ആദ്യത്തെ 200 വരികൾ.
সাবটাইটেল বাই: AR SOUROV
শনিবার, ২৪শে মার্চ, ১৯৮৪.
শেরমার হাই স্কুল, শেরমার, ইলিনয়িস, ৬০০৬২. (জিপ কোড)
শ্রদ্ধেয় মি.ভার্নন,
আমরা স্বীকার করছি, যা করেছি তার শাস্তিস্বরুপ পুরো শনিবার নজরবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে।
কাজটা মোটেও ঠিক হয়নি।
তবে এর বিপরীতে নিজেদের সম্পর্কে আস্ত একটা রচনা লিখতে বলাটা নিতান্ত বোকামো ছাড়া আর কিছু নয়।
রচনা লিখে কী হবে শুনি?
আমাদেরকে সেভাবেই দেখেন, যেভাবে আপনি দেখতে চান।
সহজ, সুবিধাজনক সংজ্ঞার গন্ডির মধ্যে আমাদের আটকে রাখেন।
আপনার দৃষ্টিতে আমাদের মধ্যে
কেউ মেধাবী, কেউ খেলোয়াড়, কেউ মানসিকভাবে ভঙ্গুর,
কেউ রাজকুমারী এবং কেউ অপরাধী।
তাই না?
আজ সকাল ৭:০০টায় ঠিক এ নজরেই একে অপরকে দেখছিলাম।
তবে আমাদের মগজ ধোলাই করা হয়েছিল।
বিশ্বাসই হচ্ছে না, তুমি আমাকে এর থেকে বের করতে পারলে না।
শনিবার দিনটা এভাবে কাটাতে হবে, ভাবলেই হাসি পাচ্ছে।
আমি তো কোনো খারাপ মেয়ে নই।
পরে নাহয় সব ঠিক করে দেবো।
ক্লাস ফাঁকি দিয়ে কেনাকাটা করলেই কেউ খারাপ মেয়ে হয়ে যায় না।
ভালো থেকো।
তো, ব্যাপারটা কি এবারই শেষ নাকি এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে?
এটাই শেষবার।
বেশ, তাহলে যাও এবং সময়টাকে কাজে লাগাও।
মা, ওখানে পড়াশোনার কিছু নেই বরং আজাইরা বসে থাকতে হবে।
- তাহলে বুদ্ধি খাটিয়ে পড়ার সময় বের করো। - হ্যাঁ।
বসে না থেকে যাও!
আমিও কম দুষ্টুমি করিনি।
ছেলেমানুষ একআধটু করেই। ওতে দোষের কিছু নেই।
তবে তুমি ধরা পড়ে গেছো।
মা ইতোমধ্যেই ধোলাই দিয়েছে।
ম্যাচ মিস করতে চাও? বৃত্তি হাতছাড়া হোক তা কি চাও?
একজন শৃঙ্খলাভঙ্গকারীকে কিন্তু কোনো স্কুলই বৃত্তি প্রদান করবে না।
সবাই চলে এসেছে দেখছি।
যথাসময়ে আসার জন্য তোমাদেরকে অভিনন্দন।
স্যার, সম্ভবত এখানে একটা ভুল হয়েছে।
জানি, এটা শাস্তির অংশ তবে আমি এখানে থাকার যোগ্য নই।
এখন সকাল ৭:০৬.
আগামী ৮ ঘন্টা ৫৪ মিনিট ভাববে, ঠিক কেন এখানে এসেছো?
নিজের ভুলগুলো নিয়ে ভাবতে থাকো।
কোনো কথা বলতে পারবে না।
জায়গা থেকে একচুল নড়তে পারবে না।
কোনো ঘুম-টুম চলবে না।
আজ আমরা একটু ভিন্ন কিছু করবো।
এক হাজার শব্দের মধ্যে একটি রচনা লিখতে হবে।
যেখানে উল্লেখ করবে, তুমি নিজেকে কী মনে করো।
এটা কি কোনো পরীক্ষা?
রচনা বলতে আস্ত রচনা লিখতে বলেছি।
একই শব্দ ১০০০ বার লিখলে চলবে না।
কথা কি ক্লিয়ার, মি.বেন্ডার?
পানির মতো পরিষ্কার।
বেশ। এতে হয়ত নিজেকে আরো ভালো করে চিনতে পারবে।
পুনরায় এই অবস্থায় ফিরতে চাও কিনা সেই সিদ্ধান্তও নিতে পারবে।
এর উত্তর এখনই দিতে পারব, স্যার। মোটেও চাই না, কারণ...
বসো, জনসন।
ধন্যবাদ, স্যার।
আমার অফিস ঠিক সামনেই। বাড়াবাড়ি করলে ফল ভালো হবে না।
কোনো প্রশ্ন আছে?
