ആദ്യത്തെ 200 വരികൾ.
আরে, পাগল নাকি?
গৌতম।
বলো সোনা।
সিয়াটল থেকে তোমার কাকা রিসেপশনে এসেছে...
আর হোটেলে কোনো রুম নেই।
এখানকার লোকটার সাথে একটু কথা বলো, কী মুশকিলে পড়ে গেলাম!
হ্যাঁ, হ্যালো।
স্যার, আপনার স্ত্রী ৪০৫ নাম্বার রুম চাচ্ছে, কিন্তু এটা তো খালি নেই।
৬০১ নাম্বার রুমের লোককে ৪০৫ নাম্বারে পাঠিয়ে দিলেই তো হয়।
চম্পা।
চম্পা।
চম্পা।
চম্পা।
এটা আমার মেয়ের টুপি, আমার মেয়ে কোথায়?
সোনা, র্যাম্বোকে পেয়েছ?
প্লাটফর্মে গিয়ে দেখছি।
তোমাদের ছাড়া কিন্তু পার্টিই হবে না।
জানি আমি, মা কোথায়? একটু দেও তো।
র্যাম্বোকে তাড়াতাড়ি নিয়ে আসো।
হ্যাঁ, এক্ষণই আনছি।
আরে আস্তে!
শালা, কোথাও যাবি না তুই।
কে তুই বল?
ছেলেটা কষ্টে ছিল, সোনা, এভাবে বলো না।
আরে কয়দিন কাঁদবে ও? এরকম বিরহে থাকা একদম পছন্দ না আমার।
কার কথা এটা?
আমার।
হ্যাঁ, তা তো বটেই।
কেন, আমার হতে পারে না?
এসব ঠকবাজি অন্য কোথাও করো।
একটু দাড়াও, ইন্দু, আমি পরে কল করছি।
কী হয়েছে!
এটা আমার ভাই।
কী করছেন আপনি?
রামান, হয়েছেটা কী!?
আপনার ভাই এই মহিলার বাচ্চা চুরি করেছে।
আরে কী বলছেন আপনি?
কী হয়েছে, বল?
মাটিতে পেয়েছি এই টুপি, এখন তারা ভাবছে, আমি নাকি বাচ্চা চুরি করেছি।
তার হাতে ছিল এটা।
আরে ভাই, একটা মেয়ে আমার সাথে ধাক্কা খেয়ে টুপিটা ফেলে দিয়েছে।
এতো গণ্ডগোল কীসের?
- ভুল বুঝছে উনারা। - পিছনে যান।
স্যার, এই লোক আমার বাচ্চাটা চুরি করেছে, ওর টুপি উনার হাতে।
মহিলাটা ধাক্কা খেয়ে টুপি ফেলে গেছে।
মেয়ে?
একটা মেয়ের ধাক্কা লেগে টুপিটা পেয়েছ ও।
কোন মেয়ে?
চিনিস মেয়েটাকে?
আমি কীভাবে চিনব?
আরে ও জানে না, জানে না ও।
চুপ করুন।
এদিকে আয় তুই।
আরে, আচ্ছা মাথা ঠাণ্ডা করে শুনুন আমার কথাটা।
স্যার, আমি মাত্রই ট্রেন থেকে নেমেছি।
মোবাইল চার্জে দিয়ে এখানে ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।
এইতো এখানেই, বিস্কিট কিনেছিলাম...
চাইলে ওকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।
তোর কাছ থেকে বিস্কিট কিনেছিলাম না?
হ্যাঁ, বিস্কিট নিয়েছিল তো।
আমার হাতে কোনো বাচ্চা ছিল?
- না। - দেখলেন?
আর কিছু দেখেছিস?
বাচ্চা চুরি করে কেউ এখানে দাড়িয়ে থাকবে নাকি?
- অনেক আগেই নিয়ে চলে গেছে। - পুলিশকে জানান।
চম্পা...
ওহ খোদা!
কেউ ধরো করো উনাকে।
আমার মামণিকে নিয়ে গেলরে।
বসাও উনাকে।
আমার বাচ্চাটাকে হারিয়ে ফেললাম।
আন্দাজে অন্যকে দোষ দিচ্ছেন আপনারা।
সামলে।
যান এখান থেকে।
চলে যান।
চলে আয় এখান থেকে।
পাগলা পাবলিক, কিছু একটা পেলেই...
এই ছোকরা।
এদিকে আসো।
কী হয়েছে, স্যার?
আসতে বললাম তো।
কথা তো হয়েছে, এখন আর আবার কী?
সে-ই একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী।
পুলিশ আসছে, বয়ান নেওয়া হবে তার।
আপনিই নিয়ে নেন।
আমি নিতে পারব না।
নিয়ে নেন না, স্যার।
ডিউটিতেই তো আছেন, জলদি যেতে হবে আমাদের।
এটা আমার কাজ না।
স্থানীয় পুলিশকে কল দিয়েছি, তারাই করবে এই কাজ।
চাইলেই পারবেন, স্যার।
আসুন, একটু কথা বলি।
ফাজলামি হচ্ছে নাকি?
অভদ্রতামি যত্তসব!
কথা বলতাম?
গায়ে হাত দিচ্ছে।
একটু কথা বলব।
একটা অপরাধ হয়ে গেছে এখানে...
