ആദ്യത്തെ 200 വരികൾ.
The K2 এপিসোড ০৪ অনুবাদ ও সম্পাদনাঃ মোহাম্মদ ইউসুফ
কি ব্যাপার? আপনি ঠিক আছেন তো?
মাফ করবেন?
এই হাসপাতাল জায়গাটাতে সুস্থ মানুষও কেমন অসুস্থ হয়ে যায়!
আপনি ঠিক আছেন তো?
অই লোকটা? কে উনি?
কার কথা বলছেন?
আপনি অই কাচাপাকা চুলের লোকটার কথা বলছেন?
আপনি চেনেন উনাকে?
জি স্যার, উনি এই মাত্র চিফ জু এর সাথে কথা বলেছেন।
তার শারিরীক অবস্থা তেমন ঠিক মনে হচ্ছে না আমার কাছে।
আপনি অই কাচাপাকা চুলের লোকটার কথা বলছেন?
আপনি চেনেন উনাকে?
উনি হচ্ছেন পার্লামেন্টের আরেক সদস্য পার্ক কন সু।
আসছে নির্বাচনে তিনি বলা যায় একজন "হেভিওয়েট" প্রার্থী।
আমার কেন যেন মনে হয়, ম্যাডামের ওপর আক্রমন করার নির্দেশটা তিনিই দিয়েছিলেন।
ঠিক আছে।
পার্ক কন সু! জানোয়ারের বাচ্চা!
কেন?
এই বছর তোমার ছেলের বয়স কত হবে?
৩২, স্যার।
ওহ হ্যাঁ, তাই তো!
যখন প্রথম বারের মত আমি এমপি হয়েছিলাম...
আমি তোমার এই রাজকীয় সেলুনে প্রথমবারের মত এসেছিলাম।
ও তো সম্ভবত এলেমেন্টারি স্কুলে প্রবেশ করলো মাত্র, তাই না?
জি, স্যার। ঠিকই বলেছেন।
আহ! সময় কত দ্রুত চলে যায়!
আমার চুল ছিল তখন উজ্জ্বল কালো।
অথচ এখন দেখো, পাকা চুলে মাথা ভর্তি হয়ে গেছে!
হ্যাঁ, স্যার, ঠিকই বলেছেন।
তবে...স্যার?
হুম?
আপনাকে শেভ যদি অপেক্ষাকৃত কম বয়সের কেউ করে তাহলেই ভাল হবে বলে আমি মনে করি।
আগের মত দৃষ্টিশক্তি আমার নেই, স্যার।
কি? বলছো কি এসব?
তুমি ছাড়া অন্য কেউ শেভ করতে আসলে তীক্ষ্ণ রেজার দিয়ে আমার ভবলীলাই সাঙ্গ করে দেবে!
চশমা পড়ো, চোখে লেন্স লাগাও!
আপনি সত্যিই অনেক দয়ালু, স্যার!
আরে!
তোমার ঘাড়ে ভবিষ্যতে কিন্তু অনেক দায়িত্বভার আসছে, মনে রেখো!
সামনের বছর থেকে, প্রতিদিন সকালে তুমি ব্লু হাউজে আমাকে শেভ করাতে আসবে।
এটা তো আমার সৌভাগ্য, স্যার!
আপনি নিজেও তো গত ২০ বছর ধরে আমার এখানে আপনার মূল্যবান পদধূলি দিয়ে এসেছেন!
অবশ্যই, আমি আসবো!
এটা হবে আমার জন্য অনেক বড় একটা সম্মান!
আসবে তো , নাকি...?
আসবো, স্যার!
- ওয়াদা করলে, মনে রেখো! - অবশ্যই, স্যার!
একটু তাড়াতাড়ি করুন।
মানে? শেভ আর শ্যাম্পু করাবেন না, স্যার?
আমার খুব গুরুত্বপূর্ন একটা কাজ আছে।
ঠিক আছে, স্যার।
ধন্যবাদ আপনাকে।
- অবাক ব্যাপার! - কি সমস্যা? কিছু কি খুজে পাচ্ছেন না, স্যার?
আপনি কি আমার বিজন্যাস কার্ড টা দেখেছেন?
বিজন্যাস কার্ড?
কোথায় হারালো ওটা!
ওহ, পেয়েছি।
এই পিচ্চি! থাম!
এক সেকেন্ড দাড়ান, স্যার।
ওহ ছোট্ট বন্ধু! এটা কি করলে তুমি? আর তো ভেতরে ঢুকতে পারবে না!
এখন ছোটাছুটি করো!
আহা! কাদে না, কাদে না! আসো, ভেতরে আসো
একটু পরেই দরজাটা খুলে যাবে!
দাড়াতে বলেছি, দাড়ান স্যার!
আম্মু!
স্যার, চলুন...এই দরজা দিয়ে বের হওয়া যাক?
ওহ, ঠিক আছে!
