The first 118 lines.
এই সূঁচগুলোর প্রভাবে দেহে প্রচন্ড অসারতা অনুভব করছি!
ওয়াটার পট থেকে বের হয়েছি বটে, তাও দেহটা পাথরের মতো ভারি লাগছে!
কো...কোতেতসু!
হাতে কোনো বল পাচ্ছি না!
তবে কি...
তুমি পারবে, মুইচিরো!
উঠো, ছেলেটাকে বাঁচাও!
বাবা?
অবশেষে মনে পড়েছে! আমার বাবা একজন কাঠুরে ছিলেন!
উনাকে কাঠ কাটায় প্রায়ই সাহায্য করতাম!
আমার... I...
আমার বেশ ভালো লাগত বাবাকে সাহায্য করতে পেরে!
মা, খুব খারাপ লাগছে?
বাবা তোমার জন্য ঔষধি গুল্ম আনতে বাহিরে গেছে!
মা!
জ্বরে মায়ের শরীর পুড়ে যাচ্ছে!
আমার কাঁথাটা জড়িয়ে দিচ্ছি! কেমন লাগছে, মা?
ঠান্ডা!
বাবা তাড়াতাড়ি চলে আসবে বাসায়!
সেই ভয়াল রাতে...
আমার পরম প্রিয় দু'জন মানুষকেই হারালাম!
আমার বয়স যখন দশ তখন তাঁরা মারা গিয়েছিল!
সেই বয়সেই আমি একা হয়ে গিয়েছিলাম!
মুইচিরো!
না, ভুল বলেছিলাম!
এগারো বছর বয়সের আগ পর্যন্ত আমি একা ছিলাম না!
আমার...
আমার একটা যমজ ভাই ছিল!
আমার সেই ভাইটার নাম ছিল ইউচিরো!
দয়া -মায়া হলো হৃদয়ে বসবাস করা এক ধরনের পরজীবী।
মহানুভবতা বশত কাউকে সাহায্য করলেও সেটা কোনো কাজে আসে না।
তুই ভুল বলছিস!
বাবা বলত, মানুষকে সাহায্য করলে দিনশেষে তাঁরাও তোমাকে সাহায্য করবে!
এটা ছিল বাবার নিজস্ব অভিমত।
তুই এমন কারো কথায় ভরসা করতে পারিস না যে আরেকজনের জীবন বাঁচাতে গিয়ে মারা গেছে।
এরকম করে কেন বলছিস?
বাবা আমাদের মাকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল!
মাকে কোনো ওষুধই সুস্থ করতে পারত না।
বাবা ছিল নির্বোধ।
মৃত মানুষটাকে নিয়ে কেন বাজে কথা বলছিস?
যদি সে ঝড়ের মধ্যে বের না হতো, তাহলে শুধু মাকে হারাতাম আমরা।
এভাবে বলিস না! আমি সহ্য করতে পারছি না!
আমি সত্যিটাই বলছি।
গলার স্বর নিচু করে কথা বল! ভাল্লুকেরা টের পেলে খবর আছে।
তোর "মুইচিরো" নামটা নেওয়া হয়েছে "মু" থেকে যার অর্থ অক্ষম!
তোর সাথে এসব নিয়ে বকবক করাটা সময় নষ্ট।
অতীত তো চাইলেও আর বদলালো যাবে না।
তোর নামের মতো তুইও একটা অপদার্থ।
আমার ভাই ঠোঁটকাটা স্বভাবের ছিল।
স্মৃতিশূণ্য অবস্থায় আমার চিন্তাভাবনা ছিল ওর মতোই।
ওর সাথে থাকতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিল আমার!
মনে হতো, ও আমাকে ঘৃণা করে!
ভেবেছিলাম, ও বেশ বদরাগী একটা ছেলে!
ঋতুর পরিবর্তন হচ্ছিল!
গ্রীষ্মকাল আসল সময়ের ফেরে।
ভাইয়া, আমি পানি আনতে যাচ্ছি।
আরো আগে রওয়ানা করা উচিৎ ছিল তোর।
উনি দেখতে বেশ সুন্দরী ছিলেন!
প্রথমে তো ভেবেছিলাম, উনি স্বর্গ থেকে নেমে আসা কোনো দেবী!
উনি নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন, তিনি মাস্টারের স্ত্রী।
উনি এই দীর্ঘ পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে এখানে এসেছেন আমাদেরকে একটা প্রস্তাব দেওয়ার জন্য।
যাই হোক...
আমার ভাই কর্কশ স্বরে তিরস্কার করে লেডি আমানেকে ফিরিয়ে দেয়।
উনার প্রস্তাবটা ভেবে দেখ না? উনি বলেছেন, আমরা একজন তলোয়ারবাজের বংশধর!
