Pierwsze 200 wierszy.
২য় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর দিকে...
বদ্ধ ইউরোপের অনেকগুলো প্রাণ মুক্ত স্বাধীন
আমেরিকাতে পাড়ি জমাতে ব্যাকুল থাকতো...
লিসবন অনেক বড় সমুদ্রবন্দরে পরিণত হলো
কিন্তু সবার পক্ষে সরাসরি লিসবনে পৌঁছানো সম্ভব হতো না।
তাই প্যাঁচানো পথে বিভিন্নভাবে ঘুরে শরণার্থীর বেশে…
প্যারিস থেকে মার্শেই...
ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে "ওরান"
অতঃপর ট্রেনে বা অটোরিকশা বা পায়ে হেটে আফ্রিকার সীমান্ত ঘেঁষে...
ফ্রান্স মরক্কোর কাসাব্ল্যাংকায়।
এখানে আসার পর, অনেকে সৌভাগ্যবশত বা টাকার জোরে...
ভিসা পেয়ে যায় এবং দ্রুত লিসবনে পৌঁছায়।
অতঃপর লিসবন থেকে স্বপ্নের দেশে।
কিন্তু যারা ভিসা পায়না তারা কাসাব্ল্যাংকাতেই থেকে যায়।
এরপর শুধু অপেক্ষা...
আর অপেক্ষা।
16.1
অনুবাদকঃতানভির,তুহিন,শাহরুখ,সাদমান,নাভিদ।
সম্পাদনায়ঃ নেবুলাস নাভিদ তাহমিদ শাহরিয়ার সাদমান।
সকল অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছিঃ
গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বহনকারী দুজন জার্মান সংবাদবাহককে ট্রেনে খুন করা হয়েছে…
খুনি আর তার সহযোগীরা কাসাব্লাঙ্কার দিকেই আসছে।
সন্দেহজনক সকল ব্যক্তিদের তল্লাশি করো এবং নথিপত্রগুলোও সংগ্রহ করো।
গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার ছাড়পত্রের(Visa) কাগজ দেখতে পারি?
ওগুলো-তো আমার কাছে নেই।
- তাহলে-তো, আপনাকে আমাদের সাথে আসতে হবে। - থামুন। আমি হয়তো কাগজগুলো এনেছি।
হ্যাঁ, এইতো সেগুলো।
এই ছাড়পত্রের মেয়াদ তিন সপ্তাহ আগেই শেষ হয়েছে। আপনাকে আমাদের সাথে যেতেই হবে।
দাঁড়াও!
দাঁড়াও বলছি!
- ওখানে হচ্ছেটা কী? - জানিনা, জান।
ক্ষমা করবেন, আপনারা কি কিছুই শোনেননি?
কিছুটা কানে এসেছে, কিন্তু বুঝতে পারিনি।
দুজন জার্মান সংবাদবাহককে মরুভূমিতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে।
নির্জন মরুভূমিতে।
এই তথাকথিত তল্লাশি শরণার্থী ,মুক্তিকামীদের…
এবং আর পুলিশ প্রধান মিঃ রেনোল্টের জন্য একটা সুন্দরী খুঁজে পেতে।
এসব শরণার্থীদের কথা ভেবে সত্যিই খারাপ লাগছে…
তারা ইউরোপ থেকে পালিয়ে এসে কাসাব্ল্যাংকাতে আশ্রয় নিয়েছিল।
এদের মধ্যে অনেকে আছে যারা বছর ধরে ভিসার জন্য অপেক্ষা করছে।
আপনারা নিজেদের দিকে খেয়াল রাখবেন, স্যার।
এই জায়গাটা শকুনে পরিপূর্ণ।
সবজায়গাতেই শকুন, সবজায়গাতেই !
- অনেক, অনেক ধন্যবাদ। - বিদায় স্যার।
বিদায় মাদাম। স
চমৎকার মানুষ।
ওয়েটার।
- ওহ্ , এ কী করলাম আমি? - কী হয়েছে, জানু?