জি আছে।
"ব্যারি-মেনিলো" কি জানে আপনি তার পোষাক চুরি করেছেন? (বিখ্যাত গায়ক)
এর উত্তর পরবর্তী শনিবার পাবে।
খামোখা ষাঁড়কে চটিয়ো না, গুতো খেয়ে মারা পড়বে!
ব্যাটা কেবল সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।
এভাবে পুরো হাত চিবোতে থাকো, দেখবে দুপুরে আর ক্ষিধে লাগবে না।
তোমাকে আগেও দেখেছি।
নিজেকে কী মনে করি?
আমি আসলে কে?
আমার পরিচয় কী?
আমি হলাম সামুদ্রিক হাতি।
পুরাই জগাখিচুড়ি অবস্থা, তাই না?
বিশ্বাসই হচ্ছে না, এমনটা আমার সঙ্গে ঘটছে।
ধুর ছাতা!
হিসু চাপলে কী করবো শুনি?
উফফ!
চেপে যখন গেছে, করতে তো হবেই।
হায় ইশ্বর!
এখানে আবার মুতে দিয়ো না।
চুপ করো। কথা বললেই ওটা আবার ভেতরে ঢুকে যাবে।
এক ফোঁটা মাটিতে পড়ার আগেই তোর পাছার ছাল তুলে ফেলবো।
রেগে গেলে তোকে দেখতে দারুণ লাগে!
এই পটকা, যা দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে আয়।
তারপর এই সুন্দরীর বাচ্চা প্রসব করাবো।
ঐ শোন!
কী?
মেজাজ খারাপ হলে কিন্তু তোর বারোটা বাজাবো।
তাই নাকি?
একদম তাই।
মুখটা চুপ রাখতে পারো না? কেউ তোমার কথা শুনতে চায় না।
পুরাই হাদারাম একটা।
তুই এখানে কী কারণে এসেছিস? অন্তর্বাস ধুতে ভুলে গিয়েছিলি নাকি?
শুনো ভাইয়েরা, আমাদের বরং রিপোর্ট লিখা উচিত।
এখানে থাকিস বলে সবাইকে পচানোর অধিকার তোর নেই।
তাই চুপ কর বলছি!
এটা একটা স্বাধীন রাষ্ট্র।
তোমাকে খেপানোর জন্য এসব করছে। পাত্তা দিয়ো না।
সোনাপাখি।
তুমি চাইলেও আমাকে এড়িয়ে যেতে পারবে না।
তো...
তো,
তোমরা দুজন কি প্রেমিক-প্রেমিকা?
দীর্ঘদিনের প্রেম বুঝি?
প্রেমিক-প্রেমিকা?
সত্যি করে খুলে বল তো।
ওকে পুরুষের মতো দিতে পারছিস তো?
- জাহান্নামে যাও! - যথেষ্ট হয়েছে!
আরে! হচ্ছেটা কী ওখানে?
নষ্ট হতচ্ছাড়াগুলো!
বদমাশ কোথাকার!
দরজাটা বন্ধ করে রাখলে কেমন হয়?
ব্যাটা বারবার উঁকি দিতে থাকলে কোনো মজাই করা যাবে না।
নিয়মানুযায়ী, দরজাটা খোলা থাকতে হবে।
- তাতে কী? - মুখটা বন্ধ রাখলে কেমন হয়?
তুই ছাড়াও এখানে ৪ জন লোক আছে।
ভালোই তো গুণতে পারিস। অবশ্য বুদ্ধিমান না হলে ভালো কুস্তিগির হওয়া যায় না।
আরেকজনকে বিচার করার তুই কে?
একদম।
জানিস বেন্ডার, তোর কোনো দামই নেই।
চিরদিনের মতো হারিয়ে গেলেও কারো কোনো যায় আসবে না।
এমনকি এই স্কুলে তোর সিকিভাগ দামও নেই।
বেশ, তবে নাহয় কুস্তির দলে নাম দিয়ে আসি।
কিংবা ভালো ছাত্রদের ক্লাবে। ছাত্র পরিষদে।
ওরা তোকে দলে ভেড়াবে না।
কষ্ট পেলাম।
জানো, তোমার মতো লোকজন সবসময় ঠাট্টা কেন করে?
নিশ্চয়ই জম্পেশ কোনো কারণ হবে!
কারণ তোমরা কাপুরুষ।
তোমরা ধনীরা সাংঘাতিক বুদ্ধিমান!
ঠিক একারণেই কোনো দলে ভিড়িনি।
তুমি আস্ত একটা কাপুরুষ!
আমি ম্যাথ ক্লাবের সদস্য।
তুমি ভীত কারণ ওরা দলে ভেড়াবে না, মানাতে পারবে না, তাই সবকিছুর খিল্লি উড়াও।
তোমাদের ক্লাবের সদস্যরা যদি বজ্জাত না হতো তবে কি এমনটা হতো?
