প্রথম 200টি লাইন।
'৯০ দশকের শুরুতে। ভারতের পরিবর্তন হওয়ার যুগ।'
'পুরানো হিরোরা খতম হয়ে গেছিল, আর নতুনদের উত্থান এখনও বাকি ছিল।'
'মোবাইল, ইন্টারনেট আর সোশ্যাল মিডিয়ার আগেকার এই দুনিয়ায়...'
'...সবকিছু তার নিজ গতিতে ধীরে ধীরে চলছিল।'
'তাতে সেটা দেশের অর্থনীতি হোক...'
'...বা সরকারি দপ্তরে পেপারওয়ার্ক...'
'...বা কোনো ব্রেকিং নিউজ।'
'আর যদি কোথাও গতি ছিল, তবে সেটা বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে।'
'এখানে সাধারণ মানুষ প্রথমবার, নিজের ভাগ্যকে...'
'...শেয়ার বাজারের মাধ্যমে বদলানোর চেষ্টা করছিল।'
'আর এই জমকালো শেয়ার বাজারে...'
'...সবাই চোখে লাভের চমচা লাগিয়ে ফেলেছিল।'
'কিন্তু এই কালো চশমার পেছন থেকে, সাদা সত্যিটা সামনে থাকার পরেও চোখে পড়েনি।'
'আর তারপর আসে সেই দিন, যেদিন ভারতের অর্থ ব্যবস্থার ভিতকে নাড়িয়ে তুলে।'
'কিন্তু সেই দিনের কাহিনী শুরু হয় একদিন আগে।'
স্যার! মাফ করবেন, স্যার।
স্যার, আমি এডিটরের সাথে দেখা করতে চাই। খুব জরুরি ছিল, স্যার।
ওহ, আপনার ভালো নাম?
স্যার, আমি এস...এসবিআই থেকে শারাদ বেল্লারি।
আচ্ছা।
স্যার, আমার কাছে অনেক ভেতরকার খবর আছে।
তো, কোন এডিটরের সাথে দেখা করতে চান?
এক্সিকিউটিভ এডিটর? সিটি এডিটর? স্পোর্টস এডিটর? বিজনেস এডিটর?
- স্যার, যেকারো সাথে আমার দেখা করিয়ে দেন... - অ্যাসোসিয়েট এডিটর?
আমার কাছে মোটেও সময় নেই, স্যার।
আর সময় নষ্ট করলে, কালকের তাজা খবর আজ দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে বাসি হয়ে যাবে।
স্যার, আপনি চাইলে আপনাকেই শুনিয়ে দিই...
- আপনাকে দেখেও সিনিয়র এডিটরই মনে হচ্ছে। - ওহ, না, না...
আমি একজন সাধারণ মানুষ ব্যস।
- স্যার, আপনি... আপনি... - জ্বি... আর.কে. লাক্সমান। হ্যাঁ।
- মনে হচ্ছে আপনার খবর বেশ গুরুত্বপূর্ণ। - জ্বি, স্যার।
মনে হয় বিজনেস এডিটর জনাব কিরণ আজগাওকারের সাথে আপনার দেখা করা উচিত।
'হ্যাঁ, আমি সম্পাদনা করে নিব। হ্যাঁ, করে নিব।'
ওহ! পরে ফোন করছি। লাক্সমান স্যার?
কিরণ, তোমার সাথে একজন দেখা করতে এসেছেন।
আরে স্যার, আপনার আসার কী দরকার ছিল? কোনো পিয়নকে বলে দিতেন।
- আরে, ব্যাপার না। প্লিজ যান। - ধন্যবাদ, স্যার।
- হ্যালো, স্যার। - বলুন, কীভাবে সাহায্য করতে পারি?
কী খাবেন? চা? কফি? পানি?
স্যার, ওসব বাদ দেন। এসবিআই-এ বিশাল ঝামেলা চলছে, স্যার।
অনেক বড় জালিয়াতি হয়েছে। আপনার এ ব্যাপারে জানা দরকার, স্যার।
- জালিয়াতি? এসবিআই-এ? - জ্বি, স্যার।
আগে বলুন।
স্যার, ব্যাংক একটা চেক ইস্যু করেছে কোনো বিআর ছাড়া।
- বিআর? - ব্যাংক রিসিট, স্যার।
ওহ, ব্যাংক রিসিট।
স্যার, এসজিএল নোট পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
পিডিও এর এন্ট্রির মধ্যে, বুকস ট্যালি হচ্ছে না।
সমস্যাটা অনেক বড়, স্যার।
এসজিএল? পিডিও?
