ആദ്യത്തെ 200 വരികൾ.
ভাই, তোমার কথামতোই সেদিন মাল পাঠিয়ে দিয়েছি।
হ্যাঁ ভাই।
কিন্তু এখনো টাকা পাওনি।
সাবধানে!
এটা নিয়ে ঝামেলা করো না ভাই, আমাকে দাও!
তুমি একটু বিশ্রাম নাও। এটা আমার উপর ছেড়ে দাও।
আরে দাও বলছি!
শোনো, একটু বিশ্রাম নাও।
তুমি তো কথাই শোনো না!
বাচ্চারা, সিঁড়ি পিচ্ছিল! সাবধানে!
আমার স্বামী কোথায়?
বলো,আমার স্বামী কোথায়?
এটা কি পুলিশ স্টেশন নাকি?
আমার স্বামীর যদি কিছু হয়,
আমি কাউকেই ছাড়বো না।
এই শুভদিনে ঝামেলা বাধিয়ো না।
সিঁড়িতে সাবধানে ওঠানামা করো, পিচ্ছিল!
ওকে না দেখা পর্যন্ত আমি এখানেই থাকবো!
এখানে কি তুমি একাই ব্যবসা করবে নাকি?
আমরা কিছু করতে পারবো না?
আমাদের কি একটু বেঁচে থাকতে দেবে না?
এভাবে টাকা রোজগার করে তুমি শান্তি পাও?
তুমি কিন্তু এখন ভীষণ আফসোস করবে।
কিছু না ভাই।
আমার স্বামী…
এই নাও, রাখো।
-ঠিক আছে, আগে তুমি খাও। -চাচা?
-ওকে কী করেছো? -আগে ওকে খেতে দাও।
-ওর ক্ষিধে পেয়েছে? -বড় টুকরো নেবে?
-আচ্ছা, তোমাকে দিচ্ছি। -তুমি তো এখন ফেঁসে গেছো!
কোন ক্লাসে পড়ো?
ক্লাস থ্রি!
তুমি তো বলেছিলে পুলিশে যাবে?
তাহলে এখনো যাচ্ছো না কেন?
এখানে সবাই তোমার কথামতো চলে বলে তুমি এসব করছো, তাই না?
কি হচ্ছে এখানে?
কি ব্যাপার? সবাই ভেতরে যাও!
ভেতরে যাও,
-এখানে নাটক করছো কেন? -শ্রীজা...
-শ্রীজা, ভেতরে যাও! -ওঠো, বলছি উঠো!
-চলে যাও এখান থেকে! -আমায় হাত দিও না!
-শোনো, প্লিজ। -চলে যাও!
-ভেতরে আসবে নাকি না? -চলে যাও!
-তুমিও পাগল হলে নাকি? -বলো মা।
আজ সকালে বেরিয়েছিলো, এখনো ফেরেনি।
-চলো বাড়ি যাও! -ওঠো বলছি!
সবাই মিলে ওর সাথে হাত মিলিয়ে, এখন নাটক করছো?
-ও নিখোঁজ হলে অভিযোগ দাও। -আমায় ছেড়ে দাও বলছি!
-শ্রীজা! ভেতরে যাও। -চলে যাও এখান থেকে!
-আমার স্বামী কোথায়? -এই!
তোমাদের ওপর এমনিতেই মাথা গরম হয়ে আছে!
-ভালোয় ভালোয় চলে যাও। -কি করবে তুমি?
-কান্নান, শোন! চুপ কর! -ওর গায়ে এক ফোঁটা আঁচড় পড়লেও...
তোমাদের ছিন্নভিন্ন করে ফেলবো!
-আমাদের থ্রেট দেয়ার সাহস হয় কী করে? -কসম করে বলছি, নিঃশেষ করে দেবো!
-শ্রীজা, ভেতরে যাও! -আমার স্বামী ফিরলে না...
তোমরা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে!
এই পবিত্র দিনে আমাদের বাড়িতে এসে অভিশাপ দিচ্ছিস!
-হাত ছাড়, নোংরা কুকুর! -ভাগ এখান থেকে!
-ওকে ছেড়ে দে। -বলেছিলাম না, চলে যা!
