ആദ്യത്തെ 200 വരികൾ.
ব
বঙ্গা
বঙ্গানু
বঙ্গানুবা
বঙ্গানুবাদে
বঙ্গানুবাদে -
বঙ্গানুবাদে - মা
বঙ্গানুবাদে - মারি
বঙ্গানুবাদে - মারিব
বঙ্গানুবাদে - মারিব সি
বঙ্গানুবাদে - মারিব সিরা
বঙ্গানুবাদে - মারিব সিরাজ
ভালোবাসার মানুষকে হারানো কঠিন।
কিন্তু আমরা যদি সেই অনুভূতি প্রকাশ না করি
তা কেবল আমাদের দুঃখকে দীর্ঘায়িত করবে।
মন খারাপ হলে কান্না করা দোষের কিছু নয়।
বরং এটাই স্বাভাবিক।
শ্রোতারা, মনে রাখবেন
অন্ধকারের পরে অবশ্যই আলো আসে।
এই মুহূর্তে আমাদের দুঃখ যতই গভীর হোক না কেন
আমরা তা কাটিয়ে উঠতে পারবো।
আমার শেষ পরামর্শ হলো
আপনারা আপনাদের অনুভূতি সঠিকভাবে প্রকাশ করুন।
রিন, আমি, আলিফ।
আলিফ?
একটা দুঃসংবাদ আছে। ইয়ান্তি খালা মারা গেছেন।
দয়া করে এখানে এসো।
ঠিক আছে।
জানানোর জন্য ধন্যবাদ, আলিফ।
তাড়াতারি চলে এসো।
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহে রাজিউন।
অনুবাদ ও সম্পাদনা মারিব সিরাজ
মাকমুম ২ (২০২১)
Buy Me a Coffee ☕ Bkash/ Nagad/ Rocket 01793170546
আমরা কি এখনও পৌঁছাইনি?
আমরা গতকাল থেকে রাস্তাতেই আছি।
আর এই মিনিবাসের গন্ধে আমার বমি চলে আসছে।
- পানদান এসে গেছে! - হ্যাঁ, এখানে থামুন।
- উনি আমার যাত্রী। - আরো অনেক যাত্রী পাওয়া যাবে।
সাবধানে।
দয়া করে, কিছুক্ষণের জন্য নামবেন?
কোনো সমস্যা?
সেতুটা পুরনো।
- চল, ফিজ। - বুঝতেই তো পারছেন।
এক বছর হয়ে গেল বৃষ্টির দেখা নেই।
সাবধানে, আপনারা পড়ে যেতে পারেন।
সাবধানে পা ফেলো, ফিজ।
আপনার বাড়ি কি সুয়ান গ্রামে?
- হ্যাঁ, কেন বলুন তো? - এমনি।
আমি শুধু বিষয়টা অদ্ভুত মনে হয়।
অন্যান্য গ্রামগুলো কিন্তু সানন্দে যুগের সাথে তাল মেলাচ্ছে।
তবে আপনাদের গ্রামটাই যেন এর ব্যাতিক্রম।
বিদ্যুৎ নেই, মোবাইলের সিগন্যাল নেই।
সেখানে মানুষ কীভাবে বাস করে?
সুয়ান গ্রাম
মুরুব্বিরা, সেই দিন আসতে আর বেশি সময় বাকি নেই।
আপনারা টিভি দেখতে পারবেন, মোবাইলও ব্যবহার করতে পারবেন।
কূয়া থেকে কষ্ট করে আর পানি তুলতে হবে না।
বিদ্যুতের সাথে আমাদের জীবনও আরামদায়ক হবে।
যথেষ্ট বলেছেন।
মনে কষ্ট নেবেন না।
আপনাকে নিয়ে মোট ৫ জন হলো।
বিদ্যুৎ বসানোর জন্য আমাদের বারবার জোর করতে বিরক্ত হচ্ছেন না?