স্যার, এসজিএল হচ্ছে সাবসিডারি জেনারেল লেজার...
...আর পিডিও হচ্ছে পাবলিক ডেপ্ট অফিস, স্যার। আরবিআই এর।
তো, যদি আপনি এসজিএল বা বিআর না পান...
- এক সেকেন্ড। এক সেকেন্ড। - এসব...
এসব আমার জন্য খুব টেকনিক্যাল হয়ে যাচ্ছে।
আপনাকে এমন লোকের কাছে পাঠাচ্ছি যে এসব জানে।
- আচ্ছা? - স্যার প্লিজ, জলদি করেন।
ইনাকে শুচিতা ম্যাডামের কাছে নিয়ে যান প্লিজ।
ধন্যবাদ, স্যার। ধন্যবাদ।
চলুন, স্যার। চলুন।
'তোমার নিজ থেকে আমাকে জানানো উচিত ছিল।'
'বিএসই থেকে ফোন করে নিতে।'
স্যরি, শুচিতা।
- ধর্মঘট নিয়ে সেখানেও বিভ্রান্তি ছিল... - আমি এই স্যরি দিয়ে কী করব?
আমরা এই গল্প এজন্য চালিয়েছি কারণ ভেবেছিলাম যে ধর্মঘট শেষ হয়ে আসছে, তাই না?
মানে... সবসময় তোমার ক্ষেত্রেই এমনটা হয়, আদিত্য।
আমরা প্রতিবার একই কাজ করতে পারি না, তাই না?
- মানে কিছু তো... - 'শুচিতা ম্যাডাম।'
কিরণ স্যার ওনাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন।
- আমি শারাদ বেল্লারি, এসবি... - প্লিজ বসুন।
মায়াঙ্ক? তুমি বিএসইতে যাবে, গিয়ে মানু মুন্দ্রার থেকে ঘর্মঘটের ব্যাপারে জবানী নিবে।
আমার জানা লাগবে হঠাৎ করে কী বদলে গেল।
বেশ। সেখানে আমার কিছু সোর্সের সাথে কথা বলব কি?
হ্যাঁ। কিন্তু সেখানে গিয়ে খোশগল্প শুরু করে দিও না।
আমাকে এটা জলদি ফাইল করতে হবে, হ্যাঁ?
আর তোমরা, প্লিজ ডেডলাইনের মধ্যে কাজ শেষ করা আরম্ভ করো, আচ্ছা?
মানে আমরা বার বার এমন করতে পারি না, তাই না?
- আপনি বলুন। - 'জ্বি?'
আপনি বলুন না।
হ্যাঁ। ডেডলাইন তো ডেডলাইনই। একদম ঠিক।
না। আপনি এখানে কেন এসেছেন সেটা বলুন।
ওহ, আচ্ছা, ম্যাম।
আমি শারাদ বেল্লারি...
একটা মিনিট, প্লিজ। মাফ করবেন।
হ্যালো? রাভি, আমি তোমার সাথে হিন্দুস্থান লিমিটেড কনফারেন্সটা করতে পারব না।
না, ব্যস... এক সেকেন্ড থামো।
- চা খাবেন? ওনার জন্য এক কাপ চা নিয়ে এসো, প্লিজ। - চা? না।
হ্যাঁ। না, ধর্মঘটের ব্যাপারটায় এখনও কাজ চলছে। তো, সেটায় মনযোগ দিতে হবে আমার।
হ্যাঁ। ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ, তোমার সাথে পরে কথা বলব। বাই।
- হ্যাঁ, তো... - 'স্যরি, ব্যস...'
হ্যালো? সকালে ফোন করেছিলাম বাটার বানের জন্য।
এখন লাগবে না। লাঞ্চের সময় হয়ে গেছে।
না। পরে, ঠিক আছে? ধন্যবাদ।
- আরে আপনি তো চা পাননি? আদিত্য? - ম্যাম, আমি...
