İlk 166 satır.
অনুবাদ ও সম্পাদনা মোহাম্মদ ইউসুফ
অক্টোবার, ১০১৩ খ্রিস্টাব্দ লল্ডন, ইংল্যান্ড
লন্ডন ব্রিজের যুদ্ধ।
দেখে তো এটাকে ব্রিজ মনে হচ্ছে না!
ব্রিজের চেয়ে প্রাসাদ মনে হচ্ছে!
বেশ চমৎকৃত হলাম, লন্ডন!
এই শহরটা বছরের পর বছর বিভিন্ন আক্রমণ সত্ত্বেও টিকে থেকেছে।
শহরটার অনেক ইতিহাস রয়েছে।
এখন আত্মতুষ্টিতে ভোগার সময় না, আশিরাদ।
এই শহরটাকে আজ বেশ ধকল সহ্য করতে হবে।
তুমি বলেছ, যুদ্ধটা সহজেই জিতে যাব আমরা। সেজন্যই এখানে এসেছি।
দুঃখিত, দুঃখিত!
কখনো ভাবিনি থোরকেল কখনো শত্রুর হয়ে লড়বে!
থোরকেল? ওই ধুরন্দর বাদুড়টার কথা বলছ?
টাকার জন্য দরকার হলে নিজের মাকেও বেশ্যালয়ে বেঁচে দিতে পারে, হারামজাদা।
বিশ্বাসঘাতক একটা।
আমরাও এখানে পয়সার জন্যই এসেছি।
ডেনমার্কের সেনাবাহিনীর পক্ষে লড়ছি আমরা, কারণ আমাদের মতে রাজা সিউনের জেতার সম্ভাবনা আছে।
বাকি সবাই একই ধান্দায় লড়ছে।
তারা যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করে...
ইনামের ভাগ পেতে মরিয়া!
এখানে অনেক আছে, বুঝলে? কেউই খুব বেশি কিছু পাবে না।
আমি অর্থের জন্য লড়ি না।
খুন খারাবী ভাল লাগে আমার কাছে।
তোমার উপর নিশ্চিন্তে ভরসা করা যায়, বিয়র্ন!
প্রত্যেকেই লন্ডনকে দখলের জন্য মরিয়া হয়ে আছে।
যদি টেমস নদীর দখল আমরা নিতে পারি...
তাহলে, ওয়েসেক্স থেকে মালামাল সরবরাহের ভাল একটা রুট পাওয়া যাবে।
বড় বড় নেতারা সবাই এই যুদ্ধের দিকে নজর রাখছে।
হুম , এখানেই চাইলে তুমি তোমার সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করতে পারবে।
কী বলছ?
কোন পরিকল্পনা আছে তোমার?
আসলে...
এটা পরিকল্পনার আওতায় তেমন পড়ে না।
থোরফিন!
তোমার জন্য কিছু কাজ আছে।
যাও, থোরকেলের মাথা নিয়ে আসো।
কথা দাও, যা চাই তাই দেবে?
দেব, দেব!
জানিই তো কী চাইবে! তোমার মত গোঁয়ার আর কেউ আছে নাকি এখানে?
এমন একটা কাজে যাচ্ছ, যেখানে তোমার জেতার সুযোগ কম।
তবে, তোমার বাবার জন্য হলেও আশা করি কাজটা করতে পারবে।
ভুলে যেও না, আশিরাদ।
আমার যোদ্ধা হওয়ার একমাত্র কারণ হচ্ছে...
দ্বৈত লড়াইয়ে তোমাকে পরাজিত করা।
আমাদের পরবর্তী দ্বৈত লড়াই হবে তোমার জীবনের শেষ লড়াই।
তোমার হৃদয়টাকে বুকের খাঁচা থেকে বের করে...
আমার বাবার বিদেহী আত্মার জন্য উৎসর্গ করব!
কাজে লেগে পড়ো!
যুদ্ধে লড়া লড়াকু যোদ্ধারাই কেবল জীবনে যা চায় তাই পায়!
তোমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না!
আমার মাথার মূল্য এত স্বস্তা নয়!
তুমি যখন চাও, তখন তোমার সাথে দ্বৈত লড়াই লড়ব।
যাও, থোরকেলের মাথাটা নিয়ে আসো।
হেই!
আশিরাদ!
কে?
আমাদের জাহাজ ব্রিজের দিকে আগাচ্ছে।
জমসভাইকিংসের দল! সমুদ্রের ড্রাগন!
তারা সেনাবাগিনীর বার্তাবাহক।
ফ্লোকির লোক নাকি ওরা?
বাজী ধরে বলতে পারি, শালা নিজেও থোরকেলকে হারানোর মতলব আটছে..
ইংল্যান্ড যা দেবে, তার চেয়েও দ্বিগুণ দেবার কথা বলে!
থোরকেল টাকার জন্য সব করতে পারে।
আমি নিশ্চিত, ও ব্যাটা তার প্রস্তাব গ্রহণ করবে।
আমি অতটা নিশ্চিত হতে পারছি না যদিও।
ওরা আসছে!
একটা মাত্র নৌকা!
এদিক দিয়ে, তাড়াতাড়ি করো!
মর শালারা!
এই নে!
ফায়ার, ফায়ার!
ফায়ার করো না! আমরা বার্তাবাহক!
আমরা থোরকেলের সাথে কথা বলতে চাই।
মর তোরা!
