ആദ്യത്തെ 200 വരികൾ.
বাংলা সাবটাইটেলের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে এই সাবটাইটেলটি স্পন্সর করেছেন মোঃ তৌহিদ হোসেন।
তো, ভালোই দিন কাল যাচ্ছে তোমার, তাই না?
মানে এইসব ছাড়া আরকি।
যতটা ভেবেছিলাম, তার চেয়েও সুস্থ আছে সে।
গতবার যেরকম দেখে গিয়েছি, এখনও অনেকটা সেরকমই আছে।
এভাবে ঘুমিয়ে থাকার কারণে বলতে পারছি না, তার বেশি কষ্ট হচ্ছে কি না।
তুমি তো এসব জানোই, তাই না?
কারণ আমি চাই, উনার যাতে কোনরকম কষ্ট না হয়।
মানে, আমি আসলে বলতে চাচ্ছি,
আমাদের একসাথে দেখলে হয়তো তার একটু ভালো লাগবে।
কোনরকম ঝামেলা ছাড়া,
রাজী না হলে ঝগড়াঝাঁটি না করে সমাধান করবো,
যাতে তার মন খারাপ না হয়।
বাচ্চামি না করে,বড়দের মতো সবাই একসাথে সামলে নিবো।
আসলে আমি এখানে রাজী না হওয়ার কিছু দেখছি না।
দিন শেষে সবচেয়ে বড়ো সত্যিটা হল, সে আর বেশিদিন বাঁচবে না।
আমরা কেউই তার মৃত্যু আটকাতে পারবো না।
এভাবে বলতে চাইনি, কিন্তু এটাই বাস্তব।
এটাই হচ্ছে এখানে।
এখন আগের কথা তুলে লাভ নেই।
জরুরী হলে পরে আলোচনা করা যাবে।
আশা করি এতে সবাই রাজী হবে।
আমার মন খারাপ, জানি তোমারও মন ভালো নেই, এই পরিস্থিতিতে কারো মন ভালো থাকার কথাও না।
তাই ব্যাপারটা কঠিন করার দরকার নেই, ঠিক আছে?
আর আমি দেখেছি…
দেখেছি আমার কথা অনুযায়ী ডিএনআর এর স্বাক্ষরটাও নেওয়া হয়নি। [ডিএনআর (do-not-resuscitate)- এটি এমন এক ধরনের আইনি নির্দেশ,যেখানে রুগী স্বেচ্ছায় তার শেষ সময়ে বড়ো ধরনের চিকিৎসা ছাড়া স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করতে চায়]
অনেক বার বলেছিলাম এটা করে রাখতে।
আমি বুঝি কাজটা এতো সহজ না।
কিন্তু তখন সহজই ছিল, এখন কঠিন হয়ে গেছে।
যাক সেটা কোনো বিষয় না।
আমি বলতে চাচ্ছি, এখন সে কোনো ডাক্তার দেখাতে চাচ্ছে না, এটাই সমস্যা।
ডক্টর স্যান্ডার্সকে এখানে এনে তার চোখের সামনে স্বাক্ষর করাতে হবে।
তবে তুমি কাজটা আগে করে ফেললে আরও বেশি সহজ হতো।
আমি এখানে কয়দিন থাকতে পারবো জানি না।
সে কয়দিন বাঁচবে সেটাও জানি না।
এটাই গুরুত্বপূর্ণ এখন।
খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কিছুক্ষণের জন্য চোখ খুলেছিল সে।
যাক ভালো হয়েছে, সে জানলো আমরা এসেছি।
আমি বুঝতে পেরেছি, সে খুবই খুশি হয়েছে।
আমি জানি।
কথা দিচ্ছি, আমি আর এরকম করবো না,
সারাক্ষণ শুধু এভাবে কান্না করবো না।
আসলে মিরাবেললা আর ড্যাভিডের থেকে দূরে থাকতে কষ্ট হচ্ছে।
এই আরকি,
- তাদের ছেড়ে দূরে থাকিনি কখনো। - তাদের নিয়ে আসতে পারতে।
না, তাদের না এনে ভালোই করেছি।
তারা ওইখানেই ভালো আছে।
আমি বরং শেষ সময়ের এই স্মৃতিটা চাই।
সবচেয়ে খারাপ লাগছে, সুস্থ মানুষটার হঠাৎ এই অবস্থা হয়ে গেল।
অসুস্থ থাকলেও চলাফেরা করতে পারতো সে।
সবল ছিল।
হঠাৎ এতো অসুস্থ হয়ে যাবে ভাবিনি।
বাচ্চাদের নিয়ে বানানো মুভিগুলো বেশি দেখি বলে হয়তো আমার বেশি খারাপ লাগছে।
শেষ কয়েক বছর ধরে মিরাবেললার সাথে বেশ ভালোই সময় কাটছিল আমার।
মাঝে মাঝে খারাপ সময় কাটলেও,
সবসময় একটা স্বচ্ছতা কাজ করতো।
খুব ভালো লাগতো তখন।
একা একাই এতো কথা বলছি!
