196 บรรทัดแรก
ব্রিটানিয়ান যুবক লুলুচ দুটি শক্তি লাভ করে।
একটি গিয়াস।
এমন একটি শক্তি যার সাহায্যে সে সবাইকে তার আদেশ মানতে বাধ্য করতো।
অন্যটি ব্ল্যাক নাইট।
নিজের ব্যক্তিগত সেনাবাহিনী,যার উদ্দেশ্যে ছিলো তার পিতার শাসিত ব্রিটানিয়ান সাম্রাজ্যকে ধ্বংস করা।
লুলুচ জিরো ছদ্মনাম ব্যবহার করে তার কার্যক্রম শুরু করে।
তার মায়ের মৃত্যুর বদলা নিতে এবং পৃথিবীকে এমন একটি জায়গা বানাতে, যেখানে তার বোন নানালি সুখে শান্তিতে থাকতে পারে।
এর পরিণাম ঠিক কী হতে পারে?
এই মুহূর্তে, সেটি কারো পক্ষেই বলা সম্ভব নয়।
পরিবেশনায় ANIME FREAKS
অনুবাদক আকাশ বসাক
সম্পাদক মো। ফরহাদ হোসাইন
The Messenger From Kyoto
গভর্নর-জেনারেল, আপনার অপারেশনের কারণেই আমরা জাপানিজ লিবারেশন ফ্রন্টকে প্রায় খতম করতে সক্ষম হয়েছি।
একের পর এক, পলাতক সদস্যদের গ্রেফতার করে ফেলা হয়েছে।
ব্যঙ্গ করছ নাকি?
আমাদের সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে আবার একত্রিত হচ্ছে।
না, আমি সেটা বলতে চাইনি...
আমার মতে শুরু থেকেই আমাদের ত্রুটিযুক্ত পেশার নীতি অনুসরণই এর জন্য দায়ী।
এরিয়া এগারো এর ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্ক,খনি আর সুড়ঙ্গপথ। কেন সেগুলোকে নজর আন্দাজ করা হলো না?
ঘেট্টোতে, জনসংখ্যা পরিচালনা ব্যবস্থা আর সম্পত্তির মালিকেরা এখনো একটি রহস্য হয়েই রয়েছে!
সরকার-বিরোধী কর্মকান্ডের প্রজননদাতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
আম্ম...
পাতাল রেল মূলত পুরো দেশের মধ্যে দিয়ে চলে।
উপনিবেশের বহিরাগত এলাকা বন্ধ করতে খরচ পড়বে...
এটা জানেন, ওই এলাকাগুলোকে সন্ত্রাসবাদীরা আস্তানা ও পালানোর জন্য ব্যবহার করে থাকে?
এ-এটি মহামান্য প্রিন্স ক্লোভিসের আদেশ ছিলো...
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে যদি এই নিয়মগুলো আমরা জবরদস্তি নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে দিই।
চাইনিজ ফেডারেশন এর সুযোগ ওঠাতে পিছপা হবে না।
সেটা আমরা তাদের এরইমধ্যে দিয়ে ফেলেছি।
জিরোর প্রভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে।
সহকারী সচিব, কিছু লোক এই এলাকাটিকে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয় এর অধীনে ইলেভেনদের
প্রতিনিধি হিসেবে নিজের মনমতো চালাচ্ছে।
এন এ সি নামের একটি গ্রুপ।
গত লড়াই চলাকালীন সময়ে এন এ সি গ্রুপের কিছু গতিবিধি আমাদের নজরে এসেছে।
কিন্তু, সমস্ত প্রমাণ মিটিয়ে ফেলা হয়েছে।
ওরা এখনো সন্দেহভাজনের তালিকাতে রয়েছে।
যদি আমরাই প্রথমে কোনরকম ব্যবস্থা নিতে পারি...
হুম।
বিশিষ্ট পরিবার এবং অর্থনৈতিক গ্রুপ।
অতীতের অবশিষ্টাংশ?
এক মিনিট দাঁড়ান!
এগুলো সব গুজব।
এসবের কোনো সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি!
যদি আমরা কিছু করি, তাহলে ইলেভেনের অর্থনীতি ব্যবস্থা লুলা হয়ে যাবে।
এটি আমাদের ট্যাক্স আদায়ের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
তাছাড়া, এটি তো সাম্রাজ্যের নীতির মধ্যেই পড়ে যে, তারা তাদের নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
আচ্ছা, তাহলে ব্ল্যাক নাইটের ওপর তদন্ত কেমন চলছে?
আমরা ওখানে কিছু মেশিন পেয়েছি, যার দ্বারা এটি প্রমাণিত হয় যে, নারিটার ঘটনায় জিরোর হাত ছিলো।
সেখানে মৃতদেহ ছাড়া আর কোনো প্রমাণ হাতে আসেনি আমাদের।
এর পরিষ্কার মানে হলো, না আমরা কিয়োটোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবো, আর না জিরোর পিছু করতে পারবো।
একটা কথা কী জানো?
