ആദ്യത്തെ 200 വരികൾ.
The Wind Rises
দুঃসময়ের ঝড় ঘনিয়ে আসছে! বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতে হবে আমাদের সবাইকে। - পল ভ্যালেরি
এই নাও, জিরো।
আমি কি এটা ধার করতে পারি?
- কিন্তু এটা তো জাপানী ভাষাতে লেখা নয়। - সমস্যা নেই, আমার কাছে ডিকশনারি আছে।
- ঠিক আছে, দেখো কেমন লাগে বইটা! - ধন্যবাদ।
- থামো। - সরো এখান থেকে জিরো!
তুমি বাড়ি যাও!
জিরো...
ও তোমার থেকে অনেক ছোট, কাতাইয়ামা।
তোমাকে দেখে তো বীরপুরুষের মতো লাগছে!
- না, আমি আছাড় খেয়ে পড়ে গিয়েছিলাম। - হুম।
- মারামারি করা ঠিক না। - হ্যাঁ, মা।
ঠিক আছে, যাও নাস্তা সেরে নাও।
ধন্যবাদ।
জিরো, তুমি এসে গেছ!
বাড়িতে স্বাগতম তোমাকে।
ওহ জিরো, এখন তবে আমরা বাঁশপাতা আনতে যেতে পারি।
জিরো!
দাঁড়াও, কোথায় যাচ্ছ তুমি?
তুমি আজ আমার সাথে বাঁশপাতা আনতে যাবার কথা বলেছিলে।
আমার কিছু বাড়ির কাজ পড়ে আছে।
এটা কি ধরণের বাড়ির কাজ?
এটা একটা ইংরেজি ম্যাগাজিন।
এই লোকটার অদ্ভুত গোঁফটা দেখো।
সে ইতালির একজন সুবিখ্যাত বিমানের নকশাকার।
তার নাম ক্যাপ্রোনি।
ওয়াও এখানে লেখা, তিনি একজন সম্ভ্রান্ত জমিদার ছিলেন।
- কি হয়েছে, তোমার মুখে আঁচড় কিসের? - বাদ দাও, কায়ো!
এখানে আয়োডিন লাগানো উচিৎ, আমি লাগিয়ে দিচ্ছি।
ধুর, বাদ দাও না!
এখানে কি করছ তুমি?
তোমার এখানে আসাটা ঠিক হয়নি।
তোমার চশমা কোথায়?
আমি শুনেছি খালি চোখে
গভীর মনোযোগের সাথে তারার দিকে তাকিয়ে থাকলে দৃষ্টিশক্তি ভালো করা যায়।
হু!
- মা তোমাকে বিছানায় না পেলে রেগে যাবেন। - একটা ছুটন্ত তারা!
ওহ, আরেকটা।
আহ, কি সুন্দর দেখতে। ওহ, ওটা দেখো!
ওয়াও...
...কতগুলো ছুটন্ত তারা!
এই ছেলে, কে তুমি?
আমি একটি জাপানী ছেলে।
জাপানী ছেলে?
তুমি এখানে কি করছ?
মনে হয়, আমি স্বপ্নের জগতে আছি।
স্বপ্ন?
আমাকে নামিয়ে দাও!
এটা তো আমার স্বপ্ন।
আমারও তো এটাই স্বপ্ন।
তোমারও?
তাহলে তোমার ধারণা, আমরা দু'জন একই স্বপ্ন দেখছি?
হয়তোবা।
আপনি জমিদার ক্যাপ্রোনি, তাইনা? আমি আপনার সম্পর্কে অনেক পড়েছি।
তাই নাকি? হ্যাঁ, তুমি স্বপ্ন দেখছ।
আর এটা স্বপ্নরাজ্য।
আমার এ রাজ্যে তোমাকে স্বাগতম।
আমি নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি।
দেখো ওদের।
ওরা শত্রু শহরে বোমা হামলা করবে।
কিন্তু ওদের অনেকেই আর ফিরে আসবে না।
যদিও এ যুদ্ধ খুব শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে।
উপরে এসো, জাপানী ছেলে।
এটাই হচ্ছে আমার আসল স্বপ্ন।
যখন যুদ্ধ শেষ হবে, তখন আমি এটা বানাবো।
কেমন এটা?
অসাধারণ, তাইনা?
