প্রথম 200টি লাইন।
অনুবাদ আয়োজনেঃ ۞ T E A M │ │ │ │ W B M F ۞
অনুবাদ অংশগ্রহণে: ফ্ল্যামি তুহিন ۞ নূরুল্লাহ মাশহুর তানজীদ আহমেদ ۞ কে এন হাসান মায়ায ইসলাম নাফিস
সম্পাদনায় : নূরুল্লাহ মাশহুর
[ ১৯৮৩ সালের শীতকাল যখন তাজিমা ইউরিকো জাপানের সেন্দাইয়ে পৌঁছেছিল। ]
স্বামীর সাথে ডিভোর্সের পর তুমি কীভাবে জীবনযাপন করার কথা ভেবেছ?
আমি শুধু বাড়ি ছাড়ার কথাটাই ভেবেছি।
আর তুমি এখানে এসেছ?
এর আগে একবার আমি এখানে এসেছিলাম।
মনে হয়েছিল শহরটা খুব সুন্দর।
কিন্ত এখানে তোমার কোনো আত্মীয়-স্বজন নেই, তাই না?
না।
চেয়েছিলাম এমন এক শহরে যেতে যেখানে আমার সম্বন্ধে কেউ জানবে না।
কিন্তু...
আমার মদের বারে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে।
দয়া করে আমাকে এখানে কাজ করার সুযোগ দিন।
আমার দিকে তাকাও।
জি।
আমি ওকে একজন শিক্ষানবিশ হিসেবে নিযুক্ত করেছিলাম।
দেখতে চেয়েছিলাম ও কেমন কাজ করে আর ওকে কাজে রাখা যায় কি না।
বলতেই হচ্ছে আপনি একটা হীরার টুকরো পেয়েছেন, ইয়াসুয়ো।
মেয়েটা বেশ আকর্ষণীয় আর তার কাজের নিজস্ব ধরণ আছে।
কিন্ত মনে হয় সে নিজের মনটাকে আবদ্ধ করে রেখেছে।
যখনই কথার ছলে আমি তার পরিবার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করতাম,
স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছিলে কেন?
প্রতারণা করেছিল তোমার সাথে?
ওর কোনো দোষ ছিল না।
তাহলে, কেন?
একজন মা বা স্ত্রী হিসেবে দুটো জায়গাতেই আমি ব্যর্থ হয়েছিলাম।
তোমার বাচ্চা আছে?
বয়স কত?
ছেলে না মেয়ে?
আমার একটা ছেলে আছে।
আমি বাড়ি ছাড়ার সময় ওর বয়স ছিল ১০ বছর।
১০ বছর?
নিশ্চয়ই দেখতে খুব কিউট।
ওর কোনো ছবি আছে তোমার কাছে?
না।
আরে ইয়ার, ওর একটা ছবি তো তোমার কাছে থাকবেই।
বললাম তো, নেই।
আমি ওসব ছবি-টবি রাখি না।
কিন্তু এই মনমরা মেয়েটার কারণেই আমার ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠেছিল।
এর মধ্যেই কয়েক বছর পার হয়ে গেল।
কাস্টমারদের সাথে ওর কোনোদিন ঝামেলা হয়নি।
শুধু ওয়াতাবে ছাড়া...
উনার প্রাক্তন স্বামী আর একটা ছেলে ছিল।
কিন্ত বহুদিন যাবত তাদের সাথে কোনো যোগাযোগ ছিল না।
মিয়ামোতো, তাজিমা ইউরিকোর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী,
তার মৃত্যুতে হত্যাকাণ্ডের মতো সন্দেহজনক কোনো কারণ উঠে আসেনি।
উনি হৃদসস্পন্দন বন্ধ হওয়ার কারণে মারা গেছেন।
তো, আমি ওয়াতাবেকে তৎক্ষণাৎ কল দিলাম।
ওয়াতাবে, আপনি কোথায়?
আমি বার সেভেন থেকে মিয়ামোতো বলছি।
প্লিজ উদ্বিগ্ন হবেন না।
ইউরিকো মারা গেছে।
ইউরিকোর শেষকৃত্যে অংশ নিতে না পারার পেছনে ওয়াতাবের কিছু নিজস্ব কারণ ছিল।
কিন্তু কিছুদিন পর সে আমার সাথে যোগাযোগ করে।
কী? তার ছেলে?
