125 บรรทัดแรก
অনুবাদ ও সম্পাদনা মোহাম্মদ ইউসুফ
মেনুভার গিয়ার সর্বশেষ কবে জমা দিয়েছিলে?
ওই মিশনের পর, স্যার। ছয় দিন আগে।
হুম, সে সত্য বলেছে।
বেশ, তুমি যাও।
এরপরে কে?
ক্রিস্টা লেনয, স্কোয়াড ৪২।
ভাল, এখানে আসো।
টাইটান মারার জন্য শাস্তিও দেয়া হয়! অদ্ভুত!
অদ্ভুত শোনালেও, গিনিপিগ হিসেবে ওগুলো মূল্যবান ছিল।
সেটা ঠিক আছে, কিন্তু আমাদের ট্রেইনিদের মধ্যে খুনীকে খুঁজছে কেন?
সেটাই, গতকাল যুদ্ধক্ষেত্র পরিষ্কার করলাম আমরা।
সবাই বেশ ক্লান্ত!
মনে হচ্ছে, এরেনের চেয়েও টাইটানদের কেউ বেশি ঘৃণা করে!
হুম, অন্যকিছুও হতে পারে। টাইটানদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আরও অনেক তথ্য জানা যেত!
ওরা হয়তো ওদের ক্রোধ মিটিয়েছে, কিন্তু এভাবে গিনিপিগ গুলোকে হত্যা করে কি ফায়দা হলো?
শুনতে অদ্ভুত লাগলেও ওগুলো মরায় খুশিই হয়েছি।
সত্যিকারের টাইটানদের দেখার আগেই আসলেই ভাবছিলাম স্কাউট রেজিমেন্টে যোগ দেব!
কিন্তু, এখন কোন টাইটানেরই ধারেকাছেও যেতে চাই না।
আজ, কোন ফোর্সে আমরা যোগ দেব সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিন।
জন, কি চলছে তোমার মনে?
সবার ভেতরে কষ্টের দাবানল জ্বলছে! ব্যাপারটা এরকম দুর্বিষহ পর্যায়ে যাবে জানলে...
হয়তো সৈনিক হওয়ার জন্য মনস্থির করতাম না।
শরীর মন আর টানছে না, ঘুমাতে পারলে ভালো লাগত।
মার্কো!
তোমার হাড় কোনটা সেটাও বলতে পারছি না।
যদি সৈনিক না হতাম, তাহলে টাইটানদের পরবর্তী শিকার কে হবে সেটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে হতো না।
তো, তোমরা সবাই দেয়ালের ভেতরে আরাম আয়েশ করতে চাও?
আর টাইটানেরা বিনা বাঁধায় আমাদের খেয়ে যাক?
লড়তে সবাইকেই হবে, এরেন...
কিন্তু, তোমার মতো মরার জন্য উতলা নয় কেউ।
আমার কথাটাকে ভুলভাবে নিয়ো না!
তুমি শক্তিশালী নও সেভাবে!
সেজন্যই দুর্বলদের অনুভূতি তুমি ভালো বোঝো।
দরকারের মুহূর্তে ভয়কে পাশ কাটিয়ে লড়াই করো তুমি!
তুমি না বললে এখানে আসাই হতো না, বুঝেছ?
এখন তাহলে কি করব আমি?
আচ্ছা বন্ধুরা...
কোন ফোর্সে যোগ দেবে সবাই, ভেবেছ?
আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি...
আমি...
ধ্যাত!
স্কাউট রেজিমেন্টে যোগ দেব আমি!
জাহান্নামে যাও।
হেই, অ্যানি? তুমি কোথায় যাবে?
জনও দেখছি স্কাউট রেজিমেন্টে ঢুকবে বললো।
কি? জন এই কথা বলেছে?
তাতে কি!
মিলিটারি পুলিশেই তো যাচ্ছো তুমি, তাই না?
ভাবছি, আমিও মিলিটারি পুলিশে যাবো।
কেউ তোমাকে মরতে বললে তুমি মরবে?
মানে? অবশ্যই না!
তাহলে, নিজের সিদ্ধান্ত নিজে কেন নিচ্ছ না?
আরমিন, তুমি কোথায় যাবে?
আমি শুধু চাই মরতে যদি আমাকে হয়ই, সেই মৃত্যু যেন মানুষের উপকারে আসে।
যদিও, মরার অত খায়েশ নেই আমার।
ওহ, সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছ তাহলে।
হুম।
শুরু থেকেই স্কাউট রেজিমেন্টে ঢোকার ইচ্ছে ছিল আমার।
সিরিয়াসলি? তুমিও আরমিন?
তুমি দুর্বল হলেও মনে সাহসের অভাব নেই!
ধন্যবাদ তোমাকে!
অ্যানি, তোমাকে দেখতে রুক্ষ কঠিন মনে হলেও মনটা বেশ নরম!
তুমি ভেতর থেকে হয়তো চাচ্ছো না আমরা কেউ স্কাউট রেজিমেন্টে যোগ দেই।
সেজন্যই কি তুমি মিলিটারি পুলিশে যেতে চাচ্ছো?
সেরকম কিছু না।
আমি শুধু বেঁচে থাকতে চাই। কারণ, আমি শুধু নিজেকে ভালোবাসি।
মনে হচ্ছে, একটা সৈনিকও অনুমতি ছাড়া মেনুভার গিয়ার ব্যবহার করেনি।
কে করতে পারে কাজটা?
