাত তুলেছিস তো মেরে তোর থোঁতা মুখ ভোঁতা করে দেবো!
এরা কি তোমাকে মারধর করেছে?
তুমি কি আত্মরক্ষা করেছিলে?
এ কি তোমাকে মেরেছে? তুমি মেরেছ?
ঘুষি মারো।
আমি বললাম ওকে মারো!
মারো!
আবার!
আবার মারো!
নাকের উপর মারো, মুখে মারো!
কষে চড়াও!
ঠিক আছে, ঠিক আছে।
এখন শান্ত হও। আমরা ঘরে যাচ্ছি।
তোমাকে চাবকান উচিত। পুরো ঘরটাকে পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছ!
বসো!
বেল্টটা নিয়ে আসো।
বললাম না বেল্টটা আমাকে এনে দাও!
এবারের মতো মাফ করে দিলাম।
চিন্তা করবেন না, আজ ওকে আচ্ছা করে মারবো।
তুমি ওকে মারতে যাবে কেন?
তার চেয়ে ভালো হয় তুমি ওকে অ্যাকর্ডিয়ন শেখাও। পরে কিন্তু আমি তেল মাখাবো না।
অ্যাকর্ডিয়ন কী! একটা মারাত্মক জিনিস!
অ্যাকর্ডিয়ন বাজানো শেখালে হয়তো ক্ষতি হবে না।
কিন্তু ওর বাবা তো সৈনিক মানুষ। আজ আমরা এখানে তো কাল অন্য জায়গায়।
আমি কোনো সৈনিককে কখনো বিয়ে করবো না।
তাই নাকি?
অবশ্যই। ও কখনোই বিয়ে করবে না!
ওর দিকে তাকাও!
চাপ দাও।
শক্তি দিয়ে। আরো শক্তি দিয়ে।
বুঝতে পারছ?
এই ট্যাটু কীসের জন্য?
No comments yet. Be the first to leave one.