140 บรรทัดแรก
অনুবাদ ও সম্পাদনা মোহাম্মদ ইউসুফ
সেই ভয়াবহ দিনটাতে মানব সভ্যতার গতিপথ বদলে গিয়েছিল।
সেই ভয়াল দিনটাতে মানুষ উপলদ্ধি করেছিল খাঁচায় বন্দি থেকে নিগৃহিত হবার মর্মবেদনা।
প্রস্তুত হও সৈন্যরা!
আমাদের লক্ষ্য এখন একটাই!
একে প্রতিহত করে সভ্যতার প্রথম সোপান রচনা করব আমরা!
ওটা সামনে এগুচ্ছে!
দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাও!
আমরা হবো টোপ!
অ্যাটাক টিম, থ্রি ডাইমেনশনাল ম্যানুভার গিয়ার দিয়ে আক্রমণ করো!
সবাই লক্ষ্যের দিকে আগাও!
মানুষের ক্ষমতা কতটুকু আজ দেখবি তুই!
২০০০ বছর আগে জিগানশিনা দেয়ালের পতনের ক্ষণ
মিকাসা...
চলো, বাড়িতে যাই।
আমি? কী করছি এখানে?
ক্লান্ত হয়ে সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছিলে!
হ্যাঁ!
মনে হচ্ছে, স্বপ্নটা অনেক বাস্তব ছিল!
কি যে দেখেছি স্বপ্নে মনে পড়ছে না!
এরেন, কাঁদছিলে কেন?
৮৪৫ বর্ষ, জিগানশিনা অঞ্চল।
সবাই শোনো!
এই দেয়াল গুলো স্রষ্টার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য আশীর্বাদ!
স্রষ্টা নিজ হাতে এই প্রাচীরের দেয়াল গুলো তৈরী করেছেন!
কেউ এই দেয়ালে এতটুকু আঁচড় কাটতে পারবে না!
কাউকে বলো না যে কাঁদছিলাম আমি!
বলবো না।
কিন্তু, কোন কারণ ছাড়াই কান্নাকাটি করলে...
তোমার বাবাকে গিয়ে কেন বলছ না এটা?
মাথা খারাপ!
বাবাকে এই ব্যাপারে কিছুই বলা যাবে না!
কেন কাঁদছিলে, এরেন?
মি. হ্যানেস!
মিকাসার হাতে মার খেয়েছ নাকি?
কি যাতা বলছেন এসব?
মদের বিশ্রি গন্ধ আপনার গায়ে!
আরে ধুর!
তোমরা সবাই আবার মদ পান করছ?
পান করবে আমাদের সাথে?
আপনি না ডিউটিতে আছেন?
হ্যাঁ! দেয়ালের প্রহরায় আজকে আমরা আছি!
সারাদিন এখানে বসে থেকে বেশ ক্ষুধা আর পিপাসা লেগেছে আমাদের!
একটু আধটু মদ সেজন্য পান করতেই হয়!
তাতে নিশ্চয়ই মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে না?
মদে চুর হয়ে থাকলে লড়বেন কীভাবে?
কিসের কথা বলছ ছোকড়া?
কি ভাবছেন?
যদি তারা দেয়াল ভেঙে শহরে ঢুকে পড়ে!
এরেন...
প্লিজ, এভাবে চিৎকার করবে না।
ডাক্তারের ছেলের আজকে বেশ মাথা গরম দেখছি!
ওরা দেয়াল ভেঙে ঢুকলে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব।
কিন্তু, গত এক হাজার বছরেও এরকম কিছুই ঘটেনি।
কিন্তু, বাবা বলেছে এভাবে অলস বসে থাকলে...
বিপদ চলে আসবে!
ডাক্তার জেগার?
হ্যাঁ, ঠিকই বলেছে সে।
একবার পুরো শহরকে মহামারীর হাত থেকে বাঁচিয়েছিল সে।
তার ঋণ আমরা কোনদিন শোধ করতে পারব না।
কিন্তু, এই ব্যাপারটা একটু আলাদা।
সৈন্য হিসেবে যখন দেয়ালের যত্নআত্তি করতে যাবে...
কয়েকটাকে দেখবে দেয়ালের আশেপাশে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরোঘুরি করছে।
কিন্তু, দেয়ালের উচ্চতা ৫৫ মিটার উঁচু। তারা কিছুই করতে পারবে না।
তা-তাহলে...
