200 บรรทัดแรก
বাবা...
আমরা একটু থামতে পারি?
গ্রামে না পৌঁছা অবধি কেউ থামবে না। হাঁটতে থাক।
জাজা!
যাও!
উপত্যকা পার হয়ে আর কখনো ফিরে আসবে না।
কিন্তু, বাবা...
আক্রান্ত পশুটা পানি দূষিত করেছে।
আর সেটা এখন তোমার ভেতরে চলে গেছে।
এখন আর কিছুই করার নেই।
প্রথম...প্রথম বিজেতা!
রোগের প্রথম বিজেতা এসেছে!
প্রথম বিজেতা!
প্রথম বিজেতা!
প্রথম বিজেতা!
স্যার, এলকে-৩৭,
আমরা যে পেপটাইডের খোঁজ করছিলাম সেটা ওরাকাদের শরীরে আছে।
তাহলে, সে কি সাম্প্রতিক সময়ে সেই উদ্ভিদটা গ্রহণ করেছে?
সে না, স্যার। তার পূর্বপুরুষেরা করেছিল।
ওরাকা প্রজন্মান্তরে এই উদ্ভিদ গ্রহণ করে আসছে।
এতে এই রোগের বিরুদ্ধে তাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে।
- এর মানে... - জি, স্যার।
ওরাকা আমাদের নিরাময়ের নির্দেশক না।
তারাই হলো নিরাময়।
: . : . : K A A L A P A A N I : . : . : SEASON 01| EPISODE 06 Translated by: Habib Siam
Forefathers
মানে, তুমি বলছ উদ্ভিদটা হয়তো বিলুপ্ত হয়ে গেছে, কিন্তু...
ওরাকাদের শরীরে ঐ পেস্টিসাইডটা এখনও আছে?
পেপটাইড, স্যার। পেপটাইড।
একই জিনিস।
তো, এই পেপটাইড তাদের দেহ থেকে বের করে...
রোগীর দেহে প্রবেশ করাতে পারলে...
সিস্টার্নাল পাংকচার, মাস স্পেকট্রোসকপি আর ইন্ট্রাভেনাস ইনফিউশন।
কিন্তু, হ্যাঁ, একই জিনিস।
এতে তাহলে রোগী বেঁচে যাবে?
কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত তো আমরা নিতে পারি না কিন্তু তত্ত্ব এটাই।
হাইপোথিসিস।
তাহলে কীসের অপেক্ষা করছি? এখনই কেন করছি না?
কারণ এই প্রক্রিয়াটা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ।
আমরা তার মস্তিষ্কের কাছ থেকে সিএসএফ...
মানে, একটা তরল বের করব,
আর ওরাকারা না টিকা দেয়, না তাদের শরীরে এর প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে।
এমন মানুষের জন্য এটা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হবে।
মানে?
মানে, সে মারা যাবে, স্যার।
আর আমরা?
আশা করি আমাদের দুজনের এই প্রক্রিয়াতে কোনো ঝুঁকি থাকবে না।
দুজন?
আপনি?
আপনি গর্ভবতী?
সেটা বোধ করি কোনো সমস্যা নয়।
আমার মনে হয় না...
আমার মনে হয় এলজি স্যারকে এ ব্যাপারে বলা উচিত হবে।
উনার ওরাকাপ্রীতির ব্যাপারে আমরা সবাই অবগত।
উনি এই কাজ বন্ধ করে দিবেন, তবুও তাদের ক্ষতি করতে দিবেন না।
কিন্তু প্রশ্নটা একজন মানুষের প্রাণ নিয়ে না।
প্রশ্নটা ৫ হাজার মানুষের প্রাণ নিয়ে।
আর মিসেস শ এর কিছু হয়ে গেলে
কালা পানি থেকে কেউ বের হতে পারবে না।
আসলে, আপনার সমস্যা এলজি স্যার নয়।
আপনার সমস্যা হলো ঐ মেয়েটা
যাকে এই কাজটা করতে হবে।
আপনিই বলেছিলেন।
ভুল সময়ে মূল ভূখন্ডে জানানো হোক,
আর কোনো বিলুপ্ত উদ্ভিদের খোঁজ করতে অর্থ নষ্ট করতে হোক, সে প্রতিবার আপনাকে ব্যর্থ করেছে।
আপনার সত্যিই মনে হয়...
আপনারটা বাদ দিন। তার কি মনে হয় সে এটা করতে পারবে?
