The first 161 lines.
ভাবানুবাদে: সুদেব বিশ্বাস
এককালে, এক শান্তিপূর্ণ রাজ্য ছিল
যেখানে এক ধার্মিক রাণী আর রাজা শাসন করত।
তাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া ছিল একটা বাচ্চার।
একদিন শীতের রাতে, তাদের রাজ্যে এক ভয়ানক তুষারঝড় বয়ে গেল,
বরফ আর ঠান্ডার ঝোড়ো হাওয়ায় পুরো রাজ্য ঢেকে গেল,
কিন্তু তাদের জন্য রেখে গেল এক অমূল্য উপহার।
এক রাজকুমারী জন্ম নিল।
যে রাতে সে এসেছিল, সেই রাতকে সম্মান জানাতে,
তার বাবা-মা সেই মেয়ের নাম রাখল স্নো হোয়াইট।
সে যত বড় হতে লাগলো, রাজা আর রাণী স্নো হোয়াইটকে এই শিক্ষা দিলো যে,
এই রাজ্যের যা কিছু আছে, তা সেইসব মানুষেরই যারা এর দেখাশোনা করে।
তারা তাকে ভালোবাসার সাথে শাসন করতে শিখিয়েছিল।
কারণ একদিন, তার ভাগ্য হবে নেতৃত্ব দেওয়া।
যাও।
হাই।
রাজা আর রাণী গর্বের সাথে দেখছিলেন
স্নো হোয়াইট কিভাবে এক দয়ালু আর সুন্দর যুবতী রাজকুমারী হয়ে উঠছে।
কিন্তু তারপর, এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল।
স্নো হোয়াইটের মা অসুস্থ হয়ে পড়লো।
আর সেই ভালো রাণী মারা গেলো।
স্নো হোয়াইট আর রাজা একেবারে ভেঙে পড়লো।
যতক্ষণ না...
দূর দেশ থেকে এক সুন্দরী মহিলা এসে পৌঁছালেন সেই প্রাসাদে।
তার সৌন্দর্য এতটাই বেশি ছিল যে মনে হত
যেন তাকে সাধারণের চেয়েও বেশি ক্ষমতা দিয়েছে।
সে রাজার সাথে বিয়ে করলো।
কিন্তু সে যেমন দেখাচ্ছিলো তেমন ছিল না।
ডাইনি ছিল।
সে শুধু নিজের সৌন্দর্য
আর সেই সৌন্দর্যের দেওয়া ক্ষমতা নিয়েই ভাবতো।
সেই ক্ষমতা রক্ষা করার জন্য,
একটা জাদু আয়না রাখতো,
যে শুধু একটা সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারত।
দেয়ালের জাদু আয়না,
কে সবচেয়ে সুন্দরী এই জগতে?
আপনি, আমার রাণী,
যত সুন্দরী নারী আছে ধরায়,
আপনার রূপের তুলনা মেলা ভার।
নতুন রাণী ক্ষমতা দখল করতে একটুও সময় নষ্ট করলেন না।
তিনি দক্ষিণের রাজ্যের বাইরের এক ভয়ংকর বিপদের কথা বললেন।
তাই রাজা তার প্রজাদের রক্ষা করার শপথ নিলেন।
এটা কাছে রেখো
যতক্ষণ না আমি ফিরে আসি।
কিন্তু রাজা আর ফিরে আসেননি।
ভয়ে ছেয়ে গেল রাজ্য।
আর রাণীর ক্ষমতা বাড়তে লাগল।
তিনি চাষীদের সৈন্য বানালেন।
যারা শুধু তার প্রতিই অনুগত ছিল,
রাজ্যের ধনসম্পদ লুট করে নিজের জন্য রাখলেন।
তিনি স্নো হোয়াইটকে দাসী বানালেন
আর তাকে বন্দি করে রাখলেন রাজপ্রাসাদের দেয়ালের ওপারে।
যতদিন আয়না রাণীকে উত্তর দিত যে তিনিই সবচেয়ে সুন্দরী,
ততদিন স্নো হোয়াইট রাণীর নিষ্ঠুর ঈর্ষা থেকে নিরাপদে ছিল।
বছর ঘুরতে লাগল,
মানুষ প্রায় ভুলেই গিয়েছে।
স্নো হোয়াইট নামে কোনো রাজকুমারী ছিল।
আর সত্যি বলতে,
স্নো হোয়াইট প্রায় নিজেকেই ভুলে গিয়েছিল।
হ্যালো?
আমি দুঃখিত।
তোমাকে কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি?
ঠিক আছে। শুধু দেখছিলাম।
আচ্ছা, তাহলে আমাকে ওগুলো ফেরত রাখতে বলতে হবে।
আমি রাখতাম, কিন্তু মনে হচ্ছে রাণীর কাছে তো অনেক আছেই।
ওহ, বুঝলাম। তাহলে চুরি করার এটাই তোমার অজুহাত?
আমার বন্ধুরা ক্ষুধার্ত। আমি ক্ষুধার্ত। এটাই আমার অজুহাত।
হয়তো আমি রাণীর সাথে কথা বলতে পারি।
সত্যিই ভাবছো ওপরতলার লোকেরা আমাদের মতো গরিবদের সাথে ভাগ করতে চাইবে?