তাদের সাথে লড়াইয়ের মতো প্রস্তুতি নেই আপনাদের?
নাহ!
কি!?
তাহলে, নিজেদের সৈন্য বলা বন্ধ করে দেয়ালের রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে যোগ দেন!
কথাটা খারাপ বলোনি!
তবে, শোনো এরেন...
যদি আমাদের লড়তে হয়, বুঝবে পরিস্থিতি বেশ খারাপ।
যতক্ষণ সবাই আমাদেরকে ব্যাংগ বিদ্রুপ করছে, অকর্মার ঢেঁকি বলছে...
বুঝবে, সবাই নিরাপদেই আছি আমরা।
আমরা একটা খাঁচার ভেতরে বাস করছি!
যেখানে খাওয়া আর ঘুমানো ছাড়া আর কোন কাজ নেই!
এর মানে এই দাঁড়ায়...
খাঁচায় বন্দি পশুর মতোই আমরা!
ভাইরে, ছেলেটার মদ না খেয়েই মাথায় নেশা উঠে গেছে!
অল্প বয়েসী ছেলেপেলেদের মাথা একটু গরমই থাকে!
হ্যাঁ!
ওই, কোথায় যাচ্ছ ছোকড়া?
আজব একটা ছেলে!
ও ৮/১০ টা ছেলের মতোই সাধারণ একজন, যার মন কল্পনায় পরিপূর্ন।
এরেন, স্কাউট রেজিম্যান্টে ঢোকার মতলবটা বাদ দাও।
মানে? সবাই এটাকে কৌতুক মনে করে কেন?
মানুষ যেটা বোঝে না সেটা নিয়েই মজা করে।
স্কাউট রেজিম্যান্ট ফিরে এসেছে!
দেয়ালের সামনের দরজাটা খোলা হবে!
চলো, মিকাসা!
আমি ওদের দেখতে চাই!
ধুর, কিছুই দেখতে পাচ্ছি না!
সবাই মনে হয় আসতে পারেনি?
হুম, কয়েকজন ওদের পেটে গেছে।
প্রাচিরের বাইরে গেলে কপালে এটাই লেখা থাকে।
মোজেস! মোজেস!
আমার ছেলে, মোজেস! ওকে দেখছি না কেন?
কোথায় ও?
উনি হচ্ছেন মোজেসের মা।
ওটা আনো।
আমি দুঃখিত! এতটুকুই আনতে পেরেছি।
কিন্তু, আমার ছেলে...
ও কাপুরুষের মতো মরেনি, তাই না?
দানবগুলোর গায়ে একটা আঁচড়ও কাটতে না পারলেও...
সভ্যতার প্রথম সোপান আমার ছেলেই রচনা করেছে!
বলো, ও কাপুরুষের মতো মরেনি!
অবশ্যই!
তবে...
আমরা এবার কিছুই করতে পারিনি!
না,
আমরা কখনোই...
ওদের সাথে ভালমতো লড়তে পারিনি!
সব আমার দোষ!
আমার অদূরদর্শিতার কারণে ও মারা গেছে!
আমরা এখনও ওদের পরিচয় জানি না!
কি বীভৎস ব্যাপার!
ঠিকই বলেছ।
আমাদের করের টাকা শালা জলেই যাচ্ছে!
বিচ্ছু ছেলে, কি করছিস এটা?
হেই!
কি করছ, মিকাসা?
বাঁচতে চাইলে পালা, বিচ্ছু ছেলে!
আরে, বুঝেছি তো! ছাড়ো এবার আমাকে!
দারুন!
কাঠগুলো সব পরে গেছে!
এরেন...
তুমি কি এখনও স্কাউট রেজিম্যান্টে যোগ দিতে চাও?
কাঠগুলো তুলতে সাহায্য করো।
তোমার কপালে শনি আছে।
এই যে, চলে এসেছি আমরা!
বাসায় স্বাগত তোমাদের!
বাহ! আমাদের ছেলে দেখছি বেশ করিতকর্মা হয়ে গেছে!
কি জানি!
কান মোচড়াচ্ছ কেন?
তোমার চোখ লাল। মানে, মিথ্যা বলছ।
মিকাসা আবারও তোমায় সাহায্য করেছে, ঠিক?
এই? কোথায় যাচ্ছ, বাবা?
কাজে?
হ্যাঁ, রোগী দেখতে যাচ্ছি।
২/৩ দিন লাগবে ফিরে আসতে।
No comments yet. Be the first to leave one.