আন্দাজে বললেই হলো? ক্লাবের কাউকে তো চিনোই না।
কুষ্ঠরোগীদেরও তো চিনি না, এখন চিনতে হলে কি ওদের দলে যোগ দিতে হবে?
মুখ সামলে কথা বল।
আমি ফিজিক্স ক্লাবেরও সদস্য।
দাঁড়াও! এই বিড়বিড় করে কী বলছিস?
বলছিলাম আমি ম্যাথ ক্লাব,
ল্যাটিন ক্লাব, ফিজিক্স ক্লাবের সদস্য ছিলাম।
সোনাপাখি।
তুমি কি ফিজিক্স ক্লাবে আছো?
ওটা তো একাডেমিক ক্লাব।
তো?
একাডেমিক ক্লাব অন্যান্য ক্লাবের মতো নয়।
তবে ওর মতো পুচকের কাছে তো একই।
ক্লাবে তোরা কী করিস?
ফিজিক্স ক্লাবে পদার্থবিদ্যা, এর বৈশিষ্ট্যাবলী নিয়ে আলোচনা করি।
তাহলে, এটা তো একপ্রকার সামাজিক ক্লাব। বিকৃত, হতাশাজনক হলেও সামাজিক তো?
চাইলে একে সামাজিক আড্ডা হিসেবেও ধরে নিতে পারো।
কেননা ক্লাবে আরো ছেলেমেয়ে আছে।
বছরের শেষে "হোটেল হিলটনে" বড়সড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করি।
খাওয়াদাওয়া, ফূর্তি টাইপ?
পোষাক-আষাক পরি তবে কোনো মালপানি গিলি না।
তেমনটা তোমার মতো উচ্ছৃঙ্খলরা করে।
নিজের কোনো জুতো ছিলো না, তাই বাবারটা ধার নিয়েছিলাম।
যদিও মা চান না আমি আরেকজনের জুতো পরিধান করি।
আমার কাজিন কেন্ডাল ইন্ডিয়ানা থাকে, একবার নেশা করেছিলো।
তারপর আজগুবি জিনিস খেতে শুরু করলো।
হঠাৎ মনে হলো সে কোথাও মানিয়ে নিতে পারছে না।
একদম তোমার মতো।
এভাবে পটরপটর করতে থাকো আর হঠাৎ ভার্নন এসে ধরা দিক।
শনিবার আমার খেলা আছে, তোমাদের জন্য সেটা হাতছাড়া করতে চাই না।
হায় হায়! সর্বনাশ! কুস্তি খেলা মিস হয়ে যাবে?
তুই এসবের কী বুঝিস, মাথামোটা?
জীবনে কোনো প্রতিযোগিতায় নাম দিয়েছিস?
ঠিক একারণেই জীবনটা শূন্য শূন্য লাগে!
যারা কুস্তির নামে মাটিতে লটরপটর করে, তাদের প্রতি একধরনের ভক্তি কাজ করে।
কিছুই করতে পারবি না। জীবনে লক্ষ্য থাকলে তো পারবি!
লক্ষ্য আছে বটে। তোমার মতো মহান কুস্তিগির হতে চাই।
কেবল দরকার ভোঁদাই মার্কা ব্রেইন আর কিছু টাইট জামা।
তুমি টাইট জামা পরো?
না, নিয়মমাফিক নির্দিষ্ট জামা পরি।
- টাইট জামা। - চুপ করো!
কোনো বাড়াবাড়ি চলবে না!
পোলাপান, লেখা শেষ হয়েছে?
বেন্ডার, ফাজলামি করিস না।
কী করছো?
আশা করি, মরে ভূত হবি।
বেশ!
ওটা স্কুলের সম্পত্তি, ব্যাক্তিগত জিনিস নয়।
ওসব নিয়ে ছেলেখেলা কোরো না।
খুব মজার ছিলো। এবার ঠিক কর।
- জলদি ঠিক করো। - আমি কি প্রতিভাবান?
- না, আস্ত হাদারাম। - ওরে বিনোদন!
দরজাটা ঠিক কর।
সকলে...
এর আগেও এখানে এসেছি। জানি কী করছি।
- জলদি দরজাটা ঠিক কর! - চুপ কর!
আর সহ্য করা যায় না!
দরজা বন্ধ কেন?
দরজা বন্ধ কেন?
তা কী করে বলবো? আমাদের তো নড়া নিষেধ।
কেন?
আপনার কথামতো আমরা চুপচাপ বসে আছি।
কে বন্ধ করেছে?
সম্ভবত দরজার স্ক্রু খুলে পড়েছে।
আপনাআপনি বন্ধ হয়ে গেছে।
কে করেছে?
ও কথা বলে না, স্যার।
No comments yet. Be the first to leave one.