ആദ്യത്തെ 200 വരികൾ.
আমি অর্জুন।
কোনো ভয় নেই আমার।
কোনো শত্রু নেই আমার।
কিন্তু এর মানে এই না যে আমি খুবই মার্জিত একজন মানুষ।
যখন প্রয়োজন পড়ে,
তখন আমি দানবে পরিণত হয়ে যাই।
এই শ্যুট আউটের অনুমতি কে দিয়েছে তোমাকে?
একটা সিনিয়র অফিসার কী করে...
আমার ডিপার্টমেন্টের লোকেরা আমাকে পাগল, গুন্ডা ইত্যাদি বলে ডাকে।
স্যরি স্যার।
কিন্তু আমাকে বিশ্বাস করা একমাত্র ব্যক্তিটি হলো আমার বন্ধু এন্ড্রু।
আমাকে বাঁচানোর জন্য এভাবে বারবার নীচু হওয়ার দরকার নেই তোর।
- বুঝলি? - কতবার বলেছি তোকে।
একটু শান্ত থাকতে পারিস না?
এই!
এন্ড্রু!
শ্যুটিং অর্ডার ছাড়াই যদি এবার ফায়ার করিস তোকে সাসপেন্ড করা হবে।
করুকগা সাসপেন্ড! তাতে আমার বালটা ছেঁড়া যাবে।
শোন আমার কথা।
যখন অপরাধীরা জানোয়ারে পরিণত হয় আর অমানবিকভাবে অপরাধ করে,
উপরওয়ালার বিচারের অপেক্ষা করার মতো ধৈর্য আমার থাকে না।
জানি তোর মরণের ভয় নেই...
কিন্তু আমি থাকা অবস্থায় মরিস না।
তোর জন্য না...
মৃত্যুকে ভয় পাই না বলেই আমি পুলিশ।
আমার সাথে যেকোনো সময় যেকোনো কিছু হতে পারে।
তুমি যতই উপদেশ দাও না কেন ও নিজের নিয়মেই চলবে।
এভাবে জীবন না কাটিয়ে বিয়ে করে ফেলছো না কেন, অর্জুন?
যাতে ঐ মেয়েটার জীবনও শেষ করতে পারে?
না, অন্তত তখন একটু যত্নবান আর আর দ্বায়িত্ববান হতে পারে।
এন্ড্রুর কথায় যুক্তি আছে।
কারও জীবন নষ্ট করতে চাই না আমি।
বিয়ে ঘেন্না করি আমি।
আমি ভালো করেই জানি ওদের অনেকে আমাকে মারার অপেক্ষায় আছে।
মরতে হলে মরবো।
যারা মৃত্যুকে ভয় পায় না তাদের দরজায় মৃত্যু কড়া নাড়ে না।
শুধু দেখে যা।
তোর কিছু হবে না কিন্তু তোর কারণে আমার কিছু একটা হয়ে যাবে।
- এই! - আর সেটা যদি হয়,
তাহলে আমার বউ আর অনাগত বাচ্চার কী হবে?
নিজেকে একমাত্র শাস্তিদাতা ভাবিস তুই?
ভগবান না তুই।
নিজের দ্বায়িত্ব পালন করে যা শুধু।
প্রিয়া!
প্রিয়া!
প্রিয়া, দ্রুত আসো!
এন্ড্রু!
কন্যা সন্তান হয়েছে।
- আসি। - বাই।
অর্জুন।
আমাকে নামিয়ে দিতে পারবে?
ও আমার টাইপের না।
কিন্তু ও সেসব ব্যক্তিদের মতো যাদেরকে জানতে পারলে ভালো লাগা আসবে।
ও খুব ভালোভাবে মানিয়ে যায়, কিন্তু সবাই ওকে স্রেফ ফ্রেন্ড জোনে রাখে
ও নিজেই সেটা থেকে বের হয় না।
এমনিই বলছি আরকি।
- এখন জাজ করো না আমাকে। - জেসমিন, জলদি আসো।
গড ব্লেস ইউ, সোফিয়া।
পথেই আছি। বাই।
জি?
কেউ বাঁচাও!
বাঁচাও!
না! না! প্লিজ...
বাঁচাও!
না...
প্লিজ, ছাড়ুন আমাকে...
ছাড়ুন আমাকে।
প্লিজ...
না...
প্লিজ...
প্লিজ...ছাড়ুন আমাকে...
না...
