İlk 187 satır.
"১৬ই নভেম্বর, ২০২২"
"ছবির এই লোকটিকে পুলিশ খোঁজা শুরু করে দেয়।"
"সে সিরিপুরামে বিখ্যাত শিল্পপতি ভারাদ্বাজের বাড়িতে ঢুকে পড়ে..."
"যেখানে তাঁর কন্যা প্রিয়া, বিখ্যাত সাংবাদিক সাগরের স্ত্রী"
প্রিয়া...
"বাকিটুকু ৬ষ্ঠ পৃষ্ঠায় পুড়ুন..."
১৬ই নভেম্বর!
১৬ই নভেম্বর!
এটা তো আগামীকাল!
প্রিয়া...
প্রিয়া...
ধরো!
শক্ত করে ধরো, ভাইলোগ!
স্যার, কিছু তো একটা আছে মাটির নিচে!
স্যার!
এটা তো মানুষের লাশ!
ভাইয়েরা, সাবধানে বডিটা তোলো!
- ম্যাডাম! - কী হয়েছে, রাঙ্গা?
আমরা কোথির ডেড বডি পেয়েছি!
রাঙ্গা, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাও।
ড. অশোককে ফোন দাও। তাঁকে বলো, এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ!
- কোথির ফ্যামিলিকেও জানাও! - ঠিক আছে, ম্যাডাম!
যদি তাঁর স্ত্রী লাশ শনাক্ত করতে না পারে...
- তবে স্বত্বর ডিএনএ টেস্টের জন্য পাঠিয়ে দেবে! - অবশ্যই, ম্যাডাম!
এটা কোথির লাশ হিসেবে শনাক্ত হলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে,
রিমান্ডে সাগর এবং অজয় ঘোষকে আমার চাই!
স্যার...
স্যার, নমস্কার!
- আপনি কে? - আপনি আমার স্বামীকে গ্রেফতার করেছিলেন।
- সে ব্যাপারে কথা বলতে এসেছি আপনার কাছে? - কে আপনার স্বামী?
কোথি, ট্রাক ড্রাইভার।
- আচ্ছা, আপনি কোথির স্ত্রী? - জ্বি, স্যার!
- ভেতরে আসুন। - না, থাক স্যার।
আমি শুধু কথা বলতে এসেছিলাম।
বাইরে বৃষ্টি পড়ছে! তুমিও তো ভিজে গেছ! ভেতরে আসো।
আসো? সমস্যা নেই।
বসো।
স্যার...
- আরে, এখানে বসো! কোনো সমস্যা নেই। - ব্যাপার না, স্যার।
এখানে বসে কথা বলো। অস্বস্তি বোধ করো না।
আসো।
কী নাম তোমার?
- কালা, স্যার। - কালা!
স্যার, থানায় অনেকবার এসেছিলাম আপনার সাথে কথা বলার জন্য।
কিন্তু...
উনারা আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেননি।
সেজন্যই আপনার বাড়িতে এসেছি কথা বলার জন্য।
একদম ভিজে গেছ। আগে শরীর মুছে নাও।
নাও।
লজ্জার কিছু নেই, নাও।
দেখো, কালা...
তোমারত স্বামী মামুলি কোনো এক্সিডেন্টের কারণে গ্রেফতার হয়নি।
সে উত্তরপ্রদেশ থেকে অবৈধভাবে অস্ত্র এনে চোরাকারবারি করছিল।
জানোই তো, এসব স্মাগলিং কেস কী রকম ভয়ানক!
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এসব বিষয় নিয়ে কাজ করে।
- এটা আমার এখতিয়ারের বাইরে। - স্যার...
জানি না ওকে কখন তাঁরা ছেড়ে দেবে।
আদৌ ছাড়বে কিনা সেটাও জানি না।
স্যার, ঘরে আমার তিনটা বাচ্চা আছে।
ওরা গত দু'দিন ধরে কিছুই খায়নি।
- শুধু "বাবা","বাবা" করছে! - আরে আরে! কাঁদছ কেন তুমি?
