The first 196 lines.
C
Cr
Cre
Crea
Creat
Create
Created
Created
Created b
Created by
Created by:
Created by:
Created by:
Created by: K
Created by: KU
Created by: KUS
Created by: KUSH
Created by: KUSHA
Created by: KUSHAL
ভাবানুবাদ: কুশল ০১৯১৮১১০০৯৯ Our group on facebook: Bangla Subtitle
>> চার্লি <<
যারা পড়াশোনার জন্য ব্যাঙ্গালোরে যায়...
...তারা নাকি খুব বিন্দাস থাকে?
আমাদের বাড়ির কাছের এক মেয়ে ব্যাঙ্গালোরে পড়াশোনা করে।
সে নাকি তার সকল খরচ, নিজেই জোগাড় করে।
শুনেছি, বেশ স্বাধীনভাবে চলাফেরাও করতে পারে সেখানে।
আপনিও কি এরকম জীবনই কাটান সেখানে?
- ভাড়া কতো হলো? - ৫০ টাকা।
- ভাংতি নাই তো। - পুরোটাই রাখেন।
- বাকি টাকা লাগবে না? যাই হোক... - আমি সেখানে স্বাধীন ভাবেই থাকি!
কী? মিষ্টি মুখ করাবো?
- সে ওই মেয়েটা না? - তেসা।
তার দাদীর মতোই হয়েছে, আধপাগলি!
কোথায় ছিলি এতো দিন?
সেটা পরে হবে, তোর জন্য চমক আছে।
চমক? কীসের চমক?
সুদূর আমেরিকা থেকে আগত...
আরে, কুরু ভিলা যে!
তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?
যা ব্যাটা! ঠোলা!
দাদী, ও কী বলছে, শুনছো?
তুই আর জাফিনা প্রেম করেছিস, এখন বিয়ে করছিস।
আমাকে এর মধ্যে টানছিস কেন?
ওয়াদার কথা ভুলে গেলি? আমাদের একসাথে বিয়ের কথা ছিলো।
না, আমি এমন ওয়াদা জীবনেও করিনি।
কুরুভিলাকে বিয়ের কথা তো স্বপ্নেও ভাবিনি।
যাই হোক, দাদী, তার প্ল্যানটা কী?
প্ল্যান ছাড়া কীভাবে বাঁচা যায়, সেটাই এখন আমার প্ল্যান।
জর্জ, জাফিনার বাবা তোমাকে ডাকছে।
যাও সেখানে।
মাঝরাতে ফিরলে পাড়ার লোক তো কথা বলবেই।
কুরুভিলার বাবা-মার সামনে কতটা লজ্জা পেলাম!
পরশু জর্জের সাথে সাথে...
তোমার আর কুরুভিলার বিয়েটাও হয়ে যাওয়া চাই।
- আমার আরো সময় লাগবে। - সময় কি কম নিয়েছো?
ভালো না লাগলে কি আর রাজি হবে সে?
লাই দিয়ে আপনারাই তার মাথাটা খেয়েছেন!
কুকুর বিড়ালের ছবি আঁকা অনেক হয়েছে।
দাদী, আমি কি আসলেই এত দস্যি?
আমার নাতি অনেক লক্ষী!
এখন আমি কী করি? একটা উপায় ঠিক বেরিয়ে যাবে।
তেসা, জলদি আসো, চলো, বাইরে চলো।
- এই যে তোমার ড্রেস। - আমার কিচ্ছু মনে নেই।
সমস্যা নেই, একটু দেখিয়ে দিলেই, পারবে।
- না মলি, আমি পারবো না। - আরে এইটা তো বাইরের অনুষ্ঠান না।
আসো তো।
আহ! ধরো তাকে!
যাও, ভিতরে নিয়ে যাও।
আমরা এখন অন্য পথে যাবো। আপনাকে এখানেই নামতে হবে।
ওই, উঠ এবার!
- আরে উঠ ব্যাটা! - ধন্যবাদ ভাই।
এখানে, এখানেই!
- হ্যালো, মা, - কোথায় তুমি?
আমি বিউটি পার্লারে আছি।
এখানে তো আশীর্বাদ তো শুরু হয়ে গেছে, জলদি আসো!
দশ মিনিটের মধ্যে আসছি।
তোর ওসমান চাচাকে ফোন দিয়ে একটা বাসা ঠিক করতে বল তো।
এখন আর ব্যাঙ্গালোরে যাবি না?
ব্যাঙ্গালোর আর চাকরি, কোনটাই আর ভাল লাগছে না।
বেশ পুরোনো, তাই না?
