ആദ്യത്തെ 200 വരികൾ.
পোচার(সত্য ঘটনা অবলম্বনে) সিজন : ০১ এপিসোড : ০১
ডিএফও স্যার...
ডিএফও স্যার।
- ডিএফও স্যার। - এখান থেকে যা।
ডিএফও স্যার!
স্যার, আমি তিরিশ বছর ধরে বন প্রহরার কাজ করছি।
কিন্তু... আমি হাতি হত্যার সাথে জড়িত।
অরুকু, মদ খেয়েছো, তাই না? ডিএফওকে বিরক্ত কোরো না, চলে যাও।
স্যার, ইতিমধ্যেই প্রেসের সাথে কথা বলেছি, তারা সব জানে। আজ বের হবে।
তারা জানতে পারলেই আমাকে মেরে ফেলবে।
আমাকে এখন লুকিয়ে থাকতে হবে। আমার পরিবার বরবাদ হয়ে গেছে, স্যার।
কারা চোরা শিকার করছে?
মূল পান্ডা হলো রাজ। সে রাস্তার ধারের ঠেকে মদ সরবরাহ করে।
আমি রাজের কথা জানি। চোরা শিকার করতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে নিষ্ক্রিয়।
শুনেছি, সে শুধরে গেছে।
কিছু চোরাশিকারি সম্পর্কে আপনি বলতে পারেন, "শুধরে গেছে"।
কিন্তু রাজ তার হিংসাত্মক তাগিদকে সামলাতে করতে পারে না।
সবচেয়ে বড় প্রাণীকে হত্যা করে সে আলাদাই তৃপ্তি পায়।
- আর কে আছে ওর সাথে? - পোয়া ভার্গিস এবং ইভান দাস।
তারা এভাবেই চালিয়ে গেলে সব হাতী মারা যাবে, আর জঙ্গল ধ্বংস হয়ে যাবে।।
আমি আর নিতে পারছি না। শাস্তি পেলেও আমাকে এটা থামাতেই হবে।
অন্তত কিছু পূন্য করলে, পরবর্তী জীবনে এই নরকে থাকতে হবে না।
আপনাকে রাজকে থামাতেই হবে। পাগল হয়ে গেছে সে। যেভাবে হাতীদের মারে...
কিভাবে সে হাতীদের হত্যা করে?
ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।
- মঙ্গলবার থেকে কতজন এসেছে? - আমার গননায়, ৬৮ জন।
আরো বেশি আসা উচিৎ ছিল।
আর তারা আরো জঙ্গল কাটতে চায়?
- সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নজর রাখো। - ঠিক আছে।
গৌতমকেও নিয়ে যাও। রাতে এখানে থাকতে হলে থেকে যেও।
হয় মাইগ্রেশনের সমস্যা আছে, নয়তো আমরা ঠিক করে নজর রাখছি না ।
- হ্যাঁ হরিশ, অনেক দিন পর... - ম্যাডাম, কথা বলতে পারবেন?
কোনো খারাপ খবর?
আর কি! একটা কথা বলুন, আপনার এলাকায় কোনো সমস্যা আছে কি?
- কি ধরনের সমস্যা? - যেকোনো কিছু।
আমার পাখি অভয়ারণ্যে পাখী এবার কম এসেছে। সাহায্য করতে পারো?
তা বলতে পারবো না। কিন্তু থান্ডাথিল রেঞ্জে হাতি শিকারিরা তৎপরতা চালাচ্ছে।
হাতি শিকার? কি বলছো তুমি?
এখানে চোরা শিকারের ঘটনা ঘটেনি গত দুই দশকের মধ্যে। তুমি কি শুনেছো?
আমাদের দেখা করতে হবে।
কি জানতে পেরেছো?
অরুকু মালায়ত্তুরের একজন পুরানো বন-পর্যবেক্ষক।
সে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে হাজির হয়ে স্বীকার করেছে,
যে সে পাঁচটি হাতি হত্যার সাক্ষী।
সে এও বলেছে, সবার নাকের নীচে তারা, সম্প্রতি ১৮টি দাঁতাল শিকার করেছে।
এইসব খবরেও বেরিয়েছে।
তিনটি জীপ ভর্তি পুলিশ রাজকে গ্রেপ্তার করতে তার গ্রামে গিয়েছিল।
রাজ? সে তো অনেকদিন এই কাজ ছেড়ে দিয়েছে।
সবাই এটা মনে করে।
- তারা তাকে কুট্টুমপুজায় খুঁজে পাবে না। - মানে?
