The first 200 lines.
অনুবাদ ও সম্পাদনায় সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক
আমার মনে হয় সার্ভিস টিমের কোনো সমস্যা।
আচ্ছা। আমার মানে...
আপনি তো ডেলিভারির তারিখ বদলাতে পারবেন না। আমাদের আর সপ্তাহখানেক সময় বাকি।
ঠিক করে বললে ৬ দিন।
হ্যাঁ। আমাদের সমস্যাটা খুঁজে বের করতে হবে।
- হ্যালো। - তুই কাজে বেরিয়ে গেছিস?
হ্যাঁ, মা।
- ঘুম শেষ? - হ্যাঁ।
ও উঠেছে?
তোর ভাই? সে এখনো ঘুমাচ্ছে।
- তোমার বৌমা কী করে? - সে সকালেই উঠে গেছে।
উপরে নিশ্চই যোগব্যায়াম করছে।
হুম, করছে হয়তো!
তুই কবে আসছিস? তোর বদলে আমি চলে আসি।
আমি জানাবো তোমাকে।
Swathi Mutthina Male Haniye
আর কী? সকালের নাস্তায় কী বানাচ্ছো?
ঠিক নেই। চাপাতি বানানোর চিন্তা করছি।
- তুই? - আমি ডোসা বানিয়েছি, মা।
এদিক বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে।
- তাই? তাহলে সাবধানে থাকবি। - আচ্ছা, মা।
- ছাতা নিয়ে এসেছিস? - মা, পরে তোমাকে ফোন দিবো।
ঠিক আছে, আচ্ছা।
শুভ সকাল, ম্যাম।
আশা, সিকিউরিটি গার্ড গেইটে নেই কেনো?
- জানিনা, ম্যাম। - প্রভাকরকে আসতে বলো।
হ্যাঁ, ম্যাম।
ম্যাম, ইনি প্রদীপ বাবুর রোগী। পাটিল বাবু।
- শুভ সকাল। ভালো আছেন? - হ্যাঁ, ভালো আছি।
আমার নাম প্রেরণা।
আমি এখানের কাউন্সিলর।
রোগীরা অন্তিম দশার রোগ নিয়ে এখানে এসে ভর্তি হয়। অন্তিমদশার অসুস্থতা (ইংরেজি: Terminal illness) বা অন্তিম দশার রোগ (Terminal disease) বলতে এমন একটি রোগকে বোঝায় যা থেকে আরোগ্যলাভ করা সম্ভব নয়, বা যার যথাযথ নিরাময়মূলক চিকিৎসা করা সম্ভব নয় এবং যার কারণে রোগীর মৃত্যু যুক্তিসঙ্গতভাবেই প্রত্যাশিত।
যে রোগীরা বেশি দিন বাঁচবে না।
যে রোগীরা বড় জোড় ১ বা ২ মাস বাঁচবে, তারাই আসে।
শুভ সকাল! কেমন আছেন?
শুয়ে থাকুন।
ঠিক আছি।
- ঘুম ভালোভাবে হয়েছে। - সারারাত ও একদম ঘুমায়নি।
ঘুমানোর জন্য মাথা বালিশে লাগালেই ঘুম পালিয়ে যায়।
বালিশে মাথা লাগিয়ে চোখ বন্ধ করে নিজেকে বলি যে ঘুম এসেছে।
আমার এরকমই রোগী তৈরি করতে হবে।
হ্যাঁ। মৃত্যুর জন্য তাদের তৈরি করতে হবে।
হাই! শুভ সকাল! কেমন আছেন?
মারাত্নক ব্যথা, ম্যাডাম। সহ্যই করতে পারি না।
আপনি আশা ছেড়ে দিচ্ছেন কীভাবে?
আমি ডাক্তারকে ব্যথানাশকের ডোজ বাড়িয়ে দিতে বলবো, ঠিক আছে?
শুধু দেখবেন এই আত্মাটা যাতে শান্তিভরে ঘুমাতে পারে।
আর নিতে পারছি না।
হাঁপিয়ে গেছি।
মনে হয় আমি আমার কাজে পটু।
শুরুতে, এসব কষ্ট, কান্না ও দুঃখ আমাকে অনেক প্যারা দিতো।
এখন এসব সহজেই মানিয়ে নিতে পারি।
প্রভাকর!
প্রভাকর!
তুমি ওখানে কী করছো?
সকালে গেইটের ওখানে ছিলে না কেনো?
বলছি সকালে গেইটে ছিলে না কেনো?
তোমাকে আমার বাসার একটা গাছ কাটতে বলেছিলাম।
ছাড়ুন, ম্যাডাম। ও মদ খেয়ে বুদ হয়ে আছে।
আপনি যা বলবেন তার আগামাথা কিছুই বুঝবে না।
দিনের বেলাতেও খায় নাকি?
