ആദ്യത്തെ 200 വരികൾ.
হোমওয়ার্ক লিখে নাও সবাই।
শিটের সমস্যা নং- ৩২ থেকে ৩৮ পর্যন্ত।
- আর? - আর?
- আর কিছুই না। - এটুকু?
ভাইয়া, পাঁচদিনের ছুটি।
আরো দাও। করে ফেলবো।
আরে ভাই, জানি আমি। সেজন্যই দিলাম না।
এই পাঁচদিন স্কুলের প্রাক্টিক্যালের জন্য।
সবাই সেটাতে মন দেবে আর আরাম করবে, ঠিক আছে?
আরাম?
হ্যাঁ। আর আসার পরে ১৫ দিনের মধ্যেই তো রিশাফলিং পরীক্ষা।
- ১৩ দিন, স্যার। ১৩ দিন। - শোন, ১৩ দিন।
তখন তো পাগলের মতো পড়তে হবে।
একটু ব্যাটারি চার্জ করো।
পড়াশোনার সাথে একটু আরাম করলে তাহলে আর বার্নআউট হবে না।
কিন্তু স্কুলের দিকেও মন দেবে।
- উদয়, মন কোথায়? - স্যার।
এমন না যে সবাই আরাম পেয়ে গেছো, ঘুমাবে।
একটু চিল কর।
আচ্ছা কাল প্রথমবার কারা স্কুলে যাবে? হাত তোল।
সাবাস! কত সুন্দর দেখাচ্ছে ভারতের ভবিষ্যৎ।
বাহ, ভালো!
দারুণ হাতের লেখা তো!
ল্যাব রিপোর্ট কার্সিভে লেখা।
টাকা ঠিক জায়গায় দিছি।
ভাই, এরা g এর মান ৮.২ লিখেছে। ৯.৮ হবে, না?
বোকা ছেলে!
- ল্যাবে যদি g এর মান ৯.৮ আসে.. - হ্যাঁ।
তাহলে ভাববে পাক্কা নকল করেছি , ভাই।
৮.২ থাকলে একটু সত্যি মনে হয়।
A1 ব্যাচও ওর কাছ থেকে রিপোর্ট কেনে।
৮ ঘণ্টা বাঁচাতে ৭০০ টাকা লাগলো।
না। ৩০০ টাকা। ৪০০ টাকা তো স্কুটি ভাড়ার।
দু’দিন তোর স্কুটি চালিয়েছি, তাই বলে টাকা নিবি তুই?
না, না। আমারটা না। আরেকটা যেটা ভাড়া নিছিলাম।
৪ দিন ৪০০ টাকা মাত্র। দারুণ না?
শিবাঙ্গি বলে, আমি অগোছালো।
এবার দেখ।
কোন আরেকটা?
আর কার জন্য? আমার ৪০০ টাকা খরচ!
তো আমরা চারজন কি একজন আরেকজনের উপরে বসে যাবো?
আমি অনেক চালাক। স্কুটিতে আগেই পেট্রোল ভরেছি।
- কোন চারজন? - তুই, আমি, শিবাঙ্গি আর ভার্তিকা।
- কোন ভার্তিকা? - রাতাওয়াল।
- কোন রাতাওয়াল? - শিবাঙ্গির বান্ধবী।
তুই কী বলছিস, ভাই? শান্ত হয়ে বল।
কী বলছিস?
তুই কী বলছিস?
শান্ত হব নাকি বলব?
দেখ, চারদিন ছুটি।
কোচিং নেই, হোমওয়ার্ক নেই।
ঘুরবো।
স্কুটি ভাড়া নিয়েছি যাতে আমরা চারজন...
..তুই, আমি, শিবাঙ্গি আর ভার্তিকা রাতাওয়াল পুরো কোটা ঘুরতে পারি।
মজা না?
আমি কোথাও যাচ্ছি না। ৪দিন ছুটি আছে।
ভৈভব আর আমি রিভিশন দেবো।
- কি করবে? - পড়বো।
না, না। পড়বে না।
জিতু ভাইয়া বলেছে আরাম করতে, তো আরাম করো।
ও হ্যাঁ।
তুমি স্যারদের সব কথা মানো?
আর কোনো অপশন আছে নাকি?
তোমার চিন্তা কত পবিত্র!! একদম আমার মতো।
- যেতে পারবো না, ভাই। - বাল!
