முதல் 200 வரிகள்.
ওর নাম কোহ হানসু।
আর শুনেছি ও অনেকের মৃত্যুর জন্য দায়ী।
জাপানের এক ক্ষমতাবান লোকের জন্য খারাপ কাজ করে।
এমন কথা শোনার পর চিন্তায় পড়ে যাই,
ও কি ওদের মতোই?
নাকি আমাদের মতো কেউ?
এতসব কে জানে বাপু। ব্যস এটুক জানি যে ও দাম ভালো দেয়।
ও ঝামেলা করে না, আর বোকাদের সাথে খুব সহনশীল।
যে মহিলা ওর জন্য রান্না করে...
বলছিল, ও নাকি এক শার্ট দ্বিতীয়বার পরে না।
একবার পরেই ফেলে দেয়।
মানে ভাবতে পারো? নিজেকে কী ভাবে?
সে এমন মানুষ যে দুনিয়া বুঝে।
সে আমার বাবার সাথে দেখা করতে দুইবার এসেছে।
তারা একে অপরকে বেশ পছন্দ করতে শুরু করেছে।
কিন্তু, জিইউন, তোমার বাবার কী মনে হয় ও এখানেই স্থায়ী হবে?
নাকি ওসাকায় ফিরে যাবে?
যেহেতু এখানে তার নিজের বাড়ি আছে…
হয়তো হবে।
আমার তো তাই মনে হয়।
- চুপ কর! - কিন্তু বাবা। এক হাত লম্বা হবে। এটাই তো নিয়ম।
আমার এক হাতের সমান হবে!
তোমার কি মনে হয় একটা দুধ খাওয়া বাচ্চার...
হাতের মাপ ধরে আমি দাম ঠিক করব?
মাফ করে দিন, স্যার!
তুমি এতে নাক গলাবে না।
এই অপমানের দায়ভার তোমার ছেলেকেই নিতে হবে।
কিন্তু যদি চাও, তোমার হাত টেনে লম্বা করে দিতে পারি।
আমি এগুলো কিনব।
২০টার জন্য ৫ ইয়েন।
আমার কৃতজ্ঞতা গ্রহণ করুন।
লাগবে না।
কোহ হানসু সাহেব!
• • • অনুবাদ ও সম্পাদনায় • • • সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
সবাই উপভোগ করছেন তো?
এইমাত্র বর ও বধূর বাবা-মাকে দেখলাম।
এবার বুঝলাম তাদের সৌন্দর্যের রহস্য কী!
তো সবাই আমাকে ব্যর্থ দেখতে চায়।
এটা সত্যি না। আমাদের সবসময় খারাপ ভেবো না।
চেষ্টা করব।
তুমি আমেরিকা যাবার পর থেকে এই দেশ অনেক বদলে গেছে।
অনেকেই অনেক জলদি বহুত টাকা কামাচ্ছে।
কয়েক বছর আগে যাদের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া মুশকিল ছিল।
হয়তো এই দেশের তাদেরকেই দরকার।
কোনো পাচিনকোম্যানের ছেলের মতো?
মজা করছি! আমরা তো পুরানো বন্ধু।
ছোটবেলায় বলা তোমার একটা কথা মনে পড়ে গেল।
কী সেটা?
তোমার বাবা নাকি তোমাকে বলেছিল যে,
কোরিয়ানদের নিশ্চয়ই কুকুর পেলে-পুষে বড় করেছে।
নাহলে ওরা আমাদের মতো খাবার উঠিয়ে না খেয়ে
মাথা নামিয়ে কেন খায়?
- আমি সত্যিই এমন বাজে কথা বলেছিলাম? - হ্যাঁ।
আমরা তখন ছোট ছিলাম।
নিশ্চয়ই বাবা ভুল শুনেছে।
যাইহোক, আবে-সানকে কোল্টনের পার্টনার বানিয়ে তোমরা বুদ্ধিমানের কাজ করেছ।
সে এখানকার সেরা ডেভেলপার। তার একটা আলাদা প্রভাব আছে।
তাই তো অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্ধেক লোক
তার মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত। এতে সাহায্য হবে।
কথা ঠিক, আমাদের অনেকেই এখানে উপস্থিত।
কিন্তু চিন্তা কোরো না। এমন টাই পরে, তোমাকে একদম এখানেরই লাগছে।
আচ্ছা, অনুমান করি।
আরমানি।
হারমেস। বাহ, পয়সাকড়ি দেখি ভালোই কামিয়েছ।
এখন দেখার বিষয় আবে-সান তোমার ব্যাপারে কী ভাবে।
১, ২, ৩, বলুন ইলিশ!