- আসলে, গতকালের রোগী... - ওহ।
প্রভাকর, সে এখানের মালী ও সিকিউরিটি।
প্রত্যেক সময় একটা রোগী মারা যায় এবং পরদিন সে মদ খেয়ে নেশায় বুদ হয়ে যায়।
কিন্তু কেনো? ঈশ্বরই জানেন।
এরকম জায়গায় কাজ করার সময় একজনকে সাবধান হওয়া প্রয়োজন।
নাহলে, আপনি প্রভাকরের মতোই শেষ হয়ে যাবেন।
হাই! শুভ সকাল! কেমন আছেন?
প্রথম প্রথম, এখানে ভীষণ কষ্ট হতো।
আমার প্রথম দিনের কথা আজও মনে আছে...
বলুন, ম্যাডাম।
আমার ২টা বাচ্চা আছে।
একমাত্র আমিই কাজ করলে আমার পরিবার বেঁচে থাকবে।
কিন্তু টাকা বড় সমস্যা না।
কিন্তু আমার বাচ্চারা...?
আমার স্ত্রী...?
আমি একবার চলে গেলে তাদের জীবনটা কীরকম হবে?
তাদের সাথে কী হবে?
আমার বউ একা বাজারে গেলে একটা ভালো দুধের প্যাকেটও কিনতে পারে না।
কীভাবে বাঁচবে তারা, ম্যাডাম?
আমি তেমন কী করেছি যে এমন শাস্তি পাচ্ছি?
আমার একটা ইচ্ছা আছে, ম্যাডাম।
আমি বাঁচতে চাই।
আমি এই পৃথিবীতে বাঁচতে চাই।
আমার বাচ্চারা যাতে চোখের সামনে বড় হয়।
আমি যেনো সেটা আমার নিজের চোখে দেখতে পারি।
আমার মেয়ে ৭ বছর বয়সী।
ছেলে মাত্র ৩ বছরের।
তারা বাঁচবেটা কীভাবে?
কী করবে ওরা?
আমার বউ তাদের কীভাবে দেখবে?
না, ম্যাডাম।
আমি মরতে চাই না।
খুব কষ্ট হয়। শরীরের সব জায়গায় ব্যথা করে।
আমি আর নিতে পাচ্ছি না। এই ব্যথাটা অসহ্যদায়ক।
আমার কথা শুনুন।
আপনি একজন সাহসী পুরুষ।
গীতা, তুমি একজন সাহসী মেয়ে।
কখনো জীবনে কী, কেনো, কীভাবে এর কোনো উত্তর থাকে না।
এসবের কোনো কারণ নেই।
মল্লিকার্জুন।
তুমি শক্তিশালী।
রবি, তুমি শক্তিশালী।
লতা, তুমি শক্তিশালী।
- কানের দুলগুলা নতুন নাকি, ম্যাম? - না, মানানসই হয়েছে?
অনেক সুন্দর লাগছে।
ম্যাম, ভাস্করের পেমেন্ট প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
শুধু একটা কিস্তি বাকি। বলেছে আগামীকাল দিয়ে দিবে।
ঠিক আছে।
যদি না দেয় তাহলে আমাকে বলবে। আমি ম্যানেজমেন্টের সাথে কথা বলবো।
কীর্তনা জুনিয়র: শুভ বিবাহ বার্ষিকী!
ধন্যবাদ।
শুভ বিবাহ বার্ষিকী প্রিয়
এজন্যই। আমার মনে হয় না এটা কোনো সমস্যা।
শুভ বিবাহ বার্ষিকী, সাগর।
ওহ, হ্যাঁ! এক মিনিট, গাইস।
শুভ বিবাহ বার্ষিকী ভালোবাসা আমার।
সন্ধ্যায় জলদি বাসায় এসো।
- রাতে ডিনারে বাইরে যাই। - ঠিক আছে।
মনু আর আর্থি'কেও ফোন করবে নাকি?
ফোনটা তুমি করলেই ভালো হবে।
আচ্ছা। আমি তাদের ফোন করে নিবো।
দিনটা ভালো যাক।
- প্রভাকর? - হ্যাঁ, ম্যাডাম?
এটা কার বাইক?
এক রোগীর।
মানে রোগীর পরিবারের?
না, রোগীরই। নিজে চালিয়ে এসেছে।
বাইকটা সরাবো নাকি?