সে কি টোকিওতে থাকে?
ওকে। এক মিনিট।
হুম।
টোকিও, সুগিনামি-কু...
যখন ইউরিকোর পরিবারকে খুঁজে পেতে আমি দিশেহারা, তখন ওয়াতাবে তোমার ঠিকানাটা দিয়েছে।
তারপর আমি তোমাকে চিঠিটা লিখলাম।
বুঝতে পেরেছি।
ইউরি নিশ্চয় তোমাকে আবার দেখলে খুশি হতো।
ওই যে বাদামী অ্যাপার্টমেন্টটা দেখতে পাচ্ছ,
ও ওখানে থাকত।
ও সবসময় সমুদ্রের পাশে থাকতে চাইত।
স্বল্প খরচের এই ক্ষুদ্রকায় জায়গাতে ইউরিকো ১৮ বছর যাবত বাস করছিল।
এই তোশকেই ইউরিকো শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
ওয়াতাবে যদি ওই সময় তার পাশে থাকত!
আপনার কাছে ওয়াতাবের নাম্বার আছে?
দুর্ভাগ্যবশত, সে ইতিমধ্যে তার মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।
তাই, আমি জানি না সে এখন কোথায়।
আমাকে বলেছিল সে একটা ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানিতে কাজ করে আর বিভিন্ন শহরে ঘুরে বেড়ায়।
তো, সে যখন সেন্দাইয়ে আসত, তখন ওরা দুজন একসাথে সময় কাটাত।
দুঃখিত, একটু বেশিই বলে ফেললাম।
কোনো ব্যাপার না। শুনে ভালো লাগল যে মা'র একজন সঙ্গী ছিল।
যেভাবেই হোক ওনাকে খুঁজে বের করে মায়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে চাই।
ওয়াতাবের ব্যাপারে আপনার কিছু মনে নেই?
উনি কোথাকার বাসিন্দা বা ওনার কোনো প্রিয় জায়গা যেখানে যেতে...
প্রিয় জায়গা...
ও, নিহনবাশি!
নিহনবাশি?
হ্যাঁ, টোকিও'র নিহনবাশি।
[ ১৬ টা বছর তার বয়ফ্রেন্ডের ( ওয়াতাবে শুনিচি ) নাম জানা ব্যতীত পার হয়ে গেল ]
[ একজন বাসিন্দা পুলিশের কাছে উপরতলা হতে বিদঘুটে গন্ধযুক্ত তরল জাতীয় কিছু নির্গত হওয়ার কথা জানিয়েছে ]
[ পুলিশ ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ২০ দিন আগের একটা পঁচাগলা লাশ পেয়েছে। ]
[ পঁচে যাওয়ায় পুলিশ লাশের চেহারা আর বয়স শনাক্ত করতে পারেনি। শনাক্ত করার মতো কোনো কাপড়চোপড়ও ছিল না। ]
একটু দেখতে পারি?
[ পুলিশ হয়তো শুধু এটুকু প্রমাণ করতে পারবে যে, লাশটা একজন মহিলার আর মৃত্যুর কারণ ছিল শ্বাসরোধ ]
ইয়ানাগি ব্রিজ?
তোকিওয়া ব্রিজ...
মিসিং রিপোর্ট দায়েরকৃত ওই পরিবারের সদস্যের সাথে ডিএনএ টেস্ট করার পর জানা গেছে যে,
ভিক্টিমের নাম ওশিতানি মিচিকো, বয়স: ৪০ বছর।
উনি শিগার হিকোন শহরে বসবাস করতেন।
মিচিকো বিওয়া নদীর ধারে অবস্থিত ক্লিনিং কোম্পানি মেলোডি-এয়ারে চাকরী করতেন।
পরিবারের ভাষ্যমতে, প্রতিদিনের মতো ১২ই মার্চ, শুক্রবারও মিচিকো কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন।
আর ১৫ই মে, সোমবার পর্যন্ত মিচিকো কোনো নোটিশ ছাড়াই নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন।
১৩ই মে মিচিকো টোকিও'র ক্যাবা-ছো হোটেলে রুম বুক করেন আর সেখানেই দিন কাটান।
অর্থাৎ, বলতে গেলে ১৪ই মে, রবিবার মিচিকোর খুন হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
যেখানে ওশিতানির লাশ পাওয়া গেছে সেটার মালিক কোশিকাওয়া মুৎসো যিনি ৯ বছর যাবত সেখানে বসবাস করছেন।
কিন্তু, প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, কোশিকাওয়া ১৫ই মে হতে নিখোঁজ।
এসো!
