ആദ്യത്തെ 200 വരികൾ.
আমার কিছু একটা হয়েছে।
ভিতরটা শূন্য হয়ে গেছে।
ভেবেছিলাম বোনের মৃত্যুর পর এটা শুরু হয়েছে,
কিন্তু এখন এর চেয়েও বড়ো কিছু মনে হচ্ছে।
একদম ফাঁকা।
হতে পারে আমার শুধু বিরক্ত লাগছে।
তারা আমাকে একটা কাজ দেয়,
আমি যাই, কাজটা করে চলে আসি, এভাবেই যাচ্ছে।
অপরাধের জঞ্জাল পরিষ্কার করাই আমার কাজ।
এই সপ্তাহে মালয়েশিয়ায়, পরের সপ্তাহে কোথায় পাঠাবে কে জানে!
ভেবেছিলাম কাজে মগ্ন থাকলে হয়তো ভালো থাকব।
কিন্তু, কিছুতেই মন দিতে পারছি না, কিছুই ভালো লাগছে না,
জীবনের লক্ষ্যও খুঁজে পাচ্ছি না।
আর লক্ষ্য ছাড়া আমি নদীর মতো দিশেহারা।
বা গাছের শুঁকনো পাতার মতো।
বা নদীতে ভেসে থাকা গন্তব্যহীন পাতার মতো।
কোনটা সবচেয়ে ভালো... এই!
আমার কথা তো কিছুই শুনছিস না।
মনে হচ্ছে অন্যকিছু ভাবছিস।
যাই হোক, এই ফেসিয়াল রিকগনিশনটা
খুলে দিতে না পারলে, তোকে আমার কোনো দরকার নেই।
হ্যালো।
দরজাটা খুলে দিতে পারবে?
পারবে না?
নিজেই তো ঝামেলা ফেঁসে আছো, তুমি আর কী করবে।
বেশ অ্যাসাইনমেন্টে তো আর বলা হয়নি প্রমাণগুলো
কীভাবে নষ্ট করতে হবে।
আমি বরং দরজা সহ উড়িয়ে দেই।
ওখানেই দাঁড়াও!
হাই।
এখন, তোমার চেহারা দিয়ে স্ক্যানারটা খুলা যাবে।
ভ্যালেন্টিনা তোমাকে পাঠিয়েছে?
ওএক্সই গ্রুপই এই গবেষণাগারের আসল মালিক।
কী বুঝছি না বলো?
তুমি কিছুই বুঝতে পারছ না।
- এটা আমাদের আবিস্কার। - হ্যাঁ, তোমাদের আবিস্কার।
- এটা পৃথিবীকে বদলে দিবে। - না, না, না।
- এটা পৃথিবীকে ধ্বংস করে দিতে পারে। - ব্লা, ব্লা, ব্লা।
ভ্যালেন্টিনা জানেই না এখানে কী হচ্ছে।
চুপ, চুপ।
দেখো, তাদের ভুল তদন্তের জন্য আমেরিকার সরকারকে দোষ দেও।
কিন্তু এখন সব ধ্বংস করে ফেলতে হবে।
তোমার কি মনে হয় আমার অন্যের কাজ করতে ভালো লাগে?
ঘুরে ফিরে একই কাজ করতে ভালো লাগে?
এটা করো না, আমি হলে করতাম না।
সবসময় একটা পিস্তল নিয়ে ঝামেলা করে।
ওরে খোদা!
গুলিটা লাগাতে পারলে না তো।
ওহ খোদা!
ভ্যালেন্টিনাকে বলো সে ভুল করছে।
ঠিক মতো গুলিও চালাতে পারো না।
সবসময় ভালো জিনিসগুলো নষ্ট করে।
শেষ কী বলে মরতে চাও?
সে যা ভাবছে, প্রজেক্ট সেন্ট্রি তা নয়।
অজ্ঞান হয়ে যাবে কিন্তু।
ধুর!
চেহারাটা দরকার ছিল।
বেশ।
আচ্ছা তোমার কাজটা... না, দাঁড়াও।
কাজটা সম্পন্ন হয়েছে।
তারপর কী?
প্রতিনিধি বার্নস,
আপনি তো সদ্য নির্বাচিত কংগ্রেসম্যান, আজকের শুনানি নিয়ে কিছু বলার আছে?