আমি স্কুটিতে ৪০০ টাকার পেট্রোল ভরছি।
৫০০ টাকা ভাড়াও দিছি। আর তুই বলছিস যাবি না?
দেখ ভাই। মীনা আর আমি পুরো সিলেবাস শেষ করতে চাই...
..এই চারদিনের মধ্যে।
তুই সবসময় এমন করিস।
দশেরা মেলার প্লানও এভাবে নষ্ট করেছিলি।
এক মিনিট।
তখন তো আমি এখানে ছিলামই না।
সেটাই তো। তখনও ছিলি না, এখনো নেই।
ভাই, শিবাঙ্গি আমাকে কিছুদিন ধরে ইগনোর করতেছে।
আবার ব্রেকআপ না করে দেয়।
ও এতটাও খারাপ না যে, অন্যকেউ ওর জীবনে আসার জন্য অপেক্ষা করবে।
এই চারদিনে আমি ট্রইকা থেকে তালাপ,
সেভেন ওয়ান্ডার্স থেকে সি.ভি. গার্ডেন পর্যন্ত,
রাধাকৃষ্ণ থেকে দাঁড়ানো গণেশজী পর্যন্ত সব ঘুরতে চাই।
যেন কোটায় আমাদের এত স্মৃতি তৈরি হয়...
..যাতে ব্রেকআপের চিন্তা করলেও ওর কষ্ট হবে।
মৌলিক রোমান্টিক কনজ্যুমারিজম, ভাই।
তাহলে তুই যা ভাই।
আমাকে কেন কাবাবে হাড্ডি বানাচ্ছিস?
ভাই, কিছু কাবাব হাড্ডি ছাড়া বানানো যায় না।
সবাই গেলে ও আসবে, একা যাবে না, ভাই।
কিন্তু আমাদের রিভিশন?
হ্যাঁ, আমিও তাই বলছি...
- কিছু কারণে আমি রিভিশন করবো না। - আমি কথা বলছি।
কি? কি? কি?
৪ দিনে পুরো সিলেবাস শেষ করতে হবে।
আমি আরাম করতে চাই। জিতু ভাইয়া বলেছে।
উদয়জি, আমাকে নিয়ে চল।
কথা পাল্টাবি না তো? প্রমিজ কর।
না।
মীনা?
মনে হচ্ছে আমারও যাওয়া উচিত।
হ্যাঁ। চল ভাই।
- তাই না? ধন্যবাদ। - আগামী বছর।
দশেরা মেলায়।
তোরা যা। আমি পড়ব।
এই নিন, ভার্নিয়ার ক্যালিপার আপনার জন্য।
ধন্যবাদ।
তুমি কী করছো?
আপনি যা করতে বললেন সেটাই। আরাম।
- কোচিং ভালো চলছে? - ভালো, স্যার।
চলবেই তো।
নিজের ল্যাব রিপোর্ট লেখার সময়ও নেই।
- না, স্যার। - g এর মান ৭ পর্যন্ত মানতে পারি।
কিন্তু মিথ্যা সহ্য করতে পারি না।
তোমরা কোচিংয়ের ছাত্ররা স্কুলকে সম্মান করো না।
- প্রথমবার এসেছিস তুই, তাই না? - না, স্যার।
- এসেছিলাম। - আবার মিথ্যা।
না, স্যার। অনেকবার এসেছিলাম।
ক্যান্টিনে সমুছার দাম কত?
বোকা মনে হয় আমাকে? হাতের লেখা দেখেই বলতে পারি...
...জেরক্স সেন্টারের লোকটা লিখেছে।
গুপ্তার হাতের লেখা।
- প্রোডিজিতে ছাত্র না তুই? - জ্বী, স্যার।
মাহেশ্বরীর তো হতেও পারবি না।
দীপককে বলবি আমি ডেকেছি।
কালকের মধ্যে দেখা না করলে..
..প্রোডিজির সবগুলোকে ফেল করে দেব।
তারপর বসে বসে জেইই অ্যাডভন্সের দিস।
- বুঝেছিস? - জ্বী, স্যার।
পরের জন!
ভার্তিকা রাতাওয়াল।
ভাই মীনা, উদয়ের সাথে আমি যাব।
- আর আমার আরাম? - ঘরে বসে করবি।
কোথায় যাচ্ছে ওরা?
কোটার সবজায়গায় ঘুরতে।
কী সুন্দর প্লান!
