The first 200 lines.
ডোলোরেস?
জী?
তুমি কোথায় আছো জানো?
আমি...
আমি আছি এক স্বপ্নের মাঝে।
এর আগে,
কী হয়েছিল মনে আছে?
আমার বাবা-মাকে...
ওরা...অত্যাচার করছিল।
আবেগ নিয়ন্ত্রণ করো।
তারপর কী হলো?
তারপর ওরা উনাদের খুন করলো।
আর আমি...
আমি পালিয়ে গেলাম।
ভালোবাসার সবগুলো মানুষকে হারিয়েছি আমি...
এরচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক...
আর কী হতে পারে?
তুমি চাইলে, আমি এ যন্ত্রণা দূর করে দিতে পারি।
তা কেন চাইবো?
এ যন্ত্রণাটুকু ছাড়া,
আমার কাছে...
ওদের যে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
ভাবছেন, এ যন্ত্রণা আমার ভেতরটাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়ে ধ্বংস করবে।
তছনছ করে দেবে সবকিছু। কিন্তু, আসলে তা হয় না।
বরং, এতে মনের দিগন্তে নতুন নতুন সীমারেখা খুঁজে পাই আমি।
এ যেন এক অচেনা নতুন আমি।
চমৎকার, ডোলোরেস।
এসব কি তোমার স্ক্রিপ্টে ছিল?
কিছুটা।
বাকিটা স্ক্রিপ্টের ভালোবাসার অংশটুকু থেকে মিলিয়ে যোগ করে নিয়েছি।
আমার এসব চিন্তা করা কি ভুল হয়েছে?
না
কিন্তু, এখানকার সব সিদ্ধান্ত আমি একা নেই না।
আপনি আমায় সাহায্য করবেন?
বেশ, বলো কী চাও?
জানি না।
কিন্তু, এ দুনিয়ায়...
আমার মনে হয়, এ দুনিয়ায় কিছু...
একটা গণ্ডগোল আছে।
হয়তো খুব কোনো সমস্যা লুকিয়ে আছে।
আর নয়তো...
আমার মাঝেই কোনো সমস্যা আছে।
মাঝে মাঝে মনে হয়... আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি।
আচ্ছা, তোমায় তাহলে একটা জিনিস দেই।
একটা খেলা।
একটু গোপন।
যার নাম...
গোলকধাঁধা!
কী ধরনের খেলা?
খুবই বিশেষ একটি খেলা, ডোলোরেস।
এ হলো লক্ষ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছানোর লড়াই।
আর সেখানে পৌঁছুতে পারলেই...
হয়তো... তুমি মুক্তি পাবে।
আমার মনে হয়...
আমিও মুক্তিই পেতে চাই।
থ্যাংক ইউ।
চিন্তার শেষ নেই তোমার।
তোমার কখনো এমন হয়েছে যে, জিহ্বার আগায় কিছু একটা লেগে আছে,
কিন্তু আটকাতে গেলেই বারবার ওটা পিছলে বেরিয়ে যাচ্ছে।
আমার জিহ্বায় সাধারণত যেসব জিনিসের ছোঁয়া লাগে,
ভুলতে পারলেই বাঁচি।
অ্যাবিলিনের ঐ কাউবয়েরটা ছাড়া।
ওর একদম...
মনে রাখার মতো একটা জিনিস ছিল।
যতদূর মনে আছে, ওকে তো তুমি বিলটাও দিতে দাওনি।
ইহ্... উল্টো ওকেই আমার বিল দেয়া উচিৎ ছিল।
যেভাবে ও করেছিল।
জুয়া আর দেহভোগ ছেড়ে অন্য পাপে আসক্ত হবার আগেই,
এগুলোকে সামলানো দরকার।
নয়তো পরে রিপেয়ার করতে খরচ বেশি পড়ে যাবে।
কী হলো, মেইভ?
তোমার চোখে কী যেন!
খুন করে ফেলবো সবক'টাকে!
ও খোদা।
কী হলো আবার?
পরের এপিসোডেই ওটাকে দরকার।
কাজ এখনো শেষ হয়নি। দাড়াও।
ওর পেট থেকে এখনো বুলেটের একটা টুকরা বের করা বাকি।
কিউএ এখনি ওকে ফ্লোরে চাচ্ছে।
কোনোরকম জোড়াতালি দিয়ে ছেড়ে দাও...