এক্সকিউজ মি।
কাজ হয়ে গেছে।
ধন্যবাদ।
উনার প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে ইনিই হলেন কোশিকাওয়া মুৎসো।
উনিই এখন ১ নম্বর সন্দেহভাজন।
ওশিতানি আর কোশিকাওয়ার মধ্যে সম্পর্ক ছিল...
তার স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী।
ওশিতানি মিচিকো ২ বছর যাবত বিওয়া নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকা ছেড়ে কোথাও যায়নি।
তাহলে, এবার কেন সে টোকিও থেকে সরাসরি এখানে চলে এল?
এই রহস্যটা আমরা খুঁজে বের করব।
তাহলে, প্রথমে আমাদের কোশিকাওয়াকে শনাক্ত করতে হবে।
ঘটনার আজ প্রায় ২০ দিন হয়ে গেছে।
কোমর বেঁধে কাজে নামো!
জি!
কিছু বলার আছে, মাতসুমিয়া?
আমার মনে হয় এই ঘটনাটা সম্ভবত ১৬ই এপ্রিল শিনকোইওয়া নদীপার্শ্ব এলাকায় ঘটে যাওয়া উদ্বাস্তু মার্ডার কেসটার সাথে সম্পর্কযুক্ত।
ওই ঘটনাটা...
তোমার এমন মনে হলো কেন?
উদ্বাস্তু লোকটা পুড়ে মারা যায়। কিন্তু পোস্টমর্টেম রিপোর্টে লেখা আছে যে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
দুটো খুনের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
শুধুমাত্র পদ্ধতিটাই মার্ডার দুটোকে সংযুক্ত করছে।
কিন্তু হত্যা সংঘটিত হওয়ার তারিখগুলো খুব নিকটবর্তী, ১৪ই আর ১৫ই মে।
আর দুটো খুনই নদীপার্শ্ব এলাকায় হয়েছে।
দুটো মার্ডার স্পটের দূরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার।
দূরত্বের ফ্যাক্টটা রায় নির্ধারণের সময় তথ্যের চেয়ে ব্যক্তিগত অনুমান হিসেবে বেশি গণ্য হবে।
আপনার কথা ঠিক, কিন্তু...
আর কিছু?
ঠিক আছে, প্রাথমিক তদন্তকার্য শুরু করা যাক...
মাতসুমিয়া, আমাদের সবকিছু খুলে বলো।
আপনি জানেন যে,
আমরা কোশিকাওয়ার রুম থেকে এমন কিছু সংগ্রহ করতে পারিনি যেটা তার ব্যক্তিগত তথ্যের দিকে ইঙ্গিত করে।
কিন্তু একটা কথা আমি বেশ ভালোমতোই বুঝতে পেরেছি।
কী?
সে দিন এনে দিন খাওয়া লোক।
কোনো খাদ্য বা পণ্যদ্রব্য মজুদ করে রাখত না।
এমনকি তার কাছে কোনো ফ্রিজও ছিল না।
আপনি জানেন, লোকটা ৯ বছর যাবত সেখানে বসবাস করছিল!