অর্জুন আর আমার ব্যাপারে কথা বলার জন্য সবাইকে ডেকেছি আমি।
কিন্তু এই দিনটাতেই অর্জুন আঘাত পেলো।
তার ওপর এন্ড্রুর মন খারাপ।
বাদ দাও প্রিয়া। অন্য একদিন এ নিয়ে কথা বলবো।
ওরা ক্রিমিনাল ধরতে ব্যস্ত।
ওরা পুলিশ। সারাদিন অপরাধীদেরই পিছু করবে।
দোষটা আমারই।
অর্জুন আর আমার ব্যাপারে আজই কথা বলো, প্লিজ।
ভাইয়াকে ডাকো।
প্লিজ!
এন্ড্রু।
প্লিজ এদিকে শোনো।
দেখো, বেশি টানাহেচড়া না করি। প্রিয়া আর অর্জুনের বিয়ে দেয়া যাক।
- সে-ও এটাই চায়। - থামো তো!
এখানকার পরিস্থিতিটা জানো? বিরক্ত করো না তো।
সমস্যা কী এন্ড্রু?
ওদের সম্পর্কটা তোমাকে এতো বিরক্ত করে কেন?
দেখো, প্রিয়া এই ভাবনায় ডুবে আছে যে, অর্জুন ওকে ভালোবাসে...
কিন্তু তোমার সমস্যা কী?
ও তো এখানেই আছে।
ওকে বলে দেখো ও বিয়ে করতে চায় কি না।
বিয়েতেই বিশ্বাস করে না এমন কাউকে জোর করে বিয়ে করানোতে আমি বিশ্বাসী না।
একই সাথে, বন্ধু হিসেবে, ও কেন বিয়ে করতে চায় না সেটা জানি আমি।
প্রতিদিন ও ঘুম থেকে উঠে ভাবে যে, ওটাই ওর শেষ দিন।
তাহলে আমি কী করে ওকে আমার বোনকে বিয়ে করতে বলি?
অর্জুন একটা উপকার কর।
যতই বুঝাই না কেন ও বুঝবে না।
তো, ভালো হয় যদি তুই ওকে বুঝিয়ে এসবের বিহিত করিস।
শিল্পা, দুদিন আগে যিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন...
আজ সকালে তাকে সাগরপাড়ে পাওয়া গিয়েছে।
চোখ তুলে এবং মুখ ক্ষত-বিক্ষত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে তাকে।
আজ আরেকজন নারীকে মৃত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের মতে খুন হওয়া মেয়েটার চোখ তুলে ফেলা হয়েছিল।
গত ৫ মাসে ৪টা খুন।
পুলিশ এই ব্রহ্মা ওরফে 'স্মাইলি কিলার' এর সন্ধানে আছে।
চেন্নাই কমিশনার হরিবেদান্ত
এই কেসকে ল এন্ড অর্ডার বিভাগ থেকে স্পেশাল অপ্স বিভাগে অর্পণ করেছেন।
এই স্পেশাল ফোর্সের নেতৃত্বে আছেন অফিসার এন্ড্রু এবং অফিসার অর্জুন।
সবার বিশ্বাস তারা এই স্মাইলি কিলারকে ধরতে পারবেন।
সাম্প্রতিক খুনগুলো আর...
দুই বছর আগে লক্ষ্ণৌতে হওয়া খুন।
দুটোর মাঝে ব্যাপক সাদৃশ্য আছে।
শুধুমাত্র মেয়েদেরকেই টার্গেট করা হয়েছে। একইভাবে, আর স্মাইলি সিগনেচার।
বীভৎস এক খুনি।
এই তদন্ত সহজ করার জন্য,
ভুক্তভোগীদের ছবি ব্যতীত,
তোমাদের সাথে শেয়ার করার মতো কিছুই নেই আমার কাছে।
এই ব্যাপারে আমার একটা খারাপ লাগা কাজ করছে।
স্মাইলি কিলার মার্ডার প্যাটার্নের মতো,
সুভদ্রা নামক মেয়ে, যে কি না দুদিন আগে নিখোঁজ হয়েছিল,
তাকে আজ হাত-পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে।
তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং তার লাশ পড়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
প্রতিটা ভিক্টিমকে রাতে অপহরণ করা হয়েছে।
খুনি ধারালো কোনো অন্ত্র ব্যবহার করেছে খুনগুলো করার জন্য।
চাকু নয়তো কোনো স্ক্যালপেল হবে।
চেন্নাইয়ে সংঘটিত এই খুনগুলোর জন্য দায়ী কে?
কোনো সাইকোপ্যাথ? কোনো সিরিয়াল কিলার?
