200 บรรทัดแรก
আমার কথা শোনো!
আমাদের সাথে ঝামেলা করতে সে পুরো শহরের লোক নিয়ে এসেছে, ম্যাডাম।
রেজিনা, আমার কথা শোন। তুমি ভিতরে যাও।
ভেতরে যাও, রেজিনা। দেখো, রেজিনা!
বন্ধ করো।
বন্ধ করো এসব।
বলছি না বন্ধ করো এসব!
এই, নামো।
আপনাদের দুজনের ঝগড়াই এর অন্যতম কারণ৷
এই ছেলেরা আমাদের সব বলেছে৷
- আপনি জানেন কী হয়েছিল? - আধিশ্যাম...
বাবা! কেউ কাউকে অপহরণ করেনি৷
আপনারা সবসময় ইদুর-বিড়ালের মতো ঝগড়া বিবাদে জরিয়ে ছিলেন সেজন্য ছেলে-মেয়েরা আপনাদের সমানে মুখ খুলতে পারেনি৷
আধিশ্যাম নীলাকে উত্ত্যক্ত করছিল না৷
নীলা আর আধিশ্যাম একে-অপরকে ভালোবাসে।
মনে হয়, তারা বোম্বেতেই কোথাও আছে৷
যথেষ্ট হয়েছে! এখন সবাই নিজ নিজ কাজে যান... যান।
°°°SUZHAL: The Vortex°°° সিজন-১, এপিসোড- ৪।
"ভ্রম... প্রতারণা..."
"ক্ষত... বিক্ষত..."
"অন্তহীন... নিরলস..."
"হাহাকার... ঝর-বৃষ্টি..."
"এই জীবন যুদ্ধে হবে কী বিজয়?"
"দুঃখ কী হবে না শেষ কখনও?"
"ও... ঘূর্ণি!"
"ঘুরছে অবান্তরে, ছাঁয়া মাঝে অন্ধকার"
"বিকট গোলকধাঁধা, হবে কি সত্যের উন্মোচন, হে ঈশ্বর?"
"ও... ঘূর্ণি!"
"ছায়ার মাঝে আসা-যাওয়া, অন্ধকার ছায়াই"
"বিকট গোলকধাঁধা, হবে কি সত্যের উন্মোচন, হে ঈশ্বর?"
___অনুবাদ ও সম্পাদনায়ঃ___ © আরুশ আরিয়ান।
অন্তত কয়েক দিন যেন আমরা তাদেরকে খোজাখুজি না করি,
সেজন্য ভয়েস মেসেজ রেকর্ড করে সে তার বন্ধুদের দিয়েছিল আপনাকে পাঠানোর জন্য৷
ওর এই ফোনে "নীলা" নামে একটা ফোল্ডার আছে৷
সে তার বন্ধুদের বলেছে এক সপ্তাহ পর এটা আপনাকে দিতে।
কী আছে এই ফোল্ডারে?
জোরে শাওন দিয়ে চালিয়ে দাও যাতে করে আমরা সবাই শুনতে পাই৷
"মা?"
"মা, আমি যাই করি না কেন তুমি আমায় ক্ষমা করে দিবে, তাই না?"
"এই ফোল্ডারে নীলা'কে নিয়ে আমার করা কিছু ভয়েস নোট আছে৷"
"একবার শুনলেই তুমি নিজেই বুঝে যাবে।"
"মা, কখনো-কখনো জীবনে এমন একটা দিন বা মুহূর্ত আসে, তখন আমার বুঝতেই পারি না"
"তা আমাদের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।"
"বিন্দুমাত্র সন্দেহও হয় না, সেই মুহূর্ত আমাদের জীবনটাই উল্ট-পাল্ট করে দিবে৷
"যখন পিছু ফিরে দেখি, তখনই আমরা বুঝতে পারি।"
"যেদিন আমি মাউন্ট ফ্লাওয়ার স্পোর্টস মিটে গিয়েছিলাম সেই দিন আমার জীবনেও এমনই একটা মুহূর্ত এসেছিল৷"
নীলা! ত্রিশ সেকেন্ড।
নীলা, তাড়াতাড়ি।
- কাম অন, নীলা! কাম অন! - তাড়াতাড়ি!
ওদের আউট করে দে, নীলা। কাম অন!
দৌড়, দৌড়াতে থাক৷ ৷
- মালার, খো! - মালর, তাড়াতাড়ি কর। ধর।
মালার! ওদের ধর৷
খো!
- বাম দিকে। - খো।
- খো! - কাম অন, নীলা।
নিলা, তুই পারবি। কাম অন!
ইয়েস!
ইয়ে...!
আমরা এখন এই সিরিজের সেরা অধিনায়কের নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছি।
এবং বিজয়ী হলো নীলা শানমুগাম!
ত্রিলোক সাহেবকে আমরা অনুরোধ করছি বিজয়ী খো-খো দলের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেওয়ার জন্য!
বিজয়ী হলো মাউন্ট ফ্লাওয়ার সিস্টারস কনভেন্ট!
