187 บรรทัดแรก
বাংলা অনুবাদেঃ শাহনেওয়াজ চৌধুরী
সাবটাইটেল সম্পর্কে ভালো মন্দ ফিডব্যাক জানাবেন এবং রেটিং দিয়ে উৎসাহিত করবেন।
অমর!
বেয়াক্কেলের মত কাজ করিস না। ফিরে আই। নয়তো ভালো হবে না।
ফিরে আই!
অমর- তুই ফিরে না আসলে আমি তুর বাপ-মাকে সব বলে দেবো।
তুই কি এটাই চাস?
তখন তুর বংশের মান-সম্মান সব ধূলোয় মিশে যাবে....
না স্যার। এটা করবেন না।
- চলো.... - আপনি যা বলেবেন তাই হবে।
শুধু আমার মাকে কিছু বলবেন না।
সেখানে দাঁড়িয়ে থাক।
এই আলোক কুমারকে যে কোথায় খুঁজবো।
হ্যাঁ বলো...
ম্যাম, অমর সিংকে ধরেছি।
এখন এই খবর এখানকার থানার প্রধানকে জানাবো?
না। এতো সময় নেই।
আরেকটা ধরলাম....
হেলো? হ্যাঁ, সুভাষ গুপ্তা বলছি, দিল্লি পুলিশ থেকে। আপনি কে?
- বিটু স্যার। - বিটু?
- আমি সনু নামের এক লোককে খুঁজছি। - কোন সনু?
- সনু নামের কাউকে চেনো? - কোন সনু?
সনু নামের অনেকেই আছে না। কাউকে চেনো?
ও ভাই....
ওয়েল্ডার মিস্ত্রি ভাস্কর কুমারকে চেনো?
- চিনি না। - চেনো না।
এই ছেলে, চা দে।
ওয়েল্ডার মিস্ত্রি ভাস্কর কুমারকে চিনিস?
না, তার কাছে জিজ্ঞেস করুন।
ভাই, ওয়েল্ডার মিস্ত্রি ভাস্কর কুমারকে কোথায় পাওয়া যাবে?
হ্যাঁ, ট্রলি ফ্যাক্টরিতে কাজ করে সে।
এখন সেখানে পাওয়া যাবে?
দশটার পরে পাওয়া যাবে।
- কোথায় থাকে জানেন? - হ্যাঁ
- নিয়ে যেতে পারবেন? - আপনি কে?
- দিল্লি পুলিশ। - আচ্ছা.....
- ভাইজান? - হ্যাঁ...
দোকান খেয়াল রাখিস।
- কোথায়? - এদিকে.....
কেনো করলি?
শালা, তুরে জিজ্ঞেস করছি?
বয়রা হয়ে গেছিস নাকি? কেনো এই কাজ করলি?
স্যার, পার্টি করতে করতে এটা করে ফেলেছি।
কত মানা করলাম সবাইকে থামাতে কিন্তু কেউ শুনেনি।
- এটা কার ফোন? - এক বছর ধরে এটা আমার।
এটা তোর ফোন মনে হয় না। সিম কার্ড কোথায়?
কানের নিচে দুইটা লাগিয়ে দিন সব বলে দেবে।
না। তার মানসিক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে সহি-সালামতে ডেলিভারি দিতে হবে।
তারপর আমাদের কাজ শেষ। বাকিটা স্যারেরা দেখবেন।
- চল উঠ.... - কী....কী চান আপনারা?
- তুর নাম কী? - স্যার, আপনি কে?
দিল্লি পুলিশ। তুর নাম বল....
- ভাস্কর কুমার। - ...ভাস্কর কুমার।
রক্তমাখা কাপড় কেনো এখানে?
- জানি না। - জানিস না?
স্যার বলছি, স্যার.... বলছি......
এটা আমার ভাই আলোকের।
- আমি সব বলবো কিন্তু মারবেন না। - তাহলে বলতে থাক.....
স্যার, গতকাল সে হঠাত এখানে আসে আর কাপড় পরিবর্তন করে এটা রেখে গেছে।
আচ্ছা কাপড় পাল্টাতে আসছে... কাপড় পাল্টাতে এখানে আসতে হবে কেনো?
স্যার এটাই জানি....
- আমরা কি গর্দভ? - স্যার মারবেন না....
- তাহলে বল। তাকে কত টাকা দিয়েছিস? - ৫০০ টাকা আর আমার ফোন নিয়ে গেছে।
এইটুকই জানি স্যার। কাল রাতে এখানে এসে টাকা আর ফোন নিয়ে গেছে।
- সত্যি বলছিস? - হ্যাঁ স্যার।
- সে এখন কোথায়? - স্যার আমি জানিনা কসম.....