আসলে আমি তো অভিযোগ তদন্ত কমিটিতে নেই,
কিন্তু এসব অপকর্মের গুজবগুলো সত্যিই চিন্তার বিষয়।
হ্যাঁ, আসলে খুবই দুশ্চিন্তার কথা।
আর, আমার মনে হয়,
এসবের জন্য ব্রুকলিনের জনগণদের খুবই অসুবিধা হচ্ছে।
তাই আমরা খুব ভালো করে তদন্ত করব,
যেন এসব নির্মূল করা যায়।
ধন্যবাদ।
আজ এই কমিটি আপনাদের সামনে
একজন সরকারি কর্মকর্তার বিষয়ে শুনানি করবে,
অভিযোগ তদন্ত কমিটি থেকে তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এবং, আমরা যদি এই অভিযোগে সম্মতি পোষণ করে ভোট দেই,
তাহলে তাকে তার পদ থেকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়া হবে।
প্লীজ তথ্য সংগ্রহের জন্য আপনার নাম বলুন।
ভ্যালেন্টিনা অ্যালেগ্রা ডে ফন্টেইন।
- মিস ফন্টেইন... - না।
নামটা হলো "ডে ফন্টেইন" "ডে" বলতে ভুলে গেছেন।
ধরুন মিস্টার এডারসন,
তিনি একজন "সেক্রেটারি অফ ডিফেন্স" "সেক্রেটারি অফ ফেন্স" নয় কিন্তু।
মিস ডে ফন্টেইন।
এই মুহূর্তে আপনি সিআইএ-এর পরিচালক পদে
দায়িত্ব পালন করছেন, ঠিক তো?
হ্যাঁ ঠিক।
তার আগে আপনি ওএক্সই গ্রুপ বোর্ডের
চেয়ারওম্যান ছিলেন, তাই না?
হ্যাঁ, কিন্তু অফিসে যুক্ত হওয়ার পর,
আমি ওএক্সই গ্রুপ থেকে সরে গেছি।
এখন বোর্ডে কৌশলগত পরামর্শদাতা হিসেবে দায়িত্বরত আছি।
আর এই পরামর্শদাতার পরামর্শেই
ওএক্সই গ্রুপ এখনও বিদেশের কিছু অনিয়ন্ত্রিত ল্যাবে
বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করে যাচ্ছে।
যেখানে "মানব পরীক্ষা" করার গুজবও রয়েছে।
এইসব অবৈধ প্রকল্পের কাজ হচ্ছে
আপনার নিজের জন্য একটি সুপার হিউম্যান তৈরি করা।
এবার কিছু বলতে পারি, কংগ্রেসম্যান?
অবশ্যই।
প্রথমত, আমার এসব গুজব ও
মনগড়া গল্প শুনার সময় নেই।
বর্তমানে অনেক দুষ্কৃতিকারী রাষ্ট্রের প্রযুক্তি
আমাদের প্রযুক্তির তুলনায় অনেক এগিয়ে।
আর আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে, আমাদের শেষ প্রেসিডেন্ট
একটা উজ্জ্বল লাল দানবে পরিণত হয়েছিল,
যে আমাদের শহরকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছিল।
এখন আর আগের মতো অ্যাভেঞ্জার্সরা এসে আমাদের বাঁচাবে না।
আমাদের এখন নির্ভরযোগ্য কোনো নায়ক নেই।
তাই এই দেশের নাগরিকদের রক্ষা করার দায়িত্ব এখন
আমার, আমাদের, আর এই আমেরিকার সরকারের।
আরেকটা কথা...
ম্যাডাম ডিরেক্টর।
আমি বা আমার নীতি,
ওএক্সই অথবা সিআইএ যাই করেছি,
শুধুমাত্র আপনাদের রক্ষা করার খাতিরেই করেছি।
অর্ডার, ম্যাডাম ডিরেক্টর।
আমি এই অভিযোগটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছি।
আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
আর আপনারা যতই চেষ্টা করেন না কেন,
আমাকে আমার উদ্দেশ্য থেকে
এক চুলও নাড়াতে পারবেন না।
তারমানে এই কমিটি...
তদন্ত চালিয়ে গেলে আপনার কোনো সমস্যা নেই?
ওহ, অবশ্যই না।
বাল।
শীঘ্রই সবকিছু সরিয়ে ফেলতে হবে।
হ্যাঁ, কাগজপত্র যা ছিল সব সরানো হয়েছে...
আচ্ছা, এমন সব কিছু সরিয়ে ফেলো, যেগুলোর কারণে আমার উপরে আবার
অভিযোগ উঠতে পারে, বা আমাকে জেলে যেতে হয়।
বেশ, জেলে যেন যেতে না হয়।
বাহিরে কাজ করা শ্যাডো অপ্সদের কী খবর?