অভিনন্দন! তুমি অনেক ভালো খেলেছ।
থ্রি চিয়ার্স টু মাউন্ট ফ্লাওয়ার কনভেন্টে!
- হিপ হিপ... - হুররে!
- এই ট্রিট দিবি না? - আগামী টুর্নামেন্টের পরে।
- আমরা তো আজ জিতেছি। - আগামী সপ্তাহে।
- নিশ্চিত তো? - নিশ্চিত।
- বাই! - বাই!
আরে, সাবধানে!
- তোমার ম্যাচ দেখেছি আজ। - হুম!
মেয়েরা কাবাডি খেলে বা খো-খো খেলে,
মেয়েদের পাছা দেখার জন্য তোমাদের মতো ছেলে দর্শকের অভাব হয় না।
হ্যালো, আমি ওই টাইপের ছেলে না৷
সমবলুর সবাই জানে তুমি কেমন টাইপের ছেলে, আধিশ্যাম।
আমার নামও জানো তুমি?
ইন্সপেক্টর রেজিনার ছেলে না তুমি? আমি জানি।
ওহ, এতকিছু জানো তুমি, হাহ?
তুমি তো বেশ জিনিয়াস।
শেষ মুহূর্তে যেভাবে তুমি প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করেছিল না?!
আমি তো হাঁ হয়ে ছিলাম!
তুমি কী আমার সাথে লাইন মারার চেষ্টা করছ?
"মা, যখন আমরা সত্যি সত্যি মন থেকে কিছু চাই, না?"
"কথায় আছে, সমগ্র মহাবিশ্ব আমাদের সাহায্য করে তা অর্জনের জন্য।"
"যখন নীলার সাথে আবার থিয়েটারে দেখা হলো তখন এমনই মনে হয়েছিল৷"
সে তো জানে না আমি কে....
এইযে ভাই চারটা টিকিট।
চল... চল।
পোস্টারে নায়িকা ছাড়া সবারই দাড়ি ছিল৷
- আমরা তো মাতাল! - সে তো জানে না আমি কে....
এমনটা তো হতে দেওয়া যাবে না, আমরাই আগুন লাগিয়ে দিব, কি বলিস?
আমার সোয়াগ দেখ, ভাই!
ওই পাগলগুলো আমাদের শান্তিতে সিনেমা দেখতে দিবে না৷
এতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না। এটা তোরই পছন্দের সিনেম৷
এই, কোথায় গিয়েছিলি তুই?
পাপা জনস-এর কছে সোডা আনতে৷
তুই পুলিশকে মেরেছিস কেন?
কারণ সে আমার সোডায় একটা চুমুক দিতে চেয়েছিল৷
চুপচাপ সিনেমা দেখো৷
আপনি যখন কাউকে মারবেন, তখন পুলিশ আপনাকে খুঁজতে আসবে৷
- কিন্তু যখন আপনি পুলিশকেই মারবেন... - ওর মা আপনাকে খুঁজতে আসবে।
- তুই কী চাস? - সামনের সারিতে বসা মেয়েটাকে।
আমাদেরই এসব থামাতে হবে৷
কাউকে ভয় পাবেন না৷
আপনার চেয়ে শক্তিশালী এই দুনিয়ায় কেউ নেই৷
এই পৃথিবীতে মায়ের চেয়ে শক্তিশালী দ্বিতীয় কোনও শক্তি নেই৷
- তারাতাড়ি বলো কী লাগবে? - ওই চিপগুলো কত?
আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করেছি৷
- টোকেন নাও। - তোর কী লাগবে?
- আইসক্রিম। - তার জন্য?
একটা পাফ৷
আইসক্রিম?
- দাও। - কি, আইসক্রিম লাগবে?
একটা পাফ, ভাইয়া।
গতপরশু দেখা হয়েছিল। ইতিমধ্যে আগ্রহ হারিয়ে গেছে?
- একটা আইসক্রিম। - আসছি।
- কে, আমার? - একটা পাফ...
- না অনুসরণ করছ না লাইন মারছ৷ - ধরো।
- ওই ফ্লেভার। - ওইটা?
- না, বস্তির লুচ্চা ছেলেরা এইসব করে। - তাহলে তুমি কি?
- রাউডি। - রাউডি?
আমি দেখছি তোমার রাউডিগিড়ি৷
কি দেখেছ?
সেই মা'য়ের সিনটায় কমেন করে কাঁদছিলে!
এই, কেউকে যদি বলো না আমি তোমার নাক ফাটিয়ে দিব।
কেউ যেন না জানে৷
তারজন্য তোমার খরচ করতে হবে৷ ঠিক আছে তো, নাহ?
- সমস্যা নেই। - আমাকে চুপ করাতে আইসক্রিম কিনে দিতে পারবে তো, না?
আর কে বেকারি থেকে?
তেঁতুল গাছের নিচের পপসিকল কার্ট থেকে?
শহরের সবচেয়ে বড় দোকান, মিল্কিওয়ে৷
তাহলে কোত্থেকে?
একটা নির্জন জায়গায়।
আমরা এখনও আইসক্রিমের কথা বলছি, তাই না?
আরে... হেই!
