ആദ്യത്തെ 200 വരികൾ.
বাবা, আমার আর এখানে থাকতে ভালো লাগছে না।
প্লিজ আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও।
প্লিজ, বাবা!
কী হয়েছে, বাবা?
অন্য ছেলেমেয়েরা চায় না আমি এখানে থাকি।
কাল রাতে যখন আমি হিসু করতে যাই...
ওরা বাথরুমের দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল,
আর লাইটও নিভিয়ে দিয়েছিল।
আমি সারারাত ভেতরে অন্ধকারে আটকে ছিলাম।
বাটলার সকালে দরজা খুলে দিয়েছিল।
ওই ছেলেমেয়েরা আমার খাবারে থুতু ফেলেছিল।
আমি খাওয়ায় পর,
ওরা আমাকে বলল আমি ওদের থুতু দেওয়া খাবার খেয়েছি আর আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করল।
ওরা আমাকে হুমকিও দিয়েছে আমি যদি চলে না যাই, ওরা আমার ওপর অত্যাচার করতেই থাকবে।
তুমি তোমার আঙ্কেলকে নালিশ করেছিলে?
করেছিলাম। উনি সবাইকে খুব মেরেছেন।
এখন সবাই আমার ওপর খুব রেগে আছে।
আমার এই বাড়িতে থাকতে ভয় করছে।
প্লিজ আমাকে নিয়ে যাও, বাবা।
প্লিজ, বাবা।
বাবা, ভয় পেয়ো না।
আমি কাল এসে তোমাকে নিয়ে যাব।
ঠিক আছে, বাবা...
বাবা... সিদ্ধার্থ?
এই, সিদ্ধার্থ!
তুমি কি ভেবেছিলে আমরা তোমার জন্মদিন ভুলে গেছি?
সিদ্ধার্থ, মনে হয় তুমি এখনো আমাদের ওপর রেগে আছো।
বাবার কাছে মার খাওয়ার পরেই আমরা বুঝতে পেরেছি আমরা ভুল করেছি।
আমরা তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি।
সরি, সিদ্ধার্থ!
হ্যাঁ, সরি, সিদ্ধার্থ।
সরি!
এই নাও!
এই, চলো, সিদ্ধার্থকে বার্থডে বাম্পস দিই।
ওর পা ধরো।
* আমরা ওকে বার্থডে বাম্পস দিতে যাচ্ছি। * সিদ্ধার্থ! সিদ্ধার্থ!
সিদ্ধার্থ, তোমার বয়স এখন কত হলো?
আমার সাত বছর বয়স।
ওহ, তাহলে তোমার সাত বছর বয়স।
তার মানে ও সাতটা বার্থডে বাম্পস পাবে।
এই, সাবধানে। ওর যেন ব্যথা না লাগে।
ও ছোট বাচ্চা।
এক...
দুই...
তিন...
ওহ, না, দিদি। সুড়সুড়ি লাগছে!
চার...
ওহ, না, তোমরা তো আমাকে সত্যি সত্যি মারছ। লাগছে তো!
পাঁচ...
ওহ, না, দাদা! লাগছে তো!
ছয়...
তোমরা আমাকে মারছ কেন?
- প্লিজ আমাকে ছেড়ে দাও। * আমাদের বাড়িতে থেকে
বাবার হাতে আমাদের মার খাওয়ানোর সাহস হয় কী করে?
সাত!
ওহ, না! ঠিক আছে, এবার তো শেষ।
প্লিজ আমাকে ছেড়ে দাও।
আজ তোমার জন্মদিন নয়।
তোমার মৃত্যুদিন।
হ্যাপি ডেথ ডে টু ইউ...
- হ্যাপি ডেথ ডে টু ইউ... * বাবা, লাগছে!
- হ্যাপি ডেথ ডে টু সিদ্ধার্থ... * বাবা, তুমি কোথায়?
- হ্যাপি ডেথ ডে টু ইউ... * বাবা!
মা!
সিদ্ধার্থ?
সিদ্ধার্থ?
এই, নাটক বন্ধ করে ওঠ।
এই, সিদ্ধার্থ!
এই, ও নড়ছে না কেন?
সিদ্ধার্থ...
অটো ভাই...
