184 บรรทัดแรก
অনুবাদ এবং সম্পাদনা মোহাম্মদ ইউসুফ
"ইয়াইয়াতি" (পশ্চিমা পুরাণে সন্তানের হাতে পিতার মৃত্যু বা পিতার বলিদান খুব সাধারণ একটা ব্যাপার। ক্রনোস, জিউস, পারসিয়াস কেউই পিতাকে রেহাই দেয় নি। কিন্তু ইয়াইয়াতি তার সন্তানের কাছেই বলিদান চেয়েছিল। যৌবনের স্বাদ আস্বাদনের জন্য শুক্রের অভিশাপ কাটাতে তার সন্তান পুরুর কাছ থেকে নিয়েছিল যৌবন আর তাকে দিয়েছিল বার্ধক্য।)
উনি ভেতরে ঢুকবার পরপরই মজিদ স্যারকে কল করি আমি।
উনি তো পরে আর বেরই হননি।
শুধু ফর্সা মানুষটাই বের হয়েছে।
- দেখতে কেমন সে? - লম্বা, মাথার চুল ছিল ছোট।
আপনারা চাইলে আমি স্কেচে সাহায্য করতে পারি।
এ?
হ্যাঁ, এর মতোই তো লাগছে।
সারতাজ কোথায়?
ফোন দিয়েছি, কেটে দিয়েছে।
আপনি অনেক ভাগ্যবান।
সব ধর্ম একই কথা বলে।
সবকিছুই পূর্বনির্ধারিত।
যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করি, মিশরের লাক্সোরে...
আর যেদিন আপনি জন্মেছিলেন...মুম্বাইতে?
সেদিনই আপনার আর আমার আজকের এই সাক্ষাতটা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল।
এবং, আমি এটা করবো।
দুই ঘন্টা লাগবে।
তারপর, আপনার সমস্ত ব্যাথা চলে যাবে।
কী করছ তোমরা এখানে?
১৬ তারিখের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।
কী হতে যাচ্ছে ১৬ তারিখে?
গাইতোন্ডে কেন আত্মহত্যা করলো?
কিছু লোক দুর্বল প্রকৃতির হয়।
গাইতোন্ডেকে তোমরা ধোঁকা দিলে কেন?
ধোঁকা সে আমাদেরকে দিয়েছে।
আদম এবং হাওয়ার দুটো ছেলে ছিল...
হাবিল ও কাবিল।
আল্লাহ দুজনকেই কোরবানি করতে বললেন।
দুজনেই খোদার তরে কোরবানি দিয়েছিল।
কিন্তু, আল্লাহ শুধু হাবিলের কোরবানি গ্রহণ করলেন।
কাবিলের তা পছন্দ না হওয়াতে হাবিলকে মেরে ফেলে।
কিন্তু, আল্লাহ হাবিলকে তার প্রাপ্য হক দিয়েছেন।
দুনিয়ার প্রথম শহীদ ব্যাক্তি হচ্ছেন হাবিল।
আর প্রথম অপরাধী হচ্ছে কাবিল...
যে জাহান্নামে গিয়েছে।
এই কাহিনী বাইবেলেও আছে।
হাবিল ওখানে আবেল এবং কাবিল হচ্ছে কেইন।
আমাদের জীবনে মাঝেমধ্যে কিছু কোরবানি দিতেই হয়।
কিছু বার্তা দিতে চায় আমাদেরকে। কেন দিতে হয় আমাদের এই কোরবানি?
কেন?
কেন?
আমি জানি না! জানি না আমি!
আল্লাহ আমাদের ওপর বেশ বিরক্ত।
বানানোর সময়েই বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলেন।
তার দেয়া ব্যাথা তো আমাদের সহ্য করতেই হবে।
আরেকটা সুযোগ পেতে হলে...
তার নিকট যে ঋন আছে আমাদের...
