İlk 200 satır.
আমি এক যাযাবর
আর সময় আমার রথ।
তোমার চোখে দূরের দৃশ্য যেমন
অপূর্ব আর রহস্যে ঘেরা মনে হয়,
আমার যাত্রাপথও ঠিক তেমনই,
আশায় পূর্ণ, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয়।
সৃষ্টির মহাবিস্ফোরণ থেকে জন্ম নেওয়া নতুন অঙ্কুরে আমি আশার আলো দেখতে পাই।
আমার থেকে জন্ম নেওয়া প্রতিটি প্রাণের মাঝে আমি একটি উদ্দেশ্য অর্পণ করেছি।
কেবল আমিই পক্ষপাতবিহীনভাবে
আমার সমস্ত সৃষ্টিকে তাদের নির্ধারিত ভূমিকা পালনের ক্ষমতা প্রদান করেছি।
তবে...
যারা সময়ের ঝঞ্ঝা ও পরীক্ষার মাঝে হোঁচট খায়,
তারা এক অস্বচ্ছ ইতিহাস গড়ার চেষ্টা করে,
এবং মহাবিশ্বে তাদের প্রকৃত অবস্থান ভুলে যায়।
"তুমি যা খুঁজছো, তা তোমার ভেতরেই আছে" এই সত্যটি যারা ভুলে যায়, তাদের মধ্যেও আমি নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।
আমি সব দেখতে পাই।
আমার আত্মার এই অংশটি, যা এখন আমার থেকে পৃথক,
তারও একটা গভীর উদ্দেশ্য রয়েছে।
তাই আমি সময়ের সঙ্গী হয়ে আশা নিয়ে অপেক্ষায় থাকি
তাদেরই জন্য, যারা সেই উদ্দেশ্য পূর্ণ করবে হাজারো কষ্ট আর সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে।
Translated & Edited By 〄 :.:.: HASAN SHUVO (MR.X) :.:.: 〄
একটা সময় ছিল, যখন বন-জঙ্গল, মানুষ আর প্রাণী সবাই একসাথে ছিল।
এক রাতে, আকাশ থেকে একটা তারা পাথর খসে পড়ে।
বাতাসের বেগকে অতিক্রম করে,
বিদ্যুতের ঝলকানিকেও হার মানিয়ে,
ওটা এসে পড়ে আমাদের হারিপুরাম গ্রামে।
কয়েক বছর পর
এ খবর শুনে, এডাক্কালের রাজা আর তার সাঙ্গপাঙ্গরা এসে
আমাদের গ্রাম থেকে তারাপাথরটি নিয়ে যায়।
রাজার ইচ্ছে অনুযায়ী
একজন কামার যার নাম থেক্কুমপাদান কোল্লান
তারা পাথরটির সাথে বেশ কিছু গোপন উপাদান মিশিয়ে
এক অত্যাশ্চর্য প্রদীপের সৃষ্টি করে।
এ এমনই এক প্রদীপ, যার রয়েছে বৃষ্টি,
বাতাস, বজ্র ও বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা!
পরবর্তীতে সেই প্রদীপই, এডাক্কাল রাজবংশের সমৃদ্ধি ও গৌরবের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রদীপ কীভাবে আবার আমাদের গ্রামে ফিরে এল?
হ্যাঁ!
একজন সাহসী নায়ক সেটা ফিরিয়ে এনেছিল!
একবার এডাক্কালের রাজা বড় বিপদের মুখে পড়েছিলেন।
সাহসী এক সমুদ্র বণিক পুলিমুট্টু মাম্মাদ
রাজার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
রাজার জামাতা মানা ভার্মা মাম্মাদের মোকাবেলা করতে গিয়েছিল
কিন্তু শেষমেশ তারই কবলে পড়ে যায়!
উনি পশ্চিমে নেল্লেরি থেকে শুরু করে কালিমুক্কু পর্যন্ত কর সংগ্রহের অধিকার দাবি করছেন।
মহারাজ, আমরা কি পর্তুগিজ সেনাদের সাহায্য নিতে পারি না?
কেউ যেন আমাকে নিষ্ক্রিয় থাকার পরামর্শ না দেয়!
আমি এর সমাধান চাই!
পুলিমুট্টু এখন মাম্মাদের জিম্মায়!
কে আসবে তোমাকে রক্ষা করতে?
কে আসবে শুনি?
রাজা মশাই?!
মহাশয়, দয়া করে মনে কষ্ট নেবেন না।
শুনেছি উত্তরে হারিপুরাম অঞ্চলে মার্শাল আর্ট জানা এক যোদ্ধা আছে।
উনি যেই ব্যক্তির কথা বললেন, উনি আমাদেরই পূর্বপুরুষ!
নীলিয়াথু পরিবারের কুঞ্জি কেলু।
এক মহান যোদ্ধা, যিনি জন্ম থেকেই সব ধরনের যুদ্ধের কৌশলে দক্ষ, যার প্রতিটি পদক্ষেপে যুদ্ধের গভীরতা ও শক্তি ফুটে ওঠে।
যেন সাক্ষাৎ ঈশ্বর!
