The first 200 lines.
Translated By Fahim Hammad
Facebook ID-Senior.FM1
সমুদ্রের অশ্ব
একটি সত্য কাহিনী অবলম্বনে...
কি ওটা?
একটা দানবের বিখ্যাত ছবি।
কিন্তু ভূয়া।
কিভাবে বুঝলে ওটা ভুয়া? আমার কাছে তো আসল ই মনে হচ্ছে।
এটা ভুয়া ই!
এটা সত্যি ই ভূয়া, সবাই জানে।
শোনো ছেলে!এই ছবির পিছনে একটি বাস্তব কাহিনী আছে।
- তাই নাকি? - তোমরা কি সত্যিই জানতে চাও...
জ্বী অবশ্যই।
-আসো না,শুনি।ভালো লাগবে। - ঠিক আছে,মেরি মা।
তাহলে আমাদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে যেতে হবে।
জামার্ন নাৎসি বাহিনী পুরো ইউরোপ দখল করে ফেলেছিল...
...এখন আমরা যেখানে আছি এখান থেকে মাত্র ১০০ কি.মি দূরের একটি জায়গার কথা।
ঘটনা টা শুরুর আগে তোমাদের একটি বালকের সাথে পরিচয় করাই...
...তার নাম ছিল এঙ্গোস ম্যাকমোরো।
পানির প্রতি তার খুব আকর্ষণ ছিল...
...আবার পানিকে মারাত্মক ভয় ও পেত।
এঙ্গোস,জানো কি?
এই যে জলাশয় দেখছ,এটা খুব আজীব ও আশ্চর্যজনক জায়গা।
এই সুন্দর জিনিসগুলাকে দেখ?
এটা হল জাদু আর সৌভাগ্যের বাক্সো...
- সত্যি! - হ্যাঁ,এঙ্গোস।
-আমি সত্যি বলছি। -আমি কি এটা নিতে পারি,আব্বু ?
হ্যাঁ, নাও।তবে তোমার আম্মুকে বল না কিন্তু।
তার মতে অচেনা জিনিসে হাত লাগাতে নেই।
এঙ্গোস।
এঙ্গোস।
আমাকে কি বলবে,তুমি এখানে কি করছ?
-সরি আম্মু, আসছি। -আবার যেন বলা না লাগে।
আমি তো মনে করেছিলাম,তোমার বুঝি আবার ও পানিতে ডুবে মরার শখ হয়েছে!
কিন্তু তুমি ত দেখছি ভিজ ও নি।
এটা দিন।
- শুকরিয়া। - চেরিও।
এখন যাই,আরচি।
মিস,ম্যাকমোরো,আজ বোধহয় বৃষ্টি হবে।
আমার ও তাই মনে হচ্ছে মি. ম্যাককওয়েন।
আঁহ, আমাকে কেন মনে করিয়ে দিলে না ক্লাইড কে বলতে যে, পশুগুলোকে যেন নিচু খেতে নিয়ে যায়?
আম্মু,আমি বালতি টা ওয়ার্কশপে রেখে আসছি।
তাড়াতাড়ি এসো। চা বানাতে তোমার সাহায্য লাগবে।
- ক্লাইড, - জ্বী।
আপনি কি পশুগুলোকে নিচু খেতে নিয়ে যেতে পারবেন?
জ্বী,অবশ্যই। ঐটা ই তো আমার কাজ।
আম্মু,দেখ, আমি কি এনেছি।
-কোথা থেকে আনলে? -প্রত্যেক সেচ্ছাসেবীকে আজ চারটা করে দেয়া হয়েছে।
কতদিন ধরে যে কমলা খাই না!
ঝিলের ধারে কেমন কাটলো? এঙ্গোস, মজা পেয়েছে নিশ্চয়?
মজা! আর তা করবে এঙ্গোস ?
এঙ্গোস! কই তুমি?
