ആദ്യത്തെ 200 വരികൾ.
"ডে অব দ্য ডেড" (মৃতদের দিন) উৎসবটি মেক্সিকোতে ভিন্নভাবে উদযাপন করা হয়, কারণ মেক্সিকানরা মৃত্যুকে দীর্ঘ জীবনের একটি অংশের পরিসমাপ্তি বলে বিশ্বাস করে।
তারা কঙ্কালের আকৃতির খেলনা, মুয়ের্তোস নামে একধরনের রুটি এবং সুগার স্কাল চকোলেট তৈরি করে।
তারা উৎসবের দিন মৃত আত্মীয়-স্বজনদের আত্মার জন্য বাড়িতে ফুল,
তাদের নানা রকম পছন্দের খাবার এবং পানীয় রাখে। মৃতদের স্বাগত জানানোর এই রীতি...
...মেক্সিকো আদিবাসী মানুষদের থেকে ৮০০০ হাজার বছর ধরে চলে আসছে, তবে ১৬ এবং ১৭ শতাব্দীতে...
তাদের রীতিনীতি এবং ধর্মবিশ্বাস খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সাথে মিশ্রিত হয়েছিল,
বর্তমানে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং রীতিনীতি উভয় সংস্কৃতির সংমিশ্রণ।
"ম্যাকারিও"
অনুবাদকঃ মোঃ রায়হান শেখ (জনি)
উৎসর্গঃ সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম ও রফিকুল রনি ভাইকে।
এই মোমবাতিটা কার জন্য?
এটা তোমার দাদী রোজার জন্য।
তিনি যেন শান্তিতে থাকতে পারেন।
তিনি আমাদের সবসময় খুব ভালবাসতেন।
তুমি নিশ্চয়ই বাবার জন্য মোমবাতি জ্বালাচ্ছ না?
না, আম্মু।
তোমার বাবা বেঁচে আছে, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।
মোমবাতিগুলো শুধুমাত্র মৃত মানুষদের জন্য।
নার্সিসোর বাড়িতে ওরা বড় পূজার মণ্ডপ বসিয়েছে...
বরাবরের মতো...
ওরা খুব ভন্ড, এমনকি মৃতদের সাথেও ওরা ভণ্ডামি করে।
আমরা তেমন নই।
এগুলো আমরা খাবো আর এগুলো আমাদের মৃত ব্যক্তিরা খাবে।
আজ এতো জলদি চলে এসেছো, ম্যাকারিও?
হ্যাঁ, চলে আসলাম।
নাও, এই ফুলগুলো পূজার জন্য তোমার বউকে দিও।
ধন্যবাদ।
- দিনটা ভালো কাটুক। - দিনটা ভালো কাটুক, ম্যাকারিও।
বাবা আসছে!
আমাদের জন্য কী নিয়ে এসেছো?
পরে, পরে।
আমি সুন্দর জিনিস নিয়ে এসেছি।
বাচ্চারা, তোমরা কী করছো?
বাবা! বাবা!
- আমাকে একটা দাও, আমাকে একটা দাও। - আস্তে, আস্তে...
আমি সবার জন্য অনেক কিছু নিয়ে এসেছি।
ছোটরা প্রথমে।
এই যে নাও।
আমি, আমি।
- ছোট্ট পাখি। - দেখতে খুব সুন্দর!
- এটা খাওয়া যাবে? - সবগুলো নয়।
দেখো, এটা অনেক সুন্দর দেখতে।
আমাদের পিতা, যিনি স্বর্গে আছেন, আমাদের আজকের খাবারের জন্য...
...আমরা আপনাকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আগামীকালও হয়তো খাবার জুটিয়ে দেবেন।
পবিত্র পিতা...
...পুত্র, এবং পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।
আমার খাওয়া শেষ, মা।
মিথ্যা কথা। ওর মুখের ভেতর এখনও খাবার আছে!
আমি আরও চাই।
- আমি আরও চাই। - আমাকেও দাও।
- আমি কি আরও নিতে পারি? - আমিও।
- আমাকে আরও দাও। - দয়া করে আমাকেও আরও দিবে?
ওহ, দেখো! এখানে আসো, এটা অনেক সুন্দর!
কত খাবার!
মৃত মানুষরা এতোগুলা খাবার খাবে?
আমি যদি মরে যায়, তাহলে কি এখানে খেতে আসতে পারবো?
না, শুধুমাত্র ধনী মৃত ব্যক্তিরাই এখানে খেতে আসে।
আমাদের মৃত আত্মীয়রা আমাদের পূজা থেকে খাবে।
তাহলে আমার না আসাই ভালো হবে।
মা, আমরা গিয়ে ওই মন্ডপটা দেখতে পারি?
হ্যাঁ, তোমরা যেতে পারো, কিন্তু ভদ্র আচরণ করবে।
কিছুক্ষণ পর আমি তোমাদের কাছে আসছি।
মা, তারা যদি ভদ্র আচরণ না করে, আমি ওদেরকে মারবো?