আরও কাছে আসুন।
অনেক ছোটতেই দেশের বাইরে চলে গেছিলে, তাই না?
আমার বয়স তখন ১৪ ছিল।
শুনেছি তুমিও আমেরিকায় ছিলে।
হ্যাঁ, ক্যামব্রিজ।
আহ, হার্ভার্ড।
বিজনেস স্কুল।
আর হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল কেমন ছিল?
আমেরিকানদের মন-মানসিকতার ব্যাপারে অনেক কিছুই শিখেছি।
যেমন?
আমেরিকানরা গেমস খুব ভালোবাসে।
তাই সব খেলায় পরিণত হয়।
তাই যখন কারো সাথে আমার সাক্ষাৎ হতো, বিশেষকরে ছেলেদের সাথে,
তারা গেসিং গেম খেলতে চাইতো,
"আমি কোন এশিয়ান দেশের মানুষ?"
একদম মুখস্থ। প্রথমেই বলবে চাইনিজ।
আর কপাল ভালো, সাধারণত দ্বিতীয়তে বলে জাপানিজ।
তুমি তো ব্যস দুইটা দেশেই পার পেয়ে গেছ।
কোরিয়া টপ ৪ আসলে আমি তো নিজেকে ভাগ্যবান মনে করব।
উত্তর দিতে ইচ্ছা না করলে, কেউ জাপান বললে আমি ব্যস মাথা নাড়াতাম।
যদিও পুরোপুরি ভুল না, তাই নয় কি?
না। ভুল না।
- টম-সান! - আবে-সান!
আপনার জামাইকে দেখে মনে হচ্ছে ভালোই টাকা-পয়সা কামায়। আপনি ভাগ্যবান!
আমার মেয়ের খাতিরে, সেটাই আশা করছি।
আপনাকে দলের নতুন সদস্যের সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দিই।
ইনি বেক-সান আমাদের নিউইয়র্ক অফিস থেকে।
আমাকে আমন্ত্রণ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। এটা আমার জন্য সম্মানের বিষয়।
আপনার রক্তের গ্রুপ কী?
আমার রক্তের গ্রুপ "ও"।
ওহ আচ্ছা। আপনি তাহলে আশাবাদী মানুষ।
এই পৃথিবীতে, এটা প্রতিটা প্রাণীর জন্যই প্রেরণা।
দেখা যাক এটা আপনার কীভাবে কাজে আসে।
পার্টি উপভোগ করুন।
এই। তখন ওসব কী বললো?
মনে হয় উনি আমার বিশ্বস্ততা নিয়ে চিন্তিত।
ওহ, হ্যাঁ। কোরিয়া-জাপানের দ্বন্দ্বের কারণে।
মানুষ এসব ভুলে যায় না কেন, জানো?
এটা এখন অতীত। যা ঘটার ঘটে গেছে।
বেশ, আবে-সানকে বলে দিয়েন আমাকে নিয়ে ওনার চিন্তা করা লাগবে না।
আমি শিফলিজের প্রতি বিশ্বস্ত।
কারণ তারা আমাকে বেতন দেয়।
ভাবি, উঠো।
ভাবি, খাবার সময় হয়েছে।
সোলোমন কোথায়?
টোকিওতে, মনে নেই? বড় একটা জিনিসে কাজ করছে।
সুনজা। আমরা সবসময়ই জানতাম, তাই না?
যে ও-ই এটা করতে পারবে।
ও অনেক ভালো ছেলে।
এখন খেয়ে নাও।
আমার দেখাশোনা করতে করতে তুমি বিরক্ত হওনি?
এমন কথা বোলো না তো।
দেখো, তোমার পছন্দের খাবার বানিয়েছি।
খালি পেটে ওষুধ খেতে পারবে না।
অনেক হয়েছে, এবার খাও।
সুনজা,
আমি ওষুধ খাবো না।
এসব কেমন কথা?
ডাক্তার কী বলেছে শুনোনি?
তোমাকে লড়াই করতে হবে।
সুনজা, আমরা আর কত লড়াই করব?
তুমি এখন আজেবাজে কথা বলছ।
এটা কীভাবে হলো?
সসময়গুলো কীভাবে এত জলদি পার হয়ে গেল?
