200 baris pertama.
বাচ্চারা, কখনো কখনো একই মৌলের ভিন্ন-ভিন্ন ভরসংখ্যা থাকে,
এদেরকে আইসোটোপ বলা হয়।
এদের পারমানবিক ভর একই হওয়ায়...
রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যও একই হয়।
কিন্তু ভরসংখ্যা আলাদা হওয়ায়, এদের নিউক্লিয়াস আলাদা হয়।
আর কতক্ষণ লাগবে?
রজত দাও, জলদি দাও।
সঠিক লিখলেই কেবল নম্বর পাওয়া যায়, বেশি লিখলে নয়।
স্যার, আর ২ সেকেন্ড প্লিজ!
১,২.. হয়ে গেছে। এখন খাতা দাও!
দাও বলছি।
একাদশ শ্রেণী শেষ হতে চলেছে।
এটাই? সাইন্স না নেয়ার শুধু এই একটা কারণই খুঁজে পেলি?
আর ভবিষ্যতের সুযোগগুলো দেখলি না?
ব্যাটা, দিল্লি'র আইআইটি'র সর্বনিম্ন বেতন জানিস?
১৫ লাখ।
২১ বছর বয়সে আর কী চাস?
গণিতে লিখেছে, কঠিন।
ওয়াহ্.. এখনই পরিশ্রম করতে ভয় পাস?
না-কি তুমি বিগড়েছো?
আর কী?
রজত বাবা, খাবার খা! রজত বাবা, শুয়ে পড়!
উনাকে সবকিছু প্লেটে সাজিয়ে দিতে হবে।
বাবা, ওখানে আরেকটা পয়েন্ট আছে।
কী?
আমি নিতে চাই না।
কী এটা?
বাবা, আমার মন বসে না।
জোর-জবরদস্তি করে যতটুকু পারি পড়ি, কিন্তু...
আমি মজা পাই না।
মজা?!
তুই বেকুব না-কি?!
মজা মানে?!
তোর কী মনে হয়, প্রত্যেকদিন অফিস যেয়ে আমি মজা পাই?
না-কি ইলেক্ট্রিশিয়ান বাল্ব বদলে মজা পায়?
কাজ তো কাজই।
সেটা থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে ঘুরতে যাওয়া হয়...
সিনেমা দেখা হয়।
সেটাতে মজা পাওয়া যায়।
মজা!
আর সাইন্স না নিলে কী নিবি? আর্টস?
হ্যাঁ, বাবা।
আপনার মনে আছে, আমি এসএসটি'তে বোর্ডে প্রথম হয়েছিলাম?
৯৯ নম্বর পেয়েছিলাম।
আর বাবা, আমি রিয়া ম্যামের সাথেও কথা বলেছি।
তিনি বলেছেন আর্টসেও সামনে অনেক সুযোগ রয়েছে।
কী সুযোগ?
শিক্ষাকতা করবি?
বাবা, আম্মুও তো একজন শিক্ষিকা।
তাহলে তুইও মায়ের মতো হবি?
ঘর সামলাবি?
বাবা, আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই না।
তুমি থামো!
বাবা রজত, সাইন্সের শিক্ষার্থীদের জন্য সব রাস্তা খোলা থাকে।
দ্বাদশ শ্রেণির পর, তুই আর্টস, কমার্স যা ইচ্ছা নিতে পারবি।
আরও শেখাও তুমি!
শোন... আমার কোনো ব্যবস্যা নেই যে তুই সামলাবি।
একারণে তোকে আইআইটি'তেই যেতে হবে!
আর সেটার জন্যই পরিশ্রম কর।
বুঝেছিস?
আর যে আইসোটোপের নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল...
সেটা তেজস্ক্রিয়।
আমি সাইন্স নিতে চাই না, বাবা! আইআইটি'তে যেতে চাই না!
কী ব্যাপার রজত!
ফুল নম্বর! ফাটিয়ে দিয়েছো.. ২০ এ ২০!
হাততালি! আরো জোরে!