- স্যরি। - আমাকে যেতে হবে, ম্যাম। আমার দেরি হচ্ছে।
কেউ কথাই শুনে না!
- চা লাগবে না! - আচ্ছা, স্যরি বেল্লারি সাহেব। প্লিজ, বলুন।
ম্যাম, আমি শারাদ বেল্লারি সিবিআই থেকে।
আমি আপনাকে ব্যস এটাই বলতে চাই এসবিআই-এ ঝামেলা চলছে।
আগে যেমনটা ছিল এখন তেমন কিছুই নেই।
'আগেকার এসবিআই আর এখনকার এসবিআই-এ অনেক তফাৎ।'
এখন ওখানে অনেক গড়বড় হচ্ছে।
অনেক বড় কেলেঙ্কারি।
এত বড় যে... কল্পনাও করতে পারবেন না কত বড় জালিয়াতি হয়েছে।
জালিয়াতি?
পাঁ...
পাঁচশো কোটি।
এসবিআই এর বই থেকে পাঁচশো কোটি টাকা উধাও।
বিআর ছাড়াই পেমেন্ট হয়ে গেছে।
- বিএর মানে... - ব্যাংক রিসিট, জানি।
আপনি এসবিআই'য়ে কী কাজ করেন? কোন ডিপার্টমেন্টে?
পিআর-এ, ম্যাম। পাবলিক রিলেশনে।
তাহলে, আপনি জানলেন কীভাবে?
ম্যাম, এসব অনেকদিন ধরে চলছিল।
রোজ মিটিং বসছিল।
কিন্তু ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
কারণ এসজিএলও আসেনি, ম্যাম।
মানে বইয়ে দেখাবে কীভাবে? মানে আমি... আমি... আমার...
- এসজিএল মানে... - সাবসিডারি জেনারেল লেজার, জানি।
তো, এসবিআই ৫০০ কোটি টাকার পেমেন্ট ইস্যু করে দিয়েছে।
আর তার বদলে যে এসজিএল আর বিআর আসার কথা ছিল সেটা আসেনি।
আপনি কী বলছেন জানেন তো?
পাঁচশ কোটি এত বড় একটা পরিমাণ, যে হয়তো ক্যালকুলেটরও একবার লজ্জা পেয়ে যাবে।
হ্যাঁ, এতটাই বড় জালিয়াতি হয়েছে। হয়তো তার চেয়েও অনেক বড়।
এই জালিয়াতি কে করেছে জানেন?
'হার...'
হা...হারশাদ মেহতা, ম্যাম...
হারশাদ মেহতা।
অনুবাদেঃ সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম নিয়ামুল হক আবেগ
সম্পাদনায়ঃ সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
SCAM 1992 THE HARSHAD MEHTA STORY
'এই কাহিনী শুধু ভারতের সবচেয়ে বড় ফাইন্যান্সিয়াল স্ক্যামের নয়।'
'এই কাহিনী ভারতের ও ভারতের মানুষের।'
'আমাদের, আমাদের স্বপ্নের।'
'এমন স্বপ্ন যাতে হারশাদ মেহতা বাস করে।'
'১৯৯২ সালে, হারশাদ মেহতা ভারতের সবচেয়ে বড় অ্যাডভান্স ট্যাক্সপেয়ার ছিল।'
'ওর পারসোনাল হোল্ডিংস ছিল ৪,০০০ কোটি টাকার।'
'অনেক বড় সংখ্যা, তাই না?'
'বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির সাথে মিলালে...'
'...সংখ্যাটা ২০,০০০ কোটির বেশি হবে।'
'তো, প্রশ্ন হচ্ছে একটা নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে...'
'...এত কম সময়ে, এত বেশি টাকা বানালো কীভাবে?'
