ആദ്യത്തെ 200 വരികൾ.
কাম অন!
এই দোস্তইয়েভস্কি, তুই দুলছিস।
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিস, হ্যাঁ?
সবাই দুলছে। গানটা জোস ছিল।
আচ্ছা তাহলে।
বিয়েতে ভদ্র থাকিস, ঠিক আছে? আর কোনো ব্যাচেলর পার্টি হবে না।
- ঠিক আছে? - ঠিক আছে।
বিয়ের তারিখ ভুলিস না।
আমি পরশুদিন বের হবো।
- তাহলে, বিয়ে কবে? - বিয়ে? আ...
- ১৭ আগস্ট দোস্ত। - স্যরি দোস্ত।
দস্তু, তুই ঠিক আছিস? তোকে নামিয়ে দিব?
- কানা না কি? আমি ঠিক আছি। - ঠিক আছে।
এই সমুদ্রে কত নদী মিশেছে, দোস্ত।
- তবুও আমাকে এটাই জিজ্ঞেস করিস। - আচ্ছা, দোস্ত।
- তোর ড্রাইভার ঠিক আছে তো? - হ্যাঁ আছে।
- ঠিকঠাক গাড়ি চালাতে জানে তো? - সে ভালো চালায় রে।
- চুপ করে আবার গিলেছে না কি? - আরে না।
- শিওর? - হ্যাঁ।
- আমি নামিয়ে দিয়ে আসবো তোদের। - না, যা তুই।
আচ্ছা, গুড নাইট।
- বাই। - ওকে।
- পৌঁছে কল দিস আমাকে। - হ্যাঁ।
আয়, চল।
আল্লাহ!
হুশ!
উস্তাদ?
- আপনি কখন আসলেন? - কিছুক্ষণ হলো আসার।
উস্তাদ, আমরা জান্নাতে না কি জাহান্নামে?
আল্লাহ সেটা নির্ধারণের জন্য তোমাকে অতিরিক্ত সময় দিয়েছে।
যখন তোমার এক্সিডেন্ট হলো...
আমি বলছি কী হয়েছিল।
সবাই জানে এতে বিড়ালের ভুল ছিল না...
কিন্তু তুমি এক্সিডেন্টের সময় মাতাল ছিলে।
শুধু তোমার বন্ধুবান্ধব আর পরিবারই না।
তোমার হবু বউয়ের বাড়ির লোকেরাও জেনেছে।
তাই তারা বিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে।
এই অপমান সহ্য করতে না পেরে তোমার বাবা...
তার দোকানে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
বেচারা তার নিজের শহরে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পুলিশের রিপোর্ট বলে তুমি মদ পান করেছিলে।
তাই তোমাকে অফিসেও বদলি দেয়া হয়েছে।
এখন তোমার সামনে একটাই পথ আছে।
বিশ্বাসের পথ।
আমি আদেশ করব...
আর তুমি মেনে চলবে।
আপাতত তুমি তোমার বাবার...
দোকান সামলাও।
আর বিয়ে করা পর্যন্ত অন্তত...
সবার মন ভোলাতে মাঝেমধ্যে
মসজিদে আসবে।
এটাই তোমার শেষ সুযোগ।
ভয় পাও।
পুলসিরাত (পরকালে সবাইকে যে সেতু পার করতে হবে) নামের সেতুকে ভয় পাও।
ভয় পাও, কারণ ঐ সেতু থেকে পড়ে গেলে...
সোজা জাহান্নামের আগুনে পড়বে।
উস্তাদ?
আমি আর কখনও পথভ্রষ্ট হবো না।
আলহামদুলিল্লাহ। সব ঠিক হয়ে যাবে।
চিন্তা করবে না। আমি আছি তোমার সাথে।
আল্লাহ!
চন্দ্র ভাই?
আল্লাহ!
চন্দ্র ভাই?
চন্দ্র ভাই?
কী হয়েছে?
আপা?
- দিলরুবা? - বাবা?
- বাবা? - কী হয়েছে?
কী হয়েছে বাবা?