ডিপার্টমেন্টে মোহন নামে আমার এক ফ্রেন্ড আছে।
একটা ফোন কল দিলে দু'দিনের মধ্যে তোমার স্বামী ছাড়া পেয়ে যাবে।
কান্নাকাটি করে সমস্যার সমাধান হবে না, বুঝেছ?
তোমার স্বামীকে ছাড়ানো এখন আমার দায়িত্ব, বুঝেছ?
ওকে?
শুধু তোমার আমার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
ওকে?
আমার কথা বুঝতে পারছো তো?
যদি আমাকে খুশি করে দাও...
আমি তোমার যে কোনো প্রয়োজনে এগিয়ে আসবো।
শোনো, কালা...
দেখো, এখনো কীভাবে ভিজে আছো!
সমস্যা নেই! আমি তো আছি তোমার পাশে!
কী বলো, কালা?
তোমাকে আমার জন্য কিছুই করতে হবে না!
মনে রেখো, এটা করছ তোমার স্বামীর জন্য!
ঠিক আছে?
ওকে?
জোষ!
ভেতরে চলো! আমরা ভেতরে কথা বলি!
আসো!
জলদি আসো না?
ঈই সময়ে কে আসলো, ক্রান্তী?
ঘুমিয়ে পড়ো, মা! আমি দেখছি!
এখানে কেন এসেছ, সাগর?
তা-ও এত রাতে?
চার্লস যখন মারা গিয়েছিল তখন সেখানেই ছিলাম আমি।
সে আমার চোখের সামনেই আত্মহত্যা করে।
আমিই ঘোষকে ঘুষ দিয়ে কোথিকে টর্চার করাই।
ঘোষ টর্চারের কারণে মারা গিয়েছে মনে করে...
আমার ফার্মহাউসে বডিটা ফেলে যায়।
কিন্তু যখন সেখানে গেলাম দেখলাম কোথি তখনও বেঁচে আছে!
কিন্তু, কোথি স্লিপ খেয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে মারা যায়!
তারপর ওকে কাছাকাছি স্থানে কবর দেই...
এবং, ওর বডির উপরে কুকুরটার ডেড বডিও মাটি চাপা দেই।
ওখানে খুঁড়লে ওর ডেড বডিটা পেয়ে যাবেন।
আমি এর সবকিছুই জানি।
আমরা ইতোমধ্যেই মাটি খুঁড়ে কোথির লাশ উদ্ধার করেছি।
এখন এসব স্বীকার করে আদতে কোনো ফায়দা নেই।
কিছু বলার থাকলে আদালতে গিয়ে বলবে।
- তুমি এখন যেতে পারো। - ক্রান্তী, প্লিজ!
ক্রান্তী, আমার কথাটা শোনো।
পত্রিকার এই টুকরোটা দেখো!
গত এক সপ্তাহ ধরে এগুলো আমার পিছু তাড়া করছে!
ক্লু
আমার সংস্পর্শে থাকা লোকজন কীভাবে মারা যাবে সেগুলো এখানে অগ্রীম লেখা ছিল!
অগ্রিম প্রকাশিত ছিল!
এই টুকরোটা আমি এক ঘন্টা আগে পেয়েছি!
দেখুন!
প্রিয়ার নিউজ!
তারিখ দেখুন! নভেম্বরের ১৬ তারিখ!
জানি না প্রিয়ার নিয়তিতে কী লেখা আছে!
ওয়ান্টেড!
ক্রান্তী, অঞ্জলিকে তো আমি বাঁচাতে পারিনি।
অন্তত প্রিয়া আর আমাদের সন্তানকে তো বাঁচাতে পারি!?
এই লোকটা কে আমার কোনো আইডিয়াই নেই!
প্রিয়াকেই জিজ্ঞেস করতে হবে। হয়তো ও জানতে পারে।
ক্রান্তী, আমার ওকে সতর্ক করতে হবে!
কিন্তু, ও এখন আমার সাথে কথা বলবে না!
আমাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল!
ও এখন ওর বাবার বাড়িতে অবস্থান করছে!
ওরা আমাকে আসার অনুমতি দেবে না!
ক্রান্তী, প্লিজ আমার সাথে চলুন!