আসলে বাড়ির বাহিরে গেলে আমি বেশি আবেগি হয়ে পড়ি।
যাই হোক…
আমরা সবাই এখানে আছি ভেবেই ভালো লাগছে।
এটাই দরকার ছিল, সে এটাই চাইত।
আমি তোমাদের বিরক্ত করলাম, খুবই দুঃখিত।
কেমন আছো, র্যাচেল? থ্যাংকস গিভিংয়ের পর থেকে তো কথাই হয়নি আমাদের।
কেমন আছো?
ভালো আছি।
আর কী বলবো? ভালোই আছি আমি।
আসলে, সে নেশাগ্রস্ত হয়ে আছে, দেখছ না চারদিকে গাঁজার গন্ধ বের হচ্ছে।
তা তো অবশ্যই।
মাল খোর হয়ে আছি আমি।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই একটা ধরাই,
তারপর সারাদিনে বেলা করে ৩ বার সিগারেট খাই।
কেন জানো? কারণ এটাই আমার কাজ।
তুমি গাঁজা খাও, সেটা আমার দেখার বিষয় না।
কিন্তু বাড়িতে একটা অসুস্থ মানুষ থাকাকালীন সিগারেট খাওয়া ঠিক না।
বাবার তো কোনো সমস্যা হতো না।
বিশ্বাস করো, আগে তার চারপাশে ঘুরঘুর করে সিগারেট খেতাম।
তার কোনো সমস্যা হয় না।
তাছাড়া গন্ধটা নাকি তার ভালোই লাগে।
সে অনেক বার বলেছে আমাকে।
কিন্তু এটা তো গন্ধের ব্যাপার না, ব্যাপারটা ধুয়ার, লোকটা মারা যাচ্ছে, দয়া করে বাহিরে গিয়ে খাবে এইসব।
আজব! মাত্র ৫ মিনিট লাগে আমার।
৫ মিনিট কী এমন ব্যাপার?
কিছুক্ষণ আগেই তো জ্ঞান দিলে "একসাথে সামলে নিবে।"
হ্যাঁ হ্যাঁ, সেটাই, এইসব নিয়ে ঝামেলা না করলেই হয়।
তাহলে তাকে বাহিরে গিয়ে এসব ছাইপাঁশ খেতে বলো।
ছাইপাঁশ?
ওহ না, আমি দামী জিনিস খাই।
তোমার মতো সারাদিন আকিজ বিড়ি টানি না।
- ভেবেছ ভুলে গেছি? - সেটা স্কুলে থাকতে খেতাম।
তা অনেক আগের কথা, এখন বড়ো হয়ে গেছি, যেটা তুমি হতে পারোনি।
বড়ো হয়েও খানকি-মাগীই রয়ে গেছ।
র্যাচেল, ক্যাটি, এইসব এখন বন্ধ করো।
দেখো।
হাই, আমাদের খুঁজছিলেন?
আসুন না! বসুন এখানে।
- দুঃখিত, আমরা একটু-- - না না, মাফ মাফ চাইতে হবে না।
আমি বুঝতে পারছি, এই অবস্থায় এরকমই হয়।
এটাই স্বাভাবিক।
সময়টা কঠিন যাচ্ছে আপনাদের।
আমার পার্টনার মিরাবেললা আছে আপনার বাবার সাথে,
তাই ভাবলাম, আপনাদের সাথে একটু কথা বলে নেই।
"মিরাবেললা"?
এটা তো আমার মেয়ের নাম!
- ওয়াও! - তাই? নামটা খুবই সুন্দর।
- ৩ বছর তার। - আচ্ছা, খুব ভালো।
এই সময়ে আপনারা সবাই একত্রিত হয়েছেন দেখে ভালো লাগছে।
সবসময় তো আর এরকম হয় না।
পরিবারে তো কতো কিছুই হয়।
অসুস্থতার কারণেও অনেকে সবসময় আসতে পারে না।
আরও কতো কারণ থাকে, জানেনই তো।
তো উনার স্ত্রী অনেক বছর আগেই মারা গেছে?
সে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিল।
হ্যাঁ
২০ বছর আগে, ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছিল।
শুনে খারাপ লাগলো, যাই হোক, আগে আপনারা কীভাবে তার খেয়াল রেখেছেন জানি না।
তবে এখন আমি যেভাবে বলবো, সেভাবেই উনার খেয়াল রাখবেন।
আপনার বাবা কোনো খাবার বা তরল খেতে পারছে না।
আমি আর মিরাবেললা, সম্ভব হলে দুজনেই,
সকালের এই সময়টাতে এখানে চলে আসবো,
আর আমার নাম্বার তো আছেই।
এখানে আসা বা আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
তিনি মারা গেলেও কল দিয়েন।
কোনো কারণে হাসপাতালে নিতে না পারলে,
আমরাই উনার মৃত্যু নিশ্চিত করে দিয়ে যাবো।
আমি দুঃখিত, বারবার কেবল নামটা মনে পড়ছে।
আপনি নামটা বললেই, আমার মেয়ের চেহারা ভেসে উঠছে।
প্লীজ, বলুন, দুঃখিত।
তো,
ভালো খবর যে আপনার বাবার ব্যথাটা কমিয়ে আনা গেছে।
তার ক্যান্সারটা অনেক ভয়াবহ হয়ে গেছে।
ব্যথা হলে মূলত আমাদের শরীর, সেটার বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টা করে,
যদিও এতে আরও বেশি যন্ত্রণা হয়।
তবে তার মন ভালো থাকলে, ব্যথাও প্রশমন হবে।
এটাই আসলে বাসায় যত্ন নেওয়া, আর হাসপাতালে ভর্তি করানোর মধ্যে পার্থক্য,
এখানে থাকলে আরও কিছুদিন বাঁচার সম্ভাবনা থাকে।
কোনভাবেই যন্ত্রণায় থাকা যাবে না,
তবে আরেকটা ব্যাপার হল,
এই সময়ে কেবল আমাদের শরীরই সুস্থ হয় না।
এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আমি আপনাদের দিতে পারবো না,
কিন্তু এই ঘরোয়া সেবায় ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি,
আমাদের শরীরের সুস্থতা...