স্যার, কতক্ষণ লাগবে?
যতক্ষণ লাগে লাগুক।
উপকার হবে পুলিশদের।
- আচ্ছা, স্যার। - দেখে তো ভদ্রলোকই মনে হয়।
ফালতু কথা না বলে, অপেক্ষা করো।
স্যার...
যাও সবাই।
আমার বাচ্চাটাকে দেখেছেন?
- না, দুঃখিত। - খুবই ছোটো সে।
কই ফেঁসে গেলামরে ভাই!
আজকেই হতে হলো সবকিছু।
ওদিকে মাও চিন্তা করছে।
বলে দিবো ট্রেন দেরীতে এসেছে।
ট্রেনও তো দেরীতেই এসেছে।
চা খাবি?
মাল খাবি?
চল, এনেছি আমি।
চম্পাকে কে যেন ট্রেন স্টেশন থেকে চুরি করে নিয়ে গেছে।
তাকে ছাড়া আমি বাঁচব না, গিতু।
আমি ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিবো।
আমার বাচ্চাটা চলে গেল।
কিচ্ছু করতে পারলাম না আমি।
মরে যাওয়াই উচিত আমার।
ঝুম্পা, নিজেরে শান্ত রাখ।
কথা শুন, কান্না বন্ধ কর।
গিয়ে খোঁজ, খুঁজলেই পাবি চম্পাকে।
কান্না করার সময় নেই, উঠ।
লোকদের জিজ্ঞাসা কর, সব জায়গায় খোঁজ, হাল ছাড়িস না।
পুলিশ তোকে সাহায্য করবে না।
চম্পাকে তোর নিজেই খুঁজতে হবে।
তুই ছাড়া কেউ নেই ওর।
তোর ভাইকে সাহায্যের জন্য বলছি।
চিন্তা করিস না, আমি আছি তোর পাশে।
যা এখন ঝুম্পা।
- ট্রেন আসেনি এখনও? - ওয়াও মা, তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।
কথা ঘুরাবি না।
জানিস, ওর ফোনটাও বন্ধ।
আসলেই মেসেজ দিবো তোমাকে।
যাও এখন ঘুমিয়ে পড়ো, কাল কতো অনুষ্ঠান আছে।
আচ্ছা।
মনে করে কল দিবি কিন্তু।
চিন্তা করো না মা, ঘুমাও।
- কল দিবি কিন্তু। - ইন্দুকে দেও।
হ্যাঁ দিবো, ইন্দুকে দেও ফোনটা।
হুম, কী খবর?
আর কিছু বলেছে?
অনুষ্ঠানে সে তার দুই ছেলেকেই দেখতে চায়।
আর কী?
সে নিজেই তো আমাকে আসতে বলেছে।
মা সবসময় আমাদের আবেগ নিয়ে খেলা করল।
কী চাই?
ওই মেয়েটাকে তুই দেখেছিস তাই না?
না, দেখিনি কোনো মেয়েকে।
তোর পাশ দিয়েই তো গেল।
আমি তো আর চৌকিদার নই।
বাবু, তুই দেখেছিস, না?
না, দ্রুত চলে গেছিল সে।
শাল দেখেছিলাম তার গায়ে।
সিমেন্টের মতো ছাই রঙের ছিল।
আর কিছু দেখিনি।
কিন্তু তার নাকটা অনেক লম্বা ছিল, এইটুকু মনে আছে।
অনেকটা...
অস্বাভাবিক ছিল।
কী হয়েছে?
তোতা পাখির মতো লম্বা ছিল।
অনেকটা লম্বা।
এই বাবু।
সাহায্য করবেন আমাকে?
হ্যাঁ, অবশ্যই।
আরে ভাই।
রাখুন এটা।
এটা না।
রাখ।
কী হয়েছে?
পাগল নাকি তুই!
ভাবটা দেখ একবার।
কী করছিস তুই?
সাহায্য চেয়েছে তাই টাকা দিয়েছি।
সেটাই, সাহায্য চেয়েছে।
এসব সমস্যা টাকা দিয়েই সমাধান হয়।
কী?
কিছু না।
২ কাপ চা বানাতে আর কতক্ষণ লাগবে?
হয়ে গেছে, স্যার।
স্যার, এর কথায় কিছু মনে করবেন না, বাচ্চা হারিয়ে পাগল হয়ে গেছে।
চিন্তা করবেন না।
আমি পুলিশকে বলব
যে বাচ্চাটা অন্য একটা মেয়ে চুরি করে নিয়ে গেছে।
- ভাংতি হবে না। - রেখে দে।
শ্যামবর্ণ, ৫ ফুট লম্বা
ধূসর রঙের শাল।
তোতা পাখির মতো নাক, আর কিছু?
আর কিছু জানি না স্যার।
এবার যেতে পারি?
যাও, এত তাড়া থাকলে ভাগো।
না, স্যার, ভাইকে রেখে যেতে পারব না।
বয়ান দিবে না তাহলে?
স্যার, সেটা বলিনি...
হ্যাঁ ভাই...
নাম কী?
স্যার, রামান বানশাল, মাত্রই তো বললাম।
কী কাজ করো?
No comments yet. Be the first to leave one.