The first 200 lines.
t
tr
tra
tran
trans
transl
transla
translat
translate
translated
translated by
translated by Symon
translated by Symon A
translated by Symon Al
translated by Symon Ale
translated by Symon Alex
এই ডকুমেনটরি একটি যুদ্ধাঞ্চলের অবস্থা নিয়ে নির্মিত, মৃত্যুরত ব্যাক্তি এবং মৃত দেহের ভয়াবহ চিত্র রয়েছে. সতর্কতা অবলম্বন করুন.
আমাদের খুব গভীরে কিছু অচেনা সত্তা রয়েছে.
আমি আমার অচেনা সত্তার সন্ধান পেয়েছি...
...ইরাকের যুদ্ধে.
মনের গহীনে এই অচেনা সত্তাটির অস্তিত্ব, আমি কল্পনাও করতে পারিনি.
আমি এই অচেনা সত্তাটির সন্ধান পেয়েছি, পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট সন্ত্রাসীর বশে পড়ে.
যে কিনা আমাকে তার বার্তাবাহক হিসেবে বেছে নিয়েছিল.
ওনলি দ্য ডেড সি দি এন্ড অফ ওয়ার
সময়টা 2003, আমেরিকানরা এখন ইরাকে হামলা চালাবে,
স্বৈরশাসক সাদ্দাম হুসাইনকে উৎখাত করতে.
টাইম ম্যাগাজিনের সংবাদদাতা হিসেবে আমি ইরাকের উত্তরাঞ্চলে ছিলাম, যুদ্ধের প্রতিবেদন করতে.
ঠিক কী কারণে আমি এই জায়গাটায় এসেছিলাম, তা বলতে পারব না,
কিন্তু সাংবাদিক হয়ে গল্পের পেছনে ছুটে চলা, আমার জন্য নেশা ছিল.
- এইতো শুরু হল. - আমরা কোথায় যাব?
- বাঙ্কারের ভেতর? - হমম...
অস্ট্রেলিয়ার মফস্বল শহরে বেড়া ওঠা ছেলের জন্য...
...এটাই পৃথিবী দেখার সুযোগ.
30 বছরের ভরা যৌবনে মুর্খের মত ভাবতাম, যুদ্ধ আমার জন্য একটা দুঃসাহসিক অভিযান.
কাজটা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ছিল.
বাপরে!
খুব কাছাকাছি ছিল.
- পরেরবার নিরাপদ স্থানে যাবেন. - হ্যা.
সামনের দলের মাধ্যমে খবর পেয়েছি যে আরেকটা মোর্টার এদিকেই আসছে.
কোথায়?
সেদিনই আমার প্রথমবার ক্যামেরা হাতে নেওয়া.
ছোটখাট পুরনো হ্যান্ডিক্যাম, সবসময় আমার সঙ্গে থাকে.
শেষ পর্যন্ত, ক্যামেরায় আমি শত শত ঘণ্টার যুদ্ধের চিত্র ধারণ করেছি,
সেগুলোর মধ্যে আমি এই গল্পটা খুঁজে পেয়েছি.
দীর্ঘ সময় পর এখন সেটা দেখানোর জন্য প্রস্তত.
অন্ধকার নামলে সামনে এগোতে চাও? টম?
গেলে খুব ভাল জিনিস কিছু পাওয়া যাবে, কিন্তু আমার যাওয়ার বেশি শখ নেই.
মিককে জিজ্ঞেস করো, সে যাবে কিনা.
আমি একজন বিশ্বস্ত মানুষের সাথে অবশ্যই যাব,
আর এই লোকটাকে আমি খুব বিশ্বাস করি.
অদ্ভুত কাণ্ডটা হলো, আমরা এখানে বসে ঠিক তাদের মতোই ঝুঁকি নিচ্ছি.
আমাদেরকে পার্থক্য করার মতো কিছু নেই.
কেউ সাংবাদিক, কেউ নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ.
এই মোর্টারগুলোর কাছে সবাই এক সমান.
আমরা খুব কাছে.
সাদ্দাম হুসাইন এবং তার পুত্রদের...
...48 ঘণ্টার মধ্যে ইরাক ছাড়তে হবে.
অন্যথায় সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হবে.
