The first 200 lines.
অ নু বা দ ক : মে হে রা ব হো সে ন
একটি নিক্কাতসু প্রযোজনা
THE BURMESE HARP
প্রযোজক: মাসাইউকি তাকাগি
মূল কাহিনীকার: মিচিও তাকেয়ামা চিত্রনাট্য: ন্যাটো ওয়াদা
চিত্রগ্রাহক: মিনোরু ইয়োকোয়ামা
সঙ্গীত: আকিরা ইফুকুবে
শ্রেষ্ঠাংশে:
রেন্তারো মিকুনি, শোজি ইয়াসুই
জুন হামামুরা, তাকেতোশি নাইতো, কো নিশিমুরা, শুনজি কাগুসা
পরিচালক: কোন ইচিকাওয়া
বার্মার মাটির রঙ লাল
এবং তার পাথরের রংও তা-ই।
যুদ্ধ শেষ হয়েছে অনেক বছর হলো,
কিন্তু এখনো আমাদের হৃদয়ে রয়ে গেছে কিছু অমোচনীয় দুঃখের গল্প।
এখন আমি সেরকমই একটি গল্প বলতে যাচ্ছি,
যেটি আমাদের সৈন্যদলের সঙ্গে ঘটেছিলো।
এ এমন একটা গল্প, যা আমরা কখনো ভুলবো না।
১৯৪৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যে,
জাপানের বিরুদ্ধে বার্মাতেও যুদ্ধের জোয়ার মোড় নিয়েছিলো।
[বার্মা - বর্তমান মিয়ানমারের প্রাক্তন নাম। ১৯৮৯ সালে দেশটির নাম পরিবর্তন করে মিয়ানমার রাখা হয়]
আমাদের সৈন্যদল এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে গমন করতো।
আমরা যেকোনোভাবে সীমান্তে পৌঁছে,
তারপর থাইল্যান্ডে প্রবেশ করতে চেয়েছিলাম।
সবাই মিলে গান গাইলে কেমন হয়?
এরকম সময়েই তো গান গাইতে হয়।
মিযুশিমা...
আমাদেরকে তোমার বীণা বাজিয়ে শোনাও।
আমরা প্রায় সময়েই গান গাইতাম।
আমাদের ক্যাপ্টেন সঙ্গীতের স্কুল থেকে স্নাতক করেছিলেন,
তিনি সাগ্রহে আমাদেরকে সঙ্গীতের মৌলিক জ্ঞানটুকু শেখাতেন।
দুঃখ-কষ্টের সময়ে ঐ গানগুলো আমাদের উদ্দীপনা চাগিয়ে তুলতো।
আমাদের দলে,
আমাদের কাছে বার্মার প্রচলিত ধাঁচের একটা বীণা ছিল।
PFC মিযুশিমা ওটাকে বাজানো শিখেছিলো। [PFC - Private First Class, নিম্নপদস্থ সৈন্যের সামরিক পদ]
সে আগে কখনো গান শিখেনি,
কিন্তু ওর সহজাত প্রতিভা ছিল, সে দ্রুতই এটাকে রপ্ত করে ফেললো।
সে অসাধারণ আনুষঙ্গিক সুর এবং প্রকরণ তৈরি করতো,
এবং আমরা গাইলে সে সাথে বীণা বাজাতো।
- কোবায়াশি, এগুলো দেখে রাখিস। - ঠিক আছে।
PFC মিযুশিমা এলাকা পরিদর্শনের জন্য তৈরি, স্যার।
- ধন্যবাদ। - যথারীতি বীণার মাধ্যমে সঙ্কেত দেবো, স্যার।
কিছু দেখতে পেলে "বিপদ" সুর, এবং এগোনো নিরাপদ হলে "ঠিক আছে" সুরটা বাজাবো।
ইউনিফর্মের চাইতে এই পোশাকেই তোমাকে দারুণ মানায়।
ওকে দেখতে বর্মীর মতো লাগে।
তোর উচিত এখানেই থেকে যাওয়া। স্থানীয়রা তোকে ভালোবাসবে।
আমি বর্মী।
বার্মা খুব সুন্দর দেশ।
ওর এত দেরি হচ্ছে কেন?