সকাল থেকে কিছু খাইনি।
এই!
এমনিতেই সকাল থেকে একটাও ভাড়া পাইনি বলে মেজাজ খারাপ হয়ে আছে।
আর তুই এই ভরদুপুরে আমাকে জ্বালাচ্ছিস।
লোকজনকে বিরক্ত করার জন্য অন্য কোনো দিন বেছে নে।
আমার যদি পা থাকতো,
তাহলে আমি অটো চালিয়েই পেট চালাতাম।
ভগবান তোমার মঙ্গল করুক, ভাই।
মনে হচ্ছে কোনো বড়লোক মারা গেছে।
সৎকারটা বেশ জাঁকজমক করে হচ্ছে।
কিন্তু তুমি বা আমি মরলে এমনটা হতো না।
তাই তো মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করে আছি।
যদি আবার জন্ম হয়, তাহলে যেন বড়লোক হয়েই জন্মাই।
হেই!
হেই, থামো!
হেই!
হেই, থাম!
এই, থাম!
আমি গলা ফাটিয়ে চিল্লাচ্ছি, আর তুমি পাত্তাই দিচ্ছ না।
গুরু, তোমার তো ক্যাশবাক্স ভর্তি হয়ে যাচ্ছে।
মনে হচ্ছে ফাটাফাটি কালেকশন করেছো।
আমি চেঁচিয়ে গলা শেষ করে ফেললাম, তাও কেউ একটা বই বা পেনও কেনে না।
বুঝি না বাবা, লোকজন কী করে তোমায় বিশ্বাস করে ভিক্ষে দেয়।
এর জন্য দক্ষতা লাগে।
ভিখারির দক্ষতা!
আমি লাঞ্চ করতে যাচ্ছি। তোমার জন্যও কিছু আনব?
শালা ফোনটাও ধরছে না।
এই, খাবারওয়ালা!
এখানে!
অ্যাঁ? কী দেখছিস অমন করে?
আমরা কি অর্ডার করতে পারি না?
ওয়াও!
ডবল চিজ পিৎজা। দারুন খেতে।
তেঁতুল ভাতটাও কিন্তু দারুন।
খেয়ে দেখবে নাকি?
দারুন হলে, তুই একাই খা।
হে ভগবান, সবার কপাল ভালো কর।
সকাল সকাল এমনভাবে তৈরি হয় যেন অফিসে যাচ্ছে।
করে তো শুধু ভিক্ষে।
এর কিস্যু হবে না।
আমি বারো বছর বয়স থেকে কাজ করছি।
দিনরাত খেটেছি।
এখন আমাদের নিজেদের বাড়ি আছে, আরামে জীবন কাটাচ্ছি।
জীবনে উন্নতি করতে হলে কঠোর পরিশ্রম করতেই হয়।
বুঝলি?
এর চেয়ে স্কুলে যা।
এই, কিছু তো বলো?
দেখলি তো...
বাইশ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করছে।
আর শেষে কি না এক ভিখারির প্রতিবেশী!
দারুণ!
এটা সত্যিই বিরাট সাফল্য।
এই অবস্থায় দেখে ওকে কাজ দিতে চাইলাম
আর ও দেমাক দেখাচ্ছে।
আমার নিজেকেই মারতে ইচ্ছে করছে ওকে কাজ দিতে চাওয়ায়।
ঠিকই বলেছিস! যা, নিজেকে মার।
এই!
যারা আমাদের থেকে নিচুস্তরের, তাদের জন্য দুঃখ হওয়া উচিত।
যারা আমাদের সমান সমান, তাদের জন্য দুঃখ পেতে নেই।
তুই আর আমরা কিভাবে একই স্তরের হলাম?
শালা ভিখারি!
আমরা কি নই?
সকাল থেকে তোমরা কাজের ভিক্ষা চাও।
আর আমার কাজই হলো ভিক্ষে করা।
এটাই যা তফাৎ।
শালা মূর্খ, মেরেই ফেলব তোকে।
আমার দয়াবান মালিকেরা...