আমরা এখানে লড়তে আসিনি।
থোরকেল কোথায়?
তোদের একটা কথাও শুনব না!
এই যে!
থামো!
জি, মালিক!
সবাই, ফায়ার করা বন্ধ করো!
ফ্লোকি, অনেকদিন পর সাক্ষাৎ হলো!
দেখে তো তোমাকে আগের চেয়েও মোটাতাজা লাগছে!
বাজে কথা অনেক হয়েছে!
রাজা সিউয়েন একটা বার্তা পাঠিয়েছেন, আমি এখানে শুধুমাত্র বার্তাবাহক হিসেবে এসেছি।
রাজা বলেছেন...
"ইংল্যান্ডের রাজা ফ্রেঞ্চদের ভূমি থেকে পালিয়েছেন!"
লড়াই চালিয়ে যাওয়া বৃথা।
আত্মসমর্পন করো সবাই!
যদি আত্মসমর্পন করো, থোরের বিদেহী আত্মার শপথ করে বলছি...
আমি আপনার এবং আপনার লোকেদের কোন ক্ষতি করব না।
আপনারা নিজেদের চাওয়া অনুযায়ী বাঁচতে পারবেন।
তোমরা ফিরে চাও, থোরকেল।
রাজার ইচ্ছে এটাই।
রাজা সিউয়েন এসেছেন এখানে?
এত মানুষ থাকতে...
তোমার মতো বুড়োকে পাঠালো?
থোরকেল...
কেন শুধুশুধু তোমার পুরনো বন্ধুর দিকে তরবারি তাক করছ?
দীর্ঘদিন আমরা যুদ্ধের ময়দানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছি।
দুনিয়ার হালচাল সম্পর্কে ভুল ধারণা রেখো না।
তোমার ভাই সিগভালদিও তোমার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন।
দুনিয়ার হালচাল সম্পর্কে ভুল ধারণা?
যা বললে!
গত বছরও ইংরেজদের বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধ করেছি, এটুকুই আমার মনে আছে।
ওরা আসলেই বেশ দুর্বল।
- ওদের দলে কচি, পিচ্চি এগুলো ভরা! - কী?
- নর্স না? - ওদের প্রাণশক্তির অভাব রয়েছে!
হতে পারে।
যুবরাজ এডমান্ড ছিলেন একমাত্র জেনারেল...
যিনি ডেনমার্কের আর্মিদের সামলাতে পারতেন।
এই দেশটা শেষ আসলে।
তাই নাকি?
হুম, অন্যভাবে বললে...
তোমার বিরুদ্ধে লড়ে...
মজাটা বেশি পাবো!
কী?
যথেষ্ট কথা হয়েছে।
এবার যুদ্ধের পরবর্তী অংশে চলে যাওয়া যাক।
দাঁড়াও, থোরকেল।
আমি কথা দিচ্ছি, ইংল্যান্ড যা দেবে তার দ্বিগুণ দেব আমি!
ঠেলা সামলাও, ফ্লোকি!
পিছু হটো! দ্রুত!
সময় এসেছে এবার...
সবকিছু পিষে ফেলার!
উফ, মিস করে ফেললাম!
ফিরে চলো!
দ্রুত!
ওদেরকে মেরে ফেলো!
জি, মালিক!
ফিরে চলো, ফিরে চলো!
অই, ফ্লোকি!
রাজা সিউয়েনকে গিয়ে জিজ্ঞেস করো...
উনি ক্রমাগত যুদ্ধে জিততে জিততে বোর হয়ে গিয়েছেন কিনা?
ওকে আমাদের দলে আনার জন্য প্রলুদ্ধ করে আর ফায়দা নেই।
হুম, দেখলাম।
সময়টা অযথা নষ্ট হলো।
তো, এখন আমাদের করনীয় কী?
যত দ্রুত সম্ভব ওদেরকে আক্রমণ করো।
ধ্যাত, ওরা ব্রিজের খুঁটিতে আঘাত করছে!
তাড়াতাড়ি করো।
- ধুর, মিস করে ফেললাম! - আরো পাথর নিয়ে আসো!
সরে যাও, বাচ্চারা!
এবার এটা সামলা!
কেমন লাগল? এটা হচ্ছে আমার তুরুপের তাস! এক টেক্কাতেই কিস্তিমাত করে দেয়!
এরপর...
দ্রুত করো!
জি মালিক!
কী ব্যাপার, সিউয়েনের কুকুরেরা?
এত সহজে হাল ছেড়ে দিলে চলবে?
আমি জানি, তোমরা চেষ্টা করলে পারবে।
এভাবে টুকুটুক করে লড়লে লন্ডন ব্রিজ শত বছরেও দখল করতে পারবে না!
বারে বাহ! একেই বলে, মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি!
থোরফিন, শুনতে পাচ্ছো আমার কথা?
হোঁৎকা, শুয়োরের মতো দেখতে মোটাসোটা লোকটাই...
থোরকেল!
মাদারচোদের দল, জাহাজ নিয়ে আর আগাস না!
কাছে গেলে শালা পাথর মেরে ছাতু বানিয়ে ফেলবে!
বাঁয়ে যাও।
সামান্য বাঁয়ে!
অনেক হয়েছে!
এবার যাও!
ওকে কেউ ছুবি না!
এই ছেলেটা...
আমার শিকার!
No comments yet. Be the first to leave one.