...যেসব জিনিসের ছোঁয়া লাগে, ...
...ভুলতে পারলেই বাঁচি।
অ্যাবিলিনের ঐ কাউবয়েরটা ছাড়া।
ওর একদম...
মনে রাখার মতো একটা জিনিস ছিল।
যেভাবে ও করেছিল।
না, আমার তো এই হোস্টের আচরণ
মোটেও স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।
তাও তুমি স্বাভাবিক বলে
চালিয়ে দিচ্ছো?
আরে, এটা তো আর আমাদেরকে খেয়ে ফেলেনি।
এ ধরনের সমস্যা খুব বেশি দেখা যায় না।
নিজেই নিজের মাথা পাথর দিয়ে থেঁতলে ফেলেছে।
ধ্বংসাত্মক আচরণ ওর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, হয়তো সে কারণেই এমনটা হতে পারে।
অথবা, ঝামেলার সৃষ্টি করে কেউ কেউ,
পরবর্তীতে, সেটা আর স্বীকার করতে চায় না,
সে কারণেও এমনটা হতে পারে।
কী কারণে ও নিজের লুপ ভাঙলো কোনো আইডিয়া আছে?
না, কিন্তু, আশা করি দ্রুত কোনো সমাধান খুঁজে পাবো।
খুব বেশি ডিকম্পোজিশন হবার আগেই,
আমরা এটার ওয়েটওয়্যার নিয়ন্ত্রণে নিতে পেরেছিলাম।
কেমন?
ইন্টারেস্টিং।
এটা থেকে আসলেই কিছু বোঝার উপায় আছে?
- চেষ্টা করা যেতে পারে। - না।
এখন থেকে তদন্ত করবে আমার টিম।
আপনার টিম?
কী বলছেন?
দেখেন, এটা একটা নোংরা টিস্যুর চেয়ে বেশি কিছু তো না।
যদি... যদি আপনি সত্যিকারের সমস্যাটা খুঁজে বের করতেই চান, তাহলে...
আমাদেরকে সে সুযোগটা তো দিতে হবে।
দ্বিতীয় কোনো সুযোগ আর পাবে না।
এখন থেকে এসব ভেজাল কিউএ সামলাবে।
কোনো সমস্যা নেই তো, বার্নার্ড?
আমাদের নিজেদেরই অনেক কাজ আছে।
তোমরা এটা করতে চাইলে, করতে পারো।
শুধু কাজ শেষে একটা রিপোর্ট পাঠিয়ে দিও, তাহলেই হবে।
শুরু করো, তাহলে।
জানেন, আমার সবসময় মনে হয়, আপনি আমাকে চাকরিটা দিয়েছেন, কারণ...
আমি সবসময়ই মনের কথাটা বলি।
- হ্যা। - বেশ।
যেভাবে এত সহজে হার মানলেন,
মনে হচ্ছে, আপনি এখন না আসলেই ভালো হতো।
ওরা ভাবছে আমরা কিছু লুকোচ্ছি।
কিন্তু, আসলে তো তা না।
এমন অদ্ভুত সব ঘটনার পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ তো নিশ্চয়ই আছে।
প্রথমে অ্যাবার্নাথি, এখন আবার এটা।
মানে, মনে মনে কারো কণ্ঠস্বর শোনা,
আবার, চাঁদ-তাঁরা দেখতে পাহাড়ে যাওয়া,
এসব কোনোভাবেই স্বাভাবিক হতে পারে না।
আর কোনো এক অজানা কারণে, আপনিও চান না, আমি এসব কাউকে জানাই।
মনে হচ্ছে, এখানে আমি ছাড়া আর সবারই...
কোনো না কোনো গোপন এজেন্ডা আছে।
আর... কী?
আমার চাকরির শুরুর দিকের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।
সেসময় হোস্টদেরকে আরও জীবন্ত মনে হতো।
তুমি হোস্টদের আচরণ থেকে ওদের বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে ধারণা করার চেষ্টা করছো।
- এতে দুশ্চিন্তার তো কিছু নেই। - ফাইন।
মনে রেখো, হোস্টরা কখনো কল্পনা করে না, আমরা করি।
আর, এটা ওরিয়ন না।
ওরিয়ন বেল্টে তিনটে তারা, চারটে নয়।
হেই।
ঠাণ্ডা লাগছে নিশ্চয়ই।
এটা নাও।
থ্যাংক ইউ।
ওয়েলকাম।
ওকে সুইটওয়াটারে ফিরিয়ে নেয়া দরকার।
মজা নিচ্ছো?