এদিকে আসো, চা বানাতে আমাকে সাহায্য করো।
পুরো মালে উপদ্বীপ দুশমনেরা দখল করে ফেলেছে।
আমরা লিবিয়ানের মরুভূতিতে এখনো ও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি...
...এখানে আরো মারাত্মক যুদ্ধের আশংকা করা হচ্ছে।
পুরো মানবজাতি র ভবিষ্যৎ...
...আমাদের কর্ম ও পরিচালনার ওপর নির্ভর করছে।
জয় এখন পর্যন্ত আমাদের কদম চুম্বন করে আসছে। এবার ও আমরা ই জিতব।
আমাদের কেবল অবিচলিতভাবে একসাথে সামনে অগ্রসর হতে হবে...
জিঙ্গস।
ভয় পেয়ো না। আমাকে ভয় পেয়ো না,এই যে।
এই নাও,খাও এটা।
এইতো,সাব্বাস।
ভয় পেয়ো না, খাও।
এই তো।
তুমি কত ভালো।
লক্ষী সোনাটা।
লক্ষী বাবু।
হায় আল্লাহ! এটা কি করেছি আমি!
এই নাও।
না,কিচ্ছু হবে না।তুমি ঠিক হয়ে যাবে।
এঙ্গোস।
এঙ্গোস? এঙ্গোস, ঘুমাও জলদি।
এত রাত হয়েছে,কতবার বলব তোমাকে?
কি দেখছি!
জলদি, কর!
কি হচ্ছে ওখানে?
মনে হচ্ছে,তাদের সাথে আব্বু ও এসেছেন।
এগুলা উপরে তুল।
-তুমি কি জানো,বাইরে কি হচ্ছে ? - জ্বী,না।
-তারা এখানে নিশ্চয়ই কোনো বিশেষ কাজে এসেছে । - জানি না।
স্যার,দেখুন।
শুভসকাল,ম্যাডাম।
ক্যাপ্টেন টমাস হিলটন, ১২ মিডিয়াম রেজিমেন্ট,রয়েল আর্টিলারি থেকে।
সব ঠিক আছে ত?
হেড হাউজকিপার, মিসেস ম্যাকমোরো সবকিছু প্রস্তুত করছেন,তাই না।
- আচ্ছা,এমন নাকি? -জ্বী।তিনি কি এখানে আছেন?
আমি ই এনি ম্যাকমোরো।
উহ, মাফ করবেন,চিনতে পারি না।
মনে হচ্ছে হেডকোয়াটার আপনাদের জানাতে পারে নি, আমার সৈন্যরা এখানে অবস্থান করবে।
এরা সবাই?
আমার তো এত স্টাফ নেই।
ঘরের মালিক লর্ড কিল্লিং যুদ্ধে চলে যাওয়ার পর,আমাদের সাথে খুব কম ই স্টাফ রয়েছে।
চিন্তিত হবেন না,আমাদের চা পানীয়ের প্রতি এতো আগ্রহ নেই।
কেবল অফিসাররাই ঘরের ভিতরে থাকবে।
আর বাকি রা বাইরে ক্যাম্প করে তাদের ব্যবস্থা করবে।
কিন্তু ঘরের মালিকের অনুমতি ব্যতিরেকে তো আপনাদের জায়গা দিতে পারি না।
হ্যাঁ,অবশ্যই।
-উর্মস্লে? - ইয়েস, স্যার।
এটা লর্ড কিল্লিং এর চিঠি।আসলে আমরা পরস্পর বন্ধু।তার সাথে ই অক্সফোর্ডে পড়তাম।
ঠিক আছে।
কিন্তু,আমাদের কাছে এত মানুষের খাবারদাবারের ও ব্যবস্থা নেই।
চিন্তিত হবেন না। আমাদের জন্য খাবারের সাপ্লাই এসে যাবে।
তাছাড়া আমাদের আর্মিতে শিকারীদের ও অভাব নেই।
তাদের তো হত্যার ই ট্রেনিং দেয়া হয়,কি বলেন।
আপনি বোধহয় জানেন,এখন স্কটল্যান্ড যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে সাহসী ভূমিকা রাখছে।
- স্যার। - ভালো করেছ।
সবজায়গায় নাৎসিদের সাবমেরিন ছড়িয়ে আছে।
এই দেখুন।
বাহ!চমৎকার।
কত সুন্দর। পারফেক্ট।
এ সবকিছু আপনাদের ই সুরক্ষার জন্য।
-গোল্ডম্যান? -ধন্যবাদ আপনাকে,আমরা কৃতজ্ঞ।
জার্মান সেনারা কি এখানে?