দরকার নেই। আমি ওদিকে পার্ক করে নিচ্ছি।
শুভ বিবাহ বার্ষিকী, ম্যাডাম।
ওহ, ধন্যবাদ।
- আমার হয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস দেখেছো নাকি? - হ্যাঁ।
এই ফাইলটা নতুন রোগীর। নাম হলো অনিকেত।
- আজ বুলেট বাইকে যে এসেছে? - হ্যাঁ।
সে তো কোনো তথ্যাবলি পূরণ করেনি।
রোগীর সাথে কেউ ছিলো না, ম্যাম।
আর রোগী বলছিলো সে খুব ক্লান্ত।
তাই বলেছিলো সব তথ্য পরে লিখে দিবে।
হুম।
ওনার কাউন্সেলিং সময় কখন দিয়েছো?
ম্যাম, সে কাউন্সেলিং বেছে নেননি।
কী?
সে কাউনন্সেলিং করাতে চায় না।
সে "বিশেষ চাহিদার" কলামে কি লিখেছে দেখুন।
"একটা বড় জানালার রুম"
শুভ সকাল! কেমন আছেন?
খারাপ না।
ভালোই বোধ করছি।
এখানে আসার আগে অনেক ব্যথার মধ্যে ছিলাম।
এখন তা অনেকটাই কমে গেছে।
কিন্তু...
আমি বাড়ির কথা ভাবতেই থাকি।
কারণ পাড়া-প্রতিবেশীরা আমার সাথে এসে খুশ গল্প করবে...
"ডিনারের জন্য একটা নতুন ড্রেস কিনবো নাকি?"
"মনে হয় লাগবে না।"
"যা আছে তাই পরে নিবো।"
"শপিং করার জন্য এখন আবার এতদূর কে যাবে?"
ম্যাডাম, একটু রং চা খাবেন নাকি?
আঙ্কেল, লাগবে না। আমি মাত্রই কফি খেয়ে এসেছি। ধন্যবাদ।
বিয়ের দিন আমার গাড়ি কীভাবে ভেঙ্গেছিলো, মনে আছে?
কী একটা বিশৃঙ্খলা হয়েছিলো।
বিয়ের দিন তাকে দারুণ লেগেছিলো, তাই না?
তো এখন কী হয়েছে?
সে তো দেখতে এখনো সুন্দর।
না!
তাকাও ওর দিকে। বেশ গোমড়া লাগছে তাকে।
খুব দূর্বল লাগছে তাই না?
না। আমার লাগছে না।
তুমি পাক্কা অন্ধ হয়ে গেছো।
হাসপাতাল কীরকম চলছে মনু?
আমাকে জিজ্ঞেস করছো কেনো? তোমার বউকে জিজ্ঞেস করো।
সে তো কাউন্সেলর। আর তুমি হলে ট্রাস্টি।
- তোমাকেই বলতে হবে। - সব ভালো।
ইদানীং, একটা চিঠি পড়েছি যেটা রোগীর পরিবার থেকে লিখেছে।
- বিষয়টা দারুণ ছিলো, প্রেরণা। - সুন্দর।
শুনলাম যে তুমি ইদানীং কোনো পুরুষ্কার জিতেছো।
- কীসের পুরুষ্কার? - সর্বশেষটা?
আমাদের সেবার জন্য ছিলো ওটা।
বিশেষ করে আমাদের এখানে আমরা সবচেয়ে কম আফিম ব্যবহার করি।
মজার তো।
আমরা এই বিষয়ে ভীষণ খুঁতখুঁতে।
তো?
তুমি আর কোথায় টাকা বিনিয়োগ করলে?
এই, মনুর জন্মদিনে তুমি যে ড্রেস পরেছিলে এটা সেই ড্রেসই নাকি?
কোনো স্টার্ট-আপে বিনিয়োগ করেছো নাকি?
মাফ করবেন, ফ্যাসিলিটি থেকে আশা ফোন দিচ্ছে।
হ্যাঁ, বলো আশা। দুঃখিত, ফোন সাইলেন্ট ছিলো।
ওই নতুন রোগীর জন্য ফোন করলাম।
- সে একটা সমস্যা করছে। - কী হয়েছে?
যখন সে ভর্তি হয় তখন বলেছিলো সব তথ্যাদি এবং কাগজপত্র দিবে।
কিন্তু এখন সেসব দিতে মানা করছে।
কেনো?
বলছে আমাদের ওনার ঠিকানা ও তথ্যাদি কেনো দরকার।
তিনি রোগী, তাই তিনি টাকা দিবেন আর আমাদের ওনাকে ভর্তি করা উচিত।
যদি খারাপ কিছু ঘটে তখন?
ওর দেহ আমরা কী করবো?
আমিও তাকে একই কথা বলেছি।
নির্লজ্জভাবে আমাকে বলে তার দেহ রাস্তায় ফেলে দিতে, সে নাকি এসবের পরোয়া করে না।
No comments yet. Be the first to leave one.