200 บรรทัดแรก
নিউ ইয়র্ক ১৯৭১
C
Cr
Cre
Crea
Creat
Create
Created
Created
Created b
Created by
Created by:
Created by:
Created by:
Created by: K
Created by: KU
Created by: KUS
Created by: KUSH
Created by: KUSHA
Created by: KUSHAL
ভাবানুবাদ: কুশল ০১৯১৮১১০০৯৯ ফেসবুকে আমাদের গ্রুপঃ Bangla Subtitle
লাইফ ম্যাগাজিন।
আলী আর ফাইজারের যুদ্ধের প্রিন্ট কপি ৬ টার মধ্যে পেয়ে যাবো।
৪ টার ভিতরে ব্যবস্থা করো। সবাই বেরিয়ে যাও এখন।
সিরিয়াল কিলার, অবাধ মিথ্যা...
ম্যাগাজিনে এসবই চলে, বব।
যুদ্ধের দৃষ্টিকটু ছবিগুলো তোমাকে সরিয়ে নেয়া উচিত।
এখন, কাজ কী, সেটা বলো? ফালতু আলাপের এতো সময় নেই হাতে।
আমার প্রদর্শনীর উদ্বোধনে তোমার বক্তব্য চাই।
আমি চাই, আমার অতীতের গৌরব কিছুটা সেখানে বয়ান করো।
অতীতের?
হ্যাঁ, মানে... গৌরব তো বর্তমানেও আছে।
কিন্তু, যখন অতীত ঘেটে গৌরবান্বিত হওয়া যায়।
যখন সত্যটারও কিছু বিশেষত্ব থাকে।
হ্যাঁ, তোমার বলা উচিত...
আমিই, লাইফ ম্যাগাজিনের সর্বকালের সেরা ফটোগ্রাফার।
কিন্তু, তুমি তা নও।
তুমি আমাদের সবচেয়ে বেয়াড়া ফটোগ্রাফার।
ধুর মরা! তারপরেও প্রশংসাটা তো করো।
সম্ভব না, জেইন। আমি তো ফোনেই বলেছিলাম,
বোর্ড মিটিংয়ের কারণে ওই সপ্তাহে শহরের বাইরে থাকবো।
দেখো বব, আমার দিন ফুরিয়ে গেছে।
আমি এখন ক্লান্ত। শরীরটাও আর কুলাচ্ছে না।
শরীরটা সারাক্ষণ ব্যথা করে।
শরীরের উপরেও ভরসা নেই।
মেজাজটাও বিগড়ে থাকে সব সময়।
ওষুধপত্রে একঘেয়ে হয়ে গেছি, বাচ্চারাও কথা বলে না আমার সাথে।
তুমি জানো...
যে কোনো সময় কিছু একটা হয়ে যেতে পারে আমার।
আমি ক্ষান্ত, ক্লান্ত, সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি।
আমি দুঃখিত, জেইন।
তোমার সান্তনা লাগবে না আমার, আমি কেবল আমার অবস্থাটা বলছি।
কারো যদি সান্তনা দরকারই পড়ে, বব...
সেটা দরকার তোমার।
দেখো, কী সব হাবিজাবি বের করছো এখন।
বাহ!
উন্নতি হলো না তোমার।
কিছু বিবেচনা না করেই এরকম ঘাড় ত্যাড়ামোর অভ্যাস তোমার।
আমাদের পাঠকদের আমরা কার্যকর সংবাদ উপহার দেই।
তাদের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন খবরই আমরা কভার করি।
পুরো দেশ থেকে আসা খবর, সমগ্র দুনিয়ার ঘটনা।
প্রতি সপ্তাহেই করি।
টিভির টকশোতে আমরা বাক যুদ্ধ করি, যেসব সত্য বলেই ভাবো তোমরা।
এসব এভাবেই চলবে।
এসব দিন-কে-দিন কেবল খারাপই হচ্ছে।
আর প্রতিদিন আমার, আমাদের কাজ হচ্ছে...
এসব চালু রাখতে টাকার ব্যবস্থা করা।
আমাদের কভার, ভিতরের গল্প যেসব আমরা ছাপাই,
টাকাটা সেখান থেকেই আসে।
ওয়াও! বাহ...
