200 rreshtat e parë.
সাবটাইটেল বাই : AR SOUROV
তুলে ফেলো, স্টিফেন।
দুই ঘন্টা, ২০ মিনিট এবং ৫৩.২ সেকেন্ড।
বুধবারের টেস্টের চেয়ে ৬মিনিট ৩০সেকেন্ড বেশি এবং...
তার আগেরদিনের পরীক্ষার চেয়ে ১২মিনিট বেশি ছিল।
সত্যিই চমকপ্রদ কীভাবে প্রতিনিয়ত
সক্ষমতা বেড়েই চলেছে, তাই না?
যখন মুক্তির প্রত্যাশা করা সত্ত্বেও কেবল শারীরিক সীমাবদ্ধতার দায়ে বাধাপ্রাপ্ত হবে...
সেটা দেখতেও কিন্তু বেশ লাগবে!
এত সময় লাগার তো কথা নয়।
সোমবারের জন্যেও কি শিডিউলে ট্যাঙ্ক রাখবো, ডক্টর?
গতানুগতিক যেভাবে চলছে ঠিক সেভাবেই।
ওহ ভালো কথা স্টিফেন, আমাদের "সামাজিক বঞ্চনার" প্রোগ্রামটি নিয়ে ক্যামব্রিজ কিন্তু বেশ উদ্বিগ্ন।
দাবার চাল রেডি আছে তো?
কেবল হুকুমের অপেক্ষায়।
বেশ, তাহলে আজ সন্ধ্যায় সিলিন্ডারে করে নিয়ে যেও।
ওহ, আর সেই ট্যাঙ্কটিকে...
দয়া করে পরিষ্কার করে রেখো।
এই নাও তোমার জন্য।
লক্ষী ছেলের ন্যায় বসে পড়ো।
এই নাও বাছাধন।
এত খুঁড়াখুঁড়ি করেও আশার আলো পাওনি?
এটা আবার কী?
হায়রে ছোট্ট মানিক!
খুব বেশি মাত্রায় হয়ে গেছিলো নাকি? (পরীক্ষা)
হ্যারি...হ্যারি?
বলো।
ফালতু বকবক করছো নাকি?
ঠিক ধরেছ।
আমি কনিস্টন যাচ্ছি মালপানি গিলতে।
গাড়িটা দিতে পারবে?
ঠিক আছে।
অল্প কিছু বাকি আছে, তারপরই শেষ।
ওহ!
চিরকাল দাড়া করিয়ে রাখবে নাকি?
আরে বাবা আসছি।
রাওফ।
বেরিয়ে এসো।
আমি পারবো না।
লড়াই করে যাবো।
সাদা চামড়ার ব্যাটাদের টুঁটি ছিড়ে ফেলব।
শালা বদমাশ!
সাদা চামড়ার ব্যাটারা চুলোয় যাক, এটা আমি... তোমার স্নিটার।
শুনো, দরজা এখন আর আমাদের কব্জা করতে পারবে না।
ব্যাটা বিড়িখোর ম্যাচ জ্বালিয়েছিলো।
পোড়া গন্ধ পাচ্ছো না?
পানিতে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারি না।
যখনি চোখটা বন্ধ করি, পুনরায় পানি এসে ধরা দেয়।
বের হয়েছিলে কীভাবে, পানি গিলে ফেলেছিলে নাকি?
নাকি রোদে শুকিয়ে গিয়েছিলো, কী হয়েছিল?
জানি না।
এসব ঘেন্না লাগে, স্নিটার।
"পানি" আমার কাছে এক মূর্তমান আতঙ্কের নাম।
এখান থেকে জাল কিছুটা ঢিলা।
একদম নিচ বরাবর।
নাক দিয়ে ধরলে, গুটিসুটি মেরে হয়তো ভেতরে প্রবেশ করতে পারবো।
ওরা এমনটা কেনো করে?
আমি তো কোনো দোষ করিনি।
মনে হয় না, দুষ্টু নাকি ভালো সেই বিচার করে ওরা তোমার সাথে এমনটা করে থাকে।
তোর কি মনে হয়, এখানে কেবল তুইই...
একমাত্র যে কিনা এই স্থানকে ঘেন্না করে?