তাদের নিজেদের নিরাপত্তা, এবং বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা,
সেই সাথে সকল সাংবাদিক ও সহযোগীদের নিরাপত্তার খাতিরে তাদের ইরাক ত্যাগ করতে হবে.
এই মুহূর্তে আমরা আছি একটি ভেড়ার গাড়িতে,
এখন চমচমাল নামক সীমান্ত নগরীর উপর দিয়ে...
...আরো দুই ঘণ্টা সামনে যাচ্ছি, ইরাকি ফ্রন্ট লাইনে.
আমাদের ধারণা, আর 3-4 দিনের মধ্যেই যুদ্ধ শুরু হবে.
আমরা চেষ্টা করছি অন্যদের আগে পৌঁছাতে.
প্রিয় দেশবাসী...
এই মুহূর্তে, আমেরিকা এবং তার মিত্র বাহিনীরা সামরিক অভিযান আরম্ভ করেছে,
ইরাককে নিরস্ত্র করে তার জনগণ এবং পৃথিবীকে এক বীভৎস দুশমন থেকে রক্ষা করা হবে.
আমরা ইরাকি সেনাদের এখানে রাত কাটিয়েছি.
খবর পেলাম বুশ নাকি ভাষণ দিয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে.
ইরাকিরা সাদ্দামের ধর্মনিরপেক্ষ শাসনের পক্ষে না থাকলেও...
তারা সাদ্দামের আমেরিকা-বিরোধী আন্দোলনে সমর্থন দেয়.
আমি আমেরিকা ভালোবাসি.
হঠাত করে, আমাদের পেছনে প্রচণ্ড রকমের বিস্ফোরণ ঘটল,
অথচ এই জায়গাটা নিরাপদ থাকার কথা.
জানি না ঠিক কখন থেকে আমি ভুল পথে গিয়েছি,
কিন্তু শুরুটা বোধহয় এই নিশ্চল গ্রাম্য রাস্তা থেকেই হয়েছে.
গাড়ি বোমা, নাকি আত্মঘাতী বোমায় একজন সাংবাদিক নিহত হয়েছে.
এখানে বেশিক্ষণ থাকাটা উচিত হবে না.
আমি ঘোরাঘুরি করে ঘাসের মাঠের ওদিকে গেলাম,
সেখানে আগুন আর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখেছি.
ওটা দেখার পর আমার ভেতরটা বদলে গেছে.
এরকম বর্বরতা, নিষ্ঠুর হিংস্রতা.
সেই স্মৃতিটা আমার মাথায় গেড়ে যাচ্ছিল,
যখন মৃত দেহটা আমি তার ঠিকানায় পৌঁছে দিচ্ছিলাম.
তারপর আমি দক্ষিণে গেলাম, ইরাকের রাজধানীতে.
আমেরিকাবাসী,
ইরাকে আমাদের সামরিক অভিযান সমাপ্তি হয়েছে.
এই যুদ্ধে...
...যুক্তরাষ্ট্র এবং আমাদের মিত্র বাহিনী জয়লাভ করেছে.
প্রথমবার যখন বাগদাদে গিয়েছিলাম, পরিস্থিতি তখনও অত খারাপ ছিল না.
পুরো শহর আমেরিকার দখলে,
সবার মধ্যে আশা ছিল, সবকিছু এখন ঠিক হয়ে যাবে,
আর ইরাকের মানুষ তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবে.
আমার ভয় ভয় লাগছিল, তখনও আমি জুনিয়র সাংবাদিক.
আরো অনেক সাংবাদিক আছে, যারা বেশি সময় ধরে ওখানে ছিল.
ধরে নিয়েছিলাম যে আমি দেরি করে ফেলেছি, সবকিছু আমার আগেই শুরু হয়ে গেছে.
যুদ্ধক্ষেত্রে থাকার চাইতে, নিজের মূর্খামি প্রকাশের ভয়টা বেশি ছিল.
কিন্তু টাইম ম্যাগাজিনের কার্যালয়ে থাকতে পারা আমার জন্য সৌভাগ্যকর ছিল,
অন্যান্য লেখক আর ফটোগ্রাফারদের সাথে, যেমন মহান ইউরি কজিরেভ,
আমার রাশিয়ার বন্ধু.
হ্যালো.
আমাদের ইরাকি স্টাফ, যারা অনেকটা পরিবারের মত ছিল.