সাবাস বাছা, ২০ এ ২০।
গুড, গুড।
জ্বি, বাবা।
আমি এই প্রথমবার সাইয়ামের চেয়ে বেশি নম্বর পেলাম।
কিন্তু তারপরও ভালো লাগছে না।
কিন্তু রাজ্জো, আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত!
তুমি বাসায় কথা বলেছো,
আঙ্কেল-আন্টিকে সত্যটা বলেছো।
আর চড় খেয়েছি!
তো কী লাভ হলো?
আন্টি তো বলেছে যে দ্বাদশ শ্রেণির পর বিভাগ পরিবর্তন করতে পারবে।
কিন্তু বাবা তো চুপ করিয়ে দিলো।
আরে! অন্তত বলেছো তো।
কিছুটা হলেও লাভ তো হয়েছেই, রাজ্জো।
হ্যাঁ, তা হয়েছে অবশ্য।
'আপনারা শুনছেন রেডিও সিটি, আর আমি লাভগুরু রয়েছি আপনাদের সাথে।'
'যখন হঠ্যাৎ করে আবহাওয়া বদলে যায়...'
'এবং আমাদের ভালোবাসার মানুষটি পাশে থাকে...
তখন সবকিছুই বড্ড সুন্দর এবং রোমান্টিক মনে হয়।'
আমরা এখনো একে অপরকে 'আই লাভ ইউ' বলিনি, তাই না?
না।
এবং বলাও উচিত নয়।
'রেডিও সিটি!'
সেটা দূর্ভাগ্য বয়ে আনতে পারে।
আর যদি বলার ইচ্ছা করে তো?
বৃষ্টি দেখে বলার ইচ্ছা করছে?
আয় হায়, বলিউডি বয়!
তোমার বৃষ্টিকে রোমান্টিক মনে হয় না?
একদমই না।
খুবই বিরক্তিকর।
সবকিছু স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়।
না, সবকিছু আরো বেশি সুন্দর হয়ে যায়।
তোমাকেও কিন্তু আজ বড্ড সুন্দর লাগছে।
ঠিক আছে, কিন্তু যদি বলার ইচ্ছা করে, তাহলে কী বলবো?
অন্য কিছু।
'আই হেট ইউ' তে কাজ হবে?
হবে!
আই হেট ইউ, ঈশিতা।
আই হেট ইউ টু, রজত।
কিন্তু এখনো বিরক্তিকর লাগছে!
কিন্তু বাচ্চারা, শুধুমাত্র স্থিতিশীল আইসোটোপই পরিবেশে টিকে থাকতে পারে।
যেমন পরিবেশে কার্বন ১২ রয়েছে ৯৮.৯%,
এবং কার্বন ১৩ রয়েছে ১.১%।
আর এর সাথেই আমাদের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় শুরু হয়ে গেলো।
মনোযোগের সহিত ঠিকভাবে শুনো।
তো নিজেদের নোটবুক বের করো, আজকের তারিখ দাও, এবং লিখো।
অধ্যায়- ০৪, সুখকর মুহুর্ত দ্রুতই চলে যাবে
ভাই, আমি একদমই জানি না এরকম পরিস্থিতিতে...
কী বলতে হয়।
হ্যাঁ, হ্যাঁ...আর আমি তো শোকসভার ওপর পিএইচডি করে রেখেছি!
ভাই রাজ্জো,.. দেখতো, চুল ঠিক আছে?
তুই বাঞ্চোত না-কি?
ঈশিতার দাদী আজ মারা গেছে।
আর এরকম কালো শার্ট পড়ে এসেছিস কেন?
বুঝেছি। কিন্তু... রাজ্জো ভাই, শোন...
শার্ট কি ঠিক আছে?
চলতো ভিতরে!
- নমস্কার। - নমস্কার।
সরি আঙ্কেল...
বাবা, তুমি কেন সরি বলছো?
যা কপালের লিখা আছে তা তো হবেই।
জি আঙ্কেল, নিয়তি।
তুমি কে, বাবা?