তুমি এখনও অনেকদিন বাঁচবে।
এসব বোলো না।
তুমি আগে মুখের উপর সত্যিটা বলতে।
যতই কষ্টদায়ক হোক না কেন, তুমি সত্যি কথাটা বলতে।
এখন আবার ঐ মুখগুলো দেখতে পাচ্ছি,
আমার স্বপ্নে।
যাদের ভুলার এত চেষ্টা করেছি।
আমার সময় কাছিয়ে এসেছে, কিন্তু
তাদের সবার মুখগুলো মনে করতে চাই তাই হয়তো।
তাদের নাম,
তাদের চেহারা…
যদি ব্যস একটাবার পিছনে ফিরে যেতে পারতাম।
কিন্তু, সুনজা,
সত্যি করে একটা কথা বলো।
ঐ লোকটার কথা কি,
কখনোই ভাবোনি?
বা তুমি সিদ্ধান্তটা অন্যভাবে নিলে
তোমার জীবন আজ কেমন হতো?
তুমি একটা গাধা, জানো তো?
আমি তোমাকে আর তোমার পুরো পরিবারকে সাগরে ছুঁড়ে ফেলতে পারি।
স্যার, ও ভুল কিছু করেনি।
ও আমাকে এগুলো বিক্রি করেনি।
আমি নিজ চোখে দেখেছি।
আমার কাছে কিছু বাড়তি কমলালেবু ছিল। আমরা ব্যস বিনিময় করেছি।
দেখুন, আমি তার টাকা নিইনি!
ওকে কিছু বলবেন না। ওর কোনো দোষ নেই।
বলো,
আমরা কেন ছোট মাছ বিক্রি করি না?
কারণ আমরা যদি মাছের ডিম পাড়ার আগেই তাদের ধরে ফেলি,
তবে আমাদের সবসময়ই লোকসান হবে।
যার মানে আমাদের জন্য কখনোই যথেষ্ট হবে না,
আর একে-অপরের সাথে ঝগড়া করতেই থাকব।
কিন্তু আমরা কি এখন তা-ই করছি না?
যাও।
সুনজা, এত দেরি হলো কেন?
আমাদের তো চিন্তা হচ্ছিল।
কেন? কিছু হয়েছে নাকি, ডংহি?
না।
মিসেস কিম বলছিলেন আরকি!
কিন্তু এবারে ওনার কথা একদম সত্যি।
রিহ সাহেব এটা নিজ চোখে দেখেছেন।
গল্পগুজব শেষ হয়েছে?
এখন একটু কাজকর্মতে মন দেওয়া যাক।
আমি মোটেও ইচ্ছে করে কাজে ফাঁকি দিচ্ছি না।
মিসেস কিম ওর মাথায়
জাপানী শহুরে বাচ্চাদের গল্প ঢুকিয়ে দিয়েছে
যারা সাদা পোশাকে থাকা কোরিয়ান মহিলাদের উপর
কাঁদা আর ময়লা ছুঁড়ে মেরেছে।
আমি তো এমন কিছু দেখিনি।
জানো তো মেয়েরা কত কথা বানায়।
কিন্তু… সুনজা, আমি তোকে একা একা বাজারে যেতে দিতে চাচ্ছি না।
ডংহি বা বকহি'কে সাথে নিয়ে গেলেই তো পারিস?
ওহ, বলে কি!
নয় বছর বয়স থেকে একাই বাজারে যাচ্ছি।
- তারপরও। - এখানেও অনেক কাজ আছে।
তুমি তো বকহি আর ডংহিকে তোমার সাহায্যের জন্য রেখেছিলে।
মিসেস কিম একটা মাথামোটা মহিলা, সারাক্ষণ উল্টাপাল্টা গল্প বানায়।
মুখে লাগাম দে। একদিন কিন্তু এটার জন্য ভুগবি।
মিসেস কিমের মুখে শুনলাম,
নতুন মাছ ব্যবসায়ী দেখতে নাকি অনেক সুন্দর।
সুনজা, ওকে দেখেছিস?
কী শুরু করলি তোরা! তাকে নিয়ে এত আলোচনা করার কিছুই নেই।
বিগত তিন বছর ধরে এটা আমার গলার কাঁটা হয়ে আছে।
কন্সট্রাকশনের লোকজন ওদের চারেদিককার জমিতে কাজও শুরু করে দিয়েছে।
আবে-সান আমার পিছনে লেগে আছে।
আর আমার বস তো আমাকে রোজ ফোন করে জিজ্ঞেস করে,
যে, সে কখন জমি বিক্রি করবে।
আমরা মার্কেট ভ্যালুর চেয়ে বেশিতে তিনটা ভালো অফার দিয়ে দেখেছি।
আমাদের প্রথম অফার ছিল ২৯৫ মিলিয়ন ইয়েনের...
ধন্যবাদ, ব্রিফস পড়েছি। আমি সব জানি।
No comments yet. Be the first to leave one.