থাকতে পারলেই সেখানে যা।
আর হ্যা, সেখানে আগের ভাড়াটিয়ার কিছু পুরোনো মালপত্রও রয়ে গেছে।
সেগুলোর কী হবে?
তুই কিন্তু আমার ফ্লাটেই থাকতে পারিস, বোম্বের মেয়েগুলো এক সপ্তাহ পরেই চলে যাবে।
আমি সেখানে এক সপ্তাহ বাদ, এক ঘন্টাও থাকতে পারবো না।
কোন কিছু লাগলেই ওসমান চাচাকে ফোন করিস।
তোর মা তো আজ কালকের মধ্যেই আমাকে ফোন করবে।
সবাইকে মানাতে পারবো, কিন্তু, তোর মা'কে কী বলবো?
সাংবাদিক হয়েও মিথ্যে বলতে পারবি না?
আজকে একটা প্রেস কনফারেন্স আছে,
তা না হলে, আমিই তোর সাথে যেতাম।
পাগল কোথাকার! একটুও বদলাবিনা তুই!
আপনিই ওসমান চাচার "তেসা"? দেখেই বুঝে গেছি।
দশ মিনিট দেরি হয়ে গেলো, সরি।
আমাদের এখানে এটাকে দু'ঘন্টা বলা হয়।
আসলে, চাচা এখন এলাকার বাইরে।
কিছু খেলোয়ারদের নিয়ে আসতে হয়েছে আমার।
না হলে সব তালগোল পেকে যেত।
যাই হোক, সবকিছুর জন্যে সরি।
আঁকিবুঁকি বন্ধ করুন, চলুন, আপনাকে পৌছে দেই।
আমি ব্যাগটা নিচ্ছি, ঐটাও আমাকে দিন।
- দরকার নেই, আমি নিচ্ছি। - সমস্যা নেই, আমিই নিচ্ছি।
কেকটা খাননি দেখছি, আচ্ছা, গাড়িতে বসেই খেয়ে নিয়েন।
এটা আমাদেরই দোকান, চলুন।
আপনি সামনে বসুন, ভাল লাগবে অনেক।
- আমি ওইখানে বসি? - আচ্ছা, উনাকে একটু হেল্প করো।
তো, এই হচ্ছে সেই জায়গা। ঐতিহ্যবাহী বটে।
সিড়ি দিয়ে উঠে, বামে ঘুরবেন।
আরেকটু উঠে, ডানে ঘুরবেন।
সিড়ির শেষ মাথায় দেখবেন- আপনার রুম চলে এসেছে।
আপাতত আমাকে আর দরকার নেই।
আমার দেরি হলে, টুরিস্টরা আবার রেগে যাবে।
যে কোনো সময় আমাকে ফোনে পাবেন।
আচ্ছা, আবার দেখা হবে।
কে ওইখানে?
- আমি... আম্মিনি! - আম্মিনি!
ওহ, তুই এইখানে?
আগে যিনি এইখানে থাকতো, উনি আম্মিনিকে কিনে ছিলো।
আমার মেয়ের সাথে খেলার জন্য।
উনার যাবার দিন, আমি আর ওকে নিতে আসতে পারিনি।
হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম, আজ'ই ছাড়া পেলাম।
আমার মেয়ে কুলসুম তোর জন্য অপেক্ষা করছে রে!
চাচা, এই বাসা আমার লাগবে না।
কেনো, কী হয়েছে মা? কী সমস্যা?
আমি এখানে আসতে না আসতেই এক লোক এসে তার ছাগল নিয়ে গেলো।
ওহ এই ব্যাপার? আরে, ওটাতো আম্মিনি!
নিশ্চই আমাদের আবুটিক্কা এসেছিলো।
তার মনটা ছাগলের দুধের মতোই সাদা। ভয়ের কিছু নেই।
আপনার দেয়া ছবির সাথে এই রুমের কোন মিলই নেই।
দরজায় খিল নেই, রুমগুলোও নোংরা।
বলেছিলাম তো, এক সপ্তাহ পর আসো, সব যেন ঠিকঠাক করে দিতে পারি।
তুমিই তো হুটহাট চলে আসলে। এখন আবার রাগও দেখাচ্ছ।
আগামী ২৪ ঘন্টার ভেতর সব ঠিক হয়ে যাবে।
কেউ আবার গরু-ছাগল খুঁজতে আসবে না তো?
এখন আর কে আসবে? আসলে একজনই আসবে!
সে কবে আসবে? এক আল্লাহ জানে, কবে আসে সে!
হ্যালো। গুড মর্নিং।
নতুন কামরা কেমন লাগছে?
