200 บรรทัดแรก
আমি খেলার নিয়মগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছি।
আমরা যে খেলাটা খেলতে যাচ্ছি,
তা খুবই মুশকিল, "কুইন অফ হার্টস"
"ক্রকেট"
"ক্রকেট"?
একে লন বিলিয়ার্ডসও বলা হয়,
এটা ১৯শতকের ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় বল খেলা।
দুর্ভাগ্যবশত, এটা জাপানে সুপরিচিত না।
আমি এই খেলার নিয়ম জানি না।
তুমি ক্রকেট খেলতে না জানলেও সমস্যা নেই।
আসলে,
তুমি জিতলে বা হারলে তাতে কিছু যায় আসে না।
কি?
এই গেম জিততে,
তোমাকে না থেমে তিন রাউন্ড খেলা শেষ করতে হবে।
খেলার মাঝপথে থেমে গেলে তুমি হেরে যাবে।
তোমার সাথে বন্দুকও নিতে পারে।
ক্রকেটের তিন রাউন্ড শেষ করায় একমাত্র নিয়ম।
আমাদের শেষ অবধি খেলতে হবে, এমনকি আমরা খেলা না হও জিতি?
ঠিক। এটা খুবই সহজ, তাই না?
আসো এখন মজা করি।
গেমটা একটা কাঠের ম্যালেট এবং দুইটা বল দিয়ে খেলা হয়।
সামনের ৬টা রিং অতিক্রম করে তোমাকে দুইটা বলকে মারতে হবে,
তারপর বাকি খেলোয়াড়দের সেখানে পৌঁছানোর আগে সেই ফিনিশিং লাইনটা অতিক্রম করতে হবে।
হ্যাঁ।
১ম রাউন্ড, আমি জিতেছি।
আমরা যদি না হেরে তিনটা রাউন্ড সম্পূর্ণ করি,
তাহলে আমরা গেমটা জিতব।
আর মাত্র দুইটা রাউন্ড আছে।
জানি না সে কি ভাবছে?
ঠিক আছে। ২য় রাউন্ডের সময় হয়েছে।
সে ইচ্ছাকৃতভাবে খেলা বিলম্বিত করছে।
সে মজা করছে।
আমাদের দ্রুত গেমটা শেষ করতে হবে।
এটা অনেক মজার গেম, তাই না?
দারুণ।
এটা কখনই শেষ হবে না।
হয়েছে!
অনুবাদ ও সম্পাদনায় মোঃ জমির উদ্দীন খাঁন
আমি জিতেছি।
মনে হচ্ছে ২য় রাউন্ডে হেরে গেছি।
তুমি খবুই প্রতিভাবান।
ঠিক আছে। ৩য় রাউন্ড শুরু করি।
আমি একটু ক্লান্ত বোধ করছি।
চা পান করলে কেমন হয়?
চা?
চা লাগবে না।
চলো খেলা শুরু করি।
ম্যাচ চলাকালীন চা উপভোগ করা সামাজিক শিষ্টাচার।
চা উপভোগ কর।
এই খেলা শেষে আমরা কি আসল পৃথিবীতে ফিরে যেতে পারব?
খেলা শেষ হলেই জানতে পারবে।
আরো কোনো প্রশ্ন করো না।
ওর কথা কান দেবে না।
আমাদের খেলাটা শেষ করতে হবে।
তুমি কি সত্যি উত্তরটা জানতে চাও?
আমরা বন্ধুরা উত্তরটা না জেনেই মারা গেছে।
আমি ওদের জন্যই উত্তরটা জানতে চাই।
তাই এত দূর এসেছি।
তুমি আসল পৃথিবীতে ফিরে যেতে চাও।
আমরা যেতে পারব?
কে জানে?
নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।
তাছাড়া এটাও হতে পারে আসল পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেছে।
তোমার কথা শুনে,
বাজি ধরে বলতে পারি তুমিও উত্তরটা জানো না।
আমি জানি।
মনে হয় আরো কোনো উপায় নেই।
সত্যি যদি জানতে চাও,
তাহলে তোমাদেরকে বলব,
এটা পৃথিবীটা আসলে কি।
আমি যাই বলি না কেন তোমাদেরকে অবশ্যই মানতে হবে,
কারণ তোমরাই শুনতে চেয়েছ।
এটা ভুলে যেও না।
কখনও ভেবে দেখেছ,
ভবিষ্যৎ পৃথিবী কেমন হবে?