আমরা কি আরেকজন চর পাঠাবো?
- বীণার আওয়াজ! - মিযুশিমা বীণা বাজাচ্ছে।
এটা কীসের সুর, স্যার?
এখনো সুর চিনতে পারছো না? এর মানে হলো "সব ঠিক আছে"।
আমার সবসময় প্যাঁচ লেগে যায়।
সার্জেন্টের কানে সমস্যা।
এগোনো শুরু করো!
- তোর কাপড়ের কী হলো? - কোনো শেয়াল জাদু করেছে নাকি?
- কয়েকটা চোর আমাকে কোণঠাসা করেছিলো। - চোর?
ওরা কী চুরি করেছে?
কীই-বা চুরি করতো? ওর কাছে তো শুধু একটা লুঙ্গি ছিল।
- ওরা আমার লুঙ্গি নিয়ে গেছে। - আর তোকে কলাপাতায় মুড়িয়ে দিয়ে গেছে?
ওরা আমাকে এগুলো দিয়েছে। ওদের কাছে অনেকগুলো ছিল।
ওরা আমার দিকে একটা পিস্তল তাক করলো,
আর বললো কলাপাতার বিনিময়ে লুঙ্গিটা দিয়ে দিতে।
কত ভদ্রভাবে ডাকাতি করলো!
মিযুশিমা, এই কলাপাতায় তোকে আরো ভালো দেখাচ্ছে।
গলায় সোনার হার থাকলে, তোকে একদম নরখাদকের মতো লাগতো!
কলাপাতার নেংটি শরীরকে ঠান্ডা রাখে।
আমাদের সবচাইতে বড় চিন্তা ছিল খাবার নিয়ে।
শত্রুপক্ষের ছত্রীসৈন্যরা আশেপাশের গ্রামে ফাঁদ পেতে ছিল,
তাই আমাদের অসতর্ক হওয়ার কোনো অবকাশ ছিল না।
তোমাদের গ্রামপ্রধান কোথায়?
এখান থেকে কি হিমালয়ের পর্বতগুলোকে দেখা যায়?
না, এখান থেকে দেখা যায় না।
আমাদের শাস্ত্র এবং প্রথা অনুযায়ী,
হিমালয় হলো আত্মাদের আবাস।
জীবনে একবারের জন্য হলেও, হিমালয়ের দর্শন আমাদের পরম আকাঙ্ক্ষিত।
মিযুশিমা, ইদানীং তোর বাজনা খুব ভালো হচ্ছে।
আরে না।
তোর এখানেই থেকে যাওয়া উচিত। তুই সবসময় বলতি, বার্মা তোর ভালো লাগে।
আমি জাপানে ফিরতে চাই।
জাপান?
আপনাদের আপ্যায়ন অপ্রত্যাশিত ছিল। আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আমরা একটা গান পরিবেশন করবো।
- "ভাসবে জাহাজ", গানটার প্রথম চরণ। - জ্বি, স্যার।
জানতাম, এত ভালোমানুষি দেখানো ঠিক না।
- কেউ নড়বে না। - গোলাবারুদের বাক্সগুলো খোলা জায়গায়!
কেউ নড়বে না।
ব্রিটিশরা নাকি?
সবাই গাইতে থাকো!
ওরা জঙ্গলে সারি বেঁধে আসছে।
আমরা ওদেরকে মনে করাবো যেন আমরা জানি না যে ওরা আসছে। গাইতে থাকো!
আর গান গাইতে গাইতে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নাও।
সবাই তালি বাজাও!
সবাই হাসো!
ওরা যেকোনো মুহূর্তে হামলা চালাতে পারে।
শীঘ্রই সন্ধ্যা হয়ে যাবে।
ওদেরকে অপ্রস্তুত রাখতে হবে। সবাই হাসো, তালি বাজাও!
গোলাবারুদের বাক্সের কী হবে, স্যার?
মাত্র একটা গুলি লাগলেই ওগুলো বিস্ফোরিত হবে।
মাত্র একটা গুলি লাগলেই আমরা সবাই খতম।
হে দয়াময় বুদ্ধ...
