200 rreshtat e parë.
বেঁচে থাকা, বয়স হওয়া, অসুস্থ হওয়া, মারা যাওয়া।
প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, অপছন্দের লোকদের সাথে দেখা করা,
আপনার চাওয়া পূরণ না হওয়া, এবং পঞ্চস্কন্ধের বিকাশ। [ পঞ্চস্কন্ধ → বৌদ্ধ ধর্ম মতে পঞ্চস্কন্ধ হলো রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার, বিজ্ঞান ]
এগুলোই মৃত্যুলোকের আটটি দুঃখ।
শুভ ফানুস উৎসব
অনুবাদ ও সম্পাদনায় সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক
০১ বলছি ৮০৩ কে, তুমি কি ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছো?
৮০৩ বলছি ০১ কে, আমরা ওয়াং'র বাসায় পৌঁছেছি।
০১ বুঝেছি।
আমি ভাবছি যদি এটাও প্র্যাঙ্ক কল হয়।
হ্যাঁ, ইদানীং খুব বেশি হচ্ছে এটা।
হাই, আমরা মি. ওয়াং'র থেকে জরুরী ফোন পেলাম।
উনি ঠিক আছেন?
সাবটাইটেলটিকে সুন্দর ও সাবলীল করার জন্য ইসাব অনুবাদ করার পাশাপাশি কিছুটা ভাবানুবাদও করেছি।
ওখানে।
এই গন্ধ কীসের?
কোথা থেকে আসছে এটা?
এটা কী?
বাবু।
৮০৩ বলছি, আমাদের ব্যাকাপ এবং একটা এম্বুল্যান্স লাগবে।
বুঝেছি৷ আমরা এখনই কাউকে পাঠাচ্ছি।
মিস. ওয়াং।
৭ সপ্তাহ হলো বাচ্চা এসেছে।
হৃৎস্পন্দনের শব্দও ঠিক আছে।
অভিনন্দন।
হাড়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সার কোষগুলি সঙ্কুচিত হয়ে আসছে,
কিন্তু আমরা লাম্বার কর্ডের চারপাশে ৩ থেকে ৪টি কালো দাগ পেয়েছি।
মি. লিয়াং বলছিলেন যে পায়ে অবশতা বোধ করছেন,
সেটা হয়তো এই টিউমারগুলো স্নায়ুকে চাপ দিচ্ছে বলে।
এর মানে ক্যান্সারের কোষগুলো চিকিৎসার প্রতিরোধশক্তি গড়ে তুলেছে।
আবার?
আমরা প্রত্যেক থেরাপি এবং কেমোথেরাপির চেষ্টা করেছি।
এখন শুধু মাত্রাটা বাড়াতে পারি।
ইনজেকশনের ব্যবধান কমিয়ে, প্রতি ২ সপ্তাহে একবার করে দেওয়া।
ভবিষ্যতে কী হবে? অন্য ওষুধেরও যদি প্রতিরোধশক্তি বেড়ে যায়?
তাহলে আবার ক্যান্সার কোষ ছড়িয়ে পরবে।
যদি সেটা মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পরে তাহলে সেটাই হবে ফাইনাল স্টেজ।
এটা একটা নতুন সহায়ক থেরাপি যা আমাদের মেডিক্যাল দল চালু করতে যাচ্ছে।
আরএনএ পুনরুদ্ধার প্রযুক্তি।
এটা ক্ষতিগ্রস্ত করোটিক স্নায়ু পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে।
একবার এর পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হলে,
রোগীর আয়ু দ্বিগুণ করে দিবে।
আর সেটা কবে শুরু হবে?
