The first 200 lines.
ফ্লেমস- সিজন ১- এপিসোড ৫ অনুবাদ ও সম্পাদনায় : শাকিব সারোয়ার
বয়েলের সূত্র বলে যে..
.. চাপ আয়তনের ব্যস্তানুপাতিক।
মানে যত বেশি আয়তন হবে,
চাপ তত কম হবে।
কিন্তু বাচ্চারা,বাস্তব জীবনে..
..এ দুটো সমানুপাতিক।
সমস্যার আয়তন যত বাড়বে..
..চাপও তত বাড়বে।
রজত বেটা?
এদিকে আমি কোচিং সেন্টার বন্ধ করতে চলেছি...,
...আর তুমি এখানে একা বিদ্যাসাগরের মতো বসে আছো!
পান্ডেজি'কে দেখছি না যে?
এক বার বেশি নাম্বার পেয়েছে বলে কি বন্ধুত্ব ভেংগে ফেলবে নাকি?
আমার বকা দেয়াটাকে এতটাই সিরিয়াসলি নিয়েছো?
রজত?
না,স্যার। আসলে..
ইউ-ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণগুলো নোট করছিলাম।
আচ্ছা?
কিন্তু বাবা, বইয়ে তো বি-ব্লকের অধ্যায় খোলা!
স্যার, আগেরটাও রিভিশন দিচ্ছিলাম।
বাবা, কী হয়েছে বলো?
রজত?
কিছু না স্যার।
রজত?
রজত?
হেই,আরে।
কিছুই বুঝতে পারছি না, স্যার।
এটা দেখো চাপ।
আর বাচ্চারা, এটাই হচ্ছে এই টার্মের শেষ চ্যাপ্টার।
তাই কান আর মন খোলে শুনো,
তো নোটবুক বের করে..
..আজকের তারিখটা লেখো।
আর লেখো চাপ্টার ৫,
শান্ত হও।
সবকিছু খারাপ হয়ে গেছে,স্যার।
কিছুই খারাপ হয়নি, আমি আছি না?
সবকিছু খারাপ হয়ে গেছে।
আমিতো আছি, বাবা।
শান্ত হও।
শান্ত হও বাবা।
আমি বাড়ী যেতে পারবো না।
আমি এই টেস্টের পেপার মাকে দেখাতে পারবো না।
রজত।
স্যার,ভালোই তো পড়ছিলাম এই টেস্টের জন্যে,
জানি না কী হয়ে গেলো!
ইশিতা, আনুশা, পান্ডু - এইসবই মাথার মধ্যে ঘুরছে পরীক্ষার সময়।
তোমার মাকে এখনো ফোন করা হয়নি।
করা হবেও না।
ঠিক আছে?
আমি কল করতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু এখন আর করবো না।
ঠিক আছে?
হ্যাঁ?
এইতো সমস্যার সমাধান হয়ে গেলো!
হ্যাঁ?
এখন বলো।
পান্ডের সাথে ঝগড়া হয়েছে?
নাকি আনুশার সাথে? নাকি ইশিতার সাথে?
ইশিতার সাথে স্যার।
আহ,ইশিতার সাথে।
তো, কে এই ইশিতা?
স্যার..
ফ্রেন্ড স্যার।
ফ্রেন্ড?
দেখো, তোমাদের বয়সে,
আমরাও ফ্রেন্ডস ছিলাম।
আর আজ ও আমার জীবনসঙ্গী।
আমাদের লাভ ম্যারেজ হয়েছে,
গতবছর।
একদম ট্রু লাভ।
তো এর জন্য বাবা,
তুমি আমাকে বন্ধু ভাবতে পারো।
হ্যাঁ?
আর আমাকে বলো তোমার সেই ফ্রেন্ডের সাথে কী প্রবলেম হয়েছে।
বলো।
হ্যাঁ?
স্যার, আসলে..
ইশিতা গনিত ক্লাসের।
ওয়ালিয়া স্যারের ক্লাসের।
খোলে বলো ভাই।
আরে আমরা তো বন্ধু!
চিন্তা কোরো না বলো।
শুনছেন রেডিও সিটি ৯১.১ এফএম।
আর আমি হচ্ছি লাভগুরু।
তো আরো এবার চলে এলাম,
আপনাদের হৃদয়ের জমানো সমস্যার সমাধান করতে।
প্রতি রাতের মতো!
বল না ভাই?
সাড়ে নয় নম্বর পাওয়ায় পার্টি দিচ্ছিস নাকি?
হ্যাঁ, চলে আয়।
অবশেষে পাপ্পু পাশ করেছে!
হারি ভাইয়া?
দুই প্লেট চিকেন দাও।
ঠিক আছে ভাই।
আয় ভাই এখানে আয়।
- শোন বোকাচোদা। - ভিষান্ক।
ভিষান্ক।
রাজ্জোর কিস করার ব্যাপারটা..
..মিথ্যা ছিলো।
কী?
হ্যাঁ।
শালা, আমি এটা আগে থেকেই জানতাম।
ওই চুতিয়ার কাছে তো নেই।
সেটা আমার দোষ ছিলো। দু:খিত!