কাজের অগ্রগতি দেখে এটাই বোঝা যাচ্ছে যে, তোমরা সবাই একেকটা অকর্মের ঢেঁকি।
কখনো ভাবিনি যে,ব্রিটানিয়ান প্রিন্সেস আমাদের এত বড় ক্ষতি করে ফেলবে।
লিবারেশন ফ্রন্ট পুরোপুরিভাবে ভেঙে পড়েছে। জাপানের আশার আলো নিভে গিয়েছে।
না এমনটা নয়!
মানছি পরিস্থিতি এখন আমাদের হাতের বাইরে চলে গেছে, কিন্তু এখনো আমাদের কাছে তোদো রয়েছে!
কিন্তু আমরা বুরাই কাই হারিয়ে ফেলেছি।
আর কোনো আশা বেঁচে নেই।
এখনো আমাদের কিছুটা আশা বেঁচে রয়েছে।
ব্ল্যাক নাইট?
তুমি ওদের গুরেন এম কে টু দিয়েছিলে।
কুরুরুগি সুজাকুকে উদ্ধারের ঘটনাটার পর থেকে তুমি জিরোর ওপর ভরসা করতে শুরু করেছ।
ট্রাফালগারের যুদ্ধে পরাজয়ের পর,
তৃতীয় এলিজাবেথ কে এডিনবার্গে বিপ্লবীরা ঘিরে ফেলে।
ওহ, বাবা...
কী ব্যাপার? তোমাকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে।
দুদিন ধরে পেট খারাপ হয়েছে নাকি?
হাহ? না!
লুলুচ এখানে নেই বলে তোমার একা একা লাগছে?
কিন্তু কালেনও তো আসেনি।
আমরা একদম বেপরোয়া।
সবাই এখন দুদিন আগে ঘটে যাওয়া নারিতা মাউন্টেনের ঘটনা নিয়ে কথা বলছে।
সুজাকুও এই কারণে আজ অনুপস্থিত।
আমি জানি সেটা!
লুলুচ আর কালেন দুজনেই একসাথে আজ অনুপস্থিত, তো মনে হয় ওদের মধ্যে কিছু একটা চলছে!
খুব ভালো,শার্লি।
এ কারণেই তোমাকে এত ভালো লাগে।
আমার মজা ওড়ানো বন্ধ করো!
যেমনটা আগেও বলেছিলাম,তুমি ওকে বলে দিচ্ছো না কেন?
"আমি তোমাকে ভালোবাসি।"
এ-এটা অসম্ভব! অসম্ভব!
কারণ, যদি...
"যদি ও আমাকে প্রত্যাখান করে দেয়?!
তাহলে আমাদের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাবে!"
এতে হাসির কিছু নেই...
কত ভালো তাই না? যে আমরা এখন সবাই একসাথে রয়েছি!
আমারও তাই মনে হয়।
কিন্তু আমার মতে তোমায় এবার প্রস্তুত থাকা উচিত।
কোনকিছুই সারাজীবন একরকম থাকে না।
দ-দুঃখিত,এই ব্যাপারে এত চিন্তা করার কোনো প্রয়োজন নেই।
আহ! তুমি যখন এতটাই কষ্ট পাচ্ছো, তাহলে একবার ওকে বলেই দেখো না?
হেই,তোমার কী মনে হয়?
ল-লুলু?!
ভেবেছিলাম, আজ আসবে না?
নানালির একটু জ্বর এসেছিলো।
আর সায়োকোরও সকালে কিছু জরুরী কাজ ছিলো।
ও-ওহ...আচ্ছা...
নানালি এখন ভালো আছে তো?
প্রায়।
প্রেসিডেন্ট,এগুলো কীসের কাগজপত্র?
ওহ এগুলো আসলে, প্লিজ এগুলো প্রত্যেক ক্লাসে গিয়ে দিয়ে আসো।
আচ্ছা আচ্ছা।
মানুষকে আদেশ ভালোই দিতে পারো দেখছি।
এটা আমার সৌভাগ্য যে, সহকর্মী হিসাবে তোমাকে পেয়েছি।
সহকর্মী?
বেশ, হয়তো, আমার কথা বলছে।
প্রেসিডেন্ট!
এটা ঠিক করলেনা কিন্তু!
হাহ? আমার টিকিটটা কোথায় গেলো?
লুলু!
কী হলো?
আ-আম্ম...
তুমি হয়তো ওই কাগজপত্রগুলোর সাথে আমার একটা চিঠিও নিয়ে ফেলেছো!
ওহ, দুঃখিত।
কী ব্যাপার?
লুলু!
হ্যাঁ?
না, উল্টা পাল্টা ধারণা করা যাবে না।
এটা হতে পারেনা।
আমার জন্য,ও শুধুমাত্র...
আমি বলে দিয়েছি! অবশেষে আমি বলতে পেরেছি!
এবার আমি কী করবো? ও সত্যিই আসবে তো?
ও না বলেনি...
তবে...
আমরা শুধুমাত্র একসাথে কনসার্ট দেখতে যাচ্ছি।
ব্যস এটুকুই।
কিন্তু এটা যদি কোনো সুযোগ হয়...