কেঁদো না বাবু, একটু পরেই দরজাটা খুলে যাবে।
আম্মু!
ওকে স্যার।
এই যে শুনুন!
আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে চাই।
যদি আপনি আমার সাথে সহযোগীতা করেন তো খুবই ভাল হয়।
আপনার আইডিটা দেখাবেন, প্লিজ?
- তো তুই এখনো বেঁচে আছিস তাহলে? - হ্যাঁ, তোর থোতা মুখ ভোতা করতে।
কোড ব্লু কোড ব্লু
লবি এরিয়াতে সবাই চলে আসো! বের হওয়ার সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দাও!
আমাদের টার্গেট কালো একটা সুট পরিহিত!
হেই, ওখানেই দাড়া!
এটা আবার কি?
মেইন গেট, মেইন গেট!
বাঘের মুখ থেকে থাবা মেরে শিকারকে নিজের করায়ত্ত করা!
শুধু তোমার পক্ষেই সম্ভব এটা!
প্ল্যানিং টা ভাল ছিল, কিন্তু আখেরে কোন লাভই হলো না!
এর বদলে আমি যদি তার সাথে খাতির জমানোর চেষ্টা করতাম তাও ভাল ছিল।
ধন্যবাদ আপনাকে।
এতে এত হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
কিছু অর্জন করতে গেলে কিছু বাধা বিপত্তি আর ঝুকির মোকাবেলা তো করতেই হবে।
ইমেইলটা কি পাঠিয়ে দিয়েছো?
পাঠালে এত মিষ্টি স্বরে আমার সাথে কথা বলার সুযোগ পেতেন না আপনি।
মিস্টার কিম জে হা
যদি তুমি কাউকে গুলি করো, বুলেটটা কি তোমার শত্রুদের হত্যা করে?
নাকি যে বন্দুক থেকে গুলি বেরিয়েছে সেটা করে?
নাকি বন্দুকের ট্রিগারে যার আঙ্গুল ছিল সে করে?
আমি শুনেছি তুমি নাকি বন্দুকের ট্রিগার চাপতে পারো না?
তোমার হাতের আঙ্গুলের ফ্র্যাকচারের কারনে।
তোমার হয়ে না হয় আমি বন্দুকের ট্রিগারটা চেপে দেবো।
তার কোন প্রয়োজন নেই।
আমি নিজেই সেটা করতে পারবো।
না, তোমার পরিচয় এখন ফাঁস হয়ে গেছে!
আজকের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, তোমার একার পক্ষে আর এই কাজ করা সম্ভব নয়।
সে এত সহজ কোন লক্ষ্যবস্তু নয়।
আর আমি নিশ্চিত তার চারপাশে এখন থেকে ডজনের ওপর দেহরক্ষী থাকবে।
পার্ক কন সুর ওপর তোমার আক্রোশের কারনটা আমি সঠিক জানি না।
তবে তোমার শত্রুর শত্রু যে তোমার বন্ধুও হতে পারে, এটা তো মানো?
তোমাকে সাহায্য করার সুযোগ দাও।
তারপর শুধু সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করো।
জেএসএস তোমার বন্দুক হবে এখন থেকে।
তাদের প্রতিটা সৈন্য হবে তোমার বুলেট।
তোমার হয়ে সেই বন্দুকের ট্রিগার চাপবো আমি।
স্রষ্টা কত দয়ালু, তাই না? একদম সঠিক একটা সময়ে তোমার সাথে আমার দেখা করিয়ে দিলেন!
বন্ধু হবে আমার?
ধুর ছাই!
কিরে, কি হলো?
ভেবেছিলাম আমি ম্যাডামের দেহরক্ষী হিসেবে প্রমোশন পাবো।
তুই কি এটা ছেলের হাতের মোয়া মনে করিস রে?
ওখানে আমি কুকুরের মত দু-দুটা বছর পরিশ্রম করেছি!
এত পরিশ্রমের ফলাফল কি পেলাম? শূন্য!
তুই বাড়িতে এসেছিস এতেই আমি খুশি!
ওখানে তো এক প্রকার জেলের কয়েদীদের মতই ছিলিস।
বিদেশী কারো সাথে কথাই বলতে পারতিস না তুই!
এখানেও নিজেকে জেলের কয়েদীদের মত লাগছে!
ইচ্ছে করছে, এক গ্যালন চিরতার পানি খেয়ে মরে যাই।
- ইয়াং মিস শুনে ফেলবে! - তাতে আমার বাপের কি?
সে ত এখন ঘুমাচ্ছে রে, বাবা!
প্রমোশনও পাবো না, কারো সাথে কখনো ডেটিং এও যেতে পারবো না!
মানুষের জুতার নিচের ময়লা পরিষ্কার করতে করতেই বুড়ি হয়ে যাবো আমি।
- আর ভাল লাগে না! - একটু ধৈর্য্য ধরো রে, বাপু!