চলো। বলছি ভেতরে যাও।
ও আমার ভাইয়ের সাথে এভাবে কথা বলছে,
আর তুমি চুপ করে আছো?
চলো!
আমি এসপি অফিসে যাচ্ছি।
আমি কালেক্টরের কাছে যাবো।
-একজনকেও ছাড়বো না! -যা!
যেখানে খুশি যা!
কি রে?
এসপি অফিসে যাবে বলছে?
এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই তো?
না বাবা।
কিছু থাকলে তো তোমাকে আগেই জানাতাম, তাই না?
কি সাহস ওই মেয়ের, আমার ভাইকে অপমান করে?
বাদ দে!
হাত-মুখ ধুয়ে খেতে বস।
-ওই বিষয়টা সামলে নিও। -ঠিক আছে, কাকা।
-মা, আমার মুরগি পড়ে গেছে। -চুপ কর!
জানি না তোর বাবা বেঁচে আছে কি না,
আর তুই মুরগি খাওয়ার জন্য কাঁদছিস?
এতো বেয়াক্কেল কেন তুই?
নালায়ক! আর করবি?
মা, আমি মুরগি খাবো না। আমি মুরগি খাবো না।
মুরগী লাগবে না!
আমি মুরগি খাবো না, মা।
মুরগী লাগবে না, মা।
আর মুরগি লাগবে না, মা।
মা, আমার ভয় লাগছে!
মা?
মা?
মা?
শঙ্কর!
স্যার, স্যার। আমার নাম শঙ্কর।
স্যার, আমার...
-স্যার, আমাকে ইন্সপেক্টরের সাথে দেখা করতে হবে। -রাইটারের কাছে যাও।
-আমি মেলুরে মুরগির ব্যবসা করি। -ভেতরে যাও।
-স্যার, কোথায়? -ভেতরে যাও।
কংগ্র্যাচুলেশনস ভাই!
যদি জমা দিয়ে থাকো, তাহলে এখানেই থাকবে।
-এভাবে উধাও হয়ে যাবে কেন? -আরেকবার দেখুন, ম্যাডাম।
ম্যাডাম, আমার নাম শঙ্কর।
মেলুর বাজারে…
ম্যাডাম, আমার স্ত্রী আর মেয়ে নিখোঁজ।
-আমার মেয়ে আট বছরের। -কতক্ষণ হলো নিখোঁজ হয়েছে?
আনুমানিক দেড় ঘণ্টা, ম্যাডাম।
আপনার কি এতটুকু বিবেকও নেই?
ও আগে এসে অভিযোগ করেছে যে আমি নিখোঁজ।
আমি ওর সঙ্গেই এসেছিলাম, বিকেল চারটার দিকে।
আমি ইন্সপেক্টরের সঙ্গে দেখা করতে চাই।
ইন্সপেক্টর মন্দিরের নিরাপত্তা সামলাচ্ছেন।
ফিরতে দেরি হবে।
কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করো। ওরা বাড়ি ফিরে আসবে।
ম্যাডাম?
ম্যাডাম, ও আমার খোঁজে পেরিয়াভরের বাড়ি গিয়েছিল।
সেখানেই কিছু একটা হয়েছে।
তারপর থেকে ওর ফোন বন্ধ।
ছয় মাস আগে ওরা আমায় গাড়ি চাপা দিতে গিয়েছিল।
আমি এখানে অভিযোগও করেছিলাম।
-আমার ফোন নষ্ট হয়ে গেছে। -বসুন, স্যার।
-বাইরে বসুন, ডাকব। -ঠিক আছে, ম্যাডাম।
বসুন, আমি আসছি।
বসুন।
ফোনটা দে।
বাড়ি গিয়ে অপেক্ষা করুন।
লোকাল ইন্সপেক্টরকে বলবো দেখতে।
স্যার, আমি এসপি-র সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ জানাতে চাই।
দয়া করে শুনুন স্যার, এসপি স্যার এখানে নেই।
আজ উৎসবের রাত। আসবেন কি না, জানা নেই।
-স্যার, আমি অপেক্ষা করবো। -বুঝতে পারছেন না?