আঙ্কেল, আমি গৌরভ পান্ডে।
আমি রজতের বন্ধু।
ঈশিতার'ও বন্ধু।
আর আঙ্কেল, রজত... ইশিতার বন্ধু।
আমরা সবাই বন্ধু।
ভিতরে আসো।
- ধ্যাত... - চুপ থাক তো!
ঈশিতা মা, এদিকে আয় তো।
কীভাবে মারা গেলো?
হার্ট এটাক।
সকালে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলো,
রাস্তাতেই মারা গেছেন।
ঈশিতার কী অবস্থা?
ঠিকই মনে হচ্ছে।
জানি না। হয়তো আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলো।
ফ্লেমস - সিজন: ০২ - এপিসোড: ০৪ অনুবাদক: আকতার হোসেন
সম্পাদনায়: রবিউল আওয়াল জীবন
কী হলো?
কিছু না... একটা ঘটনা মনে পড়লো।
১০ দিন আগেই মা বলছিলো, দাড়ি কেটে ফেল।
একদম চোরের মতো লাগছে!
আমাদের টিভি চুরি করতে এসেছিস না-কি!
মা একবার আমি অফিসের কাজে হায়দ্রাবাদ গিয়েছিলাম।
দক্ষিণে কমবেশি সবাই দাড়ি রাখে।
তাই আমিও রেখেছিলাম।
তারপর যখন বাসায় আসলাম, মা দরজা বন্ধ করে দিয়ে বললো...
যা আগে শেভ করে আয়, শেভ না করলে ঘরে ঢুকতে দিবো না।
আর জানিস, তখন আমার বয়স প্রায় ৩০।
তারপরও মা আমাকে শাসন করছিলো!
বাবা, আমি ঠিক আছি।
সমস্যা নেই।
তাই?
সত্যি বলছিস তো?
মা, ঘুম আসছে না...
জিজ্ঞাসা করছো না-কি বলছো?
- মা, এটাই... - জীবনের নিয়ম।
- সবাইকে... - আসতে আর যেতে হবে।
- এটাতে আমাদের... - কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, সবই উপরওয়ালার হাতে।
বাবা, এই একই কথাগুলো মা মারা যাওয়ার সময়েও বলেছিলে।
কিন্তু মা, এটাই সত্য...
বাবা, কিছু মনে কোরো না, আমার ঘুম পেয়েছে।
গুড নাইট।
গুড নাইট, মা।
তুই ক্লাসে যাবি না?
হ্যাঁ, আম্মু... হোমওয়ার্ক শেষ করছি।
কত্তো নোংরা... অন্তত বাথরুমটা পরিষ্কার রাখ!
যাচ্ছিস?
হ্যাঁ, কেন?
কিছু না.. টেবিলে টিফিন রেখেছি, নিয়ে যা।
তাড়াতাড়ি আসিস।
লাইটের বোর্ডটা ওখানে লাগবে।
- আর ঐ দরজাটা... - সোজা চালা। সাইড প্লিজ...
- তারপর ঐ দরজাটা ভেঙে.. - আরে বধির, সাইড দে!
ঠিকভাবে চালা।
হ্যাঁ, হ্যাঁ... আপনাকেই বলছে!
সাইড দে, ভাই।
আঙ্কেল...
সোজা... সোজা...
পাগল মেয়ে...
এই তোমাদের ভদ্রতা?!
শোনো এদিকে।
- হ্যালো... - আসছি, আসছি।
নাম।
এরা এখানেই পড়ে।
ভবনটা আমার, কিন্তু পড়ায় আরেকজন।
একটা কথা বলো, মা।
তোমরা তো বাচ্চা।
এইযে মোটরসাইকেল চালাচ্ছো...
- আরে আঙ্কেল... নমস্কার। - নমস্কার।
হেলমেট কোথায় তোমাদের?
আঙ্কেল, জানেন আমার দাদু কত বছর জীবিত ছিলেন?
No comments yet. Be the first to leave one.