বাদ দাও, ডিকা।
গ্রামবাসীরা, আপনারা কি এই জীবন আর পছন্দ করছেন না?
এটা কি আপনাদের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে?
আপনারা কি টিভি দেখতে চান?
না।
আপনারা কি মোবাইল ব্যবহার করতে চান?
না।
না।
এটাই আমাদের মতামত।
আপনার মনে হতে পারে, আমরা হয়তো কষ্টে আছি।
বাস্তবে, আমরা এখানে যথেষ্ট সুখেই আছি।
আমরা আমাদের বাগানের টাটকা জিনিস খেতে পারছি।
আমরা একে অন্যের বাড়ি বেড়াতে যেতে পারছি।
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো
আমরা আমাদের প্রার্থনায় মনোযোগ দিতে পারছি।
এসব কথা থাক।
আমাদের গ্রামের একজন মারা গেছে।
আমরা শোকের মধ্যে আছি।
তাহলে আসি, ওস্তাদ সাহেব।
আপনারা সবাই, আমাকে ক্ষমা করবেন।
- আসসালামু আলাইকুম। - ওয়ালাইকুম সালাম।
যার যার বাড়ি চলে যান।
আমরা খানিক বাদে মিসেস ইয়ান্তির বাড়িতে যাব।
ঠিক আছে, ওস্তাদ সাহেব।
আচ্ছা।
বাড়ি যাও।
এই, কিই।
আপনিও তো আমার সাথে একমত, তাই না?
- আপনি এখনও আমার মতামত জানতে চান? - জি।
আপনি আগেও আমার মতামত জানতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু তারপরও আপনি মসজিদের পাশের গাছটি কেটেছেন।
- কিন্তু এটা... - থাক।
সময় গেলেই সবাই বুঝতে পারবেন।
এই পিছিয়ে পড়ার গতিকে কখন রোধ করতে হবে!
কিন্তু এসব তো করছি সবার মঙ্গলের জন্যই।
আপনি সবাইকে প্রভাবিত করছেন।
ওস্তাদ...
কী?
এটা নিয়ে আবার ভাবুন।
তুমি নিজেই তো শুনলে
গ্রামবাসী কী চায়।
আপনি মেনে নিলে বাকি সবাইও মেনে নিবে।
আপনি আমাদের মুরুব্বি।
আমাদের গ্রামকে অন্য গ্রামের মতো খরার মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাবেন না।
নদী ও কূয়ার পানি ঘোলা হয়ে যাচ্ছে
চারপাশে এত গাছপালা থাকা স্বত্বেও।
বিশুদ্ধ পানির জন্য আমাদের পানির পাম্প দরকার। আর আমাদের বিদ্যুৎ দরকার।
এসব আমাদের গ্রামের ভবিষ্যতের জন্য।
বিদ্যুৎ থাকলে গ্রামে রাস্তা তৈরি হবে।
গ্রামের বাইরে আমাদের ফসল বিক্রি করা আরো সহজ হবে।
এখন, এটা ভেবেই আমি ভয় পাচ্ছি, আলিফ।
এতে কে লাভবান হবে? আমরা নাকি তারা?
আমাদের পাশের গ্রামের অবস্থাই দেখ।
সেটাও এমনই ছিল। ওরা আগে সাহায্য গ্রহণ করলো।
সবকিছু নির্মিত হলো।
তারপর?
ওদের নিজেদের খামার থেকেই ওদের বের করে দেওয়া হলো।
আলিফ...
আমরা বংশ পরম্পরায় এখানে বাস করেছি।
শুষ্ক ঋতু প্রতিবছরই আসে এবং সবকিছু ঠিক ভাবেই চলে।
এটাই প্রকৃতির চক্র।
ধৈর্য ধর, ঠিক আছে?