রাওফ, এখন মনে পড়েছে।
এজন্যই তো তোমার কাছে এলাম।
তোমার দরজাটা শুরু থেকেই আলগা ছিলো।
আমরা অপরপ্রান্তে যেতে পারবো।
- ওরা ঠিকই ফিরিয়ে আনবে। - আমরা সামলে নিতে পারব।
এখান থেকে বের হতে পারব।
এখানেই নিরাপদ আছি।
কেবল খাঁচা থেকে পালানোর কথাই বলিনি, বরং এ'স্থান ত্যাগ করার কথাও বলেছি।
এই নরক থেকে।
আমরা পারব।
বাহিরে বিপদের আশংঙ্কা।
বিপদ?
পানির কথাটা ভাবো।
এর চেয়ে নিকৃষ্ট আর কী হতে পারে?
ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যাটাদের সামনে ধাতব ট্যাঙ্কের মধ্যে...
প্রাণপণ বাচার আকুতি, আর ওরা কিনা কুটিল দৃষ্টিতে নিরীক্ষা করছে।
আর একদিন, তুমি সেখান থেকে আর ফিরে আসবে না।
ওরা তোমায় ডুবিয়ে মারবে।
ওরা যদি হুকুম করে পানিতে নামো, আমি তৎক্ষণাৎ...
ওরা আমাদের প্রভু নয়।
আমার একজন মনিব ছিলো, তাই জানি...
ব্যাটারা আর যাই হোক, মনিব হতে পারে না।
যাচ্ছো কোথায়?
ছাড়া পেলে কীভাবে?
আর মাথায় ওটা কিসের চিহ্ন?
মনে হচ্ছে, ওরা বেশ ভালোভাবেই সবাইকে...
নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
ডক্টররা আমায় আরো ভালোরুপ এনে দিয়েছে।
প্রথমে আমায় অসুস্থ করে ফেলে, পরবর্তীতে তারাই সারিয়ে তোলে।
- জানো তো, অসুস্থ ছিলাম আমি... - শোন মাথামোটা।
বিড়িখোর ওই ব্যাটা দরজার ওপারে যেতো কীভাবে?
সচরাচর ওর হাতে কিছুনা কিছু থাকে।
বেশিরভাগ সময় ওর কাধ কিংবা পা দিয়েই ধাক্কা দিতো,
তারপর পাশ কেটে ওপ্রান্তে চলে যেতো।
আরে শুনবে তো, যখন অসুস্থ ছিলাম তখন...
প্রথমে ওরা আমায় সারিয়ে তোলে,
এরপর যেমনটা বললাম, পুনরায় অসুস্থ করে ফেলে।
উন্নতি নাকি অবনতি ঘটছে তার আগামাথা কিছুই বুঝছিলাম না।
এই ভালো, তো এই দেখি মন্দ।
আমিতো পুরাই তব্দা খেয়ে গেছিলাম।
লাফালাফি করো না রাওফ।
কেবল ধাক্কা দাও।
এইতো।
এত আয়োজনের পেছনে অবশ্যই কোনো কারন রয়েছে, তাই না?
কোনো ভালো উদ্দেশ্য তো অবশ্যই রয়েছে।
ওখানে হয়ত ভয়ানক কোনো রোগবালাইয়ের উপস্থিতি রয়েছে।
গন্ধ শুকে তো তাই মনে হচ্ছে।
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকুক, বন্ধু।
ছড়িয়ে পড়তে দাও।
এটা মেঝেকে ধারালো রাখবে,
এবং অসাবধানে তোমার নাক দিয়ে রক্ত বের হতে পারে।
চলে এসো।
কাদা, বৃষ্টি, নর্দমা আর পাতার গন্ধ।
যদিও ভালো লক্ষণ নয়।
এখান দিয়ে অতিক্রম করতে পারব না।
ঠান্ডায় আমার পা জমে যাচ্ছে।
কিছু হয়তো ওখানে পোড়ানো হয়েছে।
এ তো মৃত নগরী।
হাড়, চুল।
ওরা মনে হয়, এখানে পশুপাখি পোড়ায়।
রাওফ, তাজা বাতাস।
ভেড়া,বৃষ্টি...আমি কিন্তুু ছাইস্তুপের মাঝেই সেসবের গন্ধ পাচ্ছি।
এর ভেতরে?
ফাটল দিয়ে গন্ধ আসে, কুকুর কিন্তু আসে না।
বাহির কি দেখতে পাচ্ছো না?