শুনুন, আপাতত বাড়ি যান।
আপডেট পেলেই জানাব।
হ্যালো! শুনছেন? ওকে ডাকুন।
-ভাই, শুনছো না নাকি? -স্যার।
স্যার, আমার স্ত্রী আর মেয়ে নিখোঁজ।
স্যার, লিখিত অভিযোগ নিয়েছি।
কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের আগেই...
-কতক্ষণ হলো ওরা নিখোঁজ? -দেড় ঘণ্টা, স্যার।
স্যার।
স্যার… স্যার…
আমি কেসটা খতিয়ে দেখছিলাম, স্যার।
ওরা ফিরে আসবে। বাড়ি যান।
-ওকে বাড়ি পৌঁছে দাও। -স্যার, এটা নিখোঁজের ঘটনা না।
ওরা আমার খোঁজে পেরিয়াভরের বাড়ি গিয়েছিল,
তারপর আর ফেরেনি।
-পেরিয়াভর মানে রবি? -হ্যাঁ, স্যার।
ওরা যদি বলতো, ও গিয়ে ঝামেলা করেছে, তাহলেও হতো,
কিন্তু ওরা বলছে, ও নাকি আসেইনি।
-আমি খুব চিন্তায় আছি, স্যার। -ওর ফোন বন্ধ?
একবার বেজে বন্ধ হয়ে গেছে।
-ওর বাড়ি গিয়েছিলে? -হ্যাঁ, স্যার।
সেখানে কিছু একটা হয়েছে নিশ্চিত।
আমি খুব চিন্তায় আছি, স্যার।
-রবির ছেলের সঙ্গে আমার ঝামেলা আছে। -বিষয়টা হলো ভাই...
যদি রবি জড়িত থাকে, তাহলে কিছু একটা ঘটেই গেছে।
ওদের উপর একটু জোর না খাটালে কিছু বের হবে না।
সুযোগ বুঝে কাজটা করতে হবে।
আমাদের ডিপার্টমেন্টেই ওর লোকজন ছড়িয়ে আছে।
ও জানতে পারলে সরাসরি কোর্টে চলে যাবে।
তাহলে আমার হাত থেকে কেস বেরিয়ে যাবে।
আমি কিছুই বুঝছি না, স্যার।
ও কোর্টে গেলেও, আমি জানি ওকে কিভাবে আটকাতে হবে।
স্যার, কী করতে হবে?
-ওকে রানের পিসটা দাও! -এই…
-ভগ্নীপতিকে দাও আগে। -দিয়ে এসো!
দিয়েছি, ভাই। তুমি খাও।
-আমি দেখছি! -ঠিক আছে।
-আর একটু তরকারি দেব? -না, ঠিক আছে।
ভাই, ইন্সপেক্টরের ফোন।
রিসিভ না করা পর্যন্ত থামবে না, জিজ্ঞেস করো কী বিষয়।
ঠিক আছে।
হ্যালো?
স্যার, উনি খাচ্ছেন এখন।
ঠিক আছে স্যার, বলুন।
কখন?
-আমরা শেয়ার করে খাবো? -ঠিক আছে।
আমি একটু আসছি।
শোনো…
-খাবারের মাঝখানে? -আসবে তো আবার!
তুমি খেতে থাকো।
এসব আর বদলাবে না!
ঠিকমতো খেতেও দেয় না।
এখানে কী ঘটেছে, সেটা ওকে বলিসনি কেন?
বলেছি তো।
বলেছি যে, মেয়েকে নিয়ে এসেছিল, তারপর চলে গেছে।
ও কী বলল?
আমার কথা একটাও শুনেনি।
কী বলেছে, সেটা বল?
ও বলল…
ওর মনে হচ্ছে, কিছু একটা প্ল্যান হচ্ছে।
ও আমাদের এখান থেকে সরে যেতে বলেছে।
-প্ল্যান? মানে কী? -ভাই...
প্ল্যান…
'প্ল্যান' মানে কী বলছে?
এনকাউন্টারও হতে পারে।
এসপি নিজেই জড়িত।
ও এমন একটা সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিল।
চটজলদি কিছু করতে হবে।
ভাই…
এত তাড়াতাড়ি পরিকল্পনা করে কাজ চালানো কি সম্ভব?
আমি শুধু ডিআইজি-র পায়ে পড়তে বাকী ছিলাম!
No comments yet. Be the first to leave one.