আমার মানিব্যাগ ভুলে হোটেলে রেখে এসেছি।
হয়তো আগামীকাল, আমরাও এমন প্লেনে চড়বো।
- হিটলারের জয়। - হিটলারের জয়।
আবার দেখা করতে পেরে খুশি হলাম, মেজর স্ট্রেসার ৷
ধন্যবাদ।
পরিচয় করিয়ে দিই, উনি হলেন, ক্যাসাব্লাঙ্কার পুলিশ প্রধান ক্যাপ্টেন রেনোল্ট।
সার্বভৌম ফ্রান্স কাসাব্লাঙ্কায় আপনাকে স্বাগতম।
ধন্যবাদ, ক্যাপ্টেন। এখানে আসতে পেরে আমিও খুশি।
মেজর স্ট্রেসার, আমার সহযোগী, লিথুয়েনেন্ট ক্যাসেল।
ক্যাপ্টেন টনেলি। ইতালিয়ান সেনা আপনার খেদমতে হাজির।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ক্যাসাব্ল্যাঙ্কার আবহাওয়া আপনার কাছে একটু উষ্ণ লাগতে পারে।
রাশিয়া থেকে সাহারা পর্যন্ত আসতে আসতে, আমাদের জার্মানদের সব আবহাওয়াই সহ্য হয়ে গিয়েছে।
আবহাওয়া নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই।
তবে?
সংবাদবাহক হত্যার তদন্ত কতটুকু আগালো?
আমাদের লোকেরা সন্দেহজনক সব কিছুই তল্লাশি করেছে, সন্দেহভাজনদের আটকও করেছে।
আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি কে খুন করেছে।
বাহ্, সে কি তোমাদের হেফাজতে আছে?
না কিন্তু সে আজ রাতে রিকের ক্যাফেতে আসবে। সবাই রিকের ক্যাফেতে আসে।
আমিও ক্যাফে আর ক্যাফের মালিক মিঃ রিক সম্পর্কে শুনেছি কিছুটা।
শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষা।
আমি হয়তো এখান থেকে বেরুতে পারবো না।
ক্যাসাব্ল্যাঙ্কাতেই হয়তো মরতে হবে।
এর থেকে বেশি দাম দেওয়া যায় না?
প্লিজ?
দুঃখিত, কিন্তু বাজারে হীরকের কমতি নেই। সবাই হীরক বিক্রি করে।
হীরক সবজায়গাতেই পাওয়া যায়। ২৪০০ টাকা।
ঠিক আছে।
ট্রাকের ব্যবস্থা হয়েছে। সবাই প্রস্তুত আছে…
এটা একটা জেলে নৌকা, সান্তিয়াগো।
আগামীকাল রাত ১টার দিকে রওনা হবে । লা মেডিনার শেষ প্রান্তে।তৃতীয় নৌকাটি…
- অসংখ্য ধন্যবাদ। - আর সাথে নগদ ১৫০০০ ফ্রাংক নিয়ে আসবেন।
মনে রাখবেন, নগদ টাকা।
চিয়ার্স…
- দরজাটা খুলো, আবদুল। - খুলছি, প্রফেসর।
- ওয়েটার? - বলুন, ম্যাডাম?
আপনি কি মিঃ রিককে আমাদের সাথে ড্রিংকসের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন?
তিনি ক্রেতাদের সাথে মদ্যপান করেন না। কোনোক্রমেই না। এমনকি আমিও কখনো দেখিনি।
কী কারণে এই সুদর্শন ব্যক্তি এতো কঠোরে পরিণত হলেন?
তাও যদি আপনি উনাকে বলতেন…
আমি আমস্টারডামের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যাংকিং কোম্পানি থেকে এসেছি।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ? এই কথা শুনলেও মিঃ রিকের মন গলবে না।
একসময়ের অ্যামস্টারডাম এর সর্বোচ্চ ব্যাংকার, আমাদের হোটেলের রান্নাঘরে প্যাস্ট্রি বানায় ৷
আমদের অন্যকিছু নিয়ে কথা বলা উচিৎ।
আর তার বাবাও হোটেলের একজন কর্মচারী।
স্যার…
মাফ করবেন ৷
আমি দুঃখিত, স্যার। এটি একটি ব্যক্তিগত কক্ষ।
কসকি মমিন !! তুমি কি মনে করেছ...? আমি জানি এখানে জুয়ার আসর বসে।
- তুমি আমাকে বাইরে আটকে রাখতে পারো না। - কী সমস্যা?
হনলুলু থেকে বার্লিন পর্যন্ত সব জুয়ার আড্ডাতেই আমি বসেছি।
যদি আপনি ভাবেন এমন একটি জুয়ার আড্ডায় আমাকে ঢুকতে দেওয়া হবে না…
তাহলে বলবো আপনার বড় ভুল হচ্ছে।
একটু সরেন, প্লিজ ৷ হ্যালো, রিক ৷
আপনার টাকা মদ্যপানের জন্য খরচ করেন।
কী? আপনি জানেন আমি কে?