পারব না। এভাবে কীভাবে জিতব? ভালো কার্ড পাচ্ছিই না।
এই খেলা কার্ড দিয়ে শুধু খেলে।
কিন্তু জিততে হয় বুদ্ধি দিয়ে।
বুদ্ধি কাজ করলে আর ব্রেক নিতাম না।
- পরীক্ষার জন্য পড়তে হবে না? - কালকে? আমি পড়াব?
বাবা, তুমি ক্লাসের টপার ছিলে। কিন্তু অর্থনীতির।
কাল আমার ডিএনএ আর জেনেটিক কোডের পরীক্ষা আছে।
জিডিপি আর উৎপাদন খরচের নয়।
সেটাও কঠিন কিছু না।
ডিএনএ হলো একটা পুঁটলির মতো যেটা আমরা বাপ-দাদার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সুত্রে পাই।
কখনো সেটা থেকে ভালো জিনিস বের হয়, যেমন সুন্দর চেহারা বা সুঠাম দেহ।
আর কখনো বের হয় ডায়াবেটিস বা বামনত্ব।
আচ্ছা? তুমি দাদুর কাছ থেকে কী পেয়েছ?
আমি?
একটা কণ্ঠ।
উনার কণ্ঠ যেটা আজও আমার ভেতরে প্রতিধ্বনিত হয়।
"তোর জন্ম হয়েছে হারার জন্য।"
"অন্যদের চেয়ে সবসময় নিচে থাকবি।"
এই কথা কেন বলেছিল?
প্রজন্মান্তরে হয়তো এই বিশ্বাসই বিদ্যমান আছে।
নিজে দলিত ছিলেন, কিন্তু জাতপ্রথায় বিশ্বাস করতেন।
উনি ভেবেছিলেন, উনার মতো আমিও সমাজের তলানিতে পড়ে থাকব।
কিন্তু আমার বিশ্বাস ছিল, আমরা কোন কার্ড পাব সেটা আমাদের হাতে নেই,
কিন্তু কার্ড দিয়ে আমরা কী করব সেটা আমরা ঠিক করব।
আর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম...
উত্থানের।
বাবা!
কী? তোমার কার্ড তো আমার চেয়েও খারাপ ছিল।
কুলদীপ বাবু?
কুলদীপ বাবু!
কুলদীপ বাবু!
এটাই উনার বাড়ি?
- আজব লোক! বাড়ি অবধি এসে গেছে! - কে, বাবা?
- কুলদীপ! - এই লোকের জমিতে একটা শতবর্ষী গাছ আছে।
আগেও বলেছি...
পৌরসভা থেকে ওটা কাটার অনুমতি দিতে পারব না।
- ও কুলদীপ! - কিন্তু সে তো মানছেই না!
স্যার!
- কতবার বলেছি অনুমতি পাবেন না। - কত ঘুরাবেন, হ্যাঁ?
ঘুরাব মানে? আর চেঁচাবেন না।
গলা নামিয়ে কথা বল।
- বেয়াদবি তুই করছিস আমার বাড়িতে এসে! - শোন!
সহ্য করছি বলে নিজের অওকাত ভুলে যাস না।
- কী বললি? - দেখাচ্ছি তোকে!
বাবা!
জাতের কারণে এই চাকরি পেয়েছিস তুই!
নয়তো তুইও বাপ-দাদার মতো আমাদের জুতোর নিচে পড়ে থাকতি।
এই!
- তোদের পরিচয় এটাই। - বাবা?
- বাবা, তুমি ঠিক আছ? - চল ভাই।
বাবা!
- বাবা! - গুচ্চু!
ব্যস, ব্যস।
ভগবানের কৃপায় তোমার জ্ঞান ফিরেছে। কিন্তু তবুও তোমার অনেক বিশ্রাম দরকার।
আমি কোথায় আছি?
ওরাকাদের খোঁজ করতে গিয়ে,
যদি বন কর্মকর্তারা বনের ভেতরে না যেত,
তোমাকে কখনোই খুঁজে পাওয়া যেত না।
আর এরা...?
আশেপাশের হাসপাতালে অনেক এলএইচএফ রোগী রয়েছে।
বাকিদের জন্য আর জায়গা নেই।
এখন অসহায়দের সেবা ভগবান না করলে, কে করবে?
তাই? তাহলে আমার সাহায্য করেনি কেন?
যতগুলো নাম জানতাম সব ডেকে প্রার্থনা করেছি--
কী হয়েছে, বাবা?
এই বোতলটা কোথায় পেয়েছেন?
বসু আংকেল! পার্থ!