আমাদের দলনেতা আলী, রুষ্ট স্বভাবের জিনিয়াস.
আর ওমর, আমাদের ন্যায়নিষ্ঠ অফিস ম্যানেজার.
- এই মিক. - আর ন্যাথান, আমার অনুবাদক.
CIA আমাকে বলেছে তোমার ছবি নিতে.
আমাদের সবার কাজ ছিল, প্রেস কনফারেন্স আর বিস্ফোরণের আড়ালে সত্যটা খুঁজে বের করার.
তারা যেন আমার চোখ-কান.
আর আমরা ভাইরা মিলে এই উন্মাদনার গভীরে ঢুকতে যাচ্ছিলাম.
আমি আমার অছিয়তনামা লেখার সময় পাইনি.
তুমি সবসময়ই আমাকে এইসবে জড়াও.
আমাদের বুঝতে দেরি হয়নি যে কোথাও কোনো বিরাট গোলমাল ছিল,
সফল ইরাকের মুখোশটা খসে পড়ছিল.
জনপথে মানুষের ক্ষোভ বেড়েই চলছে.
সবার মধ্যে বেপরোয়া ভাব.
একটি রিমোট-কন্ট্রোল্ড বোমা মার্কিন সেনাদের উদ্দেশ্য করে বিস্ফোরিত হয়েছে.
এই গাড়িতে একটা কিশোর ছেলের মৃত্যু হয়েছে,
চেকপয়েন্টে একজন উত্তেজিত আমেরিকান সেনা তাকে গুলি করেছে.
মৃত্যুর সময় তার ভাই একই গাড়িতে ছিল.
আমেরিকাকে জানিয়ে দাও, আমার ভাইয়ের মৃত্যু বৃথা যাবে না.
আমি বড় প্রতিশোধ নিব.
তারা আমার ভাইয়ের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে!
তার এই বিশ্বাসঘাতকতা আমিও অনুভব করছিলাম.
শুধু তার একার বিশ্বাসই ভাঙেনি, ইরাকি জনগণের ক্ষোভের আড়ালে...
একটি সশস্ত্র বিদ্রোহী দল আমেরিকানদের বিরুদ্ধে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছিল.
প্রথমে ছোটখাট ছিল,
লুকিয়ে লুকিয়ে হামলা, রাস্তার পাশে বোমা বিস্ফোরণ.
কিন্তু তারপর একটা বিকট আওয়াজ আমাদের মহল্লা কাঁপিয়ে দিল,
এরকম কিছু আগে ঘটেনি.
কোনো ধারণাই ছিল না, আমি কীসের দিকে এগোচ্ছিলাম,
তারপর এটা চোখে পড়ল.
- গাড়ি বোমা ছিল নাকি? - হ্যা, সেটাই. জর্ডানের দূতাবাসে.
ছবি তুলবেন না! ছবি তুলবেন না!
- মাইকেল ওয়্যার বলছি. - মাইকেল, খবর পেয়েছি বড় কিছু ঘটেছে.
হ্যা, স্টিভ.
বাগদাদে জর্ডানের দূতাবাসে একটি আত্নঘাতি বোমা হামলা হয়েছে.
সম্ভবত দুটি গাড়ি ছিল,
জর্ডানের দূতাবাসের সামনের দিকটা একেবারেই ধ্বংস হয়ে গেছে.
অনেক মানুষ হতাহত এবং নিহতের খবর পাচ্ছি.
চারপাশের দৃশ্যপট একদম বিশৃঙ্খল.
ছবি তুলছেন কেন? মৃত মানুষদের ছবি তুলবেন?
আরেকটা লাশ তুলছে.
সবাই একটু বিচলিত হয়ে আছে.
এটা ছিল বাগদাদের প্রথম আত্নঘাতি বোমা হামলা.
এই হিংস্রতা কেউ আগে কখনো দেখেনি.
কেউ জানতো না কাজটা কে করেছে, কিন্তু এটা ছিল কেবল শুরু.
বাগদাদের জাতিসংঘ হেডকোয়ার্টারে হামলায় আজ 20 জন নিহত এবং 100 জন আহত হয়েছে.
কেউ এখনো পর্যন্ত ঘটনার দায় স্বীকার করেনি.
সম্ভবত এখান থেকেই আমি বশে পড়েছিলাম.