এই চুপ করো তো।
এই, চিৎকার করো না।
- তোমার কী এই জায়গাটা পছন্দ হয়েছে? - হ্যাঁ।
আমি তোমায় পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম।
- পরের বার। - হ্যাঁ।
এই জায়গাটা অনেক শান্তির জায়গা, তাই না?
হ্যাঁ। এমনকি মনে হয়, ভূতরাও এই পুরানো কবরস্থানটা ছেড়ে দিয়েছে।
হুম।
আইসক্রিমের জন্য ধন্যবাদ। আমি চলে যাবো, দেরি হয়ে যাচ্ছে।
- কিসের জন্য দেরি হচ্ছে? - বাড়ি যাওয়া জন্য।
- আর সেখানে গিয়ে কী করবে? - পড়াশোনা।
- পড়াশোনা কেন করবে? - আগামীকাল একটা পরীক্ষা আছে।
- আর পরীক্ষা দিয়ে কী হবে? - আমি মার্কস পাবো।
আর সেই মার্কস দিয়ে?
হাই স্কুল, কলেজ...
- আর তারপর? - চাকরি। আমার একটা ভালো চাকরি খুঁজতে হবে।
এরপর? বিয়ে আর বাচ্চাকাচ্চা।
- এরপরে কী হবে? - মানে?
- বুড়ো হয়ে মরে যাবো। - তাই তো।
বুড়ি হয়ে মরে যাবে।
- তো কী? - "তো কী"?
এটুকুই৷
তুমি সারাটাজীবন আইসক্রিম খেতে পারো আর সুখে শান্তিতে মরতে পারো৷
আরও আইসক্রিম?!
আগে বলতে পরলে না এমন ঘুরিয়ে বলার কী দরকার ছিল?
আজাইরা!
কেউ যদি আমাদের কে এইভাবে দেখে ফেলে তাহলে আমরা কী করব?
দেখুক, সবসময়ই মাথা উঁচু করে চলতে হবে।
ইন্সপেক্টর রেজিনার প্রিয় পুত্র।
সম্বলুর সুপারস্টারের সাথে আড্ডা দেওয়ার এটাই সুবিধা।
অহং ভালো তবে মাত্রাতিরিক্ত নয়।
স্যার, রিপোর্ট-টা সাইবার সেল থেকে পাঠিয়েছে, ম্যাডাম কে দিতে হবে।
আমাকে দাও। আমি দিয়ে দিবো।
না স্যার, এটা আপনার ছেলে এবং নীলার ফোন কলের ডিটেইলস।
আমি জানি। আমাকে দাও।
"মা তুমি তো জানোই বাবা আর তুমি আমার জীবন, তুমিই আমার সবকিছু।"
"কিন্তু আমি আমার জীবনটা তাদের সাথে কাটাব যাদের তোমার পছন্দ।"
"আর তাদের সাথে ঝগড়াই জরাব যাদের তোমার পছন্দ না।"
"মা, তুমিই বলো আমারও তো ইচ্ছা-অনিচ্ছ বলতে কিছু আছে, ঠিক না?"
- আচ্ছা, মা। তোর ফুল লাগবে না? - হ্যাঁ, বাবা।
- নে। যত খুশি নিয়ে নে। - ঠিক আছে।
ওকে তাজা ফুল দিও৷
এগিয়ে যাও কমরেড। তুমি কোনও চিন্তা করো না।
আমি যাচ্ছি এই অহংকারী মহিলা...
- কোনও সমস্যা? - হ্যাঁ, মা।
প্রচুর, যখন থেকে রেজিনা ইন্সপেক্টর হিসেবে প্রোমোশন পেয়েছে, সমস্যার সীমা নেই...
প্লিজ আমার কথা শুনুন, ম্যাডাম।
স্যার এসে গেছে, ম্যাডাম। প্লিজ শুনুন।
আপনি কার নির্দেশে দয়ালান কে গ্রেফতার করছেন?
- সেটা আপনার জানার বিষয় নয়। - এটা আবার কেমন কথা!
- হ্যালো? - আমি ইউনিয়ন নেতা।
- দেখুন... - তা সত্ত্বেও, আপনি যা-ইচ্ছা তাই করবেন।
আমি মুক্তি চাই, শানমুগাম।
এখন যাই হবে, স্টেশনে নাহয় আদালতে।
তোমার কী ভয় হচ্ছে?
শুধু ভয় নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু। মনে হচ্ছে, আমি বাবার সাথে প্রতারণা করছি।
হয়তো, আমাদের মেলামেশা বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
আমি আবার কী করলাম? তুমি আমার সাথে মেলামেশা বন্ধ করবে কেন?
বলেছিলে না, তোমার মা-ই তোমার কাছে সবকিছু?
কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এমনটা নয়৷
আমিই বাবার কাছে সবকিছু।
আমি ছাড়া তার আর কেউ নেই৷
- যদি সে জানে, আমি তোমার সাথে মেলামেশা... - বুঝেছি।
সবঠিক হয়ে যাবে, বিশ্বাস করো। তারা তো আর সারাজীবন শত্রু হয়ে থাকবে না।
No comments yet. Be the first to leave one.