200 rreshtat e parë.
নির্জন রাত।
হিংস্র প্রাণীর চিৎকার শোনা যাচ্ছে , ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে কাঁটা দিচ্ছে।
এই বাতাস হাজারো কণ্ঠস্বরে পূর্ণ।
পূর্বপুরুষেরা জোরকণ্ঠে তোমাদের বিড়বিড় করে গল্প শোনাচ্ছে ;
সব কণ্ঠ মিলে যেন এক হয়ে যাচ্ছে।
একটা কণ্ঠ আরেকটা থেকে আলাদা...
ওদিকে ফিসফিস করছে...
আড়ালে থেকে গোয়েন্দাগিরি করছে...
ধারালো দাঁতওয়ালা শয়তান ওরফে বৃদ্ধ জর্জি।
এবার আমার কথা ভালো করে শোনো।
কারণ আমি এখন বলবো - কীভাবে আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল...
...চোখে চোখ পড়েছিল।
আর এভাবেই ড. হেনরি গুজ-এর সাথে আমার পরিচয় হয়...
...যিনি হয়তো আমাকে আমার দুঃখ-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পারবেন।
কিছু হারিয়েছেন নাকি?
১ নং প্রশ্নঃ সিক্সস্মিথ-এর রিপোর্টে এমন কী গোপন কথা আছে যার জন্য তাকে মারা হতে পারে?
২ নং প্রশ্নঃ
এমনটা ভাবা কি ঠিক হবে যে তারা সত্য গোপন করতে আবারো খুন করতে দ্বিধা করবে না?
যদি তাই হয়, তবে ৩য় প্রশ্নঃ আমি এখানে করছিটা কী?
দীর্ঘদিন সম্পাদক বলে আমার বিতৃষ্ণা জন্মেছে...
কাহিনীর আগপিছ এবং এই জাতীয় প্রতারণাপূর্ণ সব কৌশলের প্রতি।
...আমার বিশ্বাস যদি আপনারা, প্রিয় পাঠকগণ, আরেকটু ধৈর্য ধরেন...
...তাহলে সহজেই এই পাগলামিপূর্ণ গল্পের গোঁড়া খুঁজে নিতে পারবেন।
প্রিয় সিক্সস্মিথ, আজ সকালে আমি মুখে পিস্তল চালিয়ে আত্মহত্যা করেছি।
একটা সত্যিকারের আত্মহত্যা সকল নিয়ম মেনে ধীরেসুস্থে সম্পন্ন করতে হয়।
মানুষ জ্ঞান ঝেড়ে বলে, '' আত্মহত্যা কাপুরুষের কাজ। "
একদমই মিথ্যা।
আত্মহত্যা করতে অপরিসীম সাহস লাগে।
- কোনোপ্রকার সমস্যা হলে বাটনটা প্রেস করবেন। - ধন্যবাদ।
আমার মন্ত্রণালয় ও ''ঐকমত্য'' এর ভবিষ্যতের কথা ভেবে...
...আমি আপনাকে এই শেষ সাক্ষাৎকারের জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই।
- হ্যালো। - পরিচয় দিন।
ভয় পেলেন নাকি?
আমি ডার্মট হগিন্সের প্রকাশক ছিলাম, তার সাইকোলজিস্ট বা জ্যোতিষী নয়।
আর সবচেয়ে নির্মম সত্যটা হল...
...আমার কোনো ধারণাই ছিল না মানুষটা সেইরাতে কী করতে যাচ্ছিল।
এই সৈকত একসময় এক নরখাদকের ভুরিভোজের আড্ডাখানা ছিল...
...তারা তাদের শিকারের ওপর রাক্ষসের মত ঝাঁপিয়ে পড়ত।
কিন্তু তাদের প্রচুর দাঁত পড়ত...
...তাদের ক্ষেত্রে এটা খাবার শেষে ফলের বিচি ফেলার মতো সাধারণ ঘটনা ছিল।
এগুলোর একেকটা বেঁচে কত লাভ হবে কোনো ধারণা আছে?
মনে রাখবে, আমি তোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ বা কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছি না।
তোমার বলা সত্যি কথাটাই আমাদের কাছে মুখ্য।
''সত্য'' জিনিসটা অনন্য।
একে বিকৃত করা যায় না।
মানুষ যেন এই না বলে যে আমি ভালোবাসার খাতিরে আত্মহত্যা করেছি।
জীবনে অনেককেই ভালো লেগেছে, কিন্তু মনের গভীরে আমরা দুজনেই জানি...