সমস্যা তো খানিক হচ্ছেই, ঘরটা নোংরা হয়ে আছে।
শোন, তোর মা ফোন করেছিলো আমি রিসিভই করিনি।
তুই ফাঁকি দিয়ে সবসময় পালিয়ে যাস, আর জবাব দিতে হয় আমাকে।
তোকে পরে কল দিচ্ছি।
কলা, চিটা গুড়ে আর ধান, ঘন করে জ্বাল দিলে হয়-
সহজলভ্য অসাধারণ চোলাই মদ!
গলায় ঢালার আগেই নেমে যায়!
এইযে, কে আপনি?
জোসি, মদওয়ালা জোসি!
হায় খোদা! এই কাজ কবে সারলো সে?
কবে থেকে বলছি, একটা বিয়ে করতে।
সবসময় তো বড় গলায় বলতো- আমার বউয়ের দরকার নাই!
এখন দেখছি থলের বিড়াল বের হয়ে এসেছে! তা, তোমার নাম কী গো?
আপনি এসব নিয়ে যান, এই জায়গা খালি করুন।
তুমি খুব ভাগ্যবতী, যে এমন স্বামী পেয়েছো।
ও কিন্তু আসলেই খুব ভালো, তাইনা?
- তুমি কিন্তু এখানেই থাকবে। - এইযে ভাই, এগুলো সরাবেন না?
ওকে বোলো, প্রেসার কুকার ঠিক করে দিয়েছি।
হুইসেলের শব্দও এখন অনেক মিষ্টি হয়েছে।
একেবারে লতার গজল!
আবার কী হলো? হ্যালো, ওদের বলে দিও, ওদের মেরে তক্তা বানিয়ে ফেলবো!
ওরা তোমাকে মেরে ভর্তা বানাবে!
আমি পাশের রুমে নতুন উঠেছি।
ওনাকে কি আপনারা চেনেন?
- হাই, আমি তেসা। - আমি এমিলা।
- মি. গ্যাব্রিয়েল আছেন? - তিনি তো ট্যুরে গিয়েছেন।
- আসলে, আমি তার ক্লাসে জয়েন করতে চাচ্ছিলাম। - আচ্ছা, আপনি ফোন নাম্বার দিয়ে যান।
- উনি ফিরে আসলে, আপনাকে জানিয়ে দিবো। - অনেক ধন্যবাদ।
- হ্যালো। - দাদী।
- এটা আবার কেমন নাম্বার? - আরে নাম্বার হলেই হয়।
বাড়ির কী অবস্থা, ঝামেলা হয়েছিলো কোনো?
তোর মা শুধু আমার কল্লাটা ফেলেনি!
আজ সকালেই সবাই অস্ট্রেলিয়া চলে গেছে, তোর কথাই সবাই জিজ্ঞেস করছিলো?
তা, এখন তোর প্ল্যান কী? এভাবে কতদিন পালিয়ে বেড়াবি?
- আসলে হয়েছে কি... - তুই এখন কোথায় বলতো?
- আমি? বলতে গেলে একটা জঙ্গলে আছি। - জঙ্গলে মানে?
তুমি রুপকথার গল্পে যেমন বলতে, এক জাদুকরের গুহা, মনে আছে?
ঠিক তেমনই এক নির্জন গুহায়।
এখন ফোন রেখে ঘুমোতে যা।
- হ্যালো। - চাচা, রুম পরিষ্কারের জন্য ককে পাঠিয়েছিলেন?
- অনেক খুশি হয়েছি। - আবার কী হয়েছে?
আপনি না পারলে বলে দিতেন, আমি নিজেই করে নিতাম।
আমি তো একজনকে পাঠিয়েছিলাম।
সে যায়নি এখনো? আচ্ছা, ২৪ ঘন্টার ভিতরে...
আপনার ২৪ ঘন্টার কথা অনেক শুনেছি, আমি বুঝে গেছি।
কী করতে হবে আমিই ভাল জানি। আপনি ফোন রাখেন।
না, আসলে...
হ্যালো।
তোর চোখের গহীনে লুকিয়ে ছিলো, মুসাফিরের সাগর।
আর তোর মনের গহীনে সেই সাগরের লবণ!
- হ্যালো। - কে বলছেন?
বেচারা 'জীন' বলছি, যে আপনার রুমের পূর্ব বাসিন্দা ছিলো।
কে? 'জীন'? কী বলতে চাচ্ছেন?
চমকে যাননি তো? মজা করছিলাম!
- ওই কামরায় আমিই থাকতাম। - আপনি এখন কোথায়?
আমি পৃথিবীতেই বিচরণ করছি।
আর যদি জানতে চান, ঠিক কোথায় আছি, আমি নিজেই সেটা নিশ্চিত নই।
আমি সময়ের স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছি।
No comments yet. Be the first to leave one.