হ্যাঁ, রাজকুমারী চাইবে।
স্নো হোয়াইট।
স্নো হোয়াইটকে অনেক বছর ধরে না দেখা গেছে, না তার কোনো খবর পাওয়া গেছে।
আমার সন্দেহ হয় সে কারো কোনো কাজে লাগবে।
সে শুধু এটাই ভাবে কিভাবে তার প্রজাদের সাহায্য করা যায়।
তাহলে তোমার উচিত তাকে জানানো, কোনো এক বিষয়ে।
তাহলে হয়তো তার ভাবনা বন্ধ হতে পারে।
কাজ করতেও পারে।
প্রাসাদে একজন অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। দরজা বন্ধ করে দাও!
নিজের জন্য কিছু নাও।
আর বাকিটা তোমার রাজকুমারীর সাথে ভাগ করে নিও।
হয়তো কেউই তাকে কিছুই জানায়নি।
আমি নিশ্চিত যদি রাণী জানতেন পরিস্থিতি কতটা খারাপ হয়েছে,
তিনি নিশ্চয়ই ভাগ করে দিতে রাজি হতেন।
অন্তত আমার চেষ্টা করা উচিত,
হোক না সেটা শুধু একটা আশা।
আশা... আশা...
আশা...
স্নো হোয়াইট, তোমার কাজ শেষ হয়েছে?
হ্যাঁ, মহামান্য রাণী।
আমাদের সকলেরই নিজেদের ভাগটা করা উচিত।
আচ্ছা, আসলে আমি এই বিষয়েই আপনার সাথে কথা বলতে এসেছিলাম।
ভাগ করা।
দয়া করে।
তুমি কি বলছিলে?
আসলে...
মহামান্য রাণী,
মানুষজন খুব কষ্টে আছে, আর এটা হয়তো খুব বেশি কিছু না,
কিন্তু যখন আমি ছোট ছিলাম, আমার বাবা-মা আর আমি আপেল কুড়োতাম।
আমরা সেগুলো দিয়ে পাই বানাতাম,
-তারপর গ্রামে যেতাম... -পাই?
পাই তো বিলাসিতা। তাদের বিলাসিতার দরকার নেই।
ওগুলো তাদের বিভ্রান্ত করবে।
কিন্তু মাঝে মাঝে ছোট কিছু, এমনকি মিষ্টি কিছুও,
আপনাকে বিশ্বাস করাতে পারে যে বেঁচে থাকার মানে শুধু টিকে থাকা নয়, আরও কিছু আছে।
তুমি জানো, আমার মনে পড়ছে না তোমাকে কখনও এত...
একগুঁয়ে দেখেছি।
মাপ করবেন। আসলে...
আমার মনে হয় তাদের একটু দয়া দরকার।
"নির্ভীক, ন্যায্য, সাহসী, সত্যবাদী।"
কী অদ্ভুত।
একদিন, তুমি বুঝবে এই শব্দগুলো কতটা মূল্যহীন।
কিন্তু আপাতত,
তোমার জন্য এই সামান্য উপহার।
দেখো।
মনোমুগ্ধকর, তাই না?
হ্যাঁ, মহামান্য রাণী।
একটা দুর্বল, অকেজো, ভঙ্গুর।
অন্যটা কঠিন, অনমনীয়,
চিরস্থায়ী, নিখুঁত,
সুন্দর।
আমার প্রজারা ফুল চায় না।
তারা হীরা চায়।
-রাজকুমারী... - হাত সরাও!
এই অপরাধীকে রান্নাঘরের পেছনে রাজকীয় জিনিসপত্র চুরি করার সময় ধরা হয়েছে।
মিথ্যা কথা।
তুমি কি সেই ডাকাত দলের একজন
যারা জঙ্গলে লুকিয়ে থাকে আর রাজার নামে চুরি করে?
না, না, মহামান্য রাণী।
"ডাকাত দলের একজন" না। আমিই বস।
একমাত্র সত্য রাজার প্রতি অনুগত।
এর বাড়ি খুঁজে বের করে মাটিতে মিশিয়ে দাও।
মজার ব্যাপার হল,
আসলে আমার কোনো বাড়ি নেই।
তাহলে ওকে কারাগারে নিয়ে যাও।
-ওর চিৎকারে দুর্গ ভরিয়ে দাও। -মহামান্য রাণী...
আমি ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা বুঝি।
কিন্তু দয়া করে, এটা ঠিক না।
তুমি কি বললে?
শাস্তি অপরাধের চেয়ে বেশি হওয়া উচিত না,
- আর আমি জানি আমার বাবা... -তোমার বাবা?
তোমার বাবা?
আমার বাবা দয়া দেখাতেন।
দুঃখিত, আমার প্রিয়। তুমি ঠিক বলেছ।
এই চোর আমার কাছ থেকে চুরি করেছে।
তাই, আমি ওর কাছ থেকে চুরি করব।
ওর কোট আর বুট খুলে নিয়ে গেটের সাথে বেঁধে দাও, ঠান্ডায় জমে যাক।
জানেন তো, কারাগার কি এখনও একটা বিকল্প?
ওকে নিয়ে যাও!
দাঁড়ান, ও মারা যাবে। দয়া করুন, মহামান্য রাণী।
স্নো হোয়াইট!
এই নাও...
নিজেকে দেখো
তুমি কি এটাই চাও না?
যাও,
তোমার প্রজাদের সাথে কথা বলো
তোমার প্রজারা তোমার জন্য অপেক্ষা করছে, স্নো হোয়াইট।
তোমার পাই আর জ্ঞানগর্ভ কথা।
তাদের কী বলবে, হ্যাঁ?
যে তুমি তাদের জন্য মিষ্টি বানিয়েছো?
তুমি তো আশার জগতে বাস করো।
নিজের কুয়োতে ফিরে যাও, স্নো হোয়াইট।
No comments yet. Be the first to leave one.