আমার একটা হাত আর একটা পা নেই।
স্যার, আমার থেকে একটা বই কিনুন প্লিজ।
মাত্র ২০ টাকা দাম।
আপনার ছেলেমেয়ে থাকলে তাদের জন্য কিনুন প্লিজ।
দিদি, দিদি, দিদি।
আমার হাত আর পায়ে চোট লেগেছে।
আমাকে কাজে যেতে হবে। প্লিজ দিদি।
স্যার, স্যার, স্যার, আমার থেকে কিনুন প্লিজ।
* প্লিজ, স্যার! * স্যার, স্যার...
স্যার, আমাকে হাসপাতালে যেতে হবে।
* যদি চিকিৎসা করাই, তাহলে কাজ করতে পারব... * স্যার, ও আপনাকে ঠকাচ্ছে।
স্যার, আমি সৎভাবে রোজগার করি।
* স্যার... * দিদি, আমি আপনার ভাইয়ের মত।
আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না আপনার ভাই রাস্তায় ভিক্ষে করুক।
* সবাই আপনাকেই দোষ দেবে। * ও মিথ্যে বলছে। ওকে দেবেন না।
* ওহ, না! * ভগবান আপনার মঙ্গল করুক, দিদি।
আপনার ভাই, মানে আমি, আমারও মঙ্গল হবে।
কিন্তু তোমার কিস্যু হবে না। যা!
তোমার কি কোনো বিবেক নেই?
তোমার সর্বনাশ হবে!
নিজের রোজগারের টাকায় খাওয়ার মজাই আলাদা।
টিকিটের টাকা দে।
একটা ১০ টাকার টিকিট দাও।
আন্না, একটা ব্যালকনির টিকিট দিন।
এই, তোর ১০ টাকা কম আছে।
মাত্র ১০ টাকা, দিতেই পারো।
কী হয়েছে?
একদিন রাস্তায় হাঁটার সময় হোঁচট খেয়েছিলাম।
নিচু হয়ে দেখলাম তুই রাস্তায় পড়ে আছিস।
তোর বাবা-মা তোকে ফেলে চলে গেছে।
আমার মায়া হলো আর তোকে বাড়ি নিয়ে এলাম।
খিদেতে তুই কাঁদছিলি। আমি তোকে খাওয়ালাম।
তুই যখন বড় হলি, ন্যাংটো বলে কাঁদতিস।
আমি তোকে প্যান্ট কিনে দিয়েছি!
তুই আরও বড় হলি আর স্কুলে যাবি বলে কাঁদলি।
আমি তোকে স্কুলে ভর্তি করে দিলাম।
পড়াশোনার দেমাক...
তোকে শিখিয়েছে আমাকে টিকিটের অর্ডার করতে।
এই, আমি তো শুধু ১০ টাকা চেয়েছি, আর তুমি ইতিহাস শোনাচ্ছো।
ধার হিসেবেই ধরো না।
আমি না ধার নিই, না ধার দিই।
ভিক্ষে করতে পারো কিন্তু ধার না।
মহান অভিনেতা চন্দ্রবোস অভিনীত...
মুভিটা দেখতে চেয়েছিলাম।
আর ও আমাকে ধোঁকা দিল।
আমি ছোট একটা ছেলে, তাও ও আমাকে অনেক কষ্ট দেয়।
ভগবান, তুমি পাপীদের শাস্তি দাও।
ওকেও শাস্তি দাও প্লিজ।
কারণ ও শুধু পাপই করে।
সে মিথ্যে কথা বলে ভিক্ষা করে, বলে যে সে নাকি প্রতিবন্ধী।
ভালো ভালো খাবার আর মিষ্টি অর্ডার করে মজা করে খায়।
আমাকে খাবার দেয় না বলে অভিযোগ করছি না।
খাবার ভাগ করে খেতে হয় ওর তো সেই জ্ঞানই নেই।
আমাকে শুধু স্কুলে নামিয়ে দিয়েছিলো।
কিন্তু এমন ভাব দেখায় যেন সে-ই আমাকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছে।
অনেক হয়েছে।
আর সহ্য করতে পারছি না।
হে ভগবান, আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি।
দয়া করে ওর শাস্তি দাও।
আউচ!
ঈশ্বরের কাছে নালিশ?
বরং ওর নামে আমার কমপ্লেন করা উচিত এই ফিল্মটা করার জন্য।
No comments yet. Be the first to leave one.