হ্যাঁ জানি। তুমি ভাগ্যবান তাই তোমার জন্য পানশালা খোলা আছে।
এই অপমান কিছুতেই মানা যায় না।! আমি অ্যাংগ্রিফে গিয়ে এর বিরুদ্ধে নালিশ জানাবো।
তোমাকে এমন দেখে, অন্যরা মনে করবে তুমি সারাজীবন হয়তো এরকমই করে আসছো।
- তোমার কিভাবে মনে হলো আমি করিনি? - নাহ্, এমনিই।
- যখন তোমাকে প্রথম দেখেছিলাম, তখন ভেবেছিলাম… - কী ভেবেছিলে তুমি?
এ নিয়ে আমার ভাবার অধিকারই বা আছে নাকি?!
বসতে পারি?
জার্মান সংবাদবাহকদের কথা শুনে খুব খারাপ লাগল, তাই না?
তাদের কপাল ভালো। গতকাল ছিল কেরানী…
আর আজকে তাঁরা শহীদ।
তুমি খুবই কঠোর ব্যক্তি, রিক, কথাটা বলার জন্য আমাকে ক্ষমা করো।
আমি ওসব কথা কানে নেই না।
- তুমি কি আমার সাথে ড্রিংক করবে? - না।
ও ভুলেই গিয়েছিলাম, তুমি তো সাধারণের সাথে ড্রিংক করো না। আমাকে আরেকটা দাও, প্লিজ।
তুমি আমাকে ঘৃণা করো, তাই না?
উওরটা যদি দিতেই হয়, হ্যাঁ, করি।
কিন্তু কেন?
আমি যে কাজ করি তা নিয়ে তোমার আপত্তি আছে, তাই না?
কিন্তু সেসব শরণার্থীর কথা ভাবো, যারা এখানে পঁচে মরতো আমি যেতে না দিলে ৷
তেমন খারাপ না কাজটা। আমি তাদের ভিসা এনে দিয়েছি আমার নিজস্ব পদ্ধতিতে ৷
টাকার বিনিময়ে, উগার্টে, টাকার বিনিময়ে ৷
সেসব অসহায়দের কথাটা ভাবো, যাদের রেনোল্টের চাওয়া টাকা দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না ৷
আমি তাদের জন্য অর্ধেক টাকাতেই করে দিলাম। এতেও কি আমাকে রক্তচোষা জোঁক বলে মনে হয়?
জোঁকে আমার আপত্তি নেই। আমার শুধু একজনকে কসাইয়ের মত জবাই করে দেওয়াতে আপত্তি আছে।
আজকের রাতের পরেই, আমি এসব ব্যবসা ছেড়ে…
ক্যাসাব্ল্যাঙ্কা থেকে চলে যাবো।
তা ভিসার জন্য কাকে ঘুষ দিলে? রেনোল্টকে নাকি নিজেকেই?
নিজেকেই। নিজের প্রতি খুবই দায়িত্ববান কিনা!
দেখো, রিক ৷
জানো এটা কী?
এমন কিছু যা তুমি কক্ষনো দেখো নি।
ছাড়পত্রের চিঠি, জেনারেল গৌলের স্বাক্ষর-কৃত।
পুরোপুরি অক্ষত, কাটাছেঁড়া বা পড়া হয় নি।
১ মিনিট।
আজ রাতে মনমতো দামে বিক্রি করবো।
আর তারপর ক্যাসাব্লাংকাকে "হাজার সালাম" দিয়ে কেটে পড়বো।
কাসাব্ল্যাঙ্কাতে আমার অনেক বন্ধু আছে, কিন্তু কী আর করা...
আমায় তুমি অবজ্ঞা করলেও একমাত্র তোমাকেই বিশ্বাস করি।
এগুলো তোমার কাছে রাখবে, প্লিজ?
- কতক্ষণের জন্য? - ১ ঘণ্টা বা তার চেয়ে একটু বেশি।
-আজ রাতের বেশি রাখা যাবে না। - ওসব নিয়ে চিন্তা করো না।
আমার খাতিরে এগুলো সামলে রেখো।
ধন্যবাদ। জানতাম তুমি সাহায্য করবে।
ওয়েটার, আমি কিছু লোকের জন্য অপেক্ষা করছি।
যদি কেউ আমাকে খোঁজে, তাহলে আমাকে ডেকে দিও।
রিক...