নিশ্চিত না। দ্রুত হলেও আগামী বছরের শুরুর আগে না।
আগামী বছর।
সাধারণত আমাদের রোগীদের, যাদের মেটাস্ট্যাসিসের লক্ষণ রয়েছে, [Metastasis (মেটাস্ট্যাসিস) → কোনো রোগ উৎপত্তি স্থল থেকে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পরা। সাধারণত ক্যান্সারজনিত টিউমারের ছড়িয়ে পরাকে নির্দেশ করতে এই পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়।]
আমরা প্রথমে জেনেটিক পরীক্ষা করার পরামর্শ দিই।
দেখুন তারা চিকিৎসার জন্য যোগ্য কিনা।
আপনি মাত্র ৩৮ বছর বয়সী। এখনো বয়সটা অনেক কম।
আমাদের সম্ভাব্য সব বিকল্প খতিয়ে দেখা উচিত।
মা।
হ্যাঁ, বলো।
ঠিক আছে, আমাকে শুধু সেটা মিটিয়ে ফেলতে সাহায্য করো।
এ আর এত বড় সমস্যা না।
হ্যাঁ, আমাকে জানিও কীভাবে হয়।
ওই ছোট ফ্ল্যাট?
আমি বলেছিলাম ওটা বিক্রি না করতে।
যত দ্রুত সম্ভব জেনেটিক পরীক্ষাটা করে ফেলি চলো।
শুধু এই জেনেটিক পরীক্ষাটা করতেই ছয় অঙ্কের খরচ হবে।
যদি পজিটিভ আসি তো থেরাপিতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে।
ওই ছোট ফ্ল্যাটটা বিক্রি করলেও সম্ভবত খরচটা মেটানো সম্ভব না।
এটা কোনো ভালো অপশন হতে পারে না, বুঝেছো?
শুভ সকাল সবাইকে, ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালের খবর।
ওয়াং কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা মি. ওয়াং শি-সুং'কে...
আজ সকালে ওনার বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক রিপোর্টে বোঝা যাচ্ছে এটা কোনো সহজ মামলা না।
ভিক্টিমের মাথায় ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল, যার ফলে উনি ভয়াবহ মৃত্যুর শিকার হন।
ভোর বেলায় পুলিশ ওয়াং'র থেকে একটা জরুরি ফোন পায়।
এবং তদন্তের জন্য একটা দল পাঠানো হয়।
তারা ওয়াং'র পরিচারিকার সাথে ছিলেন...
যখন ওয়াং শি-সুং'র দেহ মেঝেতে রক্তক্ষরণে মৃত অবস্থায় পান।
ওয়াং কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা,
ওয়াং শি-সুং ওনার দানশীলতার জন্য পরিচিত ছিলেন।
তিনি তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন বায়োটেক এবং কসমেটিক সার্জারিতে।
এরপর থেকে ধীরে ধীরে তার ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন।
এখন কর্পোরেশনটি শিক্ষা, বীমা এবং রিয়েল এস্টেটের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত হয়েছে।
সম্প্রতি, এটি কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে।
অনাথ আশ্রমগুলিতে তহবিল প্রদান...
দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা এবং যত্ন লাভে সহায়তা করে তারা নিবেদিত প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
তিন বছর পূর্বে তার সাক্ষাৎকারটি পুনরায় দেখলে, যা তার মৃত্যুর আগে শেষ সাক্ষাৎকার ছিল,
আমাদের সকলের মনে ভারাক্রান্ত অনুভূতি জাগায়।
এখন যেহেতু ওয়াং কর্পোরেশন এত কিছু অর্জন করেছে...
আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের সমাজকে সাহায্য করার জন্য আরও বেশি কিছু করা উচিত।
এবং যারা প্রয়োজনের মধ্যে আছে তাদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়ানো উচিত।
চাও।
লিউ স্যার। আপনার সাথে কিছু আলাপ ছিলো।
অবশ্যই, আমি ভেবেছি তুমি কিছুদিন ছুটি নিবে।
এখানে কী করছো?
পাও প্রেগন্যান্ট।
বসে বসে মরার চেয়ে,
আমার তাদের জন্য কিছু করার চেষ্টাই ভালো।
আমি কাজে ফিরে আসতে চাই।
অভিনন্দন।
কিন্তু তুমি এই অবস্থায় কাজ করতে পারবে?