কথা দিচ্ছি...
এসবের অবসান হলে আমি নিজেই থানায় আত্মসমর্পণ করব।
সাগর, তুমি আসলে কী বলতে চাইছো?
এই পত্রিকার ব্যাপারটা আসলে কী?
তো, ১৯৬২ সালে...
সাতিয়ামূর্তি নামে একজন তাঁর প্রিন্টিং মেশিনের সাথে মারা যায়।
তখন থেকে মেশিনটি পত্রিকা ছাপিয়ে...
একের পর এক দূর্নীতিপরায়ণ সাংবাদিকদের একের পর এক খতম করছে।
এটাই তো বলতে চাইছ?
ক্রান্তী, আমার কথা বিশ্বাস করো।
আমাদের হাতে সময় বেশ অল্প।
প্রিয়ার সাথে দ্রুত আমার দেখা করতে হবে!
প্লিজ!
ক্রান্তী, প্রিয়ার সাথে আমাদের দেখা করতেই হবে!
এগুলো তো সবই একই পত্রিকার টুকরো।
দেখো।
কেমন জিগস পাজলের মতো মিলে যাচ্ছে।
সবগুলো একসাথে জুড়লে মধ্যখানে আরো একটা লেখা পাচ্ছি!
এটা কী?
"সাব ইন্সপেক্টর অজয় ঘোষ নির্মমভাবে খুন হয়েছে!"
কী?
হে ভগবান!
শিট!
"মানিকাপুরামের পুলিশ কোয়ার্টার ভবনে SI অজয় ঘোষকে তাঁরই..."
"অস্ত্র দ্বারা নির্মমভাবে গুলি করে খুন করা হয়েছে!"
"প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় যে..."
"খুনটি সংগঠিত হয়েছে রাত ১.০০ টার আশেপাশে।"
"খুনি পিস্তলের সবগুলো গুলি খরচ করেছেন"
"চারটা গুলি অজয় ঘোষের দেহে বিদ্ধ হয়"
"বাকি গুলিগুলো মিস করে..."
"তাঁর পেছনে দেয়ালে গিয়ে লাগে"
এসব কী?
- হ্যাঁ, রাঙ্গা? - ম্যাডাম, আমি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে আছি!
কেউ অজয় ঘোষকে গুলি করে মেরে ফেলেছে!
কখন হলো এটা?
রাত ১.০০ টার আশেপাশে হবে, ম্যাডাম।
১৫ মিনিট আগে...
প্রতিবেশীরা কন্ট্রোল রুমে গোলাগুলির শব্দ পেয়ে ফোন করে।
রাঙ্গা...
তুমি কি বলতে পারবে কয়টা গুলি করা হয়েছে?
দেখে জানাচ্ছি, ম্যাডাম।
মনে হচ্ছে, পুরো ম্যাগাজিনই খালি করা হয়েছে।
ছয়টা গুলি মনে হচ্ছে অজয় ঘোষের দেহে লেগেছে।
রাঙ্গা, না!
পাঁচটা গুলি ছোড়া হয়েছে!
চারটা তাঁর শরীরে লেগেছে...
একটা গুলি টার্গেট মিস করেছে!
বডির পেছনে চেক করো!
ঠিকই বলেছেন, ম্যাডাম!
একটা গুলি দেয়ালে আটকে আছে!
আপনি কীভাবে জানেন, ম্যাডাম?
আমি তোমাকে পরে ফোন দিচ্ছি।
একদম তাই হয়েছে।
যেভাবে লেখা ছিল সেভাবেই হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে।
আর কতক্ষণ লাগবে তোমার?
এটা তো আমার স্বামীর, তাই না?
- কোথায় পেয়েছ এটা? - কী করেছেন আমার স্বামীকে?
কী করেছেন আমার স্বামীকে?
রাত দুপুরে চেঁচামেচি করে মাথা খারাপ করছিস কেন?
জানিস তো কার সাথে কথা বলছিস?
কী করেছেন ওকে?
শান্ত হও! বলছি!
তোর জামাই স্মাগলার ছিল।
No comments yet. Be the first to leave one.