এবার উপরে ওঠা যাক।
বোমার বদলে, এটা যাত্রী বহন করবে।
নতুন নকশা কল্পনার জন্য স্বপ্ন একটি দারুণ মাধ্যম।
আমি স্বপ্নের মাঝে যেখানে খুশি যেতে পারি।
ডানার উপর দিয়ে হেঁটে এসো। জাপানী ছেলে।
দেখ ওটা।
ওয়াও!
- ওটা অনেক সুন্দর, তাইনা? - হ্যাঁ, অসাধারণ।
সে একশো যাত্রী নিয়ে অ্যাটল্যান্টিক পাড়ি দেবে।
মিঃ ক্যাপ্রোনি, আমি কি আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি?
আমি জানি যে, আমার চোখের সমস্যার কারণে আমি পাইলট হতে পারবো না।
কিন্তু পাইলট না হতে পারলেও, আমি অন্তত বিমানের নকশা করতে পারবো তো?
শোনো জাপানী ছেলে,
আমি আমার পুরো জীবন বিমান নিয়ে কাটিয়েছি। কিন্তু তুমি কি জানো আমি কতবার নিজে বিমান চালিয়েছি? একবারও না!
বিমান অনেকেই চালাতে পারে, কিন্তু আমি তার নকশা করি।
আমি বিমান বানাই,
আর তুমিও এটা পারবে। একজন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে!
ইয়েয়ে!
কিন্তু একটা কথা মনে রেখো জাপানী ছেলে,
বিমান কোন যুদ্ধসামগ্রী নয়।
কিংবা অর্থ উপার্জনের কোন মাধ্যমও নয়।
বিমান হচ্ছে চমৎকার একটি স্বপ্নের মতো,
যে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন একজন ইঞ্জিনিয়ার।
জী, বুঝেছি!
বিদায়। আবার দেখা হবে।
জিরো, তুমি ঘুমের মধ্যে কথা বলছিলে।
তুমি হাসছিলে।
তুমি হয়তো অনেক আনন্দের কোন স্বপ্ন দেখছিলে, জিরো।
মা, আমি অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্ন দেখেছি।
ওহ, তাহলে তো একে দারুণ স্বপ্নই বলতে হয়।
সে বলেছে, বিমান হচ্ছে একটি স্বপ্নের মতো।
তাই, আমি অনেক সুন্দর সুন্দর বিমান বানাবো।
এই যে আপু, আপনি আমার সীটে বসতে পারেন।
আমি দুঃখিত, ভাই।
কই, বসুন!
বাতাসটা চমৎকার!
মিস, আপনার টুপি উড়ে যাবে তো।
আরে, কিচ্ছু হবেনা।
- মিস! - ধরুন ওকে!
তুমি ঠিক আছো?
হ্যাঁ!
টুপিটা দারুণভাবে ধরেছিলে!
তুমি ফ্রেঞ্চ বলতে পারো?
"Le vent se lève?"
এটা একটা ফ্রেঞ্চ কবিতা।
"Il faut tenter de vivre."
"Le vent se lève. Il faut tenter de vivre."
"দুঃসময়ের ঝড় ঘনিয়ে আসছে!
বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতে হবে আমাদের সবাইকে।"
ভূমিকম্প।
পালাও! বয়লার বিস্ফোরিত হতে পারে!
- কি হয়েছে? - তার পা!
কই দেখি, আমাকে দেখতে দিন।
আহ!
আআহ...
মনে সাহস রাখো, কিনু।
ভেঙে গেছে। সে হাঁটতে পারবে না এখন।
মিস, ওই বয়লার বিস্ফোরিত হতে পারে। প্লিজ, নিজেকে বাঁচান, যান!
ওসব ফালতু কথা।
কিছুই বিস্ফোরিত হবেনা।
আপনার পা টা বেঁধে দিতে হবে।
এতে একটু ব্যাথা লাগতে পারে। একটু শান্ত থাকার চেষ্টা করুণ।
ইনি এভাবে হাঁটতে পারবে না।
তোমরা কোথায় থাকো? - উয়েনো তে।
চিন্তা করোনা, আমি তোমাদের সেখানে পৌঁছে দেবো।
- আগুন। - চলুন।
- তোমার মালপত্রের কি হবে? - ওগুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়।
- আমি অনেক দুঃখিত। - আমিও দুঃখিত।
ওঠো কিনু।
- আপনি ঠিক আছেন? - আমি ঠিক আছি।
আমাদের জলদি করা উচিৎ।
আমার মা আমাকে এই শার্টটা বানিয়ে দিয়েছিলেন।
আপনার হয়তো পিপাসা লেগেছে।
চিন্তা করবেন না, এটা পরিষ্কার আছে।
কুয়োটা প্রায় শুকিয়ে গেছে...