এই ঘটনাগুলো খুব অচেনা আর অশুভ ছিল.
কেউ কীভাবে এই কাজগুলো করতে পারে, আমি উত্তরের সন্ধানে মরিয়া হয়ে ছিলাম,
কোন ঘৃণ্য মন্ত্র তাদের অন্তর গ্রাস করে নিয়েছে.
তারা আমাদের কালো ছায়াতেই ওত পেতে ছিল,
ভাইরাসের মত আতঙ্ক সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছিল.
এক শহর থেকে অন্য শহরে, এক প্লাটূন থেকে অন্য প্লাটূনে.
বোমায় আচ্ছাদিত এক গ্রামীণ সড়কে...
ভঙ্গুর একটা গাড়ি নিয়ে এক বালক এসেছে, বলছে তার তেল ফুরিয়ে গেছে.
গাড়ির তেল শেষ.
এইযে, এইযে.
- মোবিল নেই. - তেল শেষ?
- একটা তার. - তার দেখা যাচ্ছে.
- তার দেখেছ? - নীল রঙের তার.
পাথরটার ওদিকে! সরো!
শুয়ে পড়ো! মাটিতে!
জানার কোনো উপায় নেই, বোমাটা কি সে পুঁতেছে, নাকি সত্যিই তার গাড়ির তেল শেষ.
এরকম যুদ্ধে, সবকিছুই সন্দেহজনক,
নির্দোষ ব্যাক্তিও কোনো একভাবে অপরাধী.
এই, মাথা নিচে রাখো!
- না, না, মিস্টার. - চুপ.
না, না. এটা ভুল.
বাগদাদে একটি গাড়ি বোমায়, দশ জন নিহত এবং অনেক হতাহত হয়েছে.
তাদের লক্ষ্য ছিল থানায় হামলা করা.
আমেরিকানদের হাত ফসকে যাচ্ছিল,
তারা এক অদৃশ্য শত্রুর সাথে লড়াই করছে.
চুপচাপ এসব দেখতে আমার কষ্ট হচ্ছিল.
মনে হচ্ছিল আমার কিছু দায়িত্ব আছে,
এই মানুষগুলোর পরিচয়, কেন তারা এই যুদ্ধ করতে চাচ্ছে.
আমি তখন আমাকে এই বুঝটাই দিয়েছিলাম,
যখন বিদ্রোহীদের সাথে আলাপে বসে... আমি এক অচেনা জগতে পা দিচ্ছিলাম.
মাসের পর মাস লেগেছে, কারো চাচাতো ভাই, কারো পুরনো বন্ধু,
অথবা বন্ধুর চেনাজানা এমন কেউ থাকবে, যে কিনা এসবে অংশ নিত.
আমি অতিষ্ঠ হয়ে উঠছিলাম, কিন্তু এক সময়ে চেষ্টা সফল হয়েছে.
তাদের বিশ্বাস অর্জন করতে করতে, গেরিলারা আমাকে তাদের দলে ভিড়তে দিচ্ছিল.
এই আনাড়ি ফুটেজটা প্রমাণ করে, আমি যে যোগাযোগ করতে পেরেছি.
সম্ভবত বিদ্রোহীদের হাতে তৈরি এটাই যুদ্ধের প্রথম ভিডিও.
রকেট মারার দল থাকবে প্রথম পাহাড়ের আড়ালে.
মোর্টার দল থাকবে দ্বিতীয় পাহাড়ে.
- সবাই বুঝতে পেরেছ? - ইনশাআল্লাহ.
তিন পর্যন্ত গুনলেই, বোমা বিস্ফোরণ হবে.
এইতো শুরু হল.
এক... দুই... তিন....
চাপো. চাপ দাও.
আল্লাহ্!
- ফুয়াদ? - হমম?
- সাউন্ড রেকর্ড হবে তো? - ইনশাআল্লাহ.
প্রতিটা ইরাকি মুজাহিদদের উদ্দেশ্যে বলছি, তোমরা তোমাদের দেশ এবং সম্ভ্রমকে রক্ষা করো.
আমরা চাই না কোনো সামরিক বাহিনী... হোক সে আরব বা অনারব,
...ইরাকে তাদের নাক গলাক.
আল্লাহ্র উপর তাওয়াককুল রাখো, মুজাহিদীন.
No comments yet. Be the first to leave one.