আমি ঠিক আছি।
ওযু করো গিয়ে। একসাথে ফজরের সামাজ পড়ব।
জলদি!
বললাম, জলদি!
এটাই হয়ত বাচ্চাদের সাথে আমার শেষ জামাত।
চিন্তা কোরো না দস্তগীর।
গ্যাসের সমস্যা হয়েছে হয়ত।
গ্যাস, হ্যাঁ?
- এম্বুলেন্স ডাকবেন? - এম্বুলেন্স?
এম্বুলেন্স ডাকুন চন্দ্র ভাই।
কী যা তা...
হায় আল্লাহ! আমার ছোট-ছোট বাচ্চা আছে। আমার সাথে এমন কোরো না আল্লাহ।
মাফ করবেন ডাক্তার। চন্দ্রন বলছি।
- কী হয়েছে, চন্দ্রন? - দস্তগীর বলছে ওর বুক ব্যথা করছে।
আসল না কি...
আমার মনে হয় এবার আসলেই হয়েছে।
এম্বুলেন্স ডাকতে বলছে।
- আমি আপনাকে কল করলাম। - এখন কী করছে সে?
দেখছি।
আল্লাহু আকবার।
বাচ্চাদের সাথে নামাজ পড়ছে।
সে ভাবছে এটাই হয়ত শেষ নামাজ।
তো তার নামাজ পড়ার মত সামর্থ্য আছে?
এম্বুলেন্স ডেকে ঝামেলা করার দরকার নেই।
এক কাজ করো।
সকাল আটটায় আমার ক্লিনিকে নিয়ে আসো।
এম্বুলেন্স না ডাকলে আমার চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করবে।
চিন্তার কিছু নেই।
আগে কতবার এম্বুলেন্স ডেকেছো?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সে মারা যেতে পারত।
এতবার মরার চেয়ে এটাই ভালো।
আল্লাহু আকবার।
যতগুলো ধার নেয়া আর দেয়া হয়েছে সব এখানে লেখা আছে।
পরে হয়ত দিতে পারব না।
কী দস্তগীর?
তুমি তো একদম সহিহ-সালামত আছো।
কখনো কার্ডিয়াক এ্যারেস্ট হয়েছে আপনার? দোয়া করি কখনো যাতে না হয়।
কিন্তু আমি এভাবেই যেতে চাই।
ফিউজের মত।
আমার কিছু হলে সুলেখাকে কিছু বলবে না।
জানো, দস্তগীর...
তার অনুপস্থিতিই তোমাকে বিরক্ত করছে।
খালি আমাকে বলে তো দেখো...
কুসাইসে গিয়ে কালই তাকে নিয়ে আসব আমি।
মেরে ফেলব আপনাকে!
আমার লাশ দেখতে আসতে পারে সে।
সামান্য ঝগড়াতে সে আমাকে আর আমার বাচ্চাদের ছেড়ে গেছে।
সুলেখা তার বাবা মায়ের সাথে থাকতে চায় তাই না?
এম্বুলেন্স কোথায় চন্দ্র ভাই?
এসে পড়বে এক্ষুনি।
ঘুমোতে যাও বাচ্চারা। তোমাদের বাবা সুস্থ আছে।
যাও ঘুমোতে।
যাও।
দেখা হবে, বাবা।
দেখা...দেখা হবে?
জান্নাতে হয়ত।
এদের আবার কবে দেখবো চন্দ্র ভাই?
- এম্বুলেন্স কোথায় চন্দ্র ভাই? - আসবে।
- কখন? - শীগ্রই।
- দস্তগীর? - ওহ।
জানো এই দেশে হাসপাতাল চালানো কতটা কঠিন?
বিল্ডিং ভাড়া, স্টাফদের বেতন...
লাইসেন্স ফি, কারেন্ট বিল...