কিন্তু পুরো টিউশন সেন্টারে কথাটা কে ছড়িয়েছে?
তুই।
তো বড় দোষটা করলো কে?
তুই।
এখন তুই টিউশন সেন্টারে গিয়ে প্রত্যেকটা লোককে গিয়ে বলবি..
..এটা মিথ্যা ছিলো।
আর এসব তোর বাইঞ্চোদগিরি ছিলো।
আর শোন,
ইশিতার কাছে ক্ষমা চাইতে হলে তোকেই চাইতে হবে।
আরে ঔই পিকাচু!
আমার মাথায় কি 'ভোঁদাই' লিখা আছে?
কোচিং এ নিজের ইমেজটা কেন নষ্ট করবো?
তারমানে ক্ষমা চাইবি না?
যা ইচ্ছা কর।
আরে,ও ভাইয়া?
চিকেন মোমোর কথা বললাম। কোথায় সেটা?
এইতো হয়ে গেছে।
স্যার, পান্ডুর সাথেও ঝগড়া হয়েছে।
ইশিতাও কথা বলছে না।
এখন শুধু আনুশাই বাকী আছে।
তুমি ক্লাস ফাঁকি দিয়েছ?
হ্যাঁ,স্যার।
উঠো।
যাও বের হও।
গিয়ে মাকে নিয়ে এসো! যাও!
সর্যি স্যার, আর এরকম হবে না। প্রমিজ স্যার!
আরে মজা করছিলাম,ভাই।
বলেছি না আমরা বন্ধু?
খুবই হতাশ হয়ে গেছো। মাস্তি করো।
হ্যাঁ?
চেষ্টা করবো, স্যার।
চেষ্টা-মেষ্টা না, করতে হবে।
অতিরিক্ত চাপ হার্টকে হালকা করে দেয় না,
পেটকে হালকা করে দেয়।
হ্যাঁ?
তো বলো।
গিফট নিয়ে ইশিতার কাছে যাওনি?
কী প্রবলেম হয়েছিলো? গিফট পছন্দ হয়নি?
স্যার, ওতো এসেই চলে গেলো।
স্যার, প্রবলেমটা হলো..
ও ভাবছে, আমি মিথ্যা বলছি।
ও আমার কথা বিশ্বাসই করছে না।
কিন্তু স্যার, আমি সত্যিই বলছি।
মায়ের কসম আমি সত্যি বলছি স্যার।
আমি কিছুই করিনি।
কসম করেছ সব ঠিক আছে।
তুমি আমাকে একটা কথা বলো।
কল্পনা করো,
তুমি বাড়ী গিয়ে দেখলে..
..তোমার মা সবকিছু জেনে ফেলেছে।
মোমো থেকে শুরু করে ক্লাস ফাঁকি..
..টেস্টে ৫ নাম্বার পাওয়া, সব জেনে ফেলেছে।
আরে শুধু কল্পনা করতে বলছি,ভাই।
তোমার সাথে কী হবে?
প্রবলেম হয়ে যাবে,স্যার।
ফেঁসে যাবো, স্যার।
আর তুমি কী ভাববে কে তোমার মাকে বলে দিয়েছে?
আপনি, স্যার।
তখন তুমি আমার ব্যাপারে কী ভাববে?
ভাববো আপনি খুব চালাক আর হারামী!
বেটা, এতোটাও খুলে বলার দরকার নেই।
সরি, স্যার।
হ্যাঁ।
যখন তুমি আমাকে..
..তোমার আত্মকাহিনী শুনাচ্ছিলে..
তখন কি ভেবেছিলে আমি চালাক..
..মানে আমি চালাক?
না,স্যার।
আর পরের দিন যদি আমি তোমাকে বলি..
..যে আমি কাউকে কিছু বলিনি।
আর এতে আমার কোনো দোষ নেই।
তখন তুমি আমার কথা বিশ্বাস করবে?
না, স্যার?
কেন বিশ্বাস করবে না?
কারন,তখন তো স্যার বিশ্বাস..
...নষ্ট হয়ে যাবে।
ওহ!
সেটাই,বেটা।
ওহ!
বাবা, আমাদের সাথে যখন খারাপ কিছু ঘটে,
তখন আমাদের মন 'দোষারোপ' গেইম খেলা শুরু করে দেয়।
কেন হলো?
কিভাবে হলো?
কে করলো?
এটা ইশিতার দোষ না যে, সে তোমার কথা শুনছে না।
আর না তোমার যে, তুমি পান্ডেজির কথা শুনছো না।
দুজনের মধ্যেই কষ্ট আছে।
কিন্তু স্যার, আমার এখন কী করা উচিৎ?
প্রথমত, 'দোষারোপ' করা বন্ধ করো।
আর ২য় তো,
ঠান্ডা মাথায়,খোলা মনে..
...ইশিতাকে ব্যাপারটা বুঝাও।
আমাদের সময়তো আমরা চিঠি লেখে বুঝাতাম,
তোমরা আজকালকার ছেলেমেয়েরা..
..নোটসই লিখতে চাও না, চিঠি আর কি লিখবে!
মানে আমি বলতে চাচ্ছি..
No comments yet. Be the first to leave one.