সেটা পরিশোধ করে দিতেই হবে আমাদের।
আমরা পুরো জায়গাটা ঘিরে ফেলেছি।
তুমি পালাতে পারবে না।
আত্মসমর্পন করো।
পুলিশ আপনাদের সবাইকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে।
পালাবার আশা করে লাভ নেই।
ভাল হবে সেটাই, সবাই আত্মসমর্পন করুন।
পুলিশ চলে এসেছে। আমি চলে যাচ্ছি।
সারতাজ।
দিলবাগ সিং এর চেহারা দেখেই বুঝে গিয়েছিলামI
যে পারুলকার আমাকে খুন করবে।
কারাগারের ভেতরেই আমাকে খুন করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
সময়ের সাথে সাথে অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল।
২২ দিন ধরে মার খাবার পর, ওই জীবনটাই আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হতে লাগলো।
প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠো, গোসল করো, মার খাও, তারপর ঘুমিয়ে পরো।
যখন আমি জীবনের ওপর থেকে আশা ভরসা হারিয়ে ফেলেছিলাম...
তখনই আমি দেখলাম মেথুকে।
আমার পুরনো বন্ধু।
মেথু।
ম্যানড্রেক্স আর সোনা চোরাকারবারের সময়কার সময়কার সঙ্গী।
টাকার নেশা মানুষের জ্ঞান বুদ্ধি লোপ করে দেয়।
স্যার, চা।
আপনার জন্যও।
আমিও পারিনি।
তুই সাথে থাকলে, সব গুলোর তেরটা বাজাতাম।
কিন্তু, তুই তো এখানেই।
গোপালমঠের রাজা আমি।
নিজের ইচ্ছাতেই আছি। মাদারচোতেরা অনেক ভয়ে আছে।
তুই কি আমাকে চুতিয়া ভাবছিস?
বল, কোন শালায় তোকে মারে, এখনই ব্যাটাকে সাইজ করছি।
ইসার লোক সব। বড় লেভেলের হারামি।
ইসা তো ভারত ছেড়ে পালিয়েছে...
এই লোকগুলোকে বেশামাল অবস্থায় রেখে গেছে।
ব্যাপার না। উচিত শিক্ষা দিয়ে ছাড়বো এগুলোকে।
গাইতোন্ডে।
তারা তোকে এই জেলে খুন করার প্ল্যান করেছে।
জীবিত ছাড়বে না তোকে।
আর তুই কিনা আমাকে বাঁচাবার কথা বলছিস?
এরপরে, আপার কাট মারবো।
দেখ।
ওই সময় ভেবেছিলাম, পারুলকার ইসার নির্দেশে মারছে আমাকে।
কিন্তু, ভাবিনি আমার এই প্রিয় বন্ধু পারুলকার, ভোশলে, ত্রিভেদী
এই পিটুনিযজ্ঞের পেছনে আছে
এবং, তারা নির্দেশ পালন করছে আমার তৃতীয় বাবার।
কী? ভাঙেনি তো?
খুব শীঘ্রই ভাঙবে।
আবার মেরে ফেলো না।
এই মাদারচোতকে টুকরো টুকরো করে...
সমুদ্রে ফেলে দিলেও শালা মরবে না।
টার্মিনেটরের মতো বলবে ,"আমি আবার ফিরে আসবো।"
- মাদারচোত! - মহাভারতও এভাবেই শুরু হয়।
কী?
এক রাজার বীর্য নিপতিত হলো সাগরে।
- আচ্ছা! - একটা মাছ সেটা খেয়ে ফেলে!
এক মহিলা সেই মাছটা রান্না করে খায়, তারপর গর্ভবতী হয়ে পরে।
সে জন্ম দেয় এই ভারতবর্ষের।
একটা জাতি জন্মলাভ করে এক ফোঁটা বীর্যের মাধ্যমে।
আপনি আমার বাবার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন।
তিনি কি শিক্ষক ছিলেন?
না, তবে আপনার মতো রসিয়ে গল্প বলতে পারতেন।
তোমরাও না!
নিজের খেয়াল রাখবেন। আপনার জীবন কিন্তু হুমকির মুখে।
আর বেশি সময় বাকি নেই।
দু তিনদিনের ভেতরেই মেরে ফেলবে আমাকে।
এরকম করে কেন বলছেন, ভাই?
দেখতে পাচ্ছি এরকম।
আপনার কিছু করলে একটা একটা করে মারবো।
খার্ভাস নিয়ে আয় আমার জন্য।
- সাদা দেখতে ওটা? - শেষবার যেটা চেখে দেখেছিলাম।
এই ভাই, এভাবে বলবেন না!