তারপর আমার বেতন।
ওহ, না ডাক্তার। এবার কোনো ডিসকাউন্ট চাই না আমার।
- কিন্তু এটা নিরাময় করে দিন। - তুমি যা ভাবছো তা নয়।
তোমার মত রোগীদের কারণে আমরা বেঁচে আছি।
ভয় আর দুশ্চিন্তার কারণে তোমার প্যানিক এ্যাটাক হয়েছিল।
এ্যাটাক?
কিন্তু আপনি...
দুশ্চিন্তার এ্যাটাক বুঝিয়েছি। খাঁটি বাংলায় পাগলামো।
প্রতিটা রোগের গোড়া এখানে।
হার্ডডিস্ক ভাইরাসমুক্ত আর ঠান্ডা রাখলে...
তুমিও রোগ থেকে মুক্তি পাবে।
কিন্তু কাউকে বলবে না। নাহলে আমাদের চাকরি যাবে।
- তার মানে, আমি সুস্থ, ডাক্তার? - নিশ্চয়ই।
বলেছিলাম আমি ভালো আছি। আপনিই আমার চিন্তা বাড়িয়ে দিচ্ছিলেন।
- এখন দোষ আমার? - এই যে?
- দস্তগীর? - ওহ!
বাসা গিয়ে গোসল করে দোকানে যাও।
পরের চেক আপের জন্য টাকা কামাতে হবে। যাও।
- ধন্যবাদ ডাক্তার। মুসাফা? - ওহ আচ্ছা।
- আপনাকে বিশ্বাস করি আমি। - ঠিক আছে।
- বিল বাইরে দিব? - আহ!
- দুদিন পর কল করব। - তা লাগবে না।
ডাক্তার, কোনো ভালো মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে চেনেন?
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ! কেন?
আপনি বলেছিলেন আমার মানসিক সমস্যা আছে।
তোমাকে!
- লাগবে না! - ডাক্তারকে পাগল কোরো না।
যাও!
পজিটিভ শক্তির জন্য যোগব্যয়াম ভালো হবে না?
যোগব্যয়াম সার্কাস যা ইচ্ছে করো।
আগে যাও তো।
আসো তো, এখানে সার্কাস কোরো না।
আসি!
শ্বাস নিন!
শ্বাস ছাড়ুন!
শ্বাস নিন!
শ্বাস ছাড়ুন!
কাল সকাল সাতটায় আবার দেখা হবে।
- একদম ঠিক সাতটায়, ঠিক আছে? - ধন্যবাদ।
- ধন্যবাদ। - ধন্যবাদ।
- প্রণাম! - আল্লাহ!
- রবি, কেমন আছো? - ভালো আছি গুরুজি।
- হাই, দস্তগীর। - হাই!
কেমন লাগছে তোমার?
ভালো লাগছে স্যার। অনেক রিফ্রেশিং।
রাগ হয় তোমার?
সত্যি বলতে রাগ আর চিন্তা এখনও আছে।
রাগ হলে দীর্ঘশ্বাস নাও?
হ্যাঁ, অনেকবার।
মনে মনে এক দশ গুনো?
জোরেই গুনি আমি।
আমার অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে স্যার।
সব খারাপ।
- একটা বিশেষ বুদ্ধি দিব? - আহ।
বলুন স্যার।
- এটা সিলেবাসে নেই। - ওহ!
যখন তুমি তোমার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না...
একটা হালকা প্লেট নিয়ে...
নিরাপদ কোথাও গিয়ে আছাড় মেরে ভাঙবে।
- অ্যাহ? - পাগলামো ভাবছো?
হ্যাঁ, কিন্তু এটা কাজে দেয়।
প্রেশার কুকারের প্রেশার ছেড়ে দেয়ার পর যেমন লাগে, তেমন লাগবে তোমার।
প্রথমে তুমি অনেকগুলো প্লেট ভাঙবে। তখন সেটা তোমার...
রাগ আর প্লেট দুটোই কমাবে।
আমার বাচ্চাকাচ্চা আর কর্মীদের সামনে এটা কীভাবে করব?
এমন কোথাও করবে যেখানে কেউ তোমাকে দেখবে না।
তারপর একটা ঝাড়ু নিবে।
No comments yet. Be the first to leave one.