সমস্ত কাজ শেষ হয়েছে তো?
শেষ তো হয়েছে, কিন্তু কিছু জায়গা আগুনে পুড়ছে।
কী?
একটু সোজাসুজি বলতে পারো না?
বেশ, আমাদের একজন অপারেটিভ কুয়ালালামপুরের মাঝখানে...
পুরো ল্যাব উড়িয়ে দিয়েছে।
যাক।
নতুন অ্যাসাইনমেন্টগুলো পাঠানো হয়েছে তো?
হ্যাঁ ম্যাম, একজন ছাড়া, সবাই সাড়া দিয়েছে।
কোথায় সে?
ওইতো ব্র্যাজনেভ।
জনসমুদ্র হয়ে গেছে জায়গাটা।
সামনে থেকে সর।
সর বলছি...
আমি তো বারান্দায় রেখে যেতে বলেছিলাম।
ঠিক মতো ডেলিভারি দিতে না পারলে কিন্তু চাকরি খেয়ে দিবো।
এলেক্সি, আমি, দরজা খুলো।
ইয়েলেনা?
দাঁড়াও!
"সন্ধ্যাবেলায় শুধু খাবে আর টিভি দেখবে"
হুম।
ইয়েলেনা! দেখা হয়ে অনেক ভালো লাগল।
হাই, বাবা।
অপেক্ষা করিয়ে রাখার জন্য দুঃখিত।
একটা জরুরী কল এসেছিল।
খুবই গোপনীয় কথা।
কতদিন পর দেখা হলো? এক বছর হবে?
বাহ! হ্যাঁ, তা-ই হবে হয়তো।
কাজ নিয়ে অনেক চাপে আছো নাকি?
ওহ, হ্যাঁ।
হ্যাঁ, অনেক... অনেক কাজ।
- আমারও। - অনেক কাজ একসাথে করতে হচ্ছে।
এই যেমন সিকিউরিটি।
আমার গাড়ির ব্যবসাটা।
গাড়ি চালিয়ে কতো বিখ্যাত মানুষদের সাথে পরিচয় হয়েছে আমার,
বললে বিশ্বাস করবে না।
তারমানে...তোমার সবকিছু পরিপূর্ণ লাগে?
ওহ, হ্যাঁ।
হ্যাঁ, একদম গলা পর্যন্ত ভরপুর লাগে।
ডিসিতে আসা ছিল আমার সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
এই জায়গাটা বাল্টিমোর না?
না, বাল্টিমোরের সীমানা সামনের গলি থেকে শুরু হয়েছে।
- ওহ। - কিন্তু এটা জিজ্ঞাসা করলে কেন?
এখানে কেন এসেছ?
ভ্যালেন্টিনার ব্যাপারে কথা বলতে এসেছিলাম।
আচ্ছা, নতুন কাজ দিয়েছে।
আর তুমি রেড গার্ডিয়ানের সাহায্য নিতে এসেছ।
আহ, না, আমি কাজটা ছেঁড়ে দিতে চাচ্ছি।
কী?
তার সাথে কাজ করার জন্য পুরো শহর জ্বালিয়ে দিতে পারি আমি।
কী? মাত্রই তো বললে তুমি নাকি প্রচণ্ড ব্যস্ত।
লিনা, আমি মিথ্যা বলেছি।
ঘাড়টা ঘুড়িয়ে দেখো কী করুণ অবস্থা আমার!
তার নাম্বারটা দেও।
- জীবনেও না। - দেও।
- আমি তাকে কল দিয়ে... - এলেক্সি, থামো, থামো।
লিনা!
লিনা, কী হয়েছে?
তোমাকে এতো মলিন দেখাচ্ছে,
মনে হচ্ছে প্রচণ্ড যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছ।
শুধু ভাবছিলাম, বুঝলে...
এসব করে আসলে লাভটা কী?
এসব কিছু?
কাজ করলেই তো কপাল খুলবে, নামডাক হবে।
আর কপাল খুললেই বন্ধু-বান্ধব আর ভালোবাসার দেখা পাওয়া যাবে,
সুন্দর সুন্দর জামাকাপড় কেনা যাবে।
- আচ্ছা, ধন্যবাদ। - আচ্ছা, আচ্ছা...
- না, যাক, আমি ঠিক আছি। - না, না, না, আচ্ছা।
তুমি জানতে চাচ্ছ, আমি শেষ কবে সুখে ছিলাম?
No comments yet. Be the first to leave one.