...কে আমার এই সংক্ষিপ্ত, প্রফুল্ল জীবনের একমাত্র ভালোবাসা।
এই নিন, মি. ইউয়িং।
কন্ট্রাক্ট-এর কাগজপত্র তৈরি হয়ে গেছে...
...হারিয়ে-টারিয়ে যেন না যায়।
ধন্যবাদ, রেভারেন্ড হরোক্স।
আমি জানি আমার শ্বশুর এই চুক্তির ব্যাপারে অধীর আগ্রহে আছেন।
হাস্কেল মুর একজন অসাধারণ মানুষ।
তার মত সত্যবাদী মানুষের ওপরই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নির্ভরশীল...
একদম।
প্রথমবার যখন আমি হাস্কেল মুর-এর লেখা পড়ি...
...এর প্রাঞ্জলতা এতই মনোমুগ্ধকর লাগছিল যে মনে হচ্ছিল তা ঈশ্বর প্রদত্ত কোনো দৈববাণী।
ডাক্তার মশাই আর আমি মি. মুরের লেখা নিয়ে তর্ক করে অজস্র রজনী পার করেছি।
আমি তো বলবো যে তার কারণেই আমরা এখানে এক হয়েছি...
...মজাদার মাংসের স্বাদ নিচ্ছি...
...যেখানে কুপাকা দাঁড়িয়ে থেকে খুশিমনে খাবার পরিবেশন করছে।
আসলেই। ভালো কথা, কুপাকা...
- তুমি তো তোমার এখানকার জীবন উপভোগ করো, না? - জি, স্যার, রেভারেন্ড।
আমি এখানে থাকতে পেরে অনেক খুশি।
এটাই হচ্ছে মুরের তথাকথিত ''সভ্যতার ক্রমোন্নতি ''...
...এর কারণেই সবকিছু নিয়মমাফিক হচ্ছে।
প্লিজ, গাইলস, মুখটা বন্ধ রাখো।
সপ্তাহের পর সপ্তাহ আমি এই একই জিনিস শুনছি।
আমি এই ব্যাপারে তার জামাইয়ের মতামত জানতে চাই।
আচ্ছা, দেখা যাক....
বইটাতে ঈশ্বরের ইচ্ছা এবং পুরুষের স্বভাব সম্পর্কে লেখক কিছু প্রশ্নের উত্তর পেতে চেয়েছেন।
আর নারীর স্বভাব সম্পর্কে তার অভিমত কী?
মনে হয় এই বিষয়টা তিনি চুপিসারে উপেক্ষা করে গিয়েছেন।
তার আগেও অনেকে এমন করেছে।
মি. ইউয়িং, আপনার পুরো কথা শেষ করুন।
লেখকের প্রশ্নটা বোধ হয় -
...যদি ঈশ্বর পৃথিবী সৃষ্টি করেই থাকেন, তাহলে আমরা কীভাবে জানি কোন জিনিসগুলো আমরা বদলাতে পারবো...
...আর কোন জিনিসগুলো পুতপবিত্র এবং অলঙ্ঘনীয় রবে?
বৃক্ষরোপণের ব্যাপারে রেভারেন্ড হরোক্স-এর ধারণা একদম সুস্পষ্ট।
তার মতে জর্জিয়ার নিয়মেই বৃক্ষরোপণ করা উচিৎ।
কী অসহ্য গরম ! এত গরম এরা সহ্য করে কীভাবে?
রেভারেন্ড হরোক্স বলেন, দাসরা উটের মতো, মরুভূমিই তাদের বিচরণস্থান।
তিনি বলেন, এদের গরম সহ্য করার ক্ষমতা সাধারণ সভ্যসমাজের মত না।
আপনাকে এই গরমে রাখা আর ঠিক হবে না।
শব্দটা কোথা থেকে আসছে?
- জেগে গেছেন দেখি। - কী হয়েছিল আমার?
যা সন্দেহ করেছিলাম তাই হল। গুসানো কোকো সার্ভেলো...