সেনাদের ওপর কড়া নজর রাখছ,তাই না?
চিন্তা কর না,বাছা। আমরা তাদের দেখে নিবো।
-তোমরা আমার সাথে আসো। - জ্বী,স্যার।
আমার টেবিল টা ওখানে রাখতে পারবে?
ক্রিস্টি, এঙ্গোসকে নিয়ে ঘরে যাও।
মেহমান দের তাদের কাজ করতে দাও। একমিনিট....
একটা গোপন কথা বলবো কি?
কি এক্সাইটিং,তাই না? সেনারা আমাদের বাসায়।
-ওয়াদা কর কাউকে বলবে না। -কি বক বক করতেছো শুধু শুধু?
-তোমাকে ওয়াদা করতে হবে যে তুমি আম্মুকে ও বলবে না। -আচ্ছা, বাবা-কাউকে বলব না।বল কি বলতে চাও?
বাদ দাও।
হেই!এটা আমার আব্বুর জুতা।ছাড়ো,ছাড়ো।
দুষ্টু বাবু ।এসব পঁচা জিনিস খেতে নেই।
আমি বুঝতে পেরেছি,তোমার ক্ষিদা লেগেছে।
এটা কি! -চার্চিল।
থামো, এবার।চার্চিল।
-কে আপনি? -সার্জেন্ট ওয়ালস স্ট্রাঙ্ক।
১২ মিডিয়াম রেজিমেন্ট,রয়েল আর্টিলারি। আর্মিদের বাবুর্চি।
আর ও হলো চার্চিল-রেজিমেন্ট ম্যাসকট।
-তুমি এখানে আসতে অনুমতি নেও নি। -আমি তো একটু নাস্তা নিতে এসেছিলাম।
খাবার কেবল লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে ই মিলবে।
তোমার কাছে কি কোনো লিখিত অনুমতি আছে?
তাহলে, ফুটো এখান থেকে।
আমার লক্ষী বাবা। ভালো ছেলে,গুড চার্চিল।
- তুমি এখনো ও যাও নি? -রান্নাঘরের আবর্জনা আমি ই ফেলি।
সামনে গিয়ে, বা দিকে।
বল দেখি,পুরো রেজিমেন্টে সবচেয়ে ভালো সৈনিক কে? আমার চার্চিল।
আসো বাবা।আমার লক্ষী বাবু টা। আব্বুকে একটা কিস দাও তো।
কোথায় তুমি?
আমার লক্ষী বাবুটা কই?
কোথায় লুকিয়েছ,তুমি?
তুমি ছোট্ট দুষ্টু ,তাই না ছেলে?
তুমি কি ছেলে না মেয়ে!
কি নামে ডাকবো তোমায়?
এইতো পেয়েছি।ক্রুসো।দ্বীপে আটকা ক্রুসো।
ঠিক আছে, ক্রুসো।তাহলে দেখি তুমি কি।
এটা না।
না,এটা ও না।
এই যে, এটা তুমি।
আমার মনে হয়,তুমি ম্যামল।
আপনার জন্মস্থান কোথায়,আব্বু?