এ ব্যাপারে জানাচ্ছেন ডা. শানমুগাম।
তার প্যাটার্নগুলো বলছে, সে কোনো সিরিয়াল কিলার নয়।
মারাত্মক এক সাইকোপ্যাথ।
সাধারণত তাদের করা খুনগুলো অতীতের কোনো ট্রমারই ফল হয়ে থাকে।
কিন্তু এই ব্যক্তি আনন্দ উপভোগের জন্য খুন করে।
গড কমপ্লেক্স বিশিষ্ট এক বুদ্ধিমান সাইকোপ্যাথ।
গড কমপ্লেক্স= এমন ব্যক্তিদের বোঝায় যারা নিজেকে ঈশ্বরের মতো ক্ষমতাবান ভাবে।
অর্জুন এই বইটা দেখ।
গত ৬ মাসে এটি ৭ম খুন।
শহরের পুরাতন ভবন এবং কলকারখানা,
এসব জায়গাতেই খুনি ভুক্তভোগীদের লাশ রেখে যায়।
ফর্সা, ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি এবং বাঁহাতি...
রাত্রিবেলায় নজরদারি আরও বাড়িয়ে দিন।
সকল নাইট ক্লাব বন্ধ করে দিন।
স্যার, সন্দেহভাজনকে এন্নোরের কাছে দেখা গেছে বলে তথ্য পেয়েছি আমরা।
বের হওয়ার সকল রাস্তা এক্ষুনি বন্ধ করে দাও। আমি পথেই আছি।
থাম!
স্যার, খুনি পালিয়েছে।
ধ্যেত।
আরও খুন হবে...
৮...৯...১০...
স্মাইলি কিলারের ব্যাপারে কারও কাছে যদি কোনো তথ্য থাকে,
তারা টোল ফ্রি ২০৮ নম্বরে কল করে পুলিশকে জানাতে পারেন।
আরেকটা মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পেয়েছি আমরা।
স্যার, ওমেগা ফ্যাক্টরি থেকে বলছি। এখানে দ্রুত আসুন।
ইতোমধ্যে ১১ জন মেয়েকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে...
আর এবার স্মাইলি কিলারের ১১তম শিকারকে তারা খুঁজে পেয়েছেন।
পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
এই কেসে কোনো অগ্রগতি না থাকার কারণে লোকজন আন্দোলন করতে শুরু করেছে।
ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা থামবো না।
- অনেক মেয়ে মারা গেছে। - পুলিশ কবে এই স্মাইলি কিলারকে ধরবে?
বাইরে কী হচ্ছে?
হ্যাঁ, আসছি আমি।
স্মাইলি কিলারের লোকেশন খুঁজে পেয়েছি আমরা।
লোকেশন শেয়ার করেছি, চলে আয়।
লোকেশন শেয়ার করেছি, চলে আয়।
এন্ড্রু...
এন্ড্রু... এন্ড্রু...
কী হয়েছে?
- এন্ড্রু... - ওদিকে...
সামনে আয়!
আমাকে অ্যারেস্ট করবি না কি...
তোর বন্ধুকে বাঁচাবি?
এতো ভালোবাসিস ওকে?
ও বাঁচবে না। কী করবো আমরা?
- ও বাঁচবে না। - অর্জুন! ছাড়ো ওকে!
অর্জুন ছাড়ো বলছি!
ছাড়ো ওকে! ওকে তো মেরেই ফেলবে তুমি।
- এন্ড্রু... এন্ড্রু... - চল।
চল।
- ঐ যে সে। মারো ওকে। - তোর তো বাঁচার যোগ্যতা নেই।
হাজতে ভরুন ওকে!
বানচোত! একটা অপরাধ করে জেলে গিয়ে তোকে মারবো আমি।
কুত্তার বাচ্চা! নরকে পচে পরবি তুই।
- স্যার, ওর থোঁতা ফাটিয়ে দিন। - আমার কাছে দিন ওকে, আমি মেরে ফেলবো ওকে!
আমিই মেরে ফেলবো ওকে!
- ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারুন ওকে। - চোখ তুলে ফেলুন ওর!
৬ মাসে ১২টা খুন এবং
তামিলনাড়ুর জনগণের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া স্মাইলি কিলার ওরফে ব্রহ্মাকে
আজ গ্রেফতার করা হয়েছে।
তার সর্বশেষ শিকার শালুকে বাঁচাতে গিয়ে,
অফিসার এন্ড্রু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
অর্জুন!
অর্জুন!
- প্রিয়ার খেয়াল রাখিস। - তোর কিছু হবে না।
ওর খেয়াল রাখিস প্লিজ।
তুই আমার জীবন বাঁচিয়েছিস বহুবার।
কিন্তু আমি তোকে বাঁচাতে পারলাম না ভেবে
বুকটা ফেটে যাচ্ছে।
তোর সাথে যদি থাকতাম...
তাহলে তোর এই অবস্থা হতো না।
No comments yet. Be the first to leave one.