ভবিষ্যৎ?
হ্যাঁ।
ন্যানো প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি,
আইপিএস সেল, ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি, ক্রায়োনিক্স, টেরাফর্মিং,
তোমরা যে পৃথিবী থেকে এসেছে সেখানে এই প্রযুক্তি কেবল কল্পনায় আছে।
তোমাদের খুশি হওয়া উচিত।
এগুলো এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, প্রযুক্তির আমূল উন্নয়ন এবং অগ্রগতি অর্জন করেছে।
আগামী ৩০ বছরের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি বৃদ্ধি পাবে,
জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের বাধাগুলো বিনাশ ঘটবে।
৫০ বছরের মধ্যে জেনেটিক ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে মানুষের আয়ুকাল বৃদ্ধি পাবে।
দাঁড়াও।
এসব কি বলছ?
তুমি বুঝতে পারছ না?
তোমাকে সহজভাবে বলছি,
এখন থেকে হাজার বছর পর ভবিষ্যৎ কেমন হবে।
হাজার বছর?
ভবিষ্যৎ?
যেহেতু মানবজাতি আরো উন্নত জ্ঞান আরোহণ করছে,
তাই জ্ঞানের প্রতিটা শাখায় আরো উদ্ভাবন ঘটবে।
আজ অথবা সেই মুহূর্ত থেকে ১০ বছর পর যখন বিশ্বাস করবে,
তোমরা অবতার এবং ভার্চুয়াল রিয়্যালিটিতে বাস করছ,
তখন আমাদের কাজ এবং অবকাশসহ সবকিছু উপভোগ্য হয়ে উঠবে।
৫০ বছরের মধ্যে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্যান্সার,
ডিমেনশিয়ার মতো দুরারোগ্য রোগের নিরাময় করা সম্ভব হবে।
১০০ বছরের মধ্যে,
জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির মাধ্যমে,
প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো নির্মূল করতে পারব।
২০০ বছরের মধ্যে,
মস্তিষ্কের কার্যকলাপ নিখুঁতভাবে বুঝার মাধ্যমে,
মানুষের স্মৃতি এবং চেতনা স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।
৩০০ বছরের মধ্যে,
মানুষ আর প্রাকৃতিক কারণে মারা যাবে না,
তখন আমাদের গড় আয়ু হবে ৩০০ বছর।
৪০০ বছরের মধ্যে,
পদার্থবিদ্যার পুঙ্খানুপুঙ্খ বোঝার মাধ্যেমে তখন আমরা নির্ধারণবাদ ধারণা বুঝতে পারব,
এবং বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হব কাকতালীয় এবং নিয়তির মতো ব্যাপারগুলো।
এর ৫০০ বছর পর আরো কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটবে না।
সবকিছুর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে,
মানুষ অমর হয়ে উঠবে।
পরবর্তী ৫০০ বছর,
আমরা ইনজেকশনের মাধ্যমে বেঁচে থাকতে পারব।
হাজার বছর ভবিষ্যৎ পৃথিবী এমন হবে।
আসলে এই মুহূর্তে তোমরা দুইজন ভার্চুয়াল রিয়্যালিটিতে গেম খেলছ।
তোমার দুজন গভীর ঘুমে আচ্ছান্ন, তাই সব ভুলে গেছে।
হাজার বছর আগের বিশ্বভ্রমণ,
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় গেম।
যেহেতু আমরা অমর তাই আমাদের বেঁচে থাকার কারণ নেই।
হাজার বছর আগের যুগে,
যেখানে মৃত্যু এবং পৃথিবীর ধ্বংসই ছিল বাস্তবতা,
তা আমাদের সত্যি মুগ্ধ করেছে।
প্রকৃতপক্ষে, আমি এই সিস্টেমের এডিমন।
মজা করলাম! আমি যাই বলেছি সবই মিথ্যা বলেছি।
কি?
ফালতু কথা ছাড়!
সত্যিটা হলো,
জেনেটিক ম্যানিপুলেশনের কারণে,
প্রচুর পরিমাণে মিউট্যান্ট উদ্ভিদের আর্ভিবাব ঘটে।
তোমারও তো দেখেছ, তাই না?