জানি না! এর চেয়েও বেশি চিন্তিত আজকের নবীন বরণ অনুষ্ঠান নিয়ে!
কতজন আমাদের ফোর্সে যোগ দিতে চায় আসলে?
হেই, এরেন!
তোমার ক্লাসে কেউ আছে যে আমাদের ফোর্সে যোগ দেবে?
হ্যাঁ, কিছু আছে।
মানে, তারা ইচ্ছুক ছিল।
এখন সেভাবে কিছু জানি না।
অ্যাটেনশন!
প্রস্তুত হও সবাই! আমরা পেট্রোল আনতে যাচ্ছি!
ঠিক আছে, স্যার!
শুভ সকাল, কমান্ডার!
শোনো, এরেন। সবসময় আমার কাছাকাছি থাকবে!
ভুলে যেয়ো না, শুধুমাত্র আমার কারণে জেলখানার কয়েদী জীবনযাপন করতে হচ্ছে না তোমাকে। বুঝেছ?
জি, স্যার!
চলো, যাওয়া যাক!
জন!
তুমি কি সত্যি স্কাউট রেজিমেন্টেই যাচ্ছো?
হ্যাঁ।
তুমি সিরিয়াস?
মানে, তোমার ভয় লাগছে না?
অবশ্যই আমি ভীত। আমি কোন বোকা নই।
তা-তাহলে কেন যাচ্ছ?
কারণ, টাইটানদের আমি সত্যিই ভয় পাই। এই ভয়টা কাটানো দরকার।
তবে, এটাও বিশ্বাস করি দুনিয়ার সবাই সব জায়গায় উপযুক্ত না।
আমি মরার জন্য এত ব্যাকুল না।
এরেনের কথা বলছ?
ওতো স্কাউট রেজিইমেন্টে এরই মধ্যে যোগ দিয়েছে।
ট্রেইনিরা, মিলনায়তনে চলো সবাই!
কারো কথায় জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছি না আমি।
এটা এমন এক সিদ্ধান্ত যা শুধুমাত্র তুমিই নিতে পারবে।
আমি এরউইন স্মিথ, স্কাউট রেজিমেন্টের কমান্ডার।
আজকে, তোমরা নিজেদের রেজিমেন্ট বাছাই করবে।
আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনো! প্রত্যেকটা রেজিমেন্টেরই তোমাদের দরকার!
টাইটানদের আক্রমণের সময় তোমরা দেখেছ ওরা কতটা ভয়ংকর আর তোমাদের সক্ষমতা কতটুকু।
যাক, সর্বশেষ যুদ্ধ মানব জাতিকে চূড়ান্ত সাফল্যের প্রায় কাছাকাছি এনে দিয়েছে।
এরেন জেগারের অবদান আছে এতে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বারবার সে প্রমাণ দিয়েছে মানব জাতির প্রতি তার আনুগত্য।
তার সাহায্যে টাইটানদের শুধু থামাইনি আমরা, আমাদের হারানো ভূমি উদ্ধারের স্বপ্নও দেখছি এখন।
আমরা বিশ্বাস করি, জিগানশিনায় তার বাড়ির বেজমেন্টে টাইটানদের সমস্ত রহস্যের উত্তর আছে।
যদি সেই বেজমেন্টে পৌছুতে সক্ষম হই আমরা, আমরা টাইটানদের আধিপত্যের শেষ দেখব আশা করি।
বেজমেন্ট?
আমরা জয়ের দ্বারপ্রান্তে তাহলে!
ওদের রহস্য জানতে পারলে ওদের শেষ করতে পারব।
যতই উনি সৈন্য বাড়াতে চান না কেন, এই তথ্য তো এভাবে ঢোল পিটিয়ে বলার কথা না!
নাকি, তার অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে?
উনি কি করতে চাইছেন আসলে?
আমাদের জিগানশিনার বেজমেন্টে পৌছুতে হবে।
সেজন্য, আগে ওয়াল মারিয়া উদ্ধার করতে হবে।
অবশ্যই, বলা যত সহজ করা ততই কঠিন।
ট্রস্টের গেট যেহেতু এখন বন্ধ, আমাদের কারানেস থেকে পূর্বদিকে যেতে হবে।
গত ৪ বছর ধরে যে রুটটা আমরা বানিয়েছিলাম সেটা এখন ব্যবহারের অযোগ্য।
এই চার বছরে, স্কাউট রেজিমেন্টে তার ৬০% সৈন্য হারিয়েছে।
চার বছরে ৬০%, খুবই আতংকজনক ব্যাপার এটা।
যেসব ট্রেইনি এই মাসে দেয়ালের বাইরে আমাদের সাথে মিশনে বের হবে, কমপক্ষে ৩০% আর বাড়িতে ফিরবে না।
আমাদের ধারণা অনুযায়ী, ৩০% মরবে। তবে, যারা বেঁচে ফিরবে তারা হবে জীবিতদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত যোদ্ধা।
এই গা হিম করা তথ্য জেনেও যারা জীবনের মায়া ত্যাগ করতে রাজী আছো, এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে।
No comments yet. Be the first to leave one.