- আমি জিজ্ঞেসও করিনি তাই সেও কিছু বলেনি। - কোন আইডিয়া আছে?
হ্যাঁ স্যার তার গ্রামের বাড়ি বিহারে যেতে পারে।
- তার বাপ-মার কাছে? - হ্যাঁ স্যার।
লোকেশন?
আওরাঙ্গাবাদের পাশে চাপারা গ্রামে।
- তার পরিবারে আর কে কে আছে? - তার স্ত্রী, পল্লবী।
- সে বিবাহিত? - হ্যাঁ স্যার। তার স্ত্রীর বাড়ি ঝাড়খন্ডে।
সে তার বাবা মার সাথে থাকে।
- আচ্ছা এখন থানায় চল। - স্যার, আমি কিছু করিনি।
- কিছু করিসনি? - না স্যার।
সে অপরাধী জেনেও তুই তাকে সহায়তা করেছিস। তুই জানিস না সে অপরাধ করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে?
না স্যার। আমি সেটা জানতাম না।
আমি জানি যে, তার গাড়ির সামনে গরু চলে এসে এক্সিডেন্ট করছে।
- চল, তাহলে তুকে গরুর সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দেই। - প্লিজ, আমি কিছু করিনি।
আরে গোয়াল ঘরে চল....
আমরা জ্যামে আটকা পড়েছি ম্যাম।
এখনো শহরের বাইরে আছি। পৌঁছাতে আরো সময় লাগবে।
সুধীর, থানার পেছন দিক দিয়ে ঢুকবি। থানার সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ চলছে।
ওকে স্যার।
একটা কথা বল....
দুই ভাই মিলে একটা মেয়েকে ধর্ষণ কিভাবে করতে পারলি?
বন্ধুদের সাথে মানা যায়....
কিন্তু দুই আপন ভাই??
এমন না যে তোরা কোন গ্যাংস্টার পরিবারের সদস্য!
তোর বাব-মাকে দেখলাম কতো সাদা-সিধে গ্রামের মানুষ।
তাহলে এমন কাজ কেনো করলি রে??
এটা জয়ের প্ল্যান ছিলো।
জয় যেটা বলে সেটা করতে হয়।
তোর ভাইকে তুই ভয় পাস?
হ্যাঁ স্যার।
ম্যাডাম স্যার, একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানোর ছিলো।
এই কেসের আরো একজন ভিক্টিমকে পেয়েছি।
তার নাম বাংকি লাল ১৬ই ডিসেম্বর রাতে মুনির্কা বাসস্ট্যান্ড থেকে একটা বাসে উঠেছিলো।
সেই বাসে তাকে ছয়জনে মিলে মারধোর করে।
তার সবকিছু চুরি করে হামলার পর তাকে বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয়।
হউস খা ক্রসিং এর ওখানে।
বাংকি লাল?
হ্যাঁ ম্যাডাম।
আমি ডিসিপি, সাউথ ডিস্ট্রিক্ট।
- উনি ইন্সপেক্টর ভূপেন্দার সিং। - হেলো স্যার।
বিস্তারিত বলো, তোমার সাথে ১৬ই ডিসেম্বর রাতে কী হয়েছিলো?
আমি মুনির্কা বাসস্ট্যান্ডে সংগম বিহার নামের একটি বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।
তারপর বাস পেয়ে বাসে উঠলাম।
তখন কয়টা বাজে?
এই রাত ৮.৩০
বাসে উঠার পর লাইট অফ হয়ে যায় আর বাস ছেড়ে দেয়।
বাসে মোট ছয়জন লোক ছিলো।
তারা কিছু না বলে হঠাৎ আমাকে মারধোর করতে থাকে....
তারা আমার মানিব্যাগ, মোবাইল নিয়ে ফেলে....
তারপর আমাকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয় আই.আই.টি ওভারপাসের ওখানে।
ভাগ্য ভালো আমার মাথা ফাটেনি। নয়তো ওখানেই মরে পড়ে থাকতাম।
- তুমি তাদের দেখলে চিনতে পারবে? - পারবো হয়তো......
- তখন ড্রাইভার কোথায় ছিলো? - সেও এই কাজে জড়িত ছিলো।
- সেই রাতে তুমি অভিযোগ করোনি কেনো? - কাকে অভিযোগ জানাবো....
আমি অনেকের কাছে হেল্প চাইলাম কিন্তু কেউ আমার কথাই শুনে না।
তারপর একটা ট্যক্সিকে থামায়....
তার ফোন থেকে আমার ভাইকে কল করি।
ভাই বললো, বাসায় চলে আসো। আর পুলিশও তখন কী করবে?