শহরজুড়ে গাছপালা ছেয়ে গেছে।
শহরটা পাহাড়ে বেষ্টিত হয়ে গেছে।
এলিয়েনরায় এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
এলিয়েন?
তারা মানুষদের বন্দী করে আমাদের স্মৃতি মুছে ফেলেছে,
এবং আমাদের আচরণগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য এই সমস্ত গেম খেলতে বাধ্য করছে।
এটা কি সত্যি?
হ্যাঁ, এটাই সত্য।
তবে,
গেমগুলোতে অংশ নেওয়া মানুষদের মধ্যে একটা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে।
আসলে পারমাণবিক যুদ্ধের কারণে,
মানুষ আর পৃথিবীতে বসবাস করতে পারবে না।
ভূগর্ভস্থ অভিজাতরা কৃত্রিম স্মৃতি দিয়ে,
মানুষের আকৃতি রোবট বসিয়েছে এবং তাদের গেমগুলো,
খেলতে বাধ্য করছে, ওই অভিজাতরা বাজি ধরছে কারা কারা বাঁচবে।
ওরা বিশ্বাস করে,
ওরা নির্যাতিত মানুষ, ওদেরকে এলিয়েনরা খেলতে বাধ্য করেছে।
সত্যিটা হলো,
ওরা রোবট ছাড়া কিছুই না,
ওদের মধ্যে কৃত্রিম স্মৃতি বসানো হয়েছে।
এটাই সত্যি, তাই না?
আমি মজা করছি।
আমাদের এখন আরো এক রাউন্ড শেষ করতে হবে।
মিরার কথা শুনবে না।
বাজি ধরে বলতে পারি তুমি সত্যটা জানো না।
হয়তো তাই।
সত্যিটা জানাটা এতই গুরুত্বপূর্ণ?
তুমি তোমার মৃত বন্ধুদের খাতিরে জানতে চাও, হ্যহ?
বেচারা!
বুঝতে পারছি তোমার বন্ধুরা,
তোমার কাছে কতটা মূল্যবান ছিল, হুম?
যাইহোক আমি সেভেন অফ হার্টস গেমটা নির্মাণ করেছি।
তোমরা খুবই ঘনিষ্ট ছিলে তাই আমাকে বাধ্য হতে হয়।
আরিসু!
ঠিক আছে।
ওকে থামাবে না।
ঘৃণা করার মতো কিছু থাকা জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
এটাও তোমার পরিকল্পনার অংশ, তাই না?
তোমাকে মেরে ফেলি,
যখন খেলা এখনও চললাম!
আমি যদি এই খেলায় তোমাকে মেরে ফেলি,
খেলাটা আমি জিততে পারব না এবং খেলাটা কখনও শেষ হবে না।
মানে খেলাটা অন্ততকাল চলবে।
যদি এমন হয়,
তাহলে এই দেশের সমস্ত খেলোয়াডদের তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এটাই সত্য,
তুমি আমাদের চরম হতাশায় ভুগাতে চেয়েছ।
গেমগুলো খেলার সময়,
এই পৃথিবীর কি ঘটছে তা নিয়ে চিন্তা করেছিলে?
এই পৃথিবী কীভাবে কাজ করে, এর উদ্দেশ্য কি, এসব নিয়ে চিন্তা করনি?
তুমি কি এসবের কিছুই পরোয়া করছ না?
তোমার এসব জানার কোনো আগ্রহ নেই?
তাহলে আসল সত্যটা কি, সেটা জানাটা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আরিসু, মিরার কথা শুনবে না।
- আমি সত্যটা জানতে চাই। - আরিসু!
তুমি সত্যি জানতে চাও?
হ্যাঁ।
তাহলে তুমি সত্যটা জানতে প্রস্তুত, হ্যহ?
ঠিক আছে।
অনুমান করা বন্ধ করে আমি আসল সত্যটা প্রকাশ করব।
বাস্তবতা দিয়ে শুরু করব।
তুমি এখন যে পৃথিবীটা দেখছ,
সেটা বাস্তব না।
এটা একটা বিভ্রম (মোহ)।
তুমি এটাকে বিভ্রম বলছ?
No comments yet. Be the first to leave one.