- ভুল সঙ্কেত। তার মানে ওরা শত্রু নয়। - দাঁড়াও।
গানটা ইংরেজিতে গাওয়া হচ্ছে।
সেই রাতে, আমরা জানতে পারলাম যে যুদ্ধ আরো তিনদিন আগেই শেষ হয়েছে।
আমরা আমাদের অস্ত্র ত্যাগ করলাম।
আমরা আত্মসমর্পণ করেছি।
শুধু আমরাই নয়, আমাদের দেশও যুদ্ধে আত্মসমর্পণ করেছে।
জানি না এখন আমাদের কী করা উচিত।
আমরা জানি না আমাদের কোথায় নেয়া হবে, আমাদেরকে কী করতে হবে,
অথবা আমাদেরকে বাঁচতে দেয়া হবে কিনা।
জাপানের প্রত্যেকটা অঞ্চলে ভারী বোমা হামলা করা হয়েছে।
বহু মানুষ মারা গেছে, বাড়িহারা হয়েছে, অনাহারে আছে।
আমাদের দেশটা পুরোপুরিভাবে বিধ্বস্ত,
আর এদিকে আমরা হাজারো মাইল দূরে অবরুদ্ধ আছি।
এখন আমাদের একটাই কাজ, অপেক্ষা করা।
আমাদের নিয়তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টা করার কোনো মানে হয় না।
বরং একজন পুরুষমানুষের মতো এই পরাজয়কে মেনে নিয়ে,
সেইদিনের জন্য অপেক্ষা করা অধিকতর শ্রেয়, যেদিন আমাদের দেশ আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে।
আজ পর্যন্ত, আমরা একসঙ্গে বেঁচেছি, একসঙ্গে মরেছি।
তাই এখন, এই নিয়তিও একসঙ্গেই ভাগাভাগি করতে হবে।
হয়তো এই বার্মাতেই আমাদের মৃত্যু হবে।
যদি তা-ই হয়, তাহলে আমরা একসঙ্গেই মৃত্যুবরণ করবো।
কিন্তু যদি ভাগ্যক্রমে আমরা দেশে ফেরার সুযোগ পাই,
তাহলে আমরা তা-ই করবো, একজনকেও পেছনে ফেলে যাবো না।
আমরা একযোগে আমাদের দেশের পুনর্গঠনে কাজ করবো।
এটুকুই বলার ছিল।
মুদোন জায়গাটা কেমন?
তাহলে অবশেষে আমরা মুদোনের বন্দীনিবাসে যাচ্ছি।
- ভালোই তো! - এখানে ভালোর কী আছে?
তোর কী মনে হয়, ওরা আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে?
সত্যি বলছিস নাকি?
আচ্ছা, এই মুদোন জায়গাটা কেমন?
আমি জানবো কী করে?
- মিযুশিমা কোথায়? - এইযে আমি।
ক্যাপ্টেন তোমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন।
একটা জাপানি ইউনিট একটা পাহাড়ে প্রতিরোধ করে চলেছে।
গত তিন দিন ধরে ব্রিটিশরা ঐ পাহাড়টাকে অবরোধ করে রেখেছে।
আমাদের একজনকে যেতে দেয়ার জন্য ব্রিটিশদের কাছে অনুরোধ করেছি,
যাতে সে তাদেরকে গিয়ে আত্মসমর্পণ করার কথা বলতে পারে।
আমি চাই না একজন সৈনিকও অযথা মরুক।
ঐযে, ওখানে রয়েছে পাহাড়টা।
তো, মিযুশিমা, তুমি যেতে চাও?
পায়ে হেঁটে গেলে অর্ধদিনে পৌঁছানো যাবে।
আমি যেতে রাজি আছি, স্যার।
জানি না কীভাবে এগোবো, কিন্তু আমি যা যা দরকার, সবই করবো, স্যার।
ধন্যবাদ তোমাকে।
আমরা বাকিরা দক্ষিণে, মুদোনের পথে রওনা দেবো।
মিশন সম্পন্ন করার পর আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়ো।
একা হেঁটে ২০০ মাইল পাড়ি দিয়ে মুদোনে পৌঁছানোটা কষ্টসাধ্য হবে,
কিন্তু ব্রিটিশরা তোমার নিরাপদ যাত্রার আশ্বাস দিয়েছে।
আমার দায়িত্ব পালন করামাত্রই মুদোনের পথে রওনা দেবো, স্যার।
কে যায় ওখান দিয়ে?
