The first 96 lines.
রাত।
এক ছায়াচ্ছন্ন জগত যার আড়ালে লুকিয়ে থাকে আমাদের গ্রহের অর্ধেকের বেশি প্রাণী।
এখন পর্যন্ত, ক্যামেরায় কেবল তাদের জীবনধারার এক ঝলক ধরা পড়েছে।
কিন্তু নেক্সট-জেনারেশন টেকনোলজির সহায়তায়,
আমরা রাতকে দিনের মতোই স্পষ্ট দেখতে পারি।
মানুষের চোখের তুলনায় শতগুণ সেন্সিটিভ ক্যামেরার সাহায্যে...
আমরা এখন রাতের সৌন্দর্যকে ধারণ করতে পারছি...
রঙিন অবস্থায়।
ভিন্ন জগতের ভূদৃশ্য।
অন্ধকারে জেগে ওঠা অদ্ভুত প্রাণীকূল।
অদেখা আচরণ।
এখন আমরা প্রাণীদের জীবন অনুসরণ করতে পারব
পৃথিবীর শেষ সত্যিকারের বিজনপ্রদেশে...
রাত।
:.:.: Earth at Night in Color :.:.: Episode 01 অনুবাদক: নূরুল্লাহ মাশহুর
আরও একটি দিনের সমাপ্তি ঘটছে কেনিয়ার মাসাই মারাতে।
আফ্রিকান সিংহের সর্বশেষ এক আশ্রয়স্থল।
এখানকার তৃণভূমি তিন প্রজন্মের একটি ছোটো পরিবারের আবাসস্থল।
ছয়টি তরুণ।
একটি গোত্রনেতা পুরুষ।
আর একজন নিষ্ঠাবান মা।
সিংহী।
তার নতুন তিনটি শাবক জন্মেছে।
দশ সপ্তাহ বয়সে,
তার বাচ্চারা নিজেদের রক্ষা করার জন্য নিতান্তই ছোটো হলেও...
ঝামেলায় জড়ানোর মতো যথেষ্ট বড়ো।
আসন্ন সপ্তাহগুলোতে মা'কে চরম পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।
তিনটি শাবকের মধ্যে মাত্র একটি শাবকই প্রথম বছর পার করতে পারে।
দিনের বেলায়, সিংহীকে অবশ্যই বিশ্রাম নিতে হয়।
কারণ সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথে...
তার কাজ শুরু হয়।
সিংহরা মূলত নিশাচর...
জীবনের ৮০% সময় তারা অন্ধকারে কাটায়।
রাতের বেলায় সিংহী আর তার পরিবারের পুরো গল্প
আমরা কখনও জানতে পারিনি।
কিন্তু প্রথমবারের মতো,
লো-লাইট ক্যামেরা তাদের চন্দ্রালোকিত দুনিয়া দেখতে সক্ষম...
রঙিন অবস্থায়।
রাত অবলোকনের এই আশ্চর্যজনক নতুন উপায়
সিংহের পারিবারিক জীবন অনুধাবনের ক্ষেত্রে পুরো নতুন একটি মাত্রা যোগ করেছে।
রাতের শুরুতে,
পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অনুপস্থিত।
গোত্রনেতা সিংহটি টহলে বেরিয়েছে।
তার কাজ হচ্ছে তার ৪০ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চল প্রতিদ্বন্দ্বী সিংহদের থেকে
নিরাপদ রাখা।
তার গর্জন একটা সতর্কবার্তা...
যা রাতের ঠান্ডা বাতাসে ভেসে বহুদূর পর্যন্ত শোনা যায়।
১০০ ডেসিবেলের ঊর্ধ্বের এই গর্জন...
আট কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়।
স্পষ্টতই এটা ক্লান্তিকর কাজ।
কিন্তু রাতের আঁধারে নিজের পরিবারকে...
নিরাপদে রাখার জন্য সে নিজের সর্বস্ব উজার করে দেয়।
পুরুষ সিংহের নিরাপত্তায়,
রাতের বেলা সিংহীর প্রথম কাজ হচ্ছে বাচ্চাদের খাওয়ানো।
দশ সপ্তাহ বয়সে,
বাচ্চাগুলো সম্পূর্ণভাবে মায়ের দুধের ওপর নির্ভরশীল
এবং এক রাতে সর্বোচ্চ এক লিটার পর্যন্ত দুধপান করতে পারে।
খাওয়ানো শেষ হলে...
সে চাঁদের আলোয় তাদের বড়ো ভাই-বোনদের সাথে তাদেরকে খেলতে দেয়।
সিংহরা স্রেফ রাতের বেলায় বেশি সক্রিয় তা নয়।
তারা বেশি সামাজিকও।
শাবকগুলো ছোটো হতে পারে, কিন্তু এখনই তারা লড়াই করতে শিখছে।
কিন্তু পরিস্থিতি বেশি বিশৃঙ্খল হয়ে গেলে...
সিংহী এগিয়ে আসে।
খেলাধুলার সময়...
শেষ।
সবচেয়ে অভিজ্ঞ নারী হিসেবে, সিংহীকে পুরো গোত্রের খাবার যোগান দিতে হবে।
কিন্তু বাচ্চাগুলোকে সাথে নিয়ে সে শিকার করতে পারবে না।
মানুষের চোখে...
এটা প্রায় নিকষ কালো অন্ধকার।
কিন্তু আমাদের ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে...
যে পরিবারের জন্য শিকারের উদ্দেশ্যে,
তার একমাত্র উপায় হচ্ছে বাচ্চাগুলোকে ছেড়ে যাওয়া।
তার ছোট্টো বাচ্চাগুলো অরক্ষিত থাকায়...
সিংহী জানে তাকে দ্রুত কাজ সারতে হবে।
সিংহ দলবেঁধে শিকারের জন্য পরিচিত।
কিন্তু আজ রাতে...
সিংহী দলগত কাজের ওপর নির্ভর করছে না।
আমাদের তুলনায় ছয়গুণ সেন্সিটিভ নাইট ভিশনের সহায়তায়,
সে এক পাল নু-হরিণকে বেছে নেয়।
বাতাসের অনুকূল থেকে এগিয়ে,
তাকে তার শিকারের ৩০ মিটারের মধ্যে পৌঁছাতে হবে।
সে একাই শিকারটি সম্পন্ন করে।
একটি পূর্ণবয়স্ক নু-হরিণ তার পুরো পরিবারের
সর্বোচ্চ দুই রাতের খাবার যোগাবে।
কিন্তু সিংহী বেশিক্ষণ বিশ্রাম করতে পারে না।
তাকে আর বাচ্চাদের কাছে ফিরে যেতে হবে।
কেবল সিংহই চাঁদের আলোতে এই তৃণভূমিতে শিকার করে না।
একটি আফ্রিকান ঈগল পেঁচা।
অন্ধকারে মানিয়ে নেওয়ার মতো চোখ...
আর শব্দ হ্রাসকারী ঝালরবিশিষ্ট পাখার সাহায্যে...
সে সন্তর্পণে আক্রমণ চালায় বীবর আর সরীসৃপদের ওপর।
কিন্তু জ্যোৎস্না রাতে তার স্বাভাবিক শিকার তাকে উড়ে আসতে দেখে ফেলবে।
তাই সে তার পরিবর্তে ঘাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ছোটো ভিক্টিমদের টার্গেট করে।
এদের ধরার জন্য, ঈগল পেঁচাকে তার উচ্চাসন থেকে নেমে এসে
পায়ে হেঁটে তাড়া করতে হবে।
No comments yet. Be the first to leave one.