200 บรรทัดแรก
এক, স্পিকার কানেক্ট করুন।
এবার কভারগুলো সাবধানে ডিরেকশনে লাগিয়ে দিন।
স্পিকার...
কভার, ডিরেকশন...
দুই, স্ট্যাটরের দিকে ঘুরিয়ে রাউটারকে শেষপর্যন্ত নিয়ে যান।
সরলরেখা বরাবর স্ক্রুর সাহায্যে
বাটনটা লাগিয়ে দিন।
রাউটার...
স্ট্যাটরের দিকে।
ঘটনাটার আগে ইউং-গুন কেমন ছিল?
যেমন ধরুন, হঠাতই খাওয়া-দাওয়া ছেড়েছে?
রেস্টুরেন্ট নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকায় এতকিছু খেয়াল করার
সময় পাইনি।
সত্যিটা হলো, আমার মাকে ইউং-গুন মানুষ করেছে।
হ্যাঁ?
না, মানে, আমার মা ইউং-গুনকে মানুষ করেছে।
- সে কারণে ও... - তিন, ২ x ২৩ ভেতরে মেটাল প্লেটটা ঢুকিয়ে...
- বয়স্কদের মতো কথা বলে। - পেছনের কেসে বসিয়ে দিন।
ওর নানির সাথে দেখা করতে পারি?
ওনাকে একটা এলজাইমার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উনি ছয় মাস ধরে শুধু মুলা খেয়েছেন।
- মুলা? - পিকল্ড মুলা।
- বোল্ট ১.৭ x ৪। - ও, আচ্ছা।
হ্যাঁ?
নাড়িভুঁড়ি ৭০ কেজি, মাথার মাংস, কান, কলিজা, আর পেট এনেছো?
না, অন্তত ১০০ কেজি লাগবে। আজকাল পাওয়াই যায় না।
আমি ছোট থাকতে,
মাথাব্যথার জন্য একবার স্কুল থেকে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরলাম।
- মাথা? - হ্যাঁ, মাথার মাংস।
না, ৬০ কেজি জিভ।
হ্যাঁ।
এতই মাথাব্যথা ছিল যে বাড়ি এসেই উঠোন থেকে...
মাকে ডাকতে লাগলাম।
মা!
মা!
পাঁচ, ইনসুলেটরকে সামনের কেসের স্পিকারে লাগিয়ে দিন...
ইনসুলেটর, স্পিকার, সামনের কেস, সার্কিট বোর্ডে লাগাতে হবে...
- মা, কী করছো? - পেছনের কেস...
ভলিউম...
২ x ৮ বোল্ট, লাগাতে...
দেখলাম মা...
কতগুলো ইঁদুরকে খাওয়াচ্ছিল।
ছয়,
টেস্টার কানেক্ট করে রেডিও সুইচ অন করুন।
রেডিও সুইচ।
বাড়িতেও মুলা খেতো?
ও মুলা খাওয়ার সময় গন্ধে টেকা যেতো না।
১০ থেকে ২৫...
- ওগুলো পোষা ইঁদুর ছিল? - নরমাল।
সেদিনই প্রথম দেখেছিলাম।
- সাত, চেক হয়ে গেলে... - চেক।
- অ্যান্টেনা উপরে তুলুন... - অ্যান্টেনা।
সম্প্রচার কেন্দ্র পেতে ফ্রিকোয়েন্সি বাটন ঘুরান।
সম্প্রচার, সম্প্রচার।
আট, তারটাকে কেটে দুটো করে আবরণ সরিয়ে ফেলুন।
মা বলেছিল,
ওর একটা গোপন কথা ছিল।
তবে সেটা আর গোপন করতে চায়নি।
কথাটা হলো ইঁদুরগুলো নাকি আমার ছোট ভাই-বোন।
"তোর মতো ইঁদুরগুলোও আমার সন্তান।"
"আমি মা ইঁদুর।"
- ও। - নয়।
- ছুরি দিয়ে বাঁ কব্জি কেটে ফেলুন... - কব্জি... ছুরি...
বেচারি মা আমার।
মা সবসময় ভয়ে থাকতো...
- তারগুলো প্রবেশ করান... - তার...
- ইউং-গুনও ওর নানির ব্যাপারটা জানে? - এবার টেপ দিয়ে বাঁধুন।
- ইউং-গুন? - টেপ।
মোটেই না।
সেদিন মা হয়তো ইঁদুরগুলোর সাথে একটু বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল।
শূকরের নাড়িভুঁড়ির সাথেও।
আপনাদের রোগীদের সাথেও?