...পলিনেসিয়ান কীট নামে বেশি পরিচিত।
একবার এক মানুষের মগজ দেখেছিলাম ; এই কীট তার সর্বনাশ ততক্ষণে করে ফেলেছিল।
মগজটা দেখতে পোকাভর্তি ফুলকপির মত লাগছিল।
কিন্তু ভয়ের কিছু নেই।
এই বদমাশ কীটকে শায়েস্তা করার উপায় আমার জানা আছে।
নিন।
এইতো, এইতো।
গিলে ফেলুন।
আমাদের সাক্ষাৎ না হলে আমি যে কী করতাম ঈশ্বরই জানেন।
এতক্ষণ বাঁচতেন না বোধ হয়।
আপনার ঋণ শোধ করার আমি কোনো একটা উপায় বের করবো।
থাক, তার দরকার নেই, বিশ্বাস করুন।
আমি একজন ডাক্তার, অ্যাডাম।
আর ডাক্তারকে তার দায়িত্ব পালন করতেই হয়।
সিক্সস্মিথ, আশা করি আমায় ক্ষমা করতে তোমার মন সায় দিবে।
মি. ফ্রোবিশার !
মি. রবার্ট ফ্রোবিশার !
আমরা আপনার সাথে দুটো কোথা বলতে চাই, স্যার !
মি. ফ্রোবিশার, দরজা খুলুন, প্লিজ !
আমরা জানি আপনি ভিতরে আছেন, মি. ফ্রোবিশার। প্লিজ জবাব দিন !
আপনার বাবার কাছে একটা চিঠি পাঠানো হচ্ছে, স্যার।
মি. ফ্রোবিশার !
তোমায় এভাবে ছেড়ে যেতে খুবই খারাপ লাগল। এমন বিদায় আমি চাইনি।
কেউ একজন বুঝি খুব তাড়ায় আছে।
যেসময় তুমি এটা পড়বে, ততক্ষণে আমি এডিনবার্গের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যাবো।
খ্যাতি ও সৌভাগ্যের পানে রওনা।
আমি জানি তুমি তার সম্পর্কে শোনোনি, কিন্তু বিশ্বাস করোঃ
ভিভিয়ান এয়ার্স সংগীত-জগতের অন্যতম প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব, সিক্সস্মিথ।
কষ্টের বিষয় হল, অসুস্থতার দরুণ তিনি নতুন কোনো সংগীত রচনা করতে পারেননি।
আমার প্ল্যান হল তার লিপিকার হওয়া...
...এবং একটা মাস্টারপিস রচনায় তাকে সাহায্য করা...
...তারপর সংগীত-জগতের সর্বত্র আমার নামডাক ছড়াবে...
...আর তখন আমার বাবা অনুতাপ করবে - যেই ছেলেকে তিনি ত্যাজ্যপুত্র করেছেন...
...সে আর কেউ নয়, বরং রবার্ট ফ্রোবিশার - তার সময়কার শ্রেষ্ঠ ব্রিটিশ সংগীত-রচয়িতা।
আমি জানি, সিক্সস্মিথ, তুমি হতাশায় তোমার মাথা নাড়াও...
...কিন্তু একই সাথে হাসো-ও, যে কারণেই আমি তোমায় ভালোবাসি।
পুনশ্চ
ওয়েস্টকোটটার জন্য ধন্যবাদ।
এটা আমাকে তোমার কথা মনে করাতে থাকবে।
সেন্ট জর্জ ও ড্রাগন।
আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে সংগীত-রচনা একটা সংগ্রাম।
যেখানে কখনও তুমি ড্রাগনকে কুপোকাত করো...
...আবার কখনও ড্রাগন তোমাকে কুপোকাত করে।
ঠিক আছে। তোমার নাম ফ্রোবিশার, না?
আশা করি ম্যাকেরাসের কাছ থেকে তুমি প্রয়োজনীয় দীক্ষা অর্জন করেছ।
কয়েকমাস ধরে বেহালার একটা সুর আমার মাথায় ঘুরঘুর করছে।
দেখা যাক তুমি সেটা ধরতে পারো কিনা।
মুখরার আগে একটা সূক্ষ্ম টান।
খুব সোজা। ধরতে পেরেছ?
এবার সুর অন্যদিকে মোড় নেয়।
বেশ। এটা বাজিয়ে দেখাও।
নিশ্চয়ই, স্যার।
কোন স্কেল-এ বাজাবো?
কোন স্কেল?