তারপর যখন নিউজ দেখলাম বুঝলাম যে এটা তারাই.....
- বাসটি দেখতে কেমন ছিলো? - সাদা বাস ছিলো।
নীল রঙয়ের সিট কভার আর হলুদ পর্দা ছিলো।
আর বাসের সামনে শিবের মূর্তি ছিলো।
আপনার সাথে যা হয়েছে তা একদমই অনাকাঙ্ক্ষিত।
আর আপনি নিজে এসে আমাদের সাহায্য করলেন। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ম্যাম তার মত আরো ভিক্টিম থাকতে পারে!
লোকটি সেই রাতে যদি এই কথাটা আমাদের জানাতো তাহলে এই ঘটনা আমরা রুখতে পারতাম।
এতে আমাদের দোষ কী?
ভালো ব্যাপার হলো আমরা এই কেসে আরো একজন স্বাক্ষী পেলাম।
তার খেয়াল রেখো।
আপনি বিশ্রাম নিন, ম্যাডাম।
শোন এই বেড়া পার হয়ে আমাদের ভেতরে যেতে হবে।
প্রথমে নদী পাড়ি দিলাম, এখন আবার বেড়া!! কী হচ্ছে এসব....
থানার সামনে দিয়েও নিয়ে যেতে পারি....
সেখানে পাবলিক তুর রক্ত খাওয়ার জন্য বসে আছে।
এখন তুর সিদ্ধান্ত। কী করবি?
চলো.....
ভাই.....স্বাগতম।
গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও। খাওয়া-দাওয়া করে বিশ্রাম নাও। পরে কথা বলবো।
ধন্যবাদ ম্যাডাম। ভিমলা, এখন আপনার পালা।
সে সবকিছু স্বীকার করছে।
তার মেডিকেল চেকাপ শেষ করে তিহার পাঠিয়ে দেবো।
দিল্লি পুলিশ! লজ্জা......লজ্জা....!!
জী ম্যাডাম।
ভাইজান....
ভাই, আপনাদের প্ল্যান কী? আমার অফিস থেকে আসতে আজ দেরি হয়ে গেছে।
- কী করবেন আপনারা? - শালাদের মেরেই ফেলবো.....
- কাদের? - ধর্ষকদের, যারা থানার ভেতরে আছে।
পুলিশ তাদের সবাইকে ধরছে নাকি?
হয়তো....
যখন তাদের এখান দিয়ে কোর্টে নিয়ে যাবে....
এক এক করে সবাইকে এখানেই মেরে ফেলবো।
এটাই উত্তম বিচার হবে....
কিন্তু তারা যদি ভেতরে না থাকে?
কিছু লোক অলরেডি সাকেট কোর্টের ভেতরে ঢুকে গেছে।
এখন বাইরে কী ভেতরে। কাউকে বাঁচতে দেবো না।
সুযোগ পেলে তারা হুমড়ি খেয়ে হামলা করতে পারে।
এরকম ঘটনা আগেও দেখেছি।
যে কোন উপায়ে এই আসামিদের ম্যাজিস্ট্রেট পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে।
চল তাড়াতাড়ি.....
- দ্রুত - তাকে ধরো....
ভিমলা, গাড়িতে উঠো।
- এইতো এইতো তারা.... - চুপ...একদম চুপ....
কী হয়েছে? কেউ নড়বিনা....
মাতব্বরি করলে চৌদ্দশিকের ভেতর ঢুকিয়ে দেবো.....
চলো.....
এদিকে...এই পাশে আই।
তোরা তো সেলিব্রিটি হয়ে গেছিস।
তোদের অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে।
স্যার, সামনে রাস্তার বামপাশে SUV কার আছে।
চল....
বাকি দুজন ধরা পড়লে আমরা জনগণের সামনে বিস্তারিত প্রকাশ করবো।
কুমার আসো....
চা না হুইস্কি?
- বলো সুভাষ? - সনুকে পেয়ে গেছি।
সে ভাটিয়া নামের এক লোকের জন্য কারাকার্দুমাতে কাজ করতো।
এই ভাটিয়া সনুকে টাকা ধার দেওয়ার জন্য জয় সিংকে বলেছিলো।
- ভাটিয়ার সাথে আজ দেখা করতে পারবে? - হ্যাঁ পারবো।
তাহলে তার সাথে দেখা করে সনু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বের করো।
- ঠিক আছে। - বেশ....
দারুণ....
বেটা তুরে আজকে তুর সব বন্ধুদের সাথে দেখা করাবো।
No comments yet. Be the first to leave one.