পোড়া গন্ধ ছাপিয়ে।
স্নিটার।
ব্যাথা পেয়েছ, রাওফ?
ভেতরে ঢুকতে পারব না ভেবে ভয় পেয়ে গেছিলাম।
আচ্ছা ঠিক আছে।
তো এই তোমার তাজা বাতাস আর বৃষ্টির ঘনঘটা?
সরে যাও স্নিটার।
ঐ পুচকে কুকুরটা, সব দোষ ওর।
ওটার কারনেই মরতে হলো।
উঠো রাওফ, বের হতে হবে।
এখনই না, আমি ক্লান্ত।
জায়গাটা বেশ উষ্ণ।
তো এখান থেকেই আসছে।
তাজা বাতাসের গন্ধ!
বালছাল কোথা থেকে আসলো?
কাচের টুকরোর ছড়াছড়ি।
রাওফ, আমরা এখানে থাকতে পারব না।
ওরা খোজ লাগাবে।
শীঘ্রই বাহিরে বের হতে হবে।
"বাহির" বলতে কিছু নেই।
অবশ্যই আছে।
তুমি ওখান থেকেই গন্ধ পাবে।
আমরা মুক্ত হতে পারবো।
চলো রাওফ চলো।
উঠে পড়ো, জলদি রাওফ।
লাইট কাজ করে না কেন, ধুর ছাই!
এর আবার কী হলো?
চুলোয় যাক এই স্থান! চুলোয় যাক সাদা চামড়ার ব্যাটারা!
চুলোয় যাক তোদের গুষ্টি!
তুমি কামড় দিয়েছ।
কামড় দিয়েছি?
মোটেও না।
একদমই না।
তুমি দিয়েছ।
আমায় আঘাত করেছ।
চটজলদি উঠে পড়ো এবং সাথে এসো।
এখন আমরা মুক্ত।
ওরা আমাদের থেকে সবকিছু ছিনিয়ে নিয়েছে।
বাড়ি, গাড়ি, ফুটপাতসহ আরও অনেককিছু।
কীভাবে করতে পারলো রাওফ?
ব্যাটারা হয়তো সব চেন্জ করেছে,
যাতে পশুপাখি কিংবা অন্যকিছুকে দিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করতে পারে।
আমার মনিব কখনোই এমনটা করেননি।
তোমার মনিবের কেচ্ছাকাহিনী শোনার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই।
যখন বাড়িতে ছিলাম, আমার মনিব...
কী বললাম, কথা কি কানে যায়নি?
মনিবেরা সম্পূর্ণ আলাদা, রাওফ।
যখন একজনের দেখা পাবে তখন নিজ চোখেই দেখতে পারবে।
ধরো মনিবের কোনো দেখা পেলাম না, তখন কী?
অবশ্যই আছে।
আসলে, কেবল আমিই এটার......আশা করিনি।
দেখো রাওফ দেখো।
সবকিছু এখনো সেখানেই আছে।
যদি আমি ওখানে আচ্ছাদিত হয়ে থাকতাম তবে মাথাখানা দারুন দেখার মতো হতো!
জিনিসপত্র স্থির রাখা যেতো।
পড়ে গেলে কিন্তু ওরা এসে উদ্ধার করবে না।
যত যাই বলো, খাঁচার থেকে এখানে ঢের ভালো।
তাই না রাওফ?
খাবো কখন?
ক্ষুধা লেগেছে।
আমার মাথার মধ্যে থাকা মাছিগুলো ভনভন করছে।
ঠিক ধোঁয়ার মতো।
দেখো, বাতাস কীভাবে পাতাগুলোকে আকাশের দিকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ঐ'যে বাড়িগুলো।
জানতাম বেশিদূরে যাওয়া লাগবে না।
এসো রাওফ, আমরা এখন নিরাপদ।
পাজি হতচ্ছাড়া, ভাগ এখান থেকে!
দূরে গিয়ে মর!
পুরাই লন্ডভন্ড করে দিলে।
সম্মান পেতে হলে তোমায়...
তাদের সম্মান দিতে হবে।
উনি কি তোমার দিকে পাথর ছুড়ে মেরেছিলো?
নাহ।
যদি গায়ে লাগত তবে মামলা অন্য রকম হতো।
No comments yet. Be the first to leave one.