দশ, প্লাগ ঢোকান।
প্লাগ।
ইউং-গুনও কি নিজেকে কখনো অন্যকিছু ভেবেছে?
না, ডাক্তার।
ইউং-গুন মানুষ।
ওর নানির ঘটনার সাথে ইউং-গুনের আত্মহত্যা করতে চাওয়ার...
তেমন কোনো সম্পর্ক নেই।
আমার মেয়ে ঠিক হয়ে যাবে তো?
তোমার মতো একটা মেয়ে এখানে খেতে পারবে কিনা সন্দেহ।
কী বুঝে তোমার মা-বাবা তোমাকে এখানে পাঠালো?
মা-বাবাই তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মেয়েদের ক্ষেত্রে, বিশেষত বাবা।
ওর মতো।
১০ বছর আগে নাকি একটা রোগী উধাও হয়ে যায়।
ওর নাম ছিল ওহ দং-সু, দেখতে ছিল রাইস পেপারের মতো পাতলা, ফ্যাকাসে।
সারাদিন শুধু হেঁচকি দিতো।
স্টাফ, মিলিটারি আর পুলিশ, সবখানে খুঁজেছিল ওকে।
পাহাড়ে কুকুর দিয়েও খুঁজেছিল।
ও নাকি সাংঘাতিক সাইকোপ্যাথ ছিল।
এক সপ্তাহ পর...
ওরা বুঝতে পারে এই ঘড়িটা হেঁচকির শব্দ করছে।
লোকটা মরে দিব্যি এটার ভেতর কুণ্ডলী পাকিয়ে গিয়েছিল।
শোনো।
শব্দটা।
এভাবে আর বাঁচতে পারবো না।
এদিকে আসো। দেখো।
বিশ্বাস করো বা না-ই করো।
এ অন্যায়!
- শোনো সবাই, এ অন্যায়! - দে-ফিয়ং, শান্ত হোন!
কে করতে বলেছে? চোরের দল!
দায়িত্বরত একটা পুলিশ অফিসারকে কীভাবে আটকে রাখো! হারামীর দল!
- পার্ক ইল-সুনকে ধরো! - শান্ত হোন! দে-ফিয়ং!
- শান্ত হোন! - পুলিশ!
৯১১!
ড. কিম!
আবার করেছে।
পুলিশ অফিসার না ছাই।
ইউনিফর্ম পাগল!
ও স্কুলছাত্রীর ইউনিফর্ম পরে, নিজের স্ত্রীকে মেরেছিল...
জ্বালিয়ে দিয়েছিল নিজ বাড়ি।
কথা ঘুরাই এবার।
মাস্ক পরা লোকটা, ও নাকি খুব হ্যান্ডসাম ছিল।
কিন্তু ও আর্মিতে গ্যাং-রেপ হয়ে পাগল হয়ে যায়।
নিজের সুন্দর চেহারাকে এর জন্য দায়ী করে সেটা সিগারেট দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে।
তারপর নিজের মলদ্বার সেলাই করে দেয়।
ওখানে বসা লোকটা।
ও খিউং-সানের কৃষক।
ভদ্র, শান্তশিষ্ট আজীবনের ব্যাচেলর,
গ্রামের সবার প্রিয়।
কিন্তু ও একটা বাছুরের প্রেমে পড়ে যায়।
বাছুরের নামটা বোধহয় জেনি ছিল।
সেটাকে ও বাড়ি নিয়ে আসে।
ওটা কথা বলতে পারতো না, ছিল না হাত, তবুও সে ওটার মুখ ধুয়ে দিতো।
ওটার সাথে রেডিও শুনতো।
তাই, গ্রামের লোকেরা ওকে পাগল ভেবে এখানে পাঠিয়ে দেয়।
কিন্তু জেনির প্রতি ওর ভালোবাসা ছিল পবিত্র।
ভালো লাগে না।
মেয়েটা কে?
হ্যাঁ?
জানি না।
সুল-মি! এভাবে একটা রোগীকে নিয়ে ঘুরাঘুরি করতে পারেন না।
দোষ আমার নয়। একজন ওকে আমার কাছে রেখে গেল।
আমার সাথে এরকম করবেন না, ডাক্তার!
আপনি জানেন আমি অসুস্থ! আমাকে এভাবে দায়ী করবেন না।
ইউং-গুন, উনি অনেক গল্প বলেছেন?
কিন্তু, উনি যা যা বলেছেন...
হ্যাঁ! সব মিথ্যা!
