200 rreshtat e parë.
Translated By Omar Faruque Hasan Shuvo MR.X
এসো!
আমার কাছে এসো।
হে রক্ষাদকর্তা দেবদূত!
সান্ত্বনা প্রদানের আত্মা।
স্বর্গের যে-কোনো অলৌকিক সত্তা!
যে-কোনো।
আমার আহবানে সাড়া দাও।
আমার কাছে এসো।
তুমি!
তুমি আমাকে অনন্তের অন্ধকার থেকে জাগিয়ে তুললে।
তুমি... তুমি....
তুমি জীবিতদের জন্যে নও।
মানবজাতির জন্যে নও।
চিরকাল আমার সাথে একাত্ম হয়ে থাকবে!
শপথ করো!
আমি শপথ করছি।
Edited By ... Hasan Shuvo MR.X ...
"বছর খানেক পর"
থমাস।
থমাস?
কী হয়েছে প্রিয়তমা?
কী হয়েছে?
কিছু না। আমি...
একটা স্বপ্ন দেখলাম।
কাছে এসো।
এত ভয় কীসের, বলো তো?
হানিমুনের দিনগুলো যেন দ্রুতই ফুরিয়ে গেল।
জুতো খুলে ফেলো।
আহা, যদি আরও কিছুক্ষণ থাকতে পারতাম!
কোন পুণ্যের জোরে এমন নিবেদিতপ্রাণ সঙ্গিনী পেয়েছি?
অ্যালেন।
ওকে বিছানায় আনতে বারণ করেছিলাম।
জামাকাপড়ে পশম লেগে থাকে।
কিন্তু গ্রেটা এখানে থাকতে ভালোবাসে।
ও চায় তুমিও থাকো।
আজকের দিনটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আর একটা মিনিট থাকো।
এক্ষুনি যেতে হবে।
গেলাম তাহলে।
ওর নিয়তি তো আগে থেকেই নির্ধারিত।
দূরে পাঠিয়ে দেয়া হবে ওকে।
সুপ্রভাত।
এক্সকিউজ মি।
"জার্মানি" "১৮৩৮"
"কেনক অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস এস্টেট এজেন্টস"
আসতে পনেরো মিনিট দেরি করেছ।
দুঃখিত, স্যার।
ক্ষমা করবেন, মি. কেনক।
একটু দেরি হয়ে গেল।
সমস্যা নেই, বাছা! সবই তার ইচ্ছা।
এসো ভেতরে এসো।
অ্যাকাউন্টের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
আমাকে বিবেচনা করার জন্যে ধন্যবাদ, স্যার।
যখন শুনলাম সম্প্রতি তোমার বিয়ে হয়েছে
তখনই বুঝলাম এসব বিধির বিধান।
নতুন স্বামীর জন্য চাই নতুন পারিশ্রমিক।
আপনি খুবই উদার, স্যার।
তোমার স্ত্রীকে আমার শুভেচ্ছা জানিও।
ধন্যবাদ, স্যার।
সত্যিই অপূর্ব সে।
অতুলনীয়।
যেন কোনো...
...পরী।
হ্যাঁ। ধন্যবাদ, স্যার।
আমি আপনার যে কোনো কাজের জন্য প্রস্তুত
যাতে প্রতিষ্ঠানে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিযুক্ত করতে পারি।
হ্যাঁ, ঠিকই বলেছ।
এ যেন বিধির বিধান।
একজন বিদেশী কাউন্টের সঙ্গে ব্যবসায়িক কথাবার্তা এগোচ্ছে।
বহু পুরোনো এক অভিজাত বংশের মানুষ তিনি।
বহু পুরোনো, কিছুটা অদ্ভুতও বটে।
সে আমাদের উইজবার্গে একটি বাড়ি কিনতে চায়।
- তাই না-কি? - অবসর সময়টা কাটাতে।
অথচ লোকটার এক পা কবরে!