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তো আর একটা বছরই আছে মাত্র।
অই মরার বছর আসতে আর কত দেরি বলো তো?
আমাকেই কেন এত ঝুটঝামেলা সহ্য করতে হবে?
তো শুয়ে বসে না থেকে তো আমাকে হাতের কাজেও সাহায্য করতে পারিস!
এমপি স্যার নির্বাচনে জিততে না পারলে তখন কি করবি তুই?
উঠ, উঠ!
এমপি স্যার? ইয়াং মিসের বাবা?
সে কেন এখানে আসবে?
সে কখনোই এখানে আসবে না।
আসতেও তো পারে, নিজের মেয়ে বলে কথা!
শুধু সপ্নেই সম্ভব সেটা!
অই ডাইনিটা যতোক্ষন তার লাল চোখ মেলে তাকিয়ে থাকবে, কেউ আসবে না এখানে।
কেউ না!
শশশশশ! উনি শুনতে পাবেন!
আমি বলেছি তোমাকে, কেউই আসবে না এখানে!
হ্যাঁ, আমি জানি, বাবা এখানে আসবে না।
কিন্তু, তার না আসার পেছনে মূল কারন হচ্ছে অই মহিলা।
এই যে, বিধবা!
- আমি? - হ্যাঁ।
আমাকে বিধবা বলে ডাকছো কেন?
কারন তোমার পোশাক বিধবাদের পোশাকের মত সাদা!
তুমি আর শুধরোলে না!
শোনো গোলাপি কালারের ড্রেসে তোমাকে কিন্তু দারুন লাগে!
কি ছাইপাশ বলছো এসব!
হেই, দাড়াও!
ওহ! মিস্টার কিম জে হা! কি অবস্থা?
তুমি নিশ্চয়ই তোমার হাতের ব্যান্ডেজ খোলাতে এসেছো?
- হ্যাঁ। - একটু বসো, এখুনি নিয়ে আসছি।
"ওহ! মিস্টার কিম জে হা! কি অবস্থা?"
দুঃখিত, আমি সামান্য মজা করছিলাম শুধু!
কেমন বোধ হচ্ছে?
ভাল।
বাহ! আমার দিকে শকুনের চোখ, আর উনার দিকে লাভার বয়ের চোখ করে তাকাচ্ছো! ভালোই তো!
তুমি এখনো এখানে কি করছো?
তাড়াতাড়ি বিদেয় হও এখান থেকে!
হেই!
তোমার হাতের অবস্থা তো ভালই লাগছে, আজকেই নাহয় ট্রেইনিং শুরু করে দাও।
তোমাকে মার্শাল আর্ট কি জিনিস হাতে ধরে ধরে শেখাবো!
কত ধানে কত চাল , বোঝাবো আমি তোমাকে!
সময়মত চলে আশবে, ঠিক আছে?
- কেমন লাগছে সোনা? - ব্যাথা করছে, গুরুজী!
- শিশুর মত চিল্লানো বন্ধ করো! - ব্যাথায় দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে!
নবাবজাদা সলিমুল্লা, বসা লাগবে না, এখানে আসো!
চলে আসো।
আমার ব্যাপারে কোন কিছু শুনেছো আগে?
না।
আমার নাম সুং ইয়াং চুন।
- আচ্ছা, মিস্টার সং... - না, না...সং না... সুং ইয়াং চুন।
মাথায় কি গোবর ভরা?
উম্মম... সুং ইয়াং চুন।
অপদার্থ কোথাকার! তুমি কখনো উইং চুনের নাম শোননি?
আমি উইং চুনের সত্যিকারের বংশধর!
আমি মাস্টার সুং ইয়াং চুন!
ঠিক আছে।
এখন ভ্যাবলার মত দাঁড়িয়ে থাকে না, কাছে আসো?
- মাফ করবেন? - আক্রমন করো আমাকে!
তোমাকে এভাবে কে করতে বলেছে?
যখন ফাইট করবে, একটা ম্যানার মেনে চলবে আগে!
প্রথমে মাথা নিচু করবে, তারপরে শুরু করবে।
বুঝতে পেরেছো?
কে তোমাকে ট্রেইনিং করিয়েছে?
আচ্ছা, যখন প্রতিপক্ষ তোমার সামনে এভাবে দাঁড়াবে...
তখন আচমকা তোমার পা দিয়ে...
এভাবে ল্যাং মারবে!
বুঝেছো সবাই? তারপর তুমি...
বাহ! বেশ ভাল লড়েছো! খুব ভাল!
সত্যি!
এবং যখন তারা এভাবে দাঁড়াবে...
ছাড় রে বাবা! মেরে ফেলবে নাকি?
দেখেছো? দেখেছো তোমরা?
আজকের ক্লাসটা অনেক গুরুত্বপূর্ন কিন্তু!
No comments yet. Be the first to leave one.