তোমার রগ তো আমার থেকেও ত্যাড়া।
এটাকে বিলম্বিত ধন্যবাদ হিসেবে নিও।
যেমনটা পুরোনো প্যান্টের পকেট হাতড়ে পাওয়া একটা চেক।
৬ নং রোডের ব্রাঞ্চে এটা ক্যাশ করে নিও।
এটা আন-অফিসিয়াল ভাবেই নাও।
এখানের বড় চেয়ারটায় এখনো বসতে পারছো আমার মতো লোকের কারণেই।
ঠিক আছে?
শুভকামনা রইলো, জেইন।
হাতে যতোটা সময় আছে, নষ্ট করো না।
তুমি একটা হারামি, বব।
রবিবার, ২৮ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১
আমি, সবকিছু থেকে অব্যাহতি নিলাম।
এখন আমার করার মতো কিছুই নেই।
হ্যাঁ।
আমি আমার সমস্ত সরঞ্জাম বিক্রি করে দিয়েছি।
যা কিছু ছিলো- সব।
বিক্রির সব টাকা যেন তোমরা পাও, সেটাও আমি নিশ্চিত করে যাবো...
নিজেকে আধুনিক বলতে আমি পছন্দ করিনা...
কিন্তু, মনে হচ্ছে, সময় চলে এসেছে আমার...
ধুর মরা!
আসছি!
- মি. স্মিথ... - এখন উপযুক্ত সময় না।
হাই, আমি এইলেন, আর ও আমাদের ফটোগ্রাফার গেইচি।
ধন্যবাদ, তোমাদের ধন্যবাদ।
আমাকে কুকিজ দিলো কেন?
আমরা ফুজি ফিল্ম থেকে বিজ্ঞাপনের জন্য এসেছি।
ওহ! সেটা দারুণ ব্যাপার।
আসলে, তোমাদের সত্য কথাটাই বলা উচিত।
এই মুহূর্তে আমি অনেকটা বেশিই মদ গিলে ফেলেছি...
সে কী বললো?
গেইচি বলছে, আপনি ওর সবচেয়ে প্রিয় ফটোগ্রাফার।
ওর এই কাজে আসার মূল প্রেরণাই আপনি।
ওহ, সেটা তো বেশ ভালো।
আর তুমি? কখনো শুনোনি আমার নাম?
আজকে সকালের আগে- নাহ।
তো, তুমি আমার ভক্ত নও?
- এতো কম সময়ে তো বলা মুশকিল। - আচ্ছা।
আমার কী করতে হবে?
তারা চায়, আপনি এটুকু বলে দিন, যে-
ফুজির কালার ফিল্ম, বাজারের অন্যান্য কালার ফিল্ম থেকে বেশি অনুনাদশীল।
একমাত্র এই ফিল্মেই আপনারা ভরসা করতে পারেন।
এটা বন্ধ করো, সবকিছু বন্ধ করো।
তারা কি আসলেই চায়, আমি এটা বলি?
হ্যাঁ, এটা চুক্তির একটা অংশ।
ধুর মরা!
আমি তো কখনোই কালার ফটো তুলিনি।
জীবনেও না, একটাও না।
আমার কাজ সম্পর্কে যারা জানে, সবাই এ কথা জানে।
তো... বিশাল একটা সমস্যা।
আমি দুঃখিত, কিন্তু, মূল চুক্তি তো এটাই।
আমি কি চুক্তিতে স্বাক্ষর দিয়েছি নাকি?
ফ্রান্সিস্কোতে আজ উইল নওটনের শো আছে।
চলুন, সেখানে দেখা করি।
ঠিক আছে।
পাপেট শো থেকেই শুরু করা যাক।
আমাকে কি ছবি তোলা শেখাবে?
অবশ্যই শেখাতাম, কিন্তু আমার সব সরঞ্জাম বিক্রি করে ফেলেছি।
আমার বাচ্চাদের ভাড়ার টাকা বাকি জমে গেছে, পাঠাতে হবে,
আমার ব্যাংক একাউন্টটাও তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে।
- তো... - তলানি?
আসল তলানি না, কিছু মনে করো না।
আসলে, মাঝে মধ্যে বিরক্ত হয়ে গেলে...
জানো, একটা সময়...
আমি অনেক মজা করতাম।
সত্যি বলছি, অনেক মজা করতাম।
আমি নিশ্চিত, বাচ্চাদের কাছেও তুমি অনেক মজার বাবা ছিলে।
নাহ, আমি তেমন বাবা ছিলাম না।
এক আনাও না।
তাদের কাছে যাইনি। সারা জীবন দূরেই থেকেছি।
একত্রিত হইনি কখনো...