হ্যাঁ, সব মিথ্যা। একে মিথোম্যানিয়া বলে।
ওনার রোগের কারণে উনি লম্বা লম্বা গল্প বলেন।
প্রতিবার শক থেরাপি নেয়ার সময় উনি ওনার সব স্মৃতি হারান।
তাই স্মৃতির স্থানগুলো পূরণ করতে গল্প বানিয়ে থাকেন।
কী হয়েছে?
ও কথা বলছে না।
সাইকোটিক ডিপ্রেশন?
ওর নানি স্কিজোফ্রেনিক ছিল। নিজেকে ইঁদুর ভাবতো।
উনি শাশুড়িকে ভয় পেতেন?
কীভাবে জানো?
দুই রোগীকে দেখেছিলাম...
যারা নিজেদের ইঁদুর ভাবতো।
দুজনই বলেছিল ওদের শাশুড়িকে ভয় পেতো।
জানি না কোত্থেকে শুরু করবো।
ও একটা আঙুলও নড়াচ্ছে না।
চোখ নিষ্প্রতিভ।
বাবুরা!
চলে এসেছি। জ্বলজ্বলে লাইট।
আমাকে বুঝতে না পারার ভান করে লাভ নেই।
এখানকার লাইটগুলো মিশুক নয়, তাই না?
যতই ক্লান্ত হও না কেন, হ্যালো না বলা বেয়াদবি।
সারাদিন কাজ করে, এখন কেমন আছো?
তাই নাকি?
তাহলে...
একটু চা দিতে পারো?
ধন্যবাদ বাবু।
ওয়ার্ডের লাইট হয়তো মিশুক হতে পারে।
যেহেতু ওরা রাতে বিশ্রাম নেয়।
তাহলে আগে থেকেই জানতে তুমি যে লাইট?
আমি পরে জানতে পেরেছি আমি যে সাইবর্গ।
সাদা লোকগুলো এসে এম্বুলেন্সে করে আমার নানিকে তুলে নিয়ে যায়।
সাদা লোকগুলোকে চেনো!
ওরা সবখানে আছে।
ওরা সাদা জামা পরে, ডাক্তার, নার্স...
নানি!
হ্যাঁ, আর বেয়ারা!
- নানি মুলা নিয়েছিল... - নানি!
তবে আলগা দাঁত নিতে ভুলে যায়। তাই সেগুলো দিতে ওর পিছু নিই।
মুলা খেতে নানির আলগা দাঁত লাগবে। জানো তো, নানি ইঁদুর।
আর তখনই, একটা সাইকেল এসে আমাকে নিয়ে গেল।
কিন্তু সাইকেলের পক্ষে এম্বুলেন্সকে টক্কর দেয়া সম্ভব না।
হাফপ্যান্ট পরা বাচ্চাও জানে সেটা।
তাই চেঁচিয়ে কেঁদে উঠলাম, তখন সাইকেল কী বললো জানো?
'সাইবর্গ সবকিছুকে টক্কর দিতে পারে'।
'নিজে সাইবর্গ হয়েও এটা জানো না কীভাবে?'
তাই ভান করতে হলো আমি আগে থেকেই জানি।
কিন্তু সমস্যা হলো, সত্যিই আমি এম্বুলেন্সটাকে ধরতে পারছিলাম না।
তো, জিজ্ঞেস করো সাইকেলকে তখন কী বলেছিলাম।
'হতচ্ছাড়া, আমার চার্জ শেষ, ওরে গাধা'।
তাই ফ্যাক্টরিতে শিক্ষাবিষয়ক সম্প্রচার শুনে চার্জ নেয়ার চেষ্টা করছিলাম।
এতটুকু পর্যন্ত লাইট জ্বললে আমি ফুল চার্জড হই।
কিন্তু দেখো, চার্জ নেই বললে চলে।
সম্প্রচারে যা বলেছে তাই করেছি, আর এম্বুলেন্স কিনা আমাকে এখানে নিয়ে এলো।
আমি একটা মেশিন, কিন্তু...
আমার কোনো নির্দেশনা বই কিংবা আমার উপর কোনো লেবেল নেই।
এখনো জানি না আমার কাজটা কী।
আমাকে কেন বানানো হয়েছে?
লাঞ্চ করোনি, তাই না?
এভাবে না খেয়ে কখনো মরতে পারবে না।
ক্যাফেটেরিয়ার মহিলারা সবার খাবারের হিসাব রাখে।
তোমার মতো একটা মেয়ে একবার না খেয়ে মরতে চেয়েছিল।
No comments yet. Be the first to leave one.