জি- মাইনর ছাড়া আর কোনটা !
আর কীভাবে তাল দিবো?
ধুর, তুমি কি ঠিকমতো শোনোনি?
- আমার বুঝে উঠতে আরেকটু সময় দরকার... - তোমার দরকার?
খোকা, এখানে কে কার জন্যে কাজ করছে?
- মাফ করে দিন, স্যার... - তুমি কি সুর তোলো নাকি খালি কৈফিয়ত দাও?
এবার মনোযোগ দিয়ে শোনো।
চতুর্থ ধাপে সুর ৩/৪ থেকে ৪/৪-এ আনতে হবে আর পঞ্চম ধাপে আবার ৩/৪-তে...
...এইটুক ধরতে পারলে তো কেল্লাফতে।
এরপর ক্রকেট জি, তারপর কম্পনের জন্য থামবে, আবারো ক্রকেট জি, এরপর শেষে ই-ফ্ল্যাট।
এভাবে চলতে থাকবে।
ঠিক আছে, শোনাও এবার।
থামো ! প্লিজ, আমি সহ্য করতে পারছি না।
তুমি নিশ্চয়ই ভুল শুনেছঃ যেই সুর তুলেছ তাতে ঘুন ধরেছে !
ভিভিয়ান?
জোকাস্টা ! আমাকে এই দোযখ থেকে উদ্ধার করো।
কী হচ্ছে এখানে?
নিষ্ফল প্রচেষ্টা।
পরিচয় করিয়ে দেবে না?
তার কোনো দরকারই নেই। এই ছেলে এক হাতে তালি বাজানোর মতই অকেজো।
ভাগ্য ভালো যে তার থেকে রেহাই পাওয়া সহজ হবে।
একটু কষ্ট করে হেনরি-কে ডাকবে যাতে ছেলেটাকে বিদায় করে দেয়?
নিশ্চয়ই, জান।
অসাধারণ তো।
হ্যাঁ।
এইতো !
এটাই তো আমার সুর !
আসো না, লুইসা ! আমাদের তো জনম জনমের বন্ধন।
প্লিজ, লুইসা, এদিকে আসো। আমার কথা বিশ্বাস করো।
সত্যি বলছি, সোনা, তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে পারো না। আমাদের দুজনের অতীত আর ভবিষ্যৎ একসূত্রে গাঁথা।
আমার আর তোমার।
গত এক ঘণ্টা ধরে...
...আমি একটা জিনিসই চাইছিলাম - তোমায় যেন তোমার বারান্দা থেকে ছুড়ে ফেলে দিই।
নিজেকে কী মনে করো তুমি?
ফইন্নি-মার্কা পত্রিকার জন্য তুমি গাঁজাখুরি সব কলাম লেখো !
লিফট !
ধন্যবাদ।
দেখে ভালো লাগলো যে এই যুগেও মানুষের মাঝে সৌজন্যবোধ আছে।
আপনি ঠিক আছেন?
কোনো হাড্ডি-টাড্ডি ভাঙ্গেনি, এইটুকু নিশ্চিত।
না, না। আপনি বসুন।
আমি দেখি।
দারুণ। এখনই কারেন্ট যাওয়ার দরকার ছিল।
অস্থির একটা দিনের অস্থির সমাপ্তি।
সৌজন্যবোধের ব্যাপারে আপনার মত বদলাতে চান নাকি?
উনার সাথে ওখানে থাকার চেয়ে এখানে থাকা হাজারগুণ ভালো।
মি. কেপন-এর ব্যক্তিত্ব আসলে হজম হবার মত না।
কাজ করতে গেলে তার মত পাবলিকের শত ঢং সহ্য করতে হয়।
আপনি কি তার সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন?
হ্যাঁ, স্পাইগ্লাস ম্যাগাজিন -এর জন্য
লুইসা রে।
রুফুস সিক্সস্মিথ।
রে?
আপনি কি কোনোভাবে সাংবাদিক লেস্টার রে-এর সাথে সম্পর্কিত?
হ্যাঁ। তিনি আবার বাবা ছিলেন।
সত্যিই?
তিনি নিশ্চিত আপনাকে নিয়ে অনেক গর্বিত, তার হাঁটা পথে হাঁটছেন যেহেতু।
আমার ভাগ্নি, মেগান।
No comments yet. Be the first to leave one.