পার্থ!
জোছনা মিস, ভাইয়া আর মি. বসু আমাদের আগে চলে গেছেন কেন?
বলেছিলাম না, কাদ্দু,
অনেকে আছে যারা আমাদের মতো এখান থেকে পালাতে চায়।
ওরা কিছুদিন আগে গেছে যাতে আমাদের জন্য সীট ধরে রাখতে পারে।
হ্যাঁ, আমার মা-বাবাও সেখানে থাকবে। ওরা দুজন, ভাইয়া, আমি আর আপনি।
- পাঁচটা সীট লাগবে। - না, কাদ্দু।
আমার এক বন্ধুর জন্য আমাকে এখানেই থাকতে হবে।
তোমার সাথে তো যেতে পারব না, কিন্তু তোমাকে তোমার বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছে দিব।
- ঠিক আছে? - ঠিক আছে।
আর সেখানে যেতে একজন আমাদের সাহায্য করতে পারে।
তুই সবসময় জানতে চাইতি,
ওদের জন্য কেন ও এতো কাজ করত?
ওরাকাদের কাছ থেকে তোর মা কী এমন পেয়েছিল?
তোকে পেয়েছিল।
তোকে পাওয়াটা...
তোর মা এতো বড় করে ভাবত যে সারাজীবন তাদেরকে...
সাহায্য করতে মন চায় তার।
কিন্তু তুই...
তুই কী করলি? কী করলি তাদের সাথে?
ভুল করেছি, দাদা।
অনেক বড় ভুল করেছি, দাদা।
কী...
কী করি এখন?
বিচ্ছুর মতো অন্যদের আঘাত করিস না।
ব্যাঙ হয়ে তাদের সাহায্য কর।
চিরু?
- জোছনা মিস। - আন্টির সাথে কথা ছিল।
জোছনা মিস।
কী হয়েছে, কাদ্দু? কী হয়েছে?
তো, মানে,
মিসেস শ কে বাঁচানোর জন্য আমাদের কোনো উদ্ভিদের প্রয়োজন নেই।
জি স্যার। সম্মতি পেলে আমরা কাজ শুরু করে দিতে পারি।
বুঝলাম না।
চীফ সেক্রেটারি তো অনুমতি দিয়েছেই।
রোগী রেডি, ডাক্তার রেডি।
এখন কার সম্মতি লাগবে?
তোমার ওপর এই পরীক্ষা চালালে হয়তো আমরা অনেকগুলো প্রাণ বাঁচাতে পারব।
কিন্তু...
তোমাকে বাঁচানো প্রায় অসম্ভব।
তাই, ভেবেচিন্তে জবাব দাও।
ব্রাদার, একটু নম্রভাবে কথা বলো না।
কী? ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ারের অনুরোধে তোকে আসতে দিয়েছি এখানে।
কিন্তু এই ওরাকার সাথে কীভাবে কথা বলতে হবে সেটা শিখাবি না।
- এনমে। - কী?
ওর নাম এনমে।
কারও প্রাণ চাওয়ার আগে, তার নামটা তো শুনে নাও, ব্রাদার।
ও তৈরি।
তাদের বিশ্বাস কাউকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দেয়া সবচেয়ে সম্মানজনক মৃত্যু।
ও সাহায্য করবে, কিন্তু এক শর্তে।
কী শর্ত?
ও বলছে, "আমার সাথে যা ইচ্ছা করো, কিন্তু আমার সম্প্রদায়ের ক্ষতি করবে না।"
তোমার সম্প্রদায়ের ক্ষতি করার কোনো কারণ নেই।
এই রোগ ফিরিয়ে আনারও কোনো কারণ ছিল না।
তবুও আপনারা আমাদের পূর্বপুরুষের আবাস ধ্বংস করেছেন।
- এদেরকে রাগিয়ে দিয়েছেন। - এক মিনিট।
কী বলল সে?
স্যার, ও বিশ্বাস করে যে, এই রোগ আবার ফিরে এসেছে...
কারণ আমরা এদের পূর্বপুরুষের আবাস ধ্বংস করেছি।
না, সেটা না।
শেষে ও যেটা বলল সেটা বলো।
আট্টাভুস
"আট্টাভুস" আট্টা-ভুস...
আট্টাভুস।
আমাকে বাঁচানোর জন্য সে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছিল।
বিশ্বাস করুন, আপনার বাচ্চারা যদি তার সাথে থাকে, তাহলে তারা নিরাপদই থাকবে।
No comments yet. Be the first to leave one.