দেখো! কেলু নায়ানার এসে গেছে!
ঝড়ের বাহক!
রাজার ভৃত্য না-কি তুই?
পুরষ্কারটা না-হয় ওনার থেকেই নেব
আগে তোকে শেষ করে নেই।
শালা হারামি!
আপনি এডাক্কালের গৌরব রক্ষা করেছেন!
মন থেকে অনুরোধ করছি
বলুন কীভাবে আপনাকে পুরষ্কৃত করতে পারি?
আপনি যা চাইবেন তাই দেয়া হবে।
এই প্রাসাদে এক বিস্ময় রয়েছে, যা আমি ছোটবেলা থেকেই দেখতে চেয়েছি।
শ্রীপোথি প্রদীপ, যেটা আমার গ্রামে এসে পড়া ভগ্ন তারাপাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল।
প্রদীপটা এই ভূমিকে কীভাবে সমৃদ্ধ করেছে সে বিষয়ে অনেক শুনেছি।
আমার ইচ্ছে, প্রদীপটা আমি হারিপুরামে নিয়ে যাব।
মহামান্য, যদি আমাকে কিছু দিতেই চান,
তাহলে অনুগ্রহ করে সেই প্রদীপটিই দিন।
শুধু একটাবার দেখেছি।
সোনা দিয়ে তৈরি?
সোনার চেয়ে অধিক দামী।
তোমারই মতো।
প্রদীপটা আবার দেখতে চাও?
আমিই হই বা আমাদের গ্রামের লোকেরা, মন চাইলেই কি প্রদীপটা দেখতে পাব?
আমার ইচ্ছে
এই গ্রামের সবাই যখন ইচ্ছে প্রদীপটা দেখতে পাবে। কোনো বৈষম্য থাকবে না।
প্রদীপটাকে ওখানেই স্থাপন করা হবে যেখানে তারাপাথরটা এসে পড়েছিল।
কিন্তু ভাগ্যবিধাতা'র হয়তো অন্যরকম ইচ্ছে ছিল।
সারা গাঁয়ে স্মল পক্স ছড়িয়ে পড়ল, মানুষ মরতে শুরু করল।
সবাই এতটাই ভয়ে পেয়ে গিয়েছিল যে
পরিবারের আক্রান্তদের সেবা করার সাহসটুকুও কেউ দেখাতে পারছিল না।
দুঃসহ একটা সময় যাচ্ছিল!
না খোকা।
দেবী মা রুষ্ট হয়েছেন। দয়া করে ভেতরে যেও না।
যদি এটা দেবী মায়ের অভিশাপ হয়ে থাকে, তাহলে এর প্রতিকারও তিনি জানেন।
যদি কেউ অসুস্থ হয় তাহলে তাকে চিকিৎসা দিতে হয়।
চোথিকে নিয়ে যাওয়ার দশম দিনের মাথায়
কেলুও স্মল পক্সে আক্রান্ত হয়।
হয়তো
চোথি'র অসুখটা কেলু নিজের উপর নিয়ে নিয়েছিল।
কেউ কেউ এমনটাই মনে করে।
চোথি?
সুস্থ হয়ে গেছে।
স্থাপনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে?
হ্যাঁ।
তবে আপনার ইচ্ছানুযায়ী হয়নি।
নিচু শ্রেণির মানুষকে ঢুকতে দেয়া হবে না।
রাজা মানা ভার্মা একটা বার্তা পাঠিয়েছেন।
বলেছেন বিষয়টা অত্যন্ত গোপনীয়।
কাগজে কী এমন লেখা ছিল যা দেখে উনি এতটা কষ্ট পেয়েছিলেন?
সেটা আজও জানা যায়নি।
দাদী...
আহ...হ্যাঁ...
হারিপুরামের মানুষ তো বড়ই হয়েছে কুঞ্জি কেলু'র গল্প শুনে।
অনেকে তো মার্শাল আর্টও শিখেছে।
যেখানে শ্রীপোথি প্রদীপটা স্থাপন করা হয়েছিল
সেটা হয়ে গেল চিয়োথি মন্দির।
কুঞ্জি কেলু প্রদীপটা এনেছিল
যাতে এই ভূমি সমৃদ্ধ হয়।
'অঙ্কথল্লু' প্রতিযোগিতার কথা মনে আছে
যেটা পাঁচ বছর অন্তর মন্দিরের সামনে অনুষ্ঠিত হয়?
প্রদীপটাকে গ্রামে ফিরিয়ে আনায়, ওনার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে এই আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়।
আর চোথি'র কী হয়েছিল?
শুনেছি তার মা তাকে নিয়ে নাগারকোইলে চলে গিয়েছিল।
প্রভু!
আচ্ছা দাদী...
চোথি কি অন্তঃসত্ত্বা ছিল?
