110 บรรทัดแรก
'সিসু'-একটা ফিনিশ ভাষার শব্দ যার কোন ভাবানুবাদ নেই। এটা সাহস ও দৃঢ় সংকল্পের এক বহিঃপ্রকাশ।
যখন সব আশা শেষ হয়ে যায় তখন সিসু প্রকট হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে।
ফিনল্যান্ড এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন
মস্কোর যুদ্ধবিরতির সাক্ষর করে
যার জন্য হিটলার বাহিনী ফিনল্যান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে
এবং তাদের ল্যাপল্যান্ড থেকে বিতাড়িত করে।
হিটলার বাহিনী একটা কৌশল অবলম্বন করে
দেশ ছেড়ে যাবার সময় সকল রাস্তা, ব্রিজ,
গ্রাম এবং শহর ধ্বংস করে দিয়ে যায়।
ল্যাপল্যান্ডের এই মরুভূমিতে,
একজন ব্যক্তি যুদ্ধ ছেড়ে এখানে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।
সারাজীবনের জন্য।
হ্যাঁ!
সে এমনিতেও মৃত্যুর পথে এগোচ্ছে।
ঘোড়া থেকে নাম!
কোথায় যাচ্ছিস, বুইড়া?
ঐ দিকে কিছুই নেই। আমরা কিছুই অবশিষ্ট রাখিনি।
সাথে করে কী নিয়ে যাচ্ছিস?
চোদনাটা দেখি সাক্ষাৎ সোনার খনি।
ব্যাগভর্তি সোনা নিয়ে যাচ্ছিস?
দেখ দেখি কান্ড!
আমাদের কপাল ভালো, ভাইলোগ!
তুই আজ শেষ!
হাঁটু গেড়ে বোস!
ব্যাগগুলো দেখি স্বর্ণে ভর্তি!
হাঁটু গেড়ে বোস, বুইড়া!
হাহ?
চোদনাটাকে গুলি কর!
শালাকে খতম কর দে!
স্বর্ণের জন্য ধন্যবাদ!
আমরা স্বর্ণ পেয়ে গেলাম!
ধন্যবাদ, বুইড়া চোদা...
দাঁড়াও।
এখন করো।
গুলি চালাও।
থামো!
হাহ?
তুমি...
এবং তুমি।
রাস্তার দুই ধার দিয়ে গিয়ে খোঁজো।
এখানে কতগুলো মাইন পুতেছি?
সবগুলোই।
ভেতর থেকে দুজন রমনীকে নিয়ে এসো।
সাথে দড়ি এনো।
তুই...
আর তুই।
আমাকে নিয়ে চলো।
ধন্যবাদ, জেনারেল।
আমি খবরটা সবাইকে বলছি।
ওভার এন্ড আউট।
জেনারেল একটা আদেশ দিয়েছে।
এক্ষুনি ফিনল্যান্ড ছেড়ে নরওয়ে যেতে হবে।
সে আমাদের সাতজন মানুষকে মেরেছে, এ কথা বলেছ?
বলেছি।
এবং?
সে ভাবছে আমরা ভাগ্যবান।
কারণ আমরা বেঁচে গেছি।
ডগ ট্যাগটা আতামি কর্পি নামক এক লোকের।
সে একজন ফিনিশ কমান্ডো ছিল। তার ইউনিটের সবচেয়ে নির্ভীক যোদ্ধা।
জেনারেল জোর দিয়ে বলেছে,
"ওই মাদারচোদের সাথে কোনমতে,
লাগতে যেও না।"
ও 'শীতের সেই ভয়াবহ যুদ্ধে' লড়েছিল।
রাশিয়ান সেনারা তার ঘরবাড়ি এবং পরিবার কেড়ে নিয়েছে।
সে হয়ে উঠেছে ভয়ংকর আর প্রতিশোধপরায়ণ
এবং সে কারো আদেশ মানেনি।
ফিনিশরা তাকে কাবু করতে চেয়েছিল কিন্তু পারেনি।
তাকে এখানে রেখে গেছে,
রাশিয়ানদের সাথে একাই প্রতিশোধ নেবার জন্য।
সে একাই একশ।
এটা রিপোর্টে লেখা না থাকলেও,
সে ৩০০ রাশিয়ান সৈনিককে একাই মেরেছিল।
রাশিয়ানরা তাকে একটা নাম দিয়েছিল।
'কসেই' বলে ডাকত,
"অমর"।
অমর?
রাস্তা একদম পরিষ্কার, স্যার।
আমরা কি আদেশটা মানব?
না-কি ফিরে যাব?
না।
আমরা ফিরে যাচ্ছি না।
সত্যি বলতে, আমরা যুদ্ধটা হারতে চলেছি।
কয়েকমাস পর, এসব শেষ হয়ে যাবে।
আর আমরা বাড়ি ফিরতেই, তারা আমাদের...
ফাঁসিতে ঝুলাবে।
কিন্তু এই স্বর্ণ আমাদের বাঁচাতে পারবে।
চোখ খোলা রেখে চলো!
রাস্তার পাশে চেক কর।
কিছুই নেই।
ওহ, দাঁড়াও, আমি কিছু একটার নড়াচড়া টের পাচ্ছি।
কোথাও যেয়ো না!
হেই, হেই... হেই!
পেট্রল!
কুকুরগুলো কোন গন্ধ শুঁকতে পারছে না!
কী হয়েছে?
সারা রাস্তা জুড়ে পেট্রল পড়ে রয়েছে।
তারা কোন কাজেরই না!
শান্ত হ!
হেই!
কুকুরগুলো ছেড়ে দাও!
কুকুরগুলো ছেড়ে দাও!
তাকে ধর!
তাকে শেষ করে দে!
অমর হোক বা না হোক, একজন মানুষের শ্বাস তো নিত হয়।
এবার, সোনাগুলো এনে দাও।
তার পিছু নাও! জলদি!
আর এক মিটার গেলে মেরে দিব কিন্তু!
ভয়ে পালিয়ে যাবার সাজা মৃত্যু।
ধুর বাল।
No comments yet. Be the first to leave one.