তাইওয়ানের সবার নজর ওয়াং শি-সুং'র কেসে আবদ্ধ।
আমাকে এই কেসে দিন।
ব্যুরোতে এরকম কেস সামলানোর মতো আর কেউ নেই।
মিস. ওয়াং।
গতরাতে মি. ওয়াং'র সাথে কী ঘটেছিলো...
তা বিস্তারিত বলতে পারবেন?
যতটুকু সম্ভব।
আমি গতরাতে ঘুমাতে পারিনি বিধায়,
আমাদের বাসার ছাদে গিয়েছিলাম,
যাতে রাতের পরিবেশটা দেখতে পারি।
তারপর, আমি যখন রুমে ফিরছিলাম,
শি-সুং'র রুমের দরজায়...
একটা অদ্ভুত চিহ্ন লক্ষ্য করলাম।
তারপর, একটা কড়া গন্ধ পাই।
ওয়াং তিয়েন-য়ু আবার ফিরে এসেছিল।
সে পূজার মতো কী যেনো করছিলো।
ওয়াং তিয়েন-য়ু!
এসব বন্ধ না করলে আমি পুলিশকে ফোন দিবো।
সাধারণ মানুষ তাদের আধ্যাত্মিক রূপ প্রকাশ করবে।
শরৎ ও বসন্তের দেবতারা, আমাকে শক্তি প্রদান করুন।
যখন পূর্ণিমার চাঁদ ওঠে এবং সময় সঠিক হয়,
আত্মাগুলোকে টেনে এনে তাদের প্রলুব্ধ করুন।
ওনাকে ছাড়ো, ওয়াং তিয়েন-য়ু।
তোমার নশ্বর দেহ উৎসর্গ করো,
একটি আত্মার বিনিময়ে অন্য আত্মা।
দুর্নীতিগ্রস্ত পৃথিবী হারানো আত্মাগণ,
তোমরা স্বর্গে বিশ্রাম নাও।
সে একের পর এক আঘাত করতেই থাকে।
শি-সুং'র মাথা এতটাই ফেটে গিয়েছিল যে,
ওর রক্ত আমার পুরো শরীরে ছিটকে পড়েছিল।
তারপর ঈশ্বরই জানেন ওনাকে কতবার আঘাত করে,
এত রক্ত দেখে আমার মাথা ঘুরতে শুরু হয়...
এবং অজ্ঞান হয়ে যাই।
যখন জ্ঞান ফিরলো,
তারপর?
আমার মনে আছে গতরাতে,
কারো শব্দ শুনে চমকে যাই।
তাই শব্দটা যাচাই করতে বিছানা ছেড়ে আসি।
কারো চিৎকার শুনেছিলাম বিধায় দেখতে যাই।
দেখলাম ছোট বাবু তিয়েন-য়ু।
আমি প্রায় নিশ্চিত উনি ছোট বাবু।
ওনার শরীরে এতসব ট্যাটু থাকায় ওনাকে চিনাটা বেশ সহজ।
আমি ভাবলাম বাবুর রুমে গিয়ে দেখা উচিত।
হাই, আমরা মি. ওয়াং'র থেকে জরুরী ফোন পেলাম।
উনি ঠিক আছেন?
দুই সপ্তাহ আগে, নববর্ষের আগের রাতে,
ওয়াং তিয়েন-য়ু হঠাৎ বাসায় ফিরে আসে।
সে অনেকদিন হলো বাসা ছেড়ে চলে যায়।
ওয়াং শি-সু, মা তোমার জন্যেই মারা গেছেন।
তুমি একজন খুনি।
তুমি একজন খুনি।
যখন পূর্ণিমার চাঁদ ওঠে এবং সময় সঠিক হয়,
আত্মাগুলোকে টেনে এনে তাদের প্রলুব্ধ করুন।
সাধারণ মানুষ তাদের আধ্যাত্মিক রূপ প্রকাশ করবে।
শরৎ ও বসন্তের দেবতারা, আমাকে শক্তি প্রদান করুন।
সেদিন, ঠিক ওই চিহ্নটাই ওর বুকে দেখি।
এটা একপ্রকার জাদুবিদ্যা, যা সে এবং তার মা বিশ্বাস করতো।
বৌদ্ধধর্মের দেবতাদের সাথে এর সম্পর্ক ছিলো।
ও প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তা সু-চেন'র আত্মাকে আহ্বান করছিল।
তো ওয়াং তিয়েন-য়ু বাসায় থাকতো না?