'যদিও হারশাদের পহেলা শখ ছিল ক্রিকেট।'
'বেশ ভালো স্পিন বোলার ছিল।'
'সবাই ভেবেছিল, ভারতের হয়ে না হলেও, কমসেকম রাঞ্জি ট্রফি তো খেলবেই।'
'পড়ালেখায় দুর্বল ছিল।'
'তাই, কলেজে জীবন ক্রিকেট, গারবা খেলে আর স্বপ্ন দেখে কাটছিল।'
'কিন্তু বাপের ডুবে যাওয়া কাপড়ের ব্যবসা দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়।'
'আর বাড়ি চালাতে, হারশাদ সব ছোটখাটো করে।'
'কখনও, ছয়শো টাকা মাইনের ক্লার্কের চাকরি...'
'...তো কখনও, প্লাস্টিক, সিমেন্ট, ডায়মন্ডের মতো জিনিস বিক্রি করা।'
'কিন্তু টাকা কখনোই যথেষ্ট হয়নি।'
'কারণ হারশাদের স্বপ্ন এসব ছোটখাটো টাকার সামনে অনেক বড় ছিল।'
'দায়িত্ব বাড়ছিল, সাথে হারশাদের অস্থিরতাও।'
বেগুনের ভর্তাটা যে-ই বানিয়েছে তাকে একশোতে একশো।
ভাবি বানিয়েছে।
আরে ওর।
আর অত কপাল কোথায় যে এমন বলার সুযোগ পাবো।
ভাই, করে নিব বিয়ে।
উপহাস করার দরকার নেই।
জ্যোতি, সত্যিই দারুণ হয়েছে।
বেগুন একটু পুড়া মনে হয়নি?
শুধু তোর এমন লাগছে।
এবার দেখ ও তোর ধীরে ধীরে ভর্তা কীভাবে বানায়। একদম ভালো মতো দিও।
- জ্যোতি, তুইও বসে যা না। - হ্যাঁ।
আমি পরে বসছি।
- আরে আসো। আমার হয়ে গেছে। - আরে বসে পড়ো। আমারও হয়ে গেছে।
চল, তোকে পান খাওয়াচ্ছি।
- আমারটায় কিছু দিস না কিন্তু... - জানি, বাবা।
- সুপারি ছাড়া, তাই তো? - ঠিক আছে।
ভর্তাটা দারুণ হয়েছিল, তাই না?
কিন্তু এভাবে আর কতদিন চলবে?
কী কতদিন চলবে?
বাসার কথা বলছি।
বাসাতেও লোকাল ট্রেনের মতো ফিলিং আসে।
শালা এরকম চলতে থাকলে, কিছুদিন পর ধাক্কাধাক্কি মারামারি শুরু হয়ে যাবে।
ভাই, মুশকিলতা তো থাকবেই।
এখানে থাকাটাই মুশকিল। সেটা বলতে চাচ্ছি।
দেখ হারশাদ... আমি বলি কি...
তুই না জ্যোতির সাথে ছোট একটা বাসা দেখে উঠে যা।
- আলাদা একটা বাসা, কাছেই। - কী বলছিস তুই?
শিফট হওয়া লাগলে, সবাই একসাথেই হই না?
- কোনো বড় বাড়ি খুঁজি না। - বড় বাড়ি?
বড় বাড়ির জন্য টাকা আছে আমাদের কাছে?
টাকাই তো মূল সমস্যা।
আজকাল, ডায়মন্ড বাজারের চাকচিক্যও ফিকে হয়ে পড়েছে।
এই ডায়মন্ডের কাজ দিয়ে আমাদের কিছু হবে না।
হবে। সব হবে।
- ধীরে ধীরে হবে। - বালটা হবে!
সবাইকে দেখ কিছু না কিছু করছে।
কেউ গাটিয়া বিক্রি করে গাড়ি নিচ্ছে...
...কেউ টেক্সটাইলে তিন গুণ প্রফিট কামাচ্ছে...
সবার পকেট রকেট হয়ে গেছে।
জিমেসকে দেখ। শেয়ার বাজারে কত টাকা বানিয়েছে।
ভাই, শেয়ার বাজারে পাশাপাশি হালকা পাতলা কিছু করা যাবে।
বেশি করা যাবে না।
- রিস্কি লাইন রে। - কীসের রিস্কি লাইন?
জিমেস তো ওর পুরো পরিবারকে লাগিয়ে দিয়েছে।
ওর শ্বাশুড়িকেও।
No comments yet. Be the first to leave one.