তৃতীয় বিভাগ থেকে আমি কর্পোরাল স্মিথ বলছি।
আমি সৈন্যদলের আদেশে এসেছি।
মাত্র ৩০ মিনিট আছে তোমার হাতে। ওদেরকে আত্মসমর্পণ করতে বলো।
আমরা এর চাইতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করবো না।
শোনো, হে সৈনিক।
আমি তোমার মিশনে তোমার সাফল্য কামনা করছি।
কী হলো? হঠাৎ করে বোমাবর্ষণ থেমে গেলো যে।
নিশ্চয়ই ওরা বিকেলের চা খাচ্ছে!
- কুত্তার বাচ্চা! - থাম! ও একটা জাপানি!
জাপানি?
- আস্তে, আস্তে! - তুমি এখানে এলে কী করে?
- সাবাশ! - কোত্থেকে এসেছো তুমি?
তোমাদের কমান্ডার কোথায়?
এরকম সময়ে আমরা যতজনকে পাবো, ততজনকে কাজে লাগাতে পারবো!
সাবধানে দাঁড়াও!
আমি মিযুশিমা, ইনৌয়ে সৈন্যদল থেকে একটা মিশনে এসেছি।
কী? তুমি একজন বার্তাবাহক?
যুদ্ধে জাপানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে।
আর প্রতিরোধ করে লাভ নেই। তাই যত দ্রুত সম্ভব আত্মসমর্পণ করুন...
চুপ! কত্তো বড় সাহস!
আত্মসমর্পণ হলো যুদ্ধে নিহত সৈন্যদের প্রতি অপমান!
আমরা তোমার ইউনিটের মতো ভীরু কাপুরুষ নই!
- আমরা আমরণ লড়াই করে যাবো! - তাহলে আপনি কী কাজে এলেন?
বেঁচে থাকুন, নিজ দেশের জন্য কাজ করুন।
নিজ দেশের জন্য?
কত্তো বড় আস্পর্ধা! আত্মসমর্পণ করলে দেশের কী ফায়দা হবে?
এখানের কেউই সেই লাঞ্ছনা নিয়ে বেঁচে থাকতে চায় না!
কেউ আত্মসমর্পণ না করলে, জাপান কী করে যুদ্ধে পরাজিত হয়?
ঠিক বলেছো!
তোমার মতো একজন কাপুরুষ জাপানি হতে পারে না!
- চলে যাও! - আমি যাবো না।
আপনি পুনর্বিবেচনা না করা পর্যন্ত আমি যাবো না।
এখানে থাকলে তুমি মারা পড়বে। ভয় লাগছে না তোমার?
আমি অযথা মৃত্যুবরণ করতে চাই না।
যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করা অযথা?
এতে জাপানের, অথবা তার জনগণের, অথবা আপনার উন্নতি হবে না।
- এটা অযথা। - কত্তো বড় সাহস!
- বীণা? এটা দিয়ে কী কাজ? - আমি এটা দিয়ে সঙ্কেত পাঠাই।
ক্যাপ্টেন, এই সৈন্যদের জীবন আপনার নিকট দায়বদ্ধ।
এরা যদি বৃথা মৃত্যুবরণ করে, তাহলে দোষটা আপনারই হবে।
কে তাদের পরিবার এবং জাপানের জনগনের কাছে ক্ষমা চাইবে?
বেশ তাহলে। আমি এই সিদ্ধান্ত সৈন্যদের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।
- নাকাই, তোমার কী মতামত? - আমি শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবো, স্যার।
আর বাকিরা?
এর পরিণতিটা আসলে কেমন দাঁড়াবে?
যেমনটা বললাম।
এ নিয়ে শান্তভাবে আলাপ করার সুযোগ পেলেই কাজ হতো।
No comments yet. Be the first to leave one.