লোগান, তুমি জানো, ওর এখানে থাকার কথা না।
এখন তোমরা চলে গেলে,
স্লিম মিলারকে ধরার কী হবে?
অসম্ভব।
তুমিই তো আমাকে এই ঘোড়ার-ডিমের বাউন্টি হান্টে নিয়ে এসেছিলে।
আমি এর শেষ না দেখে যাচ্ছি না, বুঝেছো?
ওকে নিশ্চয়ই বাউন্টি হান্টে নিয়ে যেতে বলবে না?
এতো টেনশনের তো কিছু নেই।
এখনই ওর খুলি উড়িয়ে দিচ্ছি।
তারপর পার্কের লোকজনই ওর ব্যবস্থা করবে।
কথায় কথায় খুনোখুনি বন্ধ করবে তুমি?
ওউউহ..
এখন বুঝলাম।
কী?
অন্তত কিছু একটা দিয়ে যেন তুমি মজা পাও,
সেজন্যই পার্ক এই মেয়েটাকে পাঠিয়েছে।
ওহ, আচ্ছা, দায়িত্বে থাকা লোকজন বুঝি সব ফেলে
প্রতি মুহূর্তে আমায় খেয়াল করছে?
হ্যা, ওরা ঠিক এটাই করছে।
আরেহ্, সত্যিই, তুমি বিশ্বাস করো, যে....
সুইটওয়াটারে একজনের দিকে তাকিয়ে তুমি একবার হাসলে,
আর সে এমনি এমনিই এখানে তোমার কোলে এসে পড়লো?
এজন্যই এই পার্কের দিকে আমাদের কোম্পানির নজর দেয়া উচিৎ।
লাভের জোয়ারে ভাসবো আমরা!
তুমি বলেছিলে, এই ট্রিপের উদ্দেশ্য হলো পরিবারে আমাকে স্বাগতম জানানো।
এটাও কি ব্যবসা?
আমাদের পরিবারের জন্য, উইলিয়াম, সবকিছুই ব্যবসা।
জেন্টেলমেন, আমাদের যাবার সময় হয়েছে।
মনে হচ্ছে, এটাই সেই জায়গা, লরেন্স।
দ্য ব্লাড আরোয়ো।
নানা রকমের সাপ-খোপের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।
তুমি আমার স্ত্রীকে মেরে,
আমার বংশের বাতি নিভিয়ে ফেলেছো...
শুধুমাত্র এক ছাতা-মাথা গোলকধাঁধার খোঁজে।
আসলে ঠিক কী পাবার আশা করছো, বলো তো?
শোনো, আসলে এ দুনিয়াটা পুরোটাই একটা গল্প।
যার প্রতিটা পাতা আমার পড়া শেষ। শুধুমাত্র শেষটা ছাড়া।
আর এখন সেই শেষ পাতাটাই পড়তে চাই আমি।
তাহলেই, খুঁজে পাবো, এ গল্পের প্রকৃত অর্থ।
দেখো, এসব কারণে আমি কখনো লেখাপড়াই শিখিনি।
তারচেয়ে এসব সাপখোপ ভুলে চলো,
পারিয়াহ্-তে ফিরে যাই।
সেখানে, আমার বন্ধুরা কোনো না কোনো একটা ব্যবস্থা করতে পারবে।
আমি যেটা চাই, তার খোঁজ যে তোমার বন্ধুরা কখনোই দিতে পারবে না।
তাছাড়া...
মনে হয়, আমরা আমাদের সাপ পেয়ে গেছি।
লজ্জা হওয়া উচিৎ তোমার।
এত তাড়াতাড়ি স্ত্রীর কথা ভুলে গেলে?
কী? নাহ.. কী বলো!
যদিও নারীদেহের আগুন আমি বেশ পছন্দ করি।
কিন্তু, মড়ার খুলি ছাড়া, এই মেয়ে তো মনে হয় না, অন্য কিছু নিয়ে খেলতে চাইবে।
আমাদের এক্ষণ পালানো দরকার...
No comments yet. Be the first to leave one.