না, এমনটা করবে না।
শুভ সকাল, চোনা।
শুভ সকাল। দাম ৩ রিয়েল।
এতো টাকা কেন?
মিঃ রামিরো থেকে তারা আমাকে অনেক লেইস শার্ট পাঠিয়েছে। ঐগুলোর জন্য আমি আরো টাকা নেবো।
তুমি সবসময়ই বেশি টাকার জন্য বাহানা খুঁজে বের করো।
বলে দেখি ডোনা ইউলালিয়া কী বলে।
হেই, উনাকে আমার ছুটির দিনের বকশিশের কথা বলতে ভুলো না যেন।
ডোলা ইউলালিয়া কিছুক্ষণ আগে বলেছে যে, আজকের দিনে টাকার বায়না করাটা ঠিক হবে না।
তারপরেও তাকে বলে দেখবো।
- শুভ সকাল। - কেমন চলছে ম্যাকারিও? যাও। মহাজন ভেতরেই আছে।
দিনকাল কেমন যাচ্ছে, ম্যাকারিও? একটু থামো।
কারণ আজ মৃত ব্যক্তিরা আমাদেরকে অনেক কাজ দিয়েছে।
অনেক মোমবাতি, উহ?
যেমনটা দেখতে পাচ্ছ, এগুলো আজকের জন্য খুব বেশি নয়।
আমার কাছে এখানে যে কটা মোমবাতি আছে তার চেয়েও মৃত ব্যাক্তিরা দ্বিগুণ।
তুমি কি তোমার মৃত স্বজনদের জন্য কিনবে না?
এরা তোমার কাছ থেকে সস্তায় কাঠ কিনছে।
না, ধন্যবাদ।
এটা ভালো হলো না, ম্যাকারিও।
মৃতদের জন্য তোমাকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে,
কারণ আমরা জীবিতদের চেয়ে মৃতদের পেছনে বেশি সময় ব্যয় করি।
যাই হোক, এই জীবনে আমরা সবাই মৃত্যুর জন্যই জন্ম নিই।
আমরা এখানে কী পাই?
কিছু আনন্দ, আর মাঝে মাঝে আমরা সেটাও পাই না।
প্রচুর কাজ...
প্রচুর কষ্ট।
জন্মের পর থেকে আমরা আমাদের লুকানো মৃত্যুকে কলিজাতে...
...বা পেটে...
...বা এখানে...
...অন্তরে বয়ে নিয়ে চলছি, একদিন যেটা আর কখনো স্পন্দিত হবে না।
এটা বাইরের কোনো...
...গাছের নিচেও হতে পারে...
...যেটা এখনো পুরোপুরি বেড়ে ওঠেনি...
...কিন্তু তুমি বুড়ো হয়ে গেলে গাছটিও মরে যাবে।
জন্মের পর থেকে আমরা আমাদের লুকানো মৃত্যুকে কলিজাতে...
...বা পেটে...
...বা এখানে, অন্তরে বয়ে নিয়ে চলছি...
...একদিন যেটা আর কখনো স্পন্দিত হবে না।
এটা বাইরের কোনো...
...গাছের নিচেও হতে পারে...
...যেটা এখনো পুরোপুরি বেড়ে ওঠেনি...
...কিন্তু তুমি বুড়ো হয়ে গেলে গাছটিও মরে যাবে।
বাবা, আমার খেলনাটা দেখো।
বাবা, আমিও একটা নিবো।
তুমি আমাকে বড়টা কিনে দিতে পারবে?
আমিও একটা চাই, বাবা।
আমি অনেক চাই!
আমি তোমাকে কিনে দিচ্ছি।
ওরা আমাকে ছুটির দিনের বকশিশ দিয়েছে।
আশ্রমে আমার জন্য অপেক্ষা করো। আমি রুটির কারখানায় জ্বালানি কাঠগুলো পৌঁছে দিতে যাচ্ছি।
আমি মিষ্টির রোল খাবো।
- আমি এটা নিবো। - এটা ভালো হবে।
- আমি অনেক কিছু নিতে চাই। - আমি এইটা নেবো।
যেটা খুশি বেছে নাও।
- শুভ সকাল। - দিনকাল কেমন যাচ্ছে, ম্যাকারিও?
আমাকে ক্ষমা করুন জনাব আলফ্রেডো...
...এত দেরি হওয়ার কারণে আমি এখনো আমার রুটি পেলাম না!
আমার বেচারা মৃত আত্মীয় স্বজনরা সেই সকাল থেকে অপেক্ষা করছে।
দেরি হয়ে গেছে, দয়া করে আমাদের ক্ষমা করুন।
কিন্তু ডন রামিরোর কাছ থেকে আমাদের স্পেশাল অর্ডার আছে।
ডন রামিরো ছাড়া আর কে হতে পারে?