মিসেস ইয়ান্তির মৃত্যুটা অস্বাভাবিক।
কারণ সে নিষিদ্ধ বনে প্রবেশ করেছিল।
আমারও তাই মনে হয়।
সবাই বলছে তাকে নাকি "নাই লাউঈ" ডেকে নিয়ে গিয়েছিল।
"নাই লাউঈ" এর নাম নিবেন না। এটা নিষিদ্ধ।
- আমার সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই। - ধন্যবাদ।
কেউ তো চিরদিন বাঁচে না।
তাকে যেতে দাও।
জি।
- রিন? - আমি চলে যাচ্ছি, ঠিক আছে?
আলিফ।
- ও কি হাফিজ? - হ্যাঁ।
খবর দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
সমস্যা নেই।
তুমি সিগন্যাল পেলে কোথায়?
তুমি ফোন করলে কীভাবে?
পাশের গ্রামে গিয়ে।
এখানে কোনো সিগন্যাল নেই কেন?
এখানে কেউ থাকে না তাই।
এখন তুমি কী করছো?
তুমি কি এখনও বোর্ডিং হাউজের দায়িত্বেই আছো?
হ্যাঁ, আমি এখনও বোর্ডিং হাউসের প্রধান।
সাথে একটা ছোট অনলাইন শপও চালাচ্ছি।
তোমার স্বামী কোথায়?
সে তোমাকে নিতে আসবে না?
তিন বছর আগে সে মারা গেছে।
দুঃখিত, আমি জানতাম না।
সমস্যা নেই।
তুমি সুয়ান গ্রামে ফিরেছো কবে?
প্রায় তিন বছর হতে চললো।
শহরে ভালো লাগেনি?
তারা কি নতুন মসজিদ নির্মাণ করছে?
- হ্যাঁ। - পুরাতন মসজিদে কী সমস্যা ছিল?
এটা কি ঠিক নেই?
তারা যেমনটা চায় আরকি।
আমি গ্রামে বিদ্যুৎ আনতে বলেছিলাম, কিন্তু...
হাফিজ!
হাফিজ!
তুমি যেখানে ইচ্ছা যাও, কিন্তু ওখানে যাবে না।
কেন?
এটা নিষিদ্ধ বন।
এখানে যাওয়া সবার জন্য নিষিদ্ধ।
চলো।
বাবাকে মিস করছো?
হ্যাঁ।
চলো দোয়া করি
যেন সে শান্তিতে থাকে।
তোমার কী হয়েছে?
আমিও তাকে খুব মিস করছি।
মাঝে মাঝে তাকে খুব মিস করি।
এটা আমাকে উদ্বিগ্ন করে তোলে।
আমার...
কী, মা?
না, কিছু না।
কী হয়েছে, মা?
কিছুই না, বাবা।
ফিজ, আমাকে কথা দাও
তুমি নিয়মিত নামাজ পড়বে
যাতে তোমার দোয়ায় তোমার বাবার জান্নাত নসিব হয়।
আমরা এখানে কতদিন থাকব?
এখানে বেশি দিন থাকবো না। তোমার নানুকে কয়েকদিন দেখে চলে যাব।
আর সপ্তম দিনের দোয়া মাহফিলে থাকবো, তারপর আমরা বাসায় চলে যাব।
সর্বনাশ, এক সপ্তাহ?
বিদ্যুৎ নেই, সিগন্যাল নেই।
আমি আমার ফোন চালাতে পারছি না।
ওহ, হ্যাঁ।
তোমার লাস্ত্রী খালার ছেলে, ইওয়ান, তোমার সাথে খেলবে বলেছে।
কাল ওর সাথে খেলতে যেও, ঠিক আছে?
সত্যি?
আস্তাগফিরুল্লাহাল আজিম
আল্লাহ, নামাজে অমনোযোগী হওয়ার জন্য আমাকে ক্ষমা করুন।
ওহ, আল্লাহ!
রিনি...
এখন যেতে দেবে না।
দেরী হয়ে গেছে। আগামীকাল, ঠিক আছে?
No comments yet. Be the first to leave one.