আমি তাহলে ভদ্রলোককে সাথে নিয়ে
আমাদের সম্পত্তিগুলো দেখিয়ে আসব।
আমি গ্রুনেওয়াল্ড ম্যানরটা বাছাই করে রেখেছি।
দুঃখিত স্যার, ওটার তো যা'চ্ছেতাই অবস্থা, তাই না?
সে একটা পুরোনো বাড়ি চেয়েছে,
আর দামও খুব ভালো দেবে বলেছে।
তাহলে আমি কাল সকালে তার সাথে দেখা করি?
সমস্যা তো এখানেই।
ভদ্রলোক খুবই অসুস্থ, ভ্রমণ করতে পারবে না।
তাই তোমাকেই যেতে হবে তার কাছে।
বুঝেছি।
সে বোহেমিয়ার পূর্বে একটা ছোট্ট দেশে থাকে।
কার্পেথিয়ান পর্বতমালার নির্জনে।
ওহ।
দারুণ একখানা অভিযান হবে, বাছা।
নিঃসন্দেহে।
আচ্ছা, কাউন্ট যখন এখানে আসবেন সই-সাবুদের কাজ তখন করলে হয় না?
না, বিষয়টা অত্যন্ত জরুরি।
পইপই করে বলে দিয়েছে, যেন সশরীরে একজন...
এজেন্টকে পাঠাই।
তাছাড়া সে তোমাকে মোটা পুরস্কার দেবে, বাছা। মোটা পুরস্কার।
এই চুক্তিটা নিশ্চিত করতে পারলে...
প্রতিষ্ঠানেও তোমার আনুষ্ঠানিক পদ নিশ্চিত হবে।
ধন্যবাদ স্যার। অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমি আপনাকে নিরাশ করব না।
তো কী নাম সেই কাউন্টের?
অরলক।
কালই রওনা দিতে হবে।
ছয় সপ্তাহের যাত্রা।
তবে, আমি ফিরে না আসা অবধি হারডিং তোমার দেখভালের জন্য রাজি হয়েছে।
এত সুন্দর ফুলগুলো মেরে ফেললে কেন?
- কী বললে? - কিছু না।
- কী বললে তুমি? - দুঃখিত।
চলো ফুলগুলোকে জলে ডুবিয়ে রাখি।
কয়েকদিন পরেই তো মারা যাবে।
- তারচেয়ে বরং ফেলেই দাও। - কী?
ফেলে দাও এগুলো!
কী বলতে চাইছো তুমি...
তুমি যেতে পারবে না।
কেন, কী হয়েছে?
স্বপ্নগুলোর ব্যাপারে কথা বলতে হবে তোমার সাথে।
ওসব আমরা পেছনে ফেলে এসেছি, অ্যালেন।
- বলতেই হবে। - প্লিজ।
তোমার শৈশব নিয়ে আর কিছু শুনতে চাই না আমি।
- ডাক্তাররা বারণ করেছে... - না।
স্বপ্নটা ছিল আমাদের বিয়ে নিয়ে।
তবে সেটা গির্জার ভেতরে ছিল না।
উপরে ছিল এক দুর্ভেদ্য বজ্রঘন মেঘ,
যা পাহাড় ছাড়িয়ে বিস্তৃত ছিল।
বৃষ্টির ভেতর লাইলাকের গন্ধ ছিল তীব্র
আর যখন আমি বেদির কাছে পৌঁছালাম...
...তুমি সেখানে ছিলে না।
দাঁড়িয়ে ছিল অন্য কেউ, সম্পূর্ণ কালো পোশাকে ঢাকা।
আর সেটা ছিল...
মৃত্যু।
কিন্তু আমি যেন আনন্দে ভাসছিলাম।
অসীম আনন্দে।
আমরা শপথ বিনিময় করলাম। একে অপরকে জড়িয়ে ধরলাম।
আর যখন ঘুরে তাকালাম,
দেখলাম সবাই মৃত।
বাবা... আর বাকিরাও।
তাদের দেহ থেকে বেরোচ্ছিল ভয়ঙ্কর পচা গন্ধ।
তবে...