ভৈভব, উদয়ের গাড়িতে ওঠ আর তুই আমার সাথে চল।
এক্সকিউজ মি। হ্যালো বন্ধুরা!
আমিও তোমাদের সাথে যাবো কোটা ঘুরতে?
- কে তুমি? - মীনাল পারেখ।
পণ্ডিত আসছে! ওকে বিদায় কর।
- হ্যালো। - হাই।
তোমাকে স্বাগতম, কিন্তু আমরা তো চারজন।
- পাঁচজন কীভাবে যাব? - ছয়জন।
সবাই যাচ্ছে যখন, আমিও যাব।
- হাই, আমি ভৈভব। - ভার্তিকা।
শিভ, তোরা যা। আমি পরে যাব।
- প্যাড যাওয়ার সময় কিনে নেব। - না না, আমি দিচ্ছি।
না, না। পিরিয়ডের ব্যাপার না।
মাহেশ্বরীর স্যাম্পল পেপার এসেছে..
..কিন্তু একটাও সমাধান করতে পারিনি।
তো আমি সেগুলো সমাধান করি।
- আরে তোকে নিয়েই পুরো প্লান বানালাম। - হ্যাঁ।
- আর তুই যাবি না? - সরি।
আরে! ওদের সাথে থাকলে..
..আমি বোর হয়ে যাব। - ও মজা করছে।
- আমরা কেউই বোরিং না। - হ্যাঁ, হ্যাঁ।
আমরা অনেক বুদ্ধিমান।
- এই সমস্যাগুলো ৩০ মিনিটে সমাধান করে দেবে... - হ্যাঁ।
অনেক সহজ।
- ওরা। - হ্যাঁ, হ্যাঁ। আমি করে দেবো।
চিন্তা করিস না তোরা।
- শিবাঙ্গি প্লিজ। - না। ভার্তিকা, এটা ঠিক না।
- প্লিজ। - প্লিজ, শিবাঙ্গি, প্লিজ।
ঠিক আছে, পড় তুই।
আচ্ছা তাহলে আমিও যাচ্ছি না।
কেন?
একটা প্লানে কতবার মত বদলাবি?
আমরা তো গোয়া যাচ্ছি না।
আমি ওকে পড়াতে সাহায্য করি। কাজে লাগবে।
আর তোরা তো চারজনই আছিস।
পড়া আর সাহায্য দুটোই হবে, মীনা করে দেবে।
না, না। আমি ঘুরতে যাব। জিতু ভাইয়া বলেছে।
ঠিক আছে, উদয়। এবার আমি স্যাক্রিফাইস করলাম।
- ঠিক আছে। - না, না, ভৈভব। তুইও চল।
আরাম না করলে বার্নআউট হয়ে যাবি। চল।
ম্যানেজ করে নিচ্ছি। চল।
না, না, তোরা যা। ঘুরে আয়।
ঠিক আছে, ভাই।
একজনের সিট তো খালি, তাই না?
হ্যাঁ! ধন্যবাদ।
তুই নিশ্চিত, যাবি না?
অনেক কিছু মিস করবি।
এই নে, মীনা।
চল।
- বাই বন্ধুরা। - বাই।
তুমি চিন্তা করো না, পেপারটা হয়ে যাবে।
আরাম কর।
ধন্যবাদ।
- আমি ভার্তিকা। - রাতাওয়াল। জানি, জানি।
তুমি...সরি, আপনি আগেও পরিচয় দিয়েছেন।
ঠিক আছে।
সরি, আসলে আগেরবার তোমার নাম শুনতে পাইনি।
তাই আবার বললাম যাতে তুমিও নিজের নাম বলো।
- তো, নাম? - ভৈভব। ভৈভব রাতাওয়াল।
ওহ সরি। রাতাওয়াল কীভাবে হব? ভৈভব পাণ্ডে।
একটু অদ্ভুত হয়ে গেল, তাই না?
কিন্তু চিন্তা নেই।
- পেপার করে ফেলবো। - ঠিক আছে।
- তুমি...সরি। আপনি আরাম করুন। - না, না। ধন্যবাদ।
যাই?
দেখো অবস্থা! চা-পানি রেস্টুরেন্টে জনপ্রিয় হচ্ছে কোল্ড কফি!
একটা কোল্ড কফি।
No comments yet. Be the first to leave one.