আমি স্কটল্যান্ডের লক মরা ঝিলের পাশে জন্মগ্রহণ করেছিলাম আর ওখানেই বড় হই।
লোকেরা বলত, ঐ ঝিলে নাকি একটা জন্তু বাস করে।
হর হামেশাই লোকেরা তাকে দেখতে পেয়েছে বলে দাবী করত,কিচ্ছা বলত...
...মাঝে মাঝে তাকে সমুদ্রে ও দেখা যেত,তবে বেশীভাগ সময় ঝিলে।
যখন আমি ছোট ছিলাম...
...তখন জন্তুটাকে দেখার জন্য বড্ড ইচ্ছা হত।
আমি যখন ছোট ছিলাম....
... আমাদের চারপাশের অবস্থা এত ভালো ছিল না।
সমস্ত পৃথিবী জুড়ে মায়েদের, স্ত্রীদের আর ছোট ছোট বাচ্চাদের...
...ঘরে অভিভাবক পুরুষ ছাড়া থাকতে হত।
সবাই যুদ্ধে চলে যেত, অনেকে তো আর ফিরে ই আসত না।
আমরা স্কটল্যান্ডের একটা ছোট্ট গ্রামে বাস করতাম......
...আমাদের গ্রামের ২০ জন লোক যুদ্ধে মারা যায়।
আমার মনে হচ্ছে, এ বিরক্তিকর জীবনগাথা শুনিয়ে তোমাদের বোর করে দিচ্ছি!
না, না।আমাদের ভালো ই লাগছে।বলুন আপনি,প্লিজ।
ঠিক আছে,যখন এত জিদ করছ,তাহলে শুনো।
এঙ্গোস ও অন্যান্য সাধারণ বাচ্ছাদের মত ছিল।
সেও চাইত যে তার পিতা যেন আবার বাড়ি ফিরে আসে।
কিন্তু তার আর ও একটা সমস্যা ছিল।
ক্রুসো।সব খেয়ে ফেললে! তুমি তো অসুস্থ হয়ে পড়বে,বেরিয়ে এসো।
সাব্বাস। তুমি খুব লক্ষী ছেলে। আমি দু:খিত,তোমাকে বোধহয় একটু জোরে ই ধরেছিলাম।
তুমি তো শুকিয়ে গেছ,পুরা।
তোমার এটা ভালো লাগবে।
মজা পাচ্ছ,না?
- ইয়া। -পেয়েছি, এইত।
এবার এটাতে ঢুকে পড়, দেখি। দশ কিলোর আরেকটা।
আসো আমার পিতলা ঘুঘু।
- চল। -যাক,লাঞ্চের ব্যবস্থাটা হয়ে গেল।
তারা পাহাড়ের উপরে কি করছে?
এটা একটা গোপন মিশন।তারা সাবমেরিনের খোঁজে আছে।
হাসাইলা। এইটা যদি গোপন মিশন ই হয়,তাহলে তুমি জানলা ক্যামনে?
-আমার গোয়েন্দারা চারদিকে ছড়িয়ে আছে। - আঁহ।
আর চাপা না মেরে এমন জায়গায় নিয়ে যাও যেখানে বেশী করে মাছ পাওয়া যাবে।
ডানে।সালাম।
সাবধান।
ম্যাপ, স্যার?
- পারফেক্ট। -কত ই না চমৎকার লোকেশন,স্যার!
একটা জার্মান সাবমেরিন এইচএমএস রয়েস ওউক কে ডুবিয়ে দিয়েছিল..
...ক্যাপ অব ফ্ল তে, এখান থেকে কেবল ১০০ মাইল দূরে।
আমাদের ৮৩০ জন্য সৈন্য মারা গিয়েছিল সেখানে।
আমরা এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আসি নি,উর্মস্লে।
জ্বী, স্যার।
সবসময় এটা মনে রাখবে...
...আমরা এখানে যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছি।
No comments yet. Be the first to leave one.