তবে কখনোই অতটা খুশি হইনি,
যতটা হয়েছিলাম সেই মুহূর্তে...
...মৃত্যুর হাত ধরে।
এসব কথা কখনো মুখে আনবে না।
কখনো না।
এ এক অর্থহীন স্বপ্ন,
তোমার আগের কল্পনাগুলোর মতোই।
সব ঠিক হয়ে যাবে!
এটা আমাদের ভয়ঙ্কর কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দেখো, ওখান থেকে ফিরে
আমি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করব।
তারপর একটা ভালো বাড়ি কিনব, পরিচারিকা রাখব...
আমাদের ও'সবের দরকার নেই।
আমি চাই, তোমার যা প্রাপ্য তার সবই যেন তুমি পাও।
যেও না, প্লিজ। প্রচণ্ড ভালোবাসি দেখেই বলছি।
থামো তো।
স্কুলের পর এবারই প্রথম, টম!
- আমার দাদুর, একদম সেরা কোয়ালিটির। - আমার নেওয়া উচিত হবে না।
উদযাপন করার মতোই ব্যাপার।
ধন্যবাদ।
হুম।
- তোমায় দেখলে হিংসে হয়। - হুম।
সে তো আমারও হয়।
নিজের বাবার জায়গাটা নিয়েছ।
অসাধারণ।
এই বিশাল দায়িত্ব আমাকে পিষে ফেলছে, থমাস। পিষে ফেলছে।
অবশ্য, এত আয়ের পর এই অভিযোগ বেমানান।
কিন্তু বাজারে জাহাজের এত চাহিদা যে, দিয়ে কুলোতে পারছি না।
আর আমার দুই মেয়ে, টম। দুই মেয়ে।
আমি ওদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।
অ্যালেন বা অ্যানাকে বোলো না!
জুনিয়র ফ্রিডরিখ আসছে।
- হুম। - অভিনন্দন।
অবশ্য চিরকালই তুমি কামুক পুরুষ ছিলে।
- তাকে উপেক্ষা করা আমার পক্ষে অসম্ভব। - হুম।
তোমরা দুই নবদম্পতি কবে নিচ্ছো বলো?
যখন আর গরিব থাকব না।
আর ফ্রিডরিখ, যখন আমার সামর্থ্য হবে,
তোমার সমস্ত পাওনা
- আমি শোধ করে দেবো। - এ বিষয়ে আর একটা কথাও নয়।
- ফ্রিডরিখ, আরেকটা কথা। - বলো?
অ্যালেনকে দেখে রেখো।
বারবার অনুরোধ করছিল, যাতে আমি না যাই।
এত সুন্দর সুযোগটা ছেড়ে দিতে বলছে?
ভয় হচ্ছে, ওর বিষণ্নতাটা আবার ফিরে না আসে।
আসাটাই তো স্বাভাবিক। এমন তাগড়াই সুদর্শন স্বামী,
বিছানা ঠাণ্ডা করে রেখে যাচ্ছ।
সোনামনিরা, ঘুমানোর সময় হয়েছে।
বাবা! বাবা!
না!
মায়ের কথা শোনো।
যথেষ্ট হয়েছে। ঘুমোতে যাবে চলো।
- চলো। - এসো।
যাওয়া যাবে না! ঘরের ভেতর একটা দানব আছে!
বাবা! বাবা!
দানব যেন আমাকে খেতে না পারে।
মেরে ফেলো ওটাকে!
দুঃখিত, আমাকে এখন দানব শিকার করতে হবে।
তুমিও মশাই একটা আস্ত বাচ্চা।
- শুভরাত্রি। - শুভরাত্রি।
ঠিক আছে, চলো।
বাবা, আজ আমাদের সাথে থাকো প্লিজ!
No comments yet. Be the first to leave one.