উনার তো নিজস্ব চুলা আছে, তাই চাইলেই উনি বাড়িতে সুস্বাদু রুটি বানিয়ে নিতে পারবেন।
কিন্তু উনার চুলা নষ্ট হয়ে গেছে...
...তাই তিনি ছয়টি টার্কি রান্না করাতে পাঠিয়েছেন।
উনার আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অতিথি আসবে।
তাই বলে আমার রুটি কখনোই বানানো হবে না!
রুটি পরে বানানো হবে। তোমাকে আমার এক জবান দিলাম।
ঠিক আছে।
আমাদের টার্কির মাংস দেখে আপনার কী মনে হয়?
তোমাদের? এইগুলোও কী তোমাদের?
আপনি দেখতে পাবেন...
...আমাদের যারা ডন রামিরোর বাড়িতে কাজ করে, তারাও তাঁর মতো একই খাবার খায়।
আমাদের আজ খুব গুরুত্বপূর্ণ অতিথি আসবে।
আপনি জানেন কে আসছে?
ক্যানন ডন ক্রিস্টিন অ্যালাট্রিস্ট।
উনি কে?
আপনি তাকে চিনেন না? সাংঘাতিক তো!
উনি...
সাবধানে, তুমি সস ঝরিয়ে দিচ্ছ।
আবার রেখে দাও!
তুমি কি আজ আমাদেরকে বিনেপয়সাতে কাঠ দিচ্ছ?
ওর কী হয়েছে? ও তো বখশিশের টাকাও চাইলো না।
সাবধানে!
খুব সাবধানে, পড়ে না যেন, নয়তো তোমাদেরকে এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
সবটুকু খেয়ে নিও না। আমার জন্য একটা রাখো। আমার জন্য একটা রাখো!
কী হয়েছে ম্যাকারিও?
কিছু না। ঘুমিয়ে পড়ো।
ম্যাকারিও...
ম্যাকারিও, তুমি কি কিছুই খাবে না?
বাচ্চারা তোমার ভাগেরটুকুও খেয়ে ফেলেছে।
কিন্তু আমি অল্প খাবার বাঁচিয়ে রেখেছি যখন দেখলাম যে তুমি দুপুরের খাবার খাওনি।
তুমি না গেলে, ওরা বাকিটুকুও খেয়ে ফেলবে।
ওদের খেতে দাও!
তোমার কি খিদে পায়নি?
খিদে...
খিদে...
আমার পুরো জীবনে খিদে ছাড়া আর কিছুই উপলব্ধি করতে পারেনি।
এমনকি তুমিও। আমার সন্তানরাও।
খাবার ছাড়া জীবনে কখনো আর কিছু চিন্তাই করতে পারেনি।
আমরা সারাটি জীবন ক্ষুধার্তই থেকেছি।
গতকাল ঐ টার্কিগুলো দেখেছিলে।
আমি আর ধীরে ধীরে ক্ষুধায় মরবো না।
মরলে আমি একবারই মরবো।
আমি আর কখনো খাবো না যতক্ষণ পর্যন্ত না...
গোটা একটা টার্কি কারও সাথে ভাগ করে খাওয়া ছাড়াই,
...একাই খেতে পারছি।
ক্ষুধার কষ্ট সহ্য না করে যাতে অন্য মানুষের মতো পেটপুরে খেতে পারি।
যদি...
...আমার নিজের সন্তানও হয় তবুও।
তবুও আমি একাই খেতে চাই।
সবটুকু আমার জন্য হবে...
সবটুকুই, আর যদি না পাই, তাহলে আর কখনোই খাবো না।
আমি আমার মুখের মধ্যে...
...টার্কির স্বাদ নিয়ে...
...পেটের ক্ষুধা মেটাতে চাই।
এর চেয়ে এক টুকরাও বেশি খেতে চাই না।
আমার জন্য যে খাবারটুকু বাঁচিয়ে রেখেছো, সেটুকু বাচ্চাদেরকে দিয়ে দাও।
কারণ আমি আর কখনোই খাবো না।
নাও, ম্যাকারিও।
নাও, ম্যাকারিও, নাও।
এটা বাচ্চাদের দিয়ে দাও।
- আমি প্রথমে। - আমি!
প্রথমে ছোটদেরকে দাও।
তুমি এখানেই থামো।
চোনা কি তোমাকে বুঝিয়ে দেয়নি আমি কেমন স্কার্ট বানানো পছন্দ করি?
দেখো! একেবারে বাজে হয়েছে!
মাড় শেষ হয়ে গেছে,
আর এই মুহূর্তে আমার কাছে কোনো টাকাও নেই।
এমন কাজের জন্য আমার কাছে টাকা পাওয়ার আশা করবে না।
এগুলো সঙ্গে করে নিয়ে যাও আর যেভাবে করতে বলা হয়েছে সেভাবে করে নিয়ে আসবে।
ও মরে গেছে!
পালাও!
ওই বাদ।
ও মরে গেছে!
ম্যাকারিও!
নাও।
No comments yet. Be the first to leave one.