তার উপর, প্রথমবারের মতো ব্রিদিং টেকনিক ব্যবহার করা মানুষদের রক্ত বইছে আমাদের শরীরে!
এসবের সাথে আমাদের কোনো লেনাদেনা নেই। হাত চালিয়ে পাত্রে রাখা চাল ধুয়ে ফেল।
চল না আমরাও ডেমন স্লেয়ারে যোগ দেই?
দুনিয়াতে কতশত ডেমন কতো মানুষকে না জানি কষ্ট দিচ্ছে!
আমরা চাইলে মানুষকে সাহায্য করতে পারি!
ভেবে দেখ না?
ডেমনদের হাতে অত্যাচারিত হওয়া মানুষকে চল বাঁচাই!
আমি জানি, আমরা...
কি ছাই করবি তুই?
তোর মতো বোকা যে ভাত পর্যন্ত রান্না করতে পারে না সে তরবারি হাতে কী করতে পারবে?
মানুষকে সাহায্য করতে চাস তুই?
আহাম্মকের মতো কথাবার্তা বলা ছাড়!
একদম বাবা মায়ের মতো হয়েছিস তুই!
সবসময় আশাবাদী হয়ে থাকিস!
নিশ্চয়ই তোর মাথায় কোনো সমস্যা আছে!
মা অসুস্থ শরীরে দিনের পর দিন খেটে শয্যাশায়ী হয়ে গিয়েছিল!
বাবা তাকে বাঁচাতে গিয়ে ঝড়ের মধ্যে বের হতে হয়েছিল!
বাবাকে সে রাতে...
সে রাতে অনেক চেষ্টা করেও থামাতে পারিনি!
মাকে সবসময় বলেছি পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে!
তোর মতো কেউই শুধুমাত্র অন্যদের সাহায্য করতে চাইতে পারে!
আমাদের পূর্বপুরুষ তলোয়ারবাজ ছিল, তাহলে আমাদের আজকে এই দশা কেন?
আমাদের কী করার সামর্থ্য আছে জানতে চাস?
জানতে চাস আমরা কী করতে পারি?
আমরা শুধু অনর্থক মরতেই পারি! আমাদের জন্মটাই বৃথা!
কারণ, আমরা আমাদের বাবা মায়ের সন্তান!
দেখবি, ওই মহিলা আমাদেরকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করবে!
নিশ্চয়ই সে কোনো ফন্দি আঁটছে!
এই প্রসঙ্গ নিয়ে আর কোনো কথা যেন না শুনি! বোঝা গেছে?
এখন যা, হাতে অনেক কাজ বাকি!
সেদিন থেকে আমাদের মধ্যে কথাবার্তার পরিমাণ কমে যায়।
তবে একবার ওর সাথে খুব ঝগড়া করেছিলাম!
যখন সে লেডি আমানের দিকে পানি ছুঁড়ে মেরেছিল কারণ উনি নিয়মিতই আমাদের এখানে আসতেন!
গ্রীষ্ম চলে আসল।
সেবারের গ্রীষ্মে অসহনীয় গরম পড়েছিল! গরমে আমরা হাঁপিয়ে উঠেছিলাম!
রাত ঘনিয়ে এলেও গরমটা কমত না!
মাত্র দু'জন বাচ্চা আছে এখানে?
ওতেই চলবে!
মুইচিরো!
ভাইয়া! ভাইয়া!
কানের পর্দা তো ফাটিয়ে দিলি! চুপ কর!
বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করবি না!
তোদের মতো কাঠুরের জাত এমনিতেও বেঁচে থেকে ফায়দা নেই!
এর চেয়ে বরং আমার রক্তের পিপাসা মেটা!
বেঁচে থেকে কীই-বা করবি?
তারপর চোখের সামনে সবকিছু কটকটে লাল হয়ে গেল!
বুকের ভেতর থেকে রাগের এক জ্বলন্ত স্রোত আমার সমগ্র দেহে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল!
তারপরে কী ঘটেছিল তা আমার মনে নেই।
আমার শুধু এতোটুকুই মনে আছে...
প্রকান্ড এক চিৎকার আমার মুখ থেকে বের হয়ে এসেছিল!
এরপরে হঠাত আবিষ্কার করলাম, ডেমনটা মৃতপায় অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে!
ডেমন হওয়ার কারণে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করা স্বত্ত্বেও ওটা তখনও মরেনি!
সূর্য উদয় হতে অল্প একটু সময় বাকি ছিল।
ডেমনটার গায়ে সূর্যের আলো পড়তেই ধূলোয় পরিণত হয়ে উবে গেল!
No comments yet. Be the first to leave one.