ওনার মায়ের মৃত্যুর পর উনি একদম ভেঙ্গে পড়েছিলেন।
একটা টু শব্দ না করেই বাসা থেকে চলে যান।
- প্রসিকিউটর। - প্রসিকিউটর।
প্রসিকিউটর।
প্রধান প্রসিকিউটর বিশেষভাবে আমাকে এই কেসে নিয়োগ দিয়েছেন।
দারুণ! প্রধান প্রসিকিউটর কাজের জন্য উত্তম লোককেই পাঠিয়েছেন।
আমি ওয়াং শি-সুং'র উইলটা পড়লাম।
খেয়াল করলাম লি ইয়েন ব্যতীত দ্বিতীয় আরেকজন উত্তরাধিকারী আছে।
এই অংশটা আরেকটু খতিয়ে দেখা দরকার।
ওয়ান ইয়ু-ফান (৫২) ওয়াং কর্পোরেশনের সিইও
ওয়াং শি-সুং'র পুরনো বন্ধু
মি. ওয়ান, অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।
বিমান থেকে নেমেই আমাদের তদন্তে সাহায্য করছেন।
এমন ভয়ংকর ঘটনা।
আমি আরো আগেই ফিরে আসতাম অবশ্যই।
দেখুন তো এটা ওয়াং শি-সুং'র উইল, তাইনা?
উইলের মতে,
মি. ওয়াং'র নামে সমস্ত সম্পত্তি,
ওনার কর্পোরেশনের মালিকানা সহ,
ওনার স্ত্রী লি ইয়েন উত্তরাধিকারসূত্রে পাবেন, তাই তো?
হ্যাঁ।
লি ইয়েন'র শি-সুং'কে মারার কোন কারণ নেই।
ওয়াং তিয়েন-য়ু হলো ওয়াং শি-সুং'র একমাত্র সরাসরি আত্মীয়।
তবুও ওয়াং শি-সুং তাকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিলেন,
কারণ সে উত্তরাধিকারীর দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছিল বলে।
লি ইয়েন উত্তরাধিকারীদের তালিকায় প্রথম স্থান পেয়েছেন, আর আপনি দ্বিতীয় স্থানে আছেন...
এটা একটু ভেঙ্গে বলবেন?
হয়তো এজন্যই ওয়াং তিয়েন-য়ু শি-সুং'কে মারতে চেয়েছিল।
কিন্তু অন্যান্য সাক্ষ্যের মতে এটা ওর মায়ের জন্য করেছে।
ওয়াং শি-সুং তার মায়ের সাথে ঠিক কী করেছিলেন?
সু-চেন শেষমেষ এখানে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
ডাক্তার বলেছিল প্রচুর ডিপ্রেশন।
একদিন উনি বলেছিলেন,
ছোট বাবুর জন্মের পর,
বড় বাবু ওনাকে বছর দশেকের বেশি সময় ধরে স্পর্শও করেননি।
জানেনই তো বড় বাবু প্রায়ই ব্যবসার কাজে বাইরে যান।
প্রত্যেকবার উনি আসার পর,
ওনার স্যুটে তিনি মহিলার চুল পেতেন।
কাপড়ে লিপস্টিকের দাগ পেতেন।
আপনিই বলুন ওনার ডিপ্রেশন আরও বাড়বে না?
সব মিলিয়ে, বড় বাবু পরকীয়া করছিলেন।
যার ফলে আজকের ঘটনাটা ঘটেছে।
এমন এক দুর্ভাগা পরিবার...
এমন এক অনর্থক দম্পতির সাথে...
বাচ্চাটাই সবসময় কষ্ট পায়।
এজন্যই সে এমনটা করতে গেল।
No comments yet. Be the first to leave one.