முதல் 200 வரிகள்.
বঙ্গানুবাদেঃ আখলাক আহমেদ এবং সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
সম্পাদনায়ঃ সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
THE THIRD MURDER
আমাকে দাও।
উম?
নাও।
খুন ও চুরির দ্বিতীয় অভিযোগ বেশ গুরুতর ব্যাপার।
- কিন্তু, ও স্বীকার করেছে কি? - হ্যাঁ, গ্রেফতার হবার পরেই।
কোনো সন্দেহ নেই ওকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।
- নিশ্চিত। - সেজন্যই তো তোমার সাহায্য দরকার।
ও অভিযুক্ত হবার আগেই আমাকে জানালে ভালো করতে।
ভেবেছিলাম আমি একাই সামলে নিতে পারবো।
কিন্তু ও গল্প পাল্টাতেই আছে।
অপেক্ষা করানোর জন্য দুঃখিত।
আজ দেখছি অনেকে এসেছে।
ভালো হয়েছে বৃষ্টি হয়নি।
শুনুন,
ইনি হচ্ছেন শিগেমোরি সাহেব। যে উকিলের কথা আমি বলেছিলাম।
৩০ বছর আগের সেই বিচারক...
আপনি ওনার ছেলে...
আমি শিগেমোরি।
আর আমি, মিসুমি।
আপনার বাবা খুব ভালো মানুষ ছিলেন।
গতবার আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,
আপনিই খুন করেছেন তা নিয়ে তো কোনো সন্দেহ নেই, ঠিক?
না, নেই।
আপনি খুন করেছেন?
হ্যাঁ করেছি।
কেন করেছেন?
আপনি যে কারখানাতে কাজ করতেন ও তার মালিক ছিল।
আপনার উদ্দেশ্য?
জুয়া খেলার জন্য আমার টাকার দরকার ছিলো।
আপনি কি সংকটে ছিলেন? দেনা ছিলো?
হ্যাঁ।
আমি টাকা ধার নিয়ে ফেরত দিতে পারিনি।
- কাজে যাওয়া কখন থামিয়েছিলেন? - ৩০ সেপ্টেম্বর।
- বহিষ্কার করা হয়েছিল? - হু।
কেন বহিষ্কার করা হয়েছিল?
আমি সিন্দুক থেকে টাকা চুরি করেছিলাম।
আপনি কি সেদিন মদ্যপান করেছিলেন?
হ্যাঁ।
তিন গ্লাস সচু খেয়েছিলাম।
মদ্যপানের আগে খুনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন,
নাকি মদ্যপানের সময় ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেন?
মদ্যপানের সময়।
কীভাবে?
শেষ বার যখন জিজ্ঞেস করেছিলাম,
আপনি কি বলেননি যে বেশ কিছু দিন থেকে ওকে খুন করার কথা ভাবছিলেন?
ওহ, তাই বলেছিলাম?
আপনি ওকে সাঁড়াশি দিয়ে পেছন থেকে আঘাত করেছিলেন।
হ্যাঁ।
- মরেছে কিনা চেক করেছিলেন? - হু।
ও নিঃশ্বাস নিচ্ছিলো না।
আপনার হাত...
আপনি কি আহত হয়েছিলেন?
হ্যাঁ।
লাশ পোড়ানোর সময়।
গ্যাসোলিন কোথায় পেয়েছিলেন?
আমি কারখানার গুদামঘরে আনতে গেছিলাম।
অতদূর থেকে?
দৌড়ে গেছিলাম, ১০ মিনিটও লাগেনি।
আগে থেকেই গ্যাসোলিন নিয়ে যাননি?
না।
এটা নোট করো।
আরেকটা কথা, আমি আপনাকে ভিক্টিমের উদ্দেশ্যে
চিঠি লিখতে বলেছিলাম, মনে আছে?
হ্যাঁ।
আমি নিয়ে যাবো। যাবার সময় আমাকে দিয়েন।
আচ্ছা।
প্রসিকিউশন কি মৃত্যুদণ্ড দাবী করবে?
সম্ভবত হ্যাঁ।
খুনের অভিযোগকে পূর্বপরিকল্পিত চুরির অভিযোগে নামিয়ে আনা সম্ভব না
কিন্তু আমাদের চেষ্টা করতে হবে।
আমাদের ফ্যাক্টগুলোর বিরুদ্ধে যেতে হবে।
তা না হলে, কেস শুরুর আগেই হেরে যাবো।
সেতসু?
হু?
মিসুমি তার শাস্তি কমাতে রাজি তো?
হ্যাঁ, কেন?
ওকে দেখে তা মনে হয়নি।
আমি হলে...
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেলেই খুশি থাকতাম।
ওর কোনো পরিবার আছে?
জানা মতে একটা মেয়ে আছে।
- বয়স? - মেয়েটার?
৩৬ বছর।
ওর সাথে দেখা করতে চাও? ও রুমোইয়ে থাকে, হোক্কাইডোর।
সেটা তো অনেক দূর।
জায়গাটা খুব ঠান্ডা।
মনে হয় না দুজনের মধ্যে কোনো যোগাযোগ আছে।
না, সে তো ৩০ বছর জেলে ছিলো।
মনে হয় না কাজের কোনো তথ্য দিতে পারবে।
- সেখানে এখন কাঁকড়ার মৌসুম চলছে। - ধন্যবাদ।
রুমোই অক্টোপাসের জন্য বিখ্যাত, কাঁকড়া না।
- ওহ শুধু অক্টোপাস। - অক্টোপাসকে কম ভেবো না।
- যেন তুমি হোক্কাইডোর বাসিন্দা। - ঠিক।
আমাকে মাংস খাওয়া থামাতে হবে।
আমাদের প্লেনে করে আশাহিকাওয়া গিয়ে তারপর ট্রেন নিতে হবে।
যাতায়াত খরচ দেওয়া হবে আমাদের?