আচ্ছা?
তাই নাকি?!
এই বয়সে কেউ এসব জিজ্ঞেস করে?
চুলোয় যাক চোথি'র কাহিনী!
মানুষের কাজই হচ্ছে গুজব ছড়িয়ে বেড়ানো।
দাদী...
মানিয়ানের গল্পটা আমাকে শোনাবে?
তোমার উচিত ঘুমোনোর আগে ঈশ্বরের নাম জপ করা।
তা না করে শুনতে চাইছো একটা চোরের গপ্পো, যে কি-না চিয়োথি প্রদীপ চুরি করেছিল?
চলো ঘুমাও এখন!
তার গল্পগুলো রাতের বেলায় বলা উচিত না, সোনা।
বজ্জাতটা সর্বত্র লুটপাট করার কারণে, আমাদের মান-মর্যাদা বিপদে পড়েছে!
কিছু মানুষের জন্মই হয় সুযোগের সদ্ব্যবহার করার জন্য!
কারিয়া গুরু আর কুমারা গুরু এখানে আছে তো?
হ্যাঁ, সবাই এখানেই আছে।
চতুর্দিকে নজর রাখো, টুপ করে ঢুকে পড়তে পারে!
আজই যেন তার বেল বাজানোর শেষ দিন হয়!
দরকার হলে শেষ করে দেবে!
শালা চোট্টা!
সর্বনাশ! বেল বাজার আওয়াজ না ওটা?
সে আসছে!
ও-দিকটা দেখো!
উত্তর দিকটা দেখো!
কোথায় সে?
- আমার চেইন কোথায় গেল! - ওইত্তেরি!
আগেই সতর্ক করেছিলাম!
চেইনের কথা ছাড়ুন, আপনার সোনার দাঁতও যে হাওয়া!
এহ?! আমার দাঁত!
হেই! মানিয়ান!
রাক্ষস ছিল। সত্যিকারের রাক্ষস।
মানিয়ান দুর্ধর্ষ একজন লোক ছিল!
দাদী বলেছে- তাকে ধরার জন্য নাকি
বাবা, দাদু আর গ্রামের শতাধিক মানুষ একত্রিত হয়েছিল।
অন্যথায় কী যে হতো!
প্রদীপটার অনেক ক্ষমতা ছিল।
প্রদীপটা চুরি করার কারণেই না-কি সে ডুবে মারা গিয়েছিল!
যতসব বাজে কথা! দেখেছিলি তুই?
যতবারই সে দোকানে আসে টাকা যেন উধাও হয়ে যায়!
মানিয়ানে'র বংশধর বলে কথা!
এই ছেলে নির্ঘাত হাতসাফাই জানে
এক চুটকিতে সব কেমন গায়েব করে দেয়।
জামা প্যান্ট খোল!
- ছেলেটা সিজনাল চোর! - অজয় না?
হ্যাঁ, ও-ই তো!
সবাই আমাকে ক্ষ্যাপায়। বলে আমি নাকি চোরের নাতি!
কেউ আমাকে খেলায় নিতে চায় না!
কারো বাড়িতে গেলেই কেমন...
সন্দেহের চোখে তাকায়!
এমনকি স্কুলেও!
নানা ভাই...
তোমার নানা ভাই এমন একজন চোর ছিলেন যিনি পুরো গ্রামটাই জয় করেছিলেন!
চোর হতে গেলে নিজের ভূমিকে ভালো করে জানতে হয়
মাকড়সার মতো ধৈর্যশীল হতে হয়
শেয়ালের মতো ধূর্ত হতে হয়।
কাক আর বিড়াল কিন্তু মানুষের চেয়েও ভালো বন্ধু হয়!
সর্বনাশ! আমার চাবি কোথায় গেল!
আজায়ানের প্রথম চুরি
CQ CQ CQ
ভিক্টর ইউনিফর্ম টু ফোন করে অপেক্ষা করছে
CQ CQ CQ
ভিক্টর ইউনিফর্ম টু ফোন করে অপেক্ষা করছে
হ্যালো?
আমিই প্রশ্ন করি, আবার আমিই উত্তর দেই।
হয়তো কিছুটা বিরক্ত হও।
কিন্তু ভুলে যেও না কেরালায় আমিই প্রথম ব্যক্তি
যে তার প্রিয় মানুষটার সাথে কথা বলার জন্য হ্যাম রেডিয়োর লাইসেন্স পেয়েছে।
হাসবে না!
যাদের হ্যাম লাইসেন্স থাকে তারা যেন-তেন কোনো ব্যক্তি নয়!
ফিল্মের অভিনেতা মামুত্তি
কমল হাসান
তারপর রাজীব গান্ধী
বলতে শুরু করলে আর শেষ হবে না।
অবশেষে আমিও সেই তালিকায়!
তো...
আর কী বলব?
খেয়েছ?
দশটা দশ বাজে।
No comments yet. Be the first to leave one.