এখন হয়তো আমার সম্পর্কে তোমার ধারনা পাল্টেছে।
গেলাম তবে , দেখি তোমার রুলেটের চাকার সাথে সাথে আমার ভাগ্যের চাকা ঘুরে কিনা!
এক মিনিট…
আমি কিছুটা শুনেছিলাম, সেই দুই জার্মান জেনারেল গৌলের সাক্ষর-কৃত চিঠি বহন করছিল।
ওহ্?
আমিও শুনেছিলাম। তাদের জন্য আসলেই খারাপ লাগছে
উগার্টে, তুমি ঠিকই বলেছিলে। আমি তোমাকে দেখে সত্যিই মুগ্ধ।
- হ্যালো, রিক ৷ - হ্যালো, ফেরারি ৷
ব্লু প্যারট-এ ব্যবসা কেমন চলছে?
- ভালোই , আমিতো তোমার ক্যাফেটিও কিনতে চাচ্ছিলাম। - এটা বিক্রির জন্য নয়।
- তুমি তো আমার টাকার প্রস্তাবই শোননি। - কোনো অর্থের বিনিময়েই বিক্রি হবে না।
- তাহলে স্যাম এর জন্য কত চাও? - আমি মানুষের বেচাকেনা করি না।
খুবই খারাপ। সে তো ক্যাসাব্ল্যাঙ্কার বিশেষ পণ্যের একটি।
এই শরণার্থীদের ভিড়ে আমরা কালো টাকার পাহাড় গড়তে পারতাম...
যদি তুমি আমার সাথে কালোবাজারিতে ব্যবসা করতে।
…তুমি তোমার চরকায় তেল দাও, আমি আমারটায়।
স্যামকে জিজ্ঞেস করে দেখো, সে হয়তো প্রস্তাবে রাজিও হতে পারে!
ধরো, জিজ্ঞেস করলাম।
কখন তুমি বুঝতে পারবে যে সবকিছু থেকে দূরে থাকলেই সমস্যার সমাধান হয় না…...
স্যাম, ফেরারি তোমাকে ব্লু প্যারট-এ কাজ করার জন্য প্রস্তাব দিচ্ছে।
ওহ, আমি এখানেই ভালো আছি।
সে আমার থেকে দ্বিগুণ বেতন দেবে। -যা কামাই করি, সেটাই খরচ করার সময় পাই না!
দুঃখিত।
এটা বসের খাস মাল…
- তোমাকে ভালবাসি বলেই , এটা দিলাম। - ওহ্ , চুপ করো।
তোমার কথায় সারা জীবন চুপ থাকবো, তোমায় যে হৃদয় দিয়েছি!
ওহ-হ!
জনাব রিক, জনাব রিক ৷
কিছু জার্মানি বিল চেকের মাধ্যমে দিচ্ছে, এতে কোনো সমস্যা হবে কি?
গতরাতে কোথায় ছিলে?
তাতো অনেক আগের কথা! মনে নেই কিছুই।
- তাহলে আজ রাতে কোথায় থাকবে? - এতো পরের কথা নিয়ে চিন্তাও করি না!
আমাকে আরেক গ্লাস দাও।
- শাসা, সে অনেক খেয়েছে। - তার কথা বাদ দাও। গ্লাস ভরে দাও।
তোমায় ভালবাসলেও , সে আমায় বেতন দেয়।
- রিক, তোমার উপর ঘৃণা জমে গেছে… - শাসা, একটা ট্যাক্সি ধরো।
- তোমার কোর্ট পরা উচিৎ। - সরে যাও আমার কাছ থেকে।
তুমি এখন সরাসরি বাড়ি যাবে। তুমি মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করেছ।
ওই, ট্যাক্সি।
নিজেকে কী মনে করো তুমি? দূরে ঠেলে দিচ্ছ আমায়?
তোমার মত মানুষকে পাগলের মত ভালবাসতাম।
শাসা, তুমি ওকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে এসো।
- ফিরে এসো কিন্তু। - ঠিক আছে, বস ৷
- হ্যালো, রিক ৷ - হ্যালো, লুইস ৷
তুমি কেমন মানুষ হ্যাঁ, একটা মেয়ের মনের কথা বোঝ না!
একদিন দেখবে তোমার কপালে আর মেয়েই জুটছে না।
মনে হয়,আমার ইয়ুভানকে কল করা উচিৎ।
বেচারি হয়তো কোনো দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলবে, নিজেকে কষ্ট দেওয়ার জন্য।
No comments yet. Be the first to leave one.