প্রথম 200টি লাইন।
• • • অনুবাদ ও সম্পাদনায় • • • সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
যখনই এমন কিছু হয়, আমার একটা কথা মনে পড়ে যায়।
কারো মৃত্যুই বৃথা যায় না।
প্রতিটা মৃত্যুই আমাদের শিক্ষা দিয়ে যায়।
একটাই শিক্ষা।
"প্রতারণা করা যাবে না।"
এটা কি এতই কঠিন?
ওর মৃত্যুও বৃথা যায়নি।
ওর মতো হারামিও আমাদের কিছু শিখিয়ে গেছে।
তো...
তোমরা শিখতে প্রস্তুত?
ফোন বাজলে, কেটে আবার ফোন দিও।
আমি অন্য কোনো নাম্বারের কল ধরি না।
আজকের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করো।
আবার সুযোগ দিব না।
ও ডিলেভারি করে ফেরত এসেছে।
- কোনো সমস্যা হয়েছে? - না, স্যার।
- প্রথমবার হিসেবে ভালোই করেছে। - টাকার উপর নজর রেখো।
জি, স্যার।
জং-বে।
একে কি প্রতারণা বলা হবে?
হারলে, প্রতারণা বলা হবে।
কিন্তু জিতলে, একে অন্য কিছু বলা হবে।
বিশ্রাম করুন, স্যার।
"হেড কার্টেলের টাকা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে"
"আমাকে ফোন করো।"
কী ওটা?
সেল ফোন মনে হয়।
এমন না যে ফোনটা সোনার তৈরি।
তাহলে ওকে হঠাৎ করে এই ফোন দিতে গেল কেন?
হেড কার্টেল?
একদম।
ভালো করে দেখো। এটা তো 2G ফোন, তাই না?
আজকাল 2G ফোন কেউ ব্যবহার করে না।
2G ফোন ট্র্যাক করা খুব কঠিন।
2G ফোন তারাই কেউ ব্যবহার করে যাদের কিছু লুকানোর থাকে।
তো, আমরা এই ফোন পেয়ে গেলে, ওদের খেল খতম।
- একদম। - জোশ!
যাক তোমরা অবশেষে একটা কাজের কাজ করেছ, তাই না?
নাহলে সবসময় ওদের থেকে এক কদম পিছনে চলছিলে।
ঝামেলাটা মেটানোর জন্য হেড কার্টেল সাহায্য করবে।
ওকে আমরা হাতছাড়া করতে পারব না।
প্রফেসরের উপর কড়া নজর রাখো। ওর স্বাক্ষ্য লাগবে আমাদের।
- ওকে মরতে দেওয়া যাবে না। - বুঝেছি।
এখন তোমরা আসতে পারো।
- ধন্যবাদ। - ধন্যবাদ।
শুভ কামনা রইলো।
ইস। কত মাল খেয়েছ?
কী করছ?
- তোমাদের মাঝে কি ইন্টুমিন্টু চলছে? - শালা হারামি।
- ইন্টুমিন্টু তো তোমার চলে! - ধুরো!
ইস। এত মাল খেও না, বুঝলে?
- নাহলে গাড়ি চালাতে পারবে না। - চলো যাই।
- পরে দেখা হবে। - বাই।
- কী চাও তুমি? - অ্যাঁ?
কোয়াং-ছুলের উপর আমি নজর রাখছি, তুমি গিয়ে আরাম করো।
ড্রাগ ডিলারদের উপর আজ অপারেশন শুরু হচ্ছে, কিন্তু ইয়ং-সু গতকালই ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে।
বাকিরা গ্রেফতার হচ্ছে।
- গতবারও তো এমন হয়েছিল, তাই না? - হ্যাঁ, ঠিক।
কেউ তো ভেতরের তথ্য ফাঁস করছে।
হিয়ন-উ।
হিয়ন-উ।
হিয়ন-উ।
মা?