ধন্যবাদ,বাবা।
গুরেন এম কে টু এর ব্যবহার সঠিক ব্যবহারের কারণে কিয়োটো আমাদের প্রশংসা করলো।
খুব ভালো।
কিন্তু ওই সাদা বর্মটা...
এত বেশী ভেবো না তো... ওটা একটা ড্র ছিলো শুধুমাত্র!
শার্লি হঠাৎ করে কেন...
কাজের জন্য বাবাকে বেশীরভাগ সময় আমার থেকে আলাদা থাকতে হয়।
কিন্তু উনি আমাকে খুশী করার জন্য সবসময় এগুলো দেন।
এবার আমি কীভাবে বোঝাই...
এই নাও।
হুম? এটা আবার কী?
প্রেমপত্র।
হাহ? তুমি...?
ও একদম ইয়ার্কি বুঝতে পারে না!
তামাকি,তুমি একটু বেশীই হাসছো।
এটি কিয়োটোর তরফ থেকে একটি আমন্ত্রণপত্র।
ওরা আমাদের সাথে দেখা করার জন্য মুখিয়ে রয়েছে।
এতে আবার এত হইচইয়ের কী আছে?
হইচইয়ের কী আছে মানে... হেই,আমরা কিয়োটোর ব্যাপারে কথা বলছি!
যদি আমরা আমন্ত্রণ গ্রহণ করি তাহলে হয়তো ওরা আমাদের আর্থিকভাবে সাহায্য করতে পারে।
আমাদের করুণ আর্থিক অবস্থা তাহলে...
আর্থিক অবস্থা?
যদি তোমরা আমার পরিকল্পনা মাফিক চলতে থাকো, তাহলে কোন সমস্যা দেখা দেবে বলে মনে হয় না।
আসলে...
এ-এতে আমার কোনো দোষ নেই!
আমরা এখন একটি বড় সংস্থা হয়ে গেছি।
এই ক’দিনে ধারণার থেকেও অনেক বেশী সদস্য আমাদের সাথে যোগ দিয়েছে।
নতুনদের সামনে মুরুব্বি হওয়ার ভান করা ও তাদের বোকা বানানো কি ধারণার ভেতরে?
হেই, তুমি...
তুমি কোথায় কোথায় যাও,সেই ব্যাপারে আমি সব খোঁজ রাখি!
স-সত্যি...?
অগি, মিটিংয়ের প্রস্তুতি আমি তোমার দায়িত্বে ছেড়ে দিলাম।
হেই,দাঁড়াও!আর্থিক দিকটা এতদিন আমি সামলে এসেছি। আর এখন তুমি...
এমন কিছু করে দেখাও যাতে আমি তোমার ওপর ভরসা করতে পারি।
এটা তুমি কোন মুখে বলছো! তুমি নিজেকে আমাদের সঙ্গী বলে দাবি করো, কিন্তু তাও নিজের আসল চেহারা আমাদের দেখাতে চাও না।
তুমি আসলে কী করতে চাইছো, জিরো? হাহ?
থামো, এবার একটু...
জিরোর আসল পরিচয় নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন নেই, বুঝেছ?
জিরোর মধ্যে কর্ণেলিয়াকে হারানোর ক্ষমতা রয়েছে।
ও আমাদের ব্ল্যাক নাইটের লিডার!
এর থেকে বেশী কিছু জানার কী কোনো প্রয়োজন রয়েছে?
ওখানে কি তুমি রয়েছো,নিনা?
তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে?
না।সেরকম কিছু নয়।
সত্যিই কিছু নয়।
হেই... এবার আমরা কী করবো?
বেশ...
শুরু থেকে আমরা নায়োতোর দলে ছিলাম।
ওর বোন হলেও আমার কোনো সমস্যা নেই, কালেন...
তুমি নিজেই ওর হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়েছো...
নারিতায় তো আমরা সবাই এতে সম্মতি জানিয়েছিলাম।
কিন্তু সেটা আসলে একপ্রকার জবরদস্তি মূলক ছিলো।
ও এগুলোও আমাদের থেকে গোপন রেখেছিলো।
পরবর্তী কাজগুলোর জন্য আমি ১২ জনকে খুঁজে বের করেছি।
এবার শুধু পরবর্তী রণনীতি ঠিক করাই বাকি রয়েছে।
মনে হচ্ছে ওদের সাথে সাক্ষাৎ করা খুব জরুরী।
কে?
আমি।
উম...
মনে হলো তখন আমি একটু বেশীই বলে ফেলেছি। তাই পারলে ক্ষমা করে দিও।
কালেন, তুমিও কি আমার পরিচয় জানতে চাও?
ও জানে ...
না। দুঃখিত।
দাদা?
মনে হচ্ছে তোমার জ্বর কমে গেছে।
আমি আসলে একটু রেগে ছিলাম।
রেগে ছিলে?
কিছু কারণবশত... কেন জানি মনে হচ্ছে যে, তুমি দিন দিন আমার থেকে দূরে চলে যাচ্ছো।
No comments yet. Be the first to leave one.