অনেকাংশেই আমাদের মনের সাথে সম্পর্কিত।
আর এই ব্যাপারটায় আপনারা তাকে সাহায্য করতে পারেন,
সে যদি ভয় থেকে বেরিয়ে আসতে না পারে,
আপনারা তাকে সাহস দিবেন, বলবেন যে...
সব ঠিক হয়ে যাবে।
চাইলেও মনোবল দিয়ে রোগ ভালো করা যায় না,
এই অবস্থায় তো আরও আগেই না,
কিন্তু সে যদি শুনে, যে তার সুস্থ হওয়ার সুযোগ রয়েছে,
সবাই আবার একসাথে থাকতে পারবে,
এটা অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে পারে।
- দুঃখিত, আপনার নাম এঞ্জেল, তাই না? - উম্ম-হুম।
এঞ্জেল, নামটা তো বেশ সুন্দরই রেখেছে,
এখন একটা কথা বলুন তো,
আমার বাবার একটা ডিএনআর পেপারে স্বাক্ষর করার কথা ছিল,
কিন্তু কোনো কারণে সে কিছুটা সুস্থ থাকাকালীন কাজটা হয়নি,
কিন্তু কাজটা করে রাখা জরুরী,
এইজন্যই জানতে চেয়েছিলাম, তার হাতে আর কতদিন সময় আছে?
বুঝতে পেরেছি, এটা তো আর সাধারণ কোনো দিন তারিখ না।
সে, নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি,
মনে হল যেকোনো সময়েই মারা যেতে পারে, বা অল্প কয়েকদিনে অথবা দেরীও হতে পারে।
তাকে একবার দেখে যাওয়া উচিত তোমার, আর বেশিদিন বাঁচবে না সে।
এক মাস আগেই তাকে দেখে গিয়েছিলাম,
এখন মনে হচ্ছে, কত বছর পর দেখলাম।
যাক, অন্তত এখানে আসতে পেরেছি এই বেশি।
সবাইকে একসাথে এখানে থাকতে হবে,
একসাথে মিলেই তার যত্ন নিবো আমরা।
আমি চলে যাওয়ার পর খারাপ কিছু হয়ে গেলে,
সারাজীবন আফসোস থেকে যাবে, বুঝতেই তো পারছ।
শুনলে?
ক্রিস্টিনা গান শুনাচ্ছে বাবাকে।
জানি না, বাবার নিশ্চয়ই খুব অসহ্য লাগছে।
আমার মতোই গান বাজনা শুনতে পারে না সে।
ভালোই আছে সে, অন্তত এসেছে তো, সবসময় সবার আগে সে-ই থাকে।
কেবল আমাকে আবার গান শুনাতে না বসালেই হয়।
আর সে…
সে আগের মতোই আছে।
সামান্য একটা ডিএনআরে সাইন করাতে বলেছিলাম তাকে, সেটাও করেনি।
এখন সেটা আরও বেশ কঠিন হয়ে গেছে।
আশা করি ঘরোয়া সেবা দেওয়ার ওই লোকটা কিছু একটা ব্যবস্থা করে দিতে পারবে।
কোনো ভাবে বাড়িতে একজন ডাক্তার এনে রাখলে ভালো হতো,
কখন কী লাগে না লাগে খেয়াল রাখতো।
সে বাহিরে চলে গেছে।
বাসার মধ্যে সিগারেট খেতে মানা করেছি আমি, তাই রাগ করে চলে গেছে।
বাবা চলে গেলে তো বাড়িটা তারই হয়ে যাবে,
তখন যা ইচ্ছা তাই করুক।
আমার কিছু যায় আসে না।
র্যাচেল, কী করছ তুমি?
এখানে এইসব খেতে পারবে না, জানোই তো।
ভিক্টর!
আহ, কী অবস্থা তোমার?
আর কয়েকটা টান দিতে দেও!
অন্য জায়গায় গিয়ে টানো, মানা তো করবো না।
এখানে না টানলে তো হয়।
এইসব এখন বৈধ,
ক্যান্সারের ভয় পাও নাকি?
কী যে বলো!
আমি প্রতি রাতেই ধরাই,
No comments yet. Be the first to leave one.