স্যরি, হিয়ন-উ।
- স্যরি কেন বলছ? - তোমাকে নিতে আসতে পারিনি তাই।
রাতে খেয়েছ? কিছু বানিয়ে দিব?
রামেন খেয়েছি।
কিন্তু ইয়ন-উ এখনও বাসায় ফেরেনি।
ও আজ রাতে এক বন্ধুর বাসায় থাকবে।
মা, তোমায় আর আমাকে নিতে আসা লাগবে না। তোমারও তো আরামের প্রয়োজন আছে।
ধন্যবাদ।
ব্যস তুমিই আমার পরোয়া করো।
- লোকজন কোথায়? - জলদিই এসে পড়বে।
- গ্যারেজে টাকা আছে বলেছিলে না? - জি, স্যার।
কোয়াং-ছুলের লোকজন আসলে, সামলে নিও।
- মেরে এক্কেবারে ভোগে পঠিয়ে দিবে। - জি, স্যার।
এই, দাঁড়াও।
"০৮০৯।"
এ-ই মনে হয় ডিলেভারি ম্যান।
কোয়াং-ছুলের বদৌলতে, এই লোক চরম একটা হোগা মারা খাবে।
সাবাশ। টাকা ওখানেই রেখে দাও।
আমি আবার যোগাযোগ করব।
মালের হেফাজত কোরো।
কী, কীসের মাল?
স্যরি।
তোমার মেসেজটা দেখিনি।
আজ একটু ব্যস্ত ছিলাম।
ইয়ন-উ কোথায়?
ওর ঘরে আছে?
পালিয়ে গেছে।
কী?
হিয়ন-উ মেডিকেল ফান্ডের টাকা নিজে প্রফেসর হবার পিছনে খরচ করেছ?
মি-ইয়ন বললো ওর স্বামীর থেকে শুনেছে নাকি।
বিয়ং-গুর সাথে ব্যবসা শুরু করছ?
টেক্সটবুকের?
কে তোমার কথার বিশ্বাস করবে?
তুমি একজন পার্ট-টাইম লেকচারার যে একটা কাজও ঠিকমতো সামলাতে পারে না।
তুমি সব টাকা হারিয়ে বসেছ, তাই না?
না।
আমি ফেরত পেয়ে যাবো।
সত্যি বলছি।
কিন্তু ব্যাপার হচ্ছে...
অবশ্যই।
তোমার দেওয়া প্রতিটা কথার পিছনে কোনো না কোনো ব্যাপার লুকিয়ে থাকেই।
না, তেমন না ব্যাপারটা...
আমি টাকাগুলো ক্যাশে পাবো।
ও বলেছে টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে দিতে পারবে না
কারণ টাকাগুলো বেআইনী নাকি।
কিন্তু, তাতে আমাদের কী?
আমরা টাকাগুলো ক্ল্যাশে পেলেই বা কী, তাই না?
কী বলো?
ইউন-জু, দাঁড়াও!
তুমি বিয়ং-গুকে ঝামেলায় ফেলবে।
ওটা ঘুষ ছিল। ও চাকরি হারাতে পারে।
সত্যি বলছি আমি কালকের মধ্যে টাকা পেয়ে যাবো।
স্যরি, ইউন-জু।
তুমি কি ক্ষমা চাওয়া বন্ধ করবে?
কেন আমাদের সনসময় ক্ষমা চাওয়া লাগে?
আমি এসবে সত্যিই...
বিরক্ত।
তোমার কারণে বাসায় ঝামেলা হচ্ছে।
তো?
কোথায় আছ তুমি?
বাড়ির পিছনে।
ভেবেছিলাম তুমি পালিয়ে গেছ। ওখানে কী করছ?