কোনো খেলনা কিনে দেইনি।
কোনো কিছুই করিনি।
তোমার সাথে আজকের রাতটা চমৎকার কেটেছে, এইলেন।
আমি...
আমি আসলে তোমার কাছে বিজ্ঞাপনের কাজে আসিনি।
উহু।
জাপানে একটা কোম্পানি আছে।
বছরের পর বছর ধরে সমুদ্রে তারা তাদের বর্জ্য ফেলে আসছে।
বিখ্যাত চিসো কর্পোরেশন।
হাজারো মানুষ রোগাক্রান্ত হচ্ছে, মারাও যাচ্ছে।
ওই মানুষগুলোর সাহায্য দরকার।
সেখানে অবশ্য আন্দোলন হচ্ছে।
কিন্তু আমরা চাই, সারা বিশ্ব এটা জানুক।
তার জন্য তোমাকে প্রয়োজন।
সামনের সপ্তাহেই শেয়ার হোল্ডারদের মিটিং।
আসলে, জাপানে শেষ যাওয়া গিয়ে এসেছি।
সেটা তো 25 বছর আগে।
শোনো..
তুমি যদি একারণেই এসে থাকো, তবে, তোমাকে তাদের দলে রাখবো-
যাদের আমি হতাশ করেছি।
আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমার কিছু কাজ পড়ে আছে।
কিছু ময়লা ঝেড়ে বাইরে ফেলতে হবে।
দুঃখিত, আমি হয়তো তোমাকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছি।
আসলে আমার উদ্দেশ্য ছিলো না...
না, না, রাতটা কিন্তু বেশ কেটেছে।
তাই?
হুম।
এখানে কিছু তথ্য আছে।
সময় করে দেখে নিও।
খামে আমার নাম্বারটাও দেয়া আছে।
ভালো থেকো, এইলেন।
লাইফ ম্যাগাজিন।
মাঝের অংশটার প্রস্তাব আমার ভালো লেগেছে... এটাই একদম ঠিক আছে।
- মাঝখানটাই আসল। - হুম।
- রবার্ট? - দারুণ...
রবার্ট, জাপানে খুব সঙ্কট চলছে।
মারাত্মক পর্যায়ে পারদ দূষণ। এই নাও পুলিৎজার পাওয়ার সুযোগ।
- জেইন, সমস্যা কী তোমার? - গণহারে মানুষ মরছে, রবার্ট।
মানুষ তো মরেই, প্রতিদিনই মরে।
এর মানে এইনা, যে তুমি কভার ডিজাইনে এসে বাগড়া দিবে।
ওরে বাবা! ডিজাইন আমার জন্য লাটে উঠছে?
না, তোমরা তেল শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপন নিয়ে মাথা ঘামাও।
নিরীহ মানুষ মাছির মতো মরুক, তাতে কী আসে যায়?
মিনামাটার কথা বলছো?
হুম! দেখলে? সে-ও জানে।
এখানে তার মতো স্মার্ট আর কেউ আছে?
একটা ফ্যাক্টরি কিছু জেলে-গ্রামের পরিবেশ ভীষণ আকারে দূষিত করে যাচ্ছে।
প্রথমদিকে এর নাম ছিলো "অদ্ভুদ রোগ", এরপর নাম হলো- "বিড়াল খিঁচুনি জ্বর"।
এখন সবাই একে মিনামাটা নামেই ডাকে।
ভয়ংকর একটা অসুখ!
হেরাল্ড আর টাইমসে এটার সম্পর্কে জেনেছি।
দু মাস পরপর ছোট প্রতিবেদন আসতো।
কিন্তু কেউই কভার স্টোরি করেনি।
ওই সমুদ্র এলাকার সব মাছেই এই বিষ,
এমনকি গরিব লোকগুলোর সব খাবারেই এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
টোকিওতে টাইমস এর অফিস আছে।
সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য হাতে এক ঘন্টা আছে।
আমার কাছেও এটা যথার্থ মনে হচ্ছে।
সুযোগ হাতছাড়া করতে নেই।
আর এটাকে কভার করার মানে-
No comments yet. Be the first to leave one.