কিন্তু আমার মনে হয়না ভবিষ্যত নিয়ে উনার কোনো স্বপ্ন বা দূরদর্শী চিন্তাভাবনা ছিল।
যেন যেকোনো সময় উনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত ছিলেন।
এটা একটা ঘর, কিন্তু বাসস্থান নয়।
ঘরটা অনেকটা উদ্বাস্তু মানুষের অস্থায়ী আবাসের মত।
বুঝতে পেরেছি।
অতি শীঘ্রই পোড়া লাশটার ডিএনএ টেস্ট করার ব্যবস্থা করো।
ধন্যবাদ, স্যার।
[ ওশিতানি মিচিকো টোকিও গিয়েছিল কেন? কোশিকাওয়া মুৎসো'র সাথে কি তার সম্পর্ক ছিল? I
[ আমরা হিকোনে গিয়ে ওশিতানির ব্যাপারে জানার জন্যে তার বন্ধু, সহকর্মী আর আত্মীয়-স্বজনদের ইন্টার্ভিউ নিলাম ]
[ মেলোডি-এয়ার ওশিতানি মিচিকোর কর্মস্থল ]
বলেছিল সে নিজের ব্যবস্থা নিজেই করবে।
নিজের ব্যবস্থা নিজেই করবে?
হ্যাঁ
তাহলে, ওশিতানি কি ১৩ আর ১৪ই মে একাই টোকিও গিয়েছিল?
জি।
কীভাবে উনি নিজের ব্যবস্থা করলেন?
আমি বিস্তারিত জানি না।
সে বলেছিল পরের দিন টোকিও যাবে,
আর রবিবার রাতে ফিরে আসবে।
তো, সে আমাদেরকেও চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল।
ওশিতানিকে খুব খুশি দেখাচ্ছিল।
ঠিক?
ওকে সবসময় খুশি দেখা যেত...
দেখে মনে হয়েছিল কি সে দীর্ঘদিনের জন্য কোনো ট্রিপের প্ল্যান করেছিল?
না। একদম হঠাৎ করেই ট্রিপের প্ল্যান করেছিল।
তার মানে, উনি কারো সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন যাকে আগে থেকেই চিনতেন...
অথবা কেউ তার সাথে যোগাযোগ করেছিল।
আমি উনার কল হিস্টোরি, চিঠি, আর ই-মেইল চেক করেছি।
কিন্তু সেখানে উনার আকস্মিক টোকিও ট্রিপের কোনো হিন্ট ছিল না।
তাহলে কি উনার কারো সাথে দুর্ঘটনাবশত দেখা হয় আর তারপর টোকিও যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন?
যাই হোক, আমাদের উনার প্রত্যেকটা ক্লায়েন্টকে চেক করতে হবে।
কাজটা কঠিন হবে।
আমাদের দুটো দলে ভাগ হয়ে কাজ করতে হবে।
কী দেখছ?
তোমার কি মনে হয় আমরা কেসটার সুরাহা করতে পারব?
কী?
যখন আমি এই মস্তবড় বিওয়া নদীটাকে দেখি,
এই কেসের সমাধান করাকে এর তলা থেকে একটা পাথর তুলে আনার মতো
কঠিন মনে হয়।
[ ৩ দিন গত হওয়ার পরেও ওরা ওশিতানির ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে কোনো প্রয়োজনীয় তথ্য পায়নি ]
মাতসুমিয়া বলছি।
খবরটা পোড়া লাশের DNA টেস্টের ব্যাপারে।
জি, বলুন।
আমরা কোশিকাওয়ার রুমে পাওয়া লাশটার সাথে পোড়া লাশটার DNA মিলিয়ে দেখেছি।
DNA মিলেনি।
আচ্ছা।
আমার মনে হয় যুক্তি হিসেবে এটা ভালোই ছিল।
ওশিতানি টোকিও কেন গিয়েছিল এই টেস্টটার ফলে ব্যাপারটা ক্লিয়ার হয়ে গেল।
তদন্তকার্য চালিয়ে যাও।
জি।
১২ই মে, রোজ শুক্রবার ওশিতানি এখানে এসেছিল, তাইনা?
জি।
উনার আচার-আচরণে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেছিলেন?
না। একদম সাধারণ ছিল।
উনি যে টোকিও যাবেন সে ব্যাপারে আপনাকে কিছু বলেছিল?
টোকিও?
স্যরি, প্লিজ এদিকে আসুন।
টোকিও...টোকিও...
আপনার কিছু মনে আছে?
No comments yet. Be the first to leave one.