কারণ আমার কাছে টাকা নেই।
টাকা ছাড়া এ দুনিয়ায় কিছু করতে পারবে না।
ভেতরে চলে এসো।
ঘুমাও গিয়ে।
গায়ে দিও।
মা-বাবা ঘুমিয়ে পড়লে আমাকে মেসেজ কোরো।
ঠিক আছে। কিছু লাগলে বোলো আমাকে।
ব্যস টাকা বাদে।
ধুর।
ভেতরে চলে আসো। বৃষ্টি হচ্ছে।
আমি মায়ের মুখ দেখতে চাই না। মা ঘুমিয়ে পড়লে মেসেজ কোরো।
আমি মায়ের বদলে ক্ষমা চাচ্ছি।
স্যরি।
তুমি কেন ক্ষমা চাচ্ছ?
মা আমার কারণে তোমাকে সময় দিতে পারে না।
আমার পিছনেই সারাদিন ব্যস্ত থাকে।
চুপ করো।
মা ঘুমালে আমাকে মেসেজ করবে।
ঠিক আছে। তাহলে আপাতত গ্যারেজে গিয়ে থাকো।
বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে।
ধুর বাল...
আমি এখন একটু ব্যস্ত আছি।
বেঁচে থাকতে হলে তো কাজ করতে হবে।
তথ্যের জন্য ধন্যবাদ, কোনো সমস্যা ছাড়াই সব হয়ে গেছে।
তুমি জলদিই প্রতিদান পাবে।
কয়েকটা লোক ধরিয়ে দিব যাতে তোমার প্রোমোশন হয়ে যায়।
আমি ডেলিভারিতে বদলে যাওয়া টাকা ফেরত নিতে এসেছি।
কী?
তুমি কীভাবে জানলে?
কী! সত্যি বলছ?
আমার পিছনে এভাবে নজরদারি করা ঠিক না।
ভেবেছিলাম আমরা একই দলের লোক।
কী?
ধ্যাৎ, এ তো বিশাল বড় মাথা ব্যথা।
পুলিশ এই জায়গায় আছে। ওরা কোয়াং-ছুলের উপর নজরদারি করছে।
এখন কী করবেন?
আমরা কি টাকা নিয়ে কেটে পড়ব?
সেটা কীভাবে করবে? চারিদিকে তো ক্যামেরা লাগানো।
তাহলে, কোয়াং-ছুলের কাছে আমাদের পাঠানো লোকের কী করবেন?
জানি না। আপাতত বাদ দাও ওকে।
ধুর। টাকা আমাদের চোখের সামনেই আছে।
- এই, এখান থেকে বের হও। - জি, স্যার।
এই, গাড়ি ঘুরা।
বাইরে ঠান্ডা লাগছে না?
- কোথায় যাচ্ছ? - হাহ?
আর তুমি?
ইয়ন-উকে খুঁজতে। ওকে বাসায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
তাহলে বেশিদূর যেতে হবে না।
বাবা।
মা ইয়ন-উকে খুঁজতে গেছে।
কী?
ইয়ন-উ গ্যারেজে লুকিয়ে আছে।
গিয়ে একটু দেখবে মা যেন বেশি ঝামেলা না করে?
ও বলেছে টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে দিতে পারবে না
কারণ টাকাগুলো বেআইনী নাকি।
কিন্তু, তাতে আমাদের কী?
আমরা টাকাগুলো ক্ল্যাশে পেলেই বা কী, তাই না?
কী বলো?
ও এখানে নেই।
কী?
ইয়ন-উ।
কী?
ও এখানে নেই!
কী?
না, ব্যস...
ধ্যাৎ...
ইয়ন-উ কোথায়?
ওহ৷ বেশ।
ও তোমার মায়ের ভয়ে লুকিয়ে ছিল, কিন্তু মনে হয় আবার পালিয়েছে।
আমি ওকে খুঁজতে যাচ্ছি।
তুমি ভেতরে যাও, হিয়ন-উ। ঠিক আছে?
আমি মাত্রই মোটরসাইকেলের আওয়াজ পেলাম।
মোটরসাইকেল?
ভেতরে যাও।
No comments yet. Be the first to leave one.