কিছুই হবে না আপনার, আপনাকে এখান থেকে বের করে আনবো আমরা।
এসব অপয়া কথা বলবেন না।
- আমি মজা করছিলাম, আচ্ছা শোন। - জি?
একটা চাকু দরকার এখানের কয়েকটাকে ঠান্ডা করার জন্য।
- এ ভাল লোক! - আচ্ছা।
চিল্লা, মাদারচোত!
ভগবানকে বিশ্বাস করিস না তুই।
তোর নাম কী?
জমিলা।
প্রথমবার?
মানে?
কোন ভাষা এটা?
ফার্সি।
কোত্থেকে এসেছিস?
বল, আমি পুলিশ না কোন।
আফগানিস্তান।
আমাদের হাতে বেশি একটা সময় নেই। মাত্র ২০ মিনিট সময়।
আমার তো কিছু করার মতো ক্ষমতা নেই আর...
আপনাকে কিচ্ছু করতে হবে না।
জেলে এমন কুকুরের মতো অবস্থা ছিল আমার যে...
চোদার মতো শক্তিও ছিল না গায়ে।
কিন্তু ইসার লোকেদের ওপর বদলা নেবার কথা ভাবলেই দেহ মনে কেমন শক্তি অনুভব করতাম!
এই ইসার কুত্তা, মরে গেছিস?
আয় আয়!
- চুষবি আমারটা? - তোর আছে নাকি যে চুষবো?
আয়, তুই দেখে যা!
মেয়ে চোদার চাইতে চাকু দিয়ে ওদের গলা কেটে দেওয়াটা আমাকে বেশি তৃপ্তি দিয়েছিল।
এই জায়গা থেকে কেবল তোর লাশটাই বের হবে।
পারুলকার, মাথায় ঢুকেছে তো? জেলে ভেতরেও কিন্তু আমিই ঈশ্বর!
সর্দারজি?
বানচোদের গুষ্টি!
এখানে, এত অন্ধকার!
বাল, কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছি না।
এটা হচ্ছে ঝুড়ি।
তারা ভেবেছে, এই অন্ধকার ঘরেই আমার মৃত্যু হবে।
গাইতোন্ডে, দেখো এদিকে।
এটা হচ্ছে বিচ্ছিন্ন সেল। ছাদ অনেক নিচে।
ওই ঝুড়িতে হাগু মুতু যা করার করবে।
এই ফ্ল্যাশলাইট টা নাও।
ঝুড়ির মধ্যে লুকিয়ে রাখো।
ধরো।
খেয়াল করে!
- ঠিক আছে? - জি, স্যার।
আমি তো এখানে আরাম করে ঘুমাবো, বানচোদ!
এখনও ব্যাথা করে?
হালকা।
আর কখনও তোর হাতটা স্বাভাবিক হবে?
স্বাভাবিকের মানেটা কী?
পঙ্গু লোকেরা কী বলে এটাকে জানো?
কী?
যে কোন সময়ে যে কোন কিছু হতে পারে।
সব কিছুই ক্ষণস্থায়ী।
সব কিছুই।
সারতাজ?
তুমি চলে আসো।
কী অবস্থা?
জ্বর চলে গেছে।
কাল ভোশলে জিজ্ঞাসাবাদ করবো।
সে রাজী হয়েছে?
তদন্ত থেকে বাঁচা মুশকিল। অঞ্জলির মৃত্যুর পরে তো আরও অসম্ভব।
ম্যালকমের ব্যাপারে কিছু জানতে পেরেছিস?
ত্রিভেদীর বাসায় যে আঙ্গুলের ছাপ পাওয়া গেছে তার সাথে ওর আগুলের ছাপ মিলেছে।
এটা তো নিশ্চিত যে অঞ্জলিকে খুন ওই...
পালাতে পারবে না ও। সমস্ত বর্ডার এরিয়ায় এলার্ট করা হয়েছে।
বুঝলাম না কেউ কেন একজন র এজেন্টকে মারবে?
No comments yet. Be the first to leave one.