সাক্ষীর সাথে দেখা করার জন্য?
না, হবে না।
বাদ দাও তাহলে।
এমনিতেও ওখানে অনেক ঠান্ডা।
- আর সেখানে শুধুই অক্টোপাস। - হুম।
কিন্তু মিসুমিকে আরো ভালোভাবে বুঝার জন্য সেখানে যাওয়া কি উচিত হবে না?
- ভালোভাবে বুঝার জন্য? - হু।
ওর কেস লড়ার জন্য ওকে ভালোভাবে বুঝার কোনো প্রয়োজন নেই।
তাই?
অবশ্যই। আমরা তো আর ওর সাথে বন্ধুত্ব করতে যাচ্ছি না।
কেসের সাথে ওর কি কোনো সাথ আছে?
হ্যাঁ,
থাকতে পারে।
মনে হচ্ছে আমি এখনো গ্যাসোলিনের গন্ধ পাচ্ছি।
হু।
তুমি কি এটাকে
কাকতালীয় বলবে?
- চফু স্টেশন চলো। - ওকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে কিছু একটা ঠিক নেই।
ওর হাত দেখে পোড়া মনে হচ্ছে।
থামো।
- একটু পেছনে যাও। - হু।
থামো।
দেখো,
জানালা খুললো কেন?
- জানালা? - হ্যাঁ।
কোনো গন্ধের কারণে কি?
মনে পড়েছে,
গ্যাসোলিনের গন্ধ।
গ্যাসোলিন...
ওয়ালেট থেকে গন্ধ আসছিলো কি? যেটা ও পকেট থেকে বের করেছিলো?
ওহ...
হতে পারে।
নিশ্চিত?
শুভ অপরাহ্ন।
এখানে।
ও তো স্বীকার করেই নিয়েছে, তাহলে এসবের কী দরকার?
আচ্ছা ঠিক আছে।
ব্যাগ থেকে বের করতে হবে না।
আচ্ছা।
শোনো,
গ্যাসোলিনের গন্ধ আছে তাই না?
- তুমি পরীক্ষা করে দেখেছ? - হ্যাঁ।
ওরা নিশ্চিত করেছে যে এটা গ্যাসোলিন।
এর মানে হতে পারে যে
ও গ্যাসোলিন ঢালার পর চুরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
যার মানে,
চুরি করার পরিকল্পনা থাকলেও খুনের ইচ্ছে ওর ছিলো না।
গ্যাসোলিনের গন্ধের উপর ভিত্তি করে তুমি এই মতামত দিচ্ছো?
এই মতামতের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ আছে।
যদি ও অপরাধ স্বীকার না করতো... আমরা আরো কঠোরভাবে আক্রমণ করতে পারতাম।
শুরু থেকে জানলেই ভালো হতো...
আমরা চিঠিটা নিয়ে কারখানাতে যাবো
এবং নিপীড়িত পরিবারকে সান্ত্বনা দিবো।
আমি ওদের জন্য কিছু গিফট কিনে নিবো।
ঠিক আছে।
ওর উদ্দেশ্যের ব্যাপারে...
ওর সহকর্মীদের জিজ্ঞেস করে দেখো মালিকের বিরুদ্ধে কোনো বিদ্বেষ ছিলো কিনা।
ঠিক আছে।
সেতসু আমাদের কেসটা দিয়ে নিজে সরে পড়ছে।
হ্যাঁ।
হ্যালো।
আমি শিগেমোরি, আইনজীবী।
আমি মিসুমি তাকাশির কেস লড়ছি।
তোমাদের পরিবারকে উদ্দেশ্যে তার লিখা একটা চিঠি দিতে এসেছি।
আমি মাকে ডেকে আনছি।
হ্যাঁ প্লিজ।
আসি ভেতরে?
আমার নাম শিগেমোরি।
প্রথমত আমি সমবেদনা জানাতে চাই।
এই চিঠিটা পাঠিয়েছে বলে ওকে ক্ষমা করে দিতে হবে?
আমরা...
ও এই পরিবারের একজনকে খুন করেছে।
তারপর দেহটাকে পুড়িয়ে ফেলেছে।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াতে...
আমরা...
মুখটা পর্যন্ত দেখতে পাইনি।
মা...
সে নিজের কৃতকর্মের জন্য সত্যিই অনেক দুঃখিত।
আমি অত্যন্ত দুঃখিত।
একটা কথা বলো,
মিসুমি কি ওর বসকে ঘৃণা করতো?
বরং উল্টো, ওকে কাজ দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞ ছিলো।
আচ্ছা।
ওদের কখনো ঝগড়া করতে দেখেছ?
আসলে,
আমাদের কম মজুরী নিয়ে ও সবসময় বসের কাছে অভিযোগ করতো।
আবার ঝামেলায় পড়েছিস নাকি, সাকুরাই?
বাজে বকিস না।
সে উকিল, পুলিশ না।
তুমি কি জানো মিসুমি জেলে ছিলো?
জানি।
এখানকার অনেকেই জেলে সময় কাটিয়েছে।
এমনকি আমিও।
ওহ।
তুমি কি জানতে চাও,
আমি কী করেছিলাম?
না।
তোমার বস ভালো মানুষ ছিলো মনে হচ্ছে।
কম মজুরী দিতে হবে দেখে ও আমাদের কাজ দিয়েছিল।
কোনোকিছু দাবী করার অবস্থা আমাদের নেই।
ওহ, এই ব্যাপার।
No comments yet. Be the first to leave one.