- তুমি নেবে? - হ্যাঁ, প্লিজ।
আগুন এখনো উয়েনোতে পৌঁছায়নি,
আর...আমিও ইউনিভার্সিটির দিকেই যাচ্ছি,
তাই, আমি তোমাকে ওখানে পৌঁছে দিতে পারি।
আর আমার বাড়ি থেকে কাউকে সাহায্যের জন্য নিয়ে আসতে হবে।
তাহলে আমাদের এক্ষুনি রওয়ানা দেয়া উচিৎ।
- কিনু, আপনি আমার সুটকেসটা দেখে রাখবেন। - আচ্ছা।
আমরা আপনাকে বাড়িতে নিয়ে যাবার জন্য কাউকে নিয়ে আসবো।
- আমি কথা দিচ্ছি। - ঠিক আছে।
- মনোবল হারাবেন না। - ঠিক আছে।
- আমাদের সাহায্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। - তার খেয়াল রাখবেন।
দাঁড়ান, আপনার নামটা তো বলে যান।
লোকটা অনেক ভালো! উনি কে, কিনু?
হেই জিরো, তুমি এখানে ফিরে আসার জন্য দারুণ একটি দিনকেই বেছে নিয়েছ দেখছি!
এখানকার কি অবস্থা, হোনজো?
অনেক খারাপ। পুরো পূর্বপাশ আগুনে পুড়ছে।
আমরা লাইব্রেরী থেকে যা যা সম্ভব বের করার চেষ্টা করেছি।
তোমার কাছে সিগারেট আছে?
একটা উড়ন্ত দরজা।
এমন দৃশ্য তো আর রোজ রোজ দেখা যায় না।
আমরা এই আগুন আর নেভাতে পারবো না।
টোকিওর অবস্থা শেষ।
আমি স্বপ্নে যেমনটা দেখেছিলাম এটা সেরকমই সুন্দর।
আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা যে, উনি আসলেই এটা বানিয়েছিলেন।
কাট! কাট! কাট! কাট! কাট!
আরে! বাতাস উঠেছে দেখি।
আমাদের দ্রুত করতে হবে।
তোমার কি মনে হয়, জাপানী ছেলে?
- বাতাসের গতি কি বেড়েই চলেছে? - হ্যাঁ, অনেক বেশি।
তাহলে, তোমাকে বাঁচার চেষ্টা করতে হবে। "দুঃসময়ের ঝড় উঠছে"
"বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতে হবে"
জিরো, চলো খেতে যাই।
দেখো, নতুন ভবনগুলোর নকশাও পুরনো।
যদিও রাস্তাগুলো আরেকটু চওড়া হয়েছে!
- তো? - কিন্তু বিমানগুলো এখনো পুরনোই রয়ে গেছে।
স্বাগতম!
ওহ দেখো, আবারো ম্যাকেরেল (একটি মাছ) দিয়েছে?
হ্যাঁ, ভালোই খেতে।
রোজ রোজ...
রোজ রোজ একই খাবার।
এই ম্যাকেরেল!
- কিনি, একটু এদিকে আসবে? - আসছি!
অন্যান্য দেশগুলো ধাতুর তৈরি বিমান বানাচ্ছে।
আমরা যেখানে বিমান প্রযুক্তিতে ১০ বছর পিছিয়ে আছি
আর তুমি বসে বসে ম্যাকেরেল খাচ্ছ।
কি ওটা?
কি সুন্দর, তাইনা?
এই বাঁকটা কি চমৎকার!
কেবল তোমার কাছেই ওই মাছের কাঁটা ভালো লাগবে।
জলদি খাওয়া শেষ করো। আমার আবার কফি খেতে হবে।
জিরো এত মনোযোগ দিয়ে কি নিয়ে কাজ করছে?
মাছের কাঁটা!
মিঃ হোরিকোশি কি খাবার খেয়ে ফিরে এসেছেন?
জিরো!
হোনজো, শোনো।
NACA এর আদর্শ বিমানের নকশাতে এর পাখা এই মাছের কাঁটার মতো বাঁকানো।
হয়তো অ্যামেরিকানরাও ম্যাকেরেল খায়!
No comments yet. Be the first to leave one.