যে গাধা অভিযান পরিচালনা করেছে, জানে না কিভাবে কাজ করতে হয়।
অভিযানের আগে, তারা শহরে রাজের নাম ঘোষণা করেছিল।
- রাজ এটা শুনে পালিয়ে গেছে। - আমার সাথে মজা করছো নাকি?
মজা করার জন্য আপনি আমাকে টাকা দিচ্ছেন কি?
- তাহলে রাজ এখন কোথায়? - বলবো বলেই তো আপনাকে ডেকেছি।
ভীষণ খিদে পেয়েছে।
সত্যিই?
- রাজ আদিমালিতে লুকিয়ে আছে। - এত কাছে? তুমি কিভাবে জানলে?
কারণ সে আমার বারে এসেছিল। মদ খেয়ে বলে ফেলেছিল,
- যে সে আদিমালিতে লুকিয়ে পড়বে। - সে তোমাকে বলেছে, এমনি?
আমি একজন বারটেন্ডার, আমার দুটো কাজ আছে।
মানুষকে মদ দেওয়া, এবং তাদের বকবক করা শোনা।
কিন্তু এই রাজ... একদম পাগল। কোন কিছুরই পরোয়া দেয় না।
বাবু, তোমার নজরদারিতে এটা কিভাবে ঘটতে পারে?
কি বলবো? রাজ ও তার সহযোগীদের জন্য অভিযান চালিয়েও কাউকে পাই নি।।
ভেতরে যাওয়ার আগে ঘোষণা করে স্থানীয়দের সতর্ক করেছিলে কেন?
- রাজ আদিমালিতে আছে। - আদিমালি? তুমি নিশ্চিত?
অন্য খবর আছে কিছু?
তুমি নিজেও তাকে ধরতে পারতে। আমাকে বলছো কেন?
কেউ একজন তাকে ধরলেই হোলো! তোমার একটা দল আছে, তাকে ধরো।
সে পালিয়ে গেলে, তাকে দেখে অন্যান্য পোচারদের সাহস বেড়ে যাবে।
এবং হাতীদের খোলাখুলি শিকার শুরু হবে।
আমাদের এতদিনের সব চেষ্টা ব্যর্থ হবে।
আমি সবকিছুর জন্য দুঃখিত, মালা।
রাজ!
রাজ!
- ধুত্তোর... ভিজিল্যান্স অফিসার। - ক্লিয়ার, স্যার।
ধুর, সে আমাদের লোক!
তাই নাকি, বাবু? তাকে তোমার হেফাজতে দেখছি না।
তোমরা জঙ্গল সামলাও। - খারাপ লোকদের সাথে মোকাবিলা আমরা করবো।
- কচু সামলাবে। এটা আমাদের কেস। - স্যার!
- হ্যাঁ। - এখনও গরম!
- রাজ কোথায়? - স্যার, গতকাল থেকে রাজকে দেখিনি।
তাকে খুঁজতে আসা আপনারা দ্বিতীয় দল।
- অন্যরা কারা ছিল? - ফরেস্ট ভিজিল্যান্স অফিসার।
তারা সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল। কেরালার সবাই কি তাকে খুঁজছে?
আমাদের কাছে একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন আছে,
যেখানে একজন চোরা শিকারীর স্বীকারোক্তির বিবরণ রয়েছে।
তোমার অধীনে, পাকা খবর থাকা সত্ত্বেও গতকালের আদিমালি অভিযানসহ,
বেশ কিছু ব্যর্থ অভিযান হয়েছে।
আসামিরা সবাই পলাতক। আর কোন সূত্র আছে কি?
স্যার, এই সব চোরাশিকার, আমি ডিএফও হবার আগেই হয়েছে।
- এটা স্পষ্টতই আমার পূর্বসূরীর ব্যর্থতা।
- কিন্তু ঝামেলা মেটানো এখন তোমার দায়িত্ব, আদিল।
স্যার, আমি বাবুসহ কিছু ডেপুটি রেঞ্জ অফিসারকে সাসপেন্ড করছি।
হয় সে তাদের সাথে কাজ করছে এবং তাদের খবর ফাঁস করছে,
বা কাজে গুরুতর ভুল করেছে।
যাই হোক, তাকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
- তোমার কি সাহায্য দরকার? - স্যার, আমি এক ডজন ফিল্ড টিম সক্রিয় করেছি।
এবং আমরা আরুকুর সিডিআর থেকে পাওয়া ফোন নম্বর ট্র্যাক করছি।
বহু আগেই, তারা সেইসব ফোন ব্যবহার করা বন্ধ করেছে।
আমাদের কি আর কিছু করার আছে?
স্যার, আরুকু আমাদের আরও একটি নাম দিয়েছে -মরিস ফিন।
সে বহু বছরের পূরাতন ডিলার, ত্রিভান্দ্রম ভিত্তিক।
দ্য গার্ডিয়ানে একটা সুন্দর প্রতিবেদন বেরিয়েছে।
যা পেশ করা সহজ নয়।
এতে বর্ননা করা হয়েছে, সব হাতী মারা গেলে কি হবে...
বাস্তুতন্ত্র ভেঙ্গে পড়বে ও কয়েক বছরের মধ্যে, কেরালা দিল্লির মতো দূষিত হবে।
দিল্লীর শিশুদের মত কেরলের শিশুরাও...
তাদের ফুসফুসের অর্ধেক ক্ষমতা হারাবে।।
আদিল... বনমন্ত্রী আমাকে এই মামলার তদন্ত শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
আমি শুরু করছি, কিন্তু তোমার সহযোগিতা প্রয়োজন।
সমস্যার সমাধান করতে আমরাও তোমাকে সাহায্য করবো।
তুমি কি তোমার দায়িত্বে থাকা বাকি হাতীগুলোকেও বাঁচাতে চাও?
আমি এটা করবো।
কিন্তু আমার উপায়ে, আমার দল নিয়ে।
চুপচাপ... যাতে কোনো অভ্যন্তরীণ নাশকতা বা খবর ফাঁস না হয়।
এমনকি তোমরা দুজনও জানবে না কি ঘটছে।
আর একটা কথা, একবার শুরু করলে, তারা ধরা না পড়া পর্যন্ত আমি থামবো না।
ঠিক আছে।
... ডজন ডজন হাতি শিকার করা হয়েছে, এই রিপোর্ট আসার পরে,
বিধানসভা দাবী করছে, এই ব্যাপারে বন বিভাগের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে।
যে বিভাগ, এই অপরাধের সমাধানে শামুক গতিতে চলছে।
- হ্যালো? - মালা যোগী?
হ্যাঁ।
কিশোর কুমার। প্রিন্সিপাল চিফ কনজারভেটর...
হ্যাঁ স্যার, অবশ্যই, আমি জানি আপনি কে।
আচ্ছা, আমি তোমাকে চিনি না, কিন্ত...
প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন, এবং আপনার ফিল্ড ডিরেক্টর নীল ব্যানার্জী...
ওরা আমাকে তোমার কথা বলেছে।
তুমি মালয়াত্তুরে শিকারের ঘটনা সম্পর্কে জানো?
হ্যাঁ স্যার, আমি কাগজে পড়েছি।
রাজের আদিমালিতে থাকার বিষয়ে তুমিই আমাদের টীমকে জানিয়েছিলে?
হ্যাঁ স্যার, আহ... কিন্তু সে সেখান থেকেও পালিয়ে গিয়েছিল।
আচ্ছা, আমি তোমাকে এই তদন্তে চাই।
স্যার, আমিও তা চাই। কিন্তু থাত্তেকদ-এ, পাখি অভয়ারণ্যের দায়িত্বে আছি।
তোমার ফিল্ড ডিরেক্টরের সাথে কথা বলো।
- মালা... সব ঠিক আছে? - হ্যাঁ স্যার।
আমি জানি, পাখি অভয়ারণ্যের শান্ত জীবন তুমি উপার্জন করেছো।
কিন্তু আমরা তোমাকে ফিরত চাই, এবং পুরো সময়ের জন্য।
আমি ইতিমধ্যেই তোমার ডিএফওর সাথে কথা বলে নিয়েছি।
আনুষ্ঠানিকভাবে তোমার পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ধন্যবাদ, স্যার।
- এখনই এখানে আসতে পারবে? - হ্যাঁ স্যার।
- আপনি ভিতরে যেতে পারবেন না। - নীল স্যার আমাকে ডেকেছেন।
এখানে অপেক্ষা করুন।
আরে মালা...
ওখানে কি করছো? ভিতরে এসো।
- স্যার, চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন এসেছেন?
বসো।
তো... আমরা গভীর সমস্যার মধ্যে আছি।
৯০এর দশকের শুরু থেকে কেরালায় হাতি শিকারের ঘটনা ঘটেনি।
এখানে মাত্র ৬০০০ হাতি বাকি আছে।
... এদের মধ্যে আমাদের নজরাধীন ১৮টি পূর্নবয়স্ক হাতীকে আমরা হারিয়েছি।
এত বড় ঘটনার সাক্ষী আমি কখনোই হই নি।
আরুকুর স্বীকারোক্তির পরও আমরা কিছুই জানতে পারি নি।
আরও হাতী ঝুঁকিতে রয়েছে।
এখন আইনসভা আমাদের পিছনে পড়েছে।
এই ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক মিডিয়াও আমাদের পিছনে পড়েছে।
স্যার, আমি ডেপুটি রেঞ্জ অফিসারকে রাজের ব্যাপারে পাকা খবর দিয়েছিলাম।
- আমি জানি। -কিন্তু...
সে এটাকে ফাঁকি দিয়েছে।
টুন্ডা রেঞ্জের সকল কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় বিভাগ, এবং বিট অফিসারদের।
আর সেজন্যই তোমাকে ডেকেছি।। তুমি ভাল কাজ করেছো।
তোমার একটি সুনাম আছ।
যত অপরাধীকে তুমি ধরেছো, আর কেউ ধরতে পারে নি।
এই গ্রামগুলো আর গ্রামবাসীদের তুমি হাতের তালুর মত চেনো।।
স্যার, আমিও তাই ভাবতাম। কিন্তু কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের...
তুমি তাদের ইতিহাস এবং অভ্যাস জানো। বিশ্লেষণের জন্য তোমার সাহায্য দরকার।
তথ্য বিশ্লেষণের উপর এই মামলার সমাধান নির্ভর করছে।
আমি জানি, তুমি তার জন্য পুরো চেষ্টা করবে।
কবুলকারী অরুকুর কল ডেটা রেকর্ড।
পাশাপাশি, তার সাথে চোরাশিকার করা অন্যান্য লোকেদের নম্বর।
আরুকু নীচের স্তরের, গাইডমাত্র। সে কখনো ট্রিগার টানেনি।
হাতির দাঁতও বিক্রি করেনি। কিন্তু পোচারদের সাথে কাজ করেছে।
আমাদের কাছে তাদের এবং সাথীদের নাম এবং নম্বর আছে।
কিন্তু তাদের সব ফোনই বন্ধ।
আমার ঠাণ্ডা লেগেছে যা রাতে আরও বাড়ে।
স্যার, আমি দেখবো কি করা যায়।
ওই ডিএফও-র বলি চড়বে।
যদি এটার সমাধান না করতে পারো, আমরা সবাই শেষ হয়ে যাবো।
- মরিস ফিন? - হুম, একজন ডিলার।
রাজকে বারবার ফোন করেছে।
হ্যাঁ স্যার, অনেক বছর আগে শুনেছিলাম।
হাতির দাঁত কিনে খোদাই করায় এবং খরিদ্দারের কাছে বিক্রি করে।
এটা কোনো একজনের কাজ নয়, কোনো বড় দলের কাজ।
চীনা খরিদ্দার হতে পারে।
কিন্তু জানি না, তারা আবার চোরাচালানের রুট খুললো কীভাবে...
তিনি সবার অবস্থা খারাপ করেছেন।
ঠিক বলেছেন।
এই লোকদের ধরতে পারলে, তবেই আমাদের কাজ থাকবে। অন্যথায়...
স্যার, সুখবর আছে। ত্রিবান্দ্রামের ডিএফও...
তার তথ্যদাতাদের মাধ্যমে মরিস ফিন সম্পর্কে সূত্র খুঁজে পেয়েছেন।
এবং তিনি এটা অনুসরণ করছেন।
দারুণ। আমি সেখানে দিনাকে দলনেতা করার কথা ভাবছিলাম,
যাতে আমরা ত্রিবান্দ্রম থেকে আরও লিড পাই।
হ্যালো? হ্যাঁ...
বিভিন্ন সরকারী তদন্ত